Tag Archives: শ্রীলঙ্কা

রানের পাহাড় গড়ছে শ্রীলঙ্কা একাদশ; দুই উইকেটের পতন

শ্রীলঙ্কান বোর্ড একাদশের বিপক্ষে ৫০ ওভারের প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। কলম্বো ক্রিকেট গ্রাউন্ড ক্রিকেট একাডেমি মাঠে স্থানীয় সময় সকাল দশটায় মাঠে নামে সফরকারীরা। টস জিতে বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কান বোর্ড একাদশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান।

সাতাশ ওভার শেষে স্বাগতিক বোর্ড একাদশ ১৭৩ রান সংগ্রহ করেছে দুই উইকেট হারিয়ে। কুশল পেরেরা ৫৮ ও সিরিওয়ার্দানা ১১ রানে নট আউট।

প্রথম স্পেলে তাসকিন ও মাশরাফি মিলে ৫ ওভারের স্পেল করেছেন। এরপর এক প্রান্তে বোলিংয়ে আসেন শুভাগত, অন্যপ্রান্তে রুবেল হোসেন।

প্রথম স্পেলে তাসকিন বেশ ব্যয়বহুল ছিলেন। তিন ওভার বোলিং করে ১৭ রান খরচায় একটি উইকেট নিয়েছেন। অন্যদিকে মাশরাফি ২১ রান খরচ করে উইকেট শূন্য ছিলেন।

বোর্ড একাদশ ৭.৪ ওভারে প্রথম অর্ধশত রান পূর্ণ করেন। দিলশান মুনাবিরা ২৪ রান করে তাসকিনের বলে আউট হয়েছিলেন।

প্রস্তুতি ম্যাচটিতে বাংলাদেশের প্রায় সবাই অংশ নেবে। মূলত সবার ব্যাটিং প্রস্তুতির লক্ষ্যেই হাথুরুসিংহের এই পরিকল্পনা। তবে সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুস্তাফিজুর রহমান ও শুভাশিষ রায় প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নামবেন না।

আগামী ২৫ মার্চ ডাম্বুলাতে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সবমিলিয়ে তাই একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচটি টাইগারদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

অনুশীলন ম্যাচটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে শক্তিশালী দলই গড়েছে লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড। অলরাউন্ডার মিলিন্দা সিরিবর্ধনেকে অধিনায়ক করে মাঠে নামা একাদশের বেশিরভাগেরই রয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার অজ্ঞিতা। শ্রীলঙ্কার ওয়ানডে দলে জায়গা পাওয়া ধনঞ্জয়া ডি সিলভা, কুশল পেরেরা, থিসারা পেরেরা রয়েছেন স্কোয়াডে।

একাদশের বেশ কয়েকজনই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ও ঢাকা লিগে খেলেছেন। সেই সুবাদে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের খেলা সম্পর্কেও খুব ভালো জানা তাদের।

‘মৃতদেহ দাহ করা হবে এবং ছাই নিয়ে যাওয়া হবে বাংলাদেশ।’

দ্য আইল্যান্ড মৃত্যুফলক বানিয়েছে.

কলম্বোয় নিজেদের মাটিতে, চেনা কন্ডিশনে টাইগারদের ১৯১ রান লক্ষ্য ছুড়ে দিয়ে শ্রীলঙ্কা তো জয়ের স্বপ্ন দেখতেই পারে। কেননা ভারত-পাকিস্তানকে এমন ছোট্ট লক্ষ্য দেয়া হয়েছিল, সেটা উৎরে যেতে পারেনি। তবে তামিম ইকবালের ৮২ রানের মহামূল্যবান ইনিংস ও সাব্বির রহমানের (৪১) সময়োচিত ব্যাটিংয়ে জয়ের ভিত তৈরি হয় বাংলাদেশের। শেষ দিকে মুশফিকের বুক চিতিয়ে লড়া ২২ রানে ভর করে জয় নিশ্চিত হয় টাইগারদের।

তাইতো যা পারেনি ভারত-পাকিস্তান; তা করে দেখিয়েছে টিম বাংলাদেশ। নিজেদের শততম টেস্টে ৪ উইকেটের রোমাঞ্চকর এক জয় তুলে নিয়েছে মুশফিকুর রহীমের দল। ম্যাচ শেষে লঙ্কান অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথ বলেছেন, বাংলাদেশের কাছে এই হার তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে হারগুলোর মধ্যে একটি। শ্রীলঙ্কান ইংরেজি পত্রিকা দ্য আইল্যান্ড তো আজ তাদের ওয়েবসাইটে এই হারকে ‘মৃত্যুসম’ বলে নিজ দেশের ক্রিকেটের এক ‘এপিটাফ’ই প্রকাশ করেছে।

দ্য আইল্যান্ড মৃত্যুফলক বানিয়ে লিখেছে: ‘আন্তরিকতার সঙ্গে স্মরণ করছি শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটকে। মৃত্যু: ১৯ মার্চ, ২০১৭, স্থান: দ্য ওভাল ( পি সারা ওভাল)। এই মৃত্যুতে তার সকল শুভানুধ্যায়ী গভীরভাবে শোকাহত। আর.আই.পি (রেস্ট ইন পিস—আত্মা স্বর্গলাভ করুক)। পুনশ্চ: মৃতদেহ দাহ করা হবে এবং ছাই নিয়ে যাওয়া হবে বাংলাদেশ।’

এপিটাফটি ১৮৮২ সালে দ্য স্পোর্টিং টাইমসে লেখা রেজিন্যাল্ড ব্রুকসের সেই বিখ্যাত এপিটাফটির হুবহু মিলে গেছে। অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইংল্যান্ড ৭ রানে টেস্ট হেরে যাওয়ার পর ব্রুকস এটিকে প্রতীকী মৃত্যু হিসেবে দেখেছিলেন। এর পরপরই ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার এই আদি দ্বৈরথ ‘অ্যাশেজ’ সিরিজ নামে বিখ্যাত হয়ে যায়।

এটি যতটা না ক্রিকেটের মৃত্যু, তার চেয়ে বেশি ক্রিকেটীয় অহংবোধের মৃত্যুর প্রতীক। বাংলাদেশের কাছে নিজেদের মাঠে হেরে যাওয়াকে মেনে নিতে না পারাই শ্রীলঙ্কার অন্যতম পত্রিকাটি সেভাবেই দেখছে। পি সারা ওভালে শততম টেস্টে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয় লঙ্কান ক্রিকেটের ‘মৃত্যু’ হয়তো নয়; তবে এটি অবশ্যই বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে বৈকি।

শততম টেস্টের দলে ইমরুল, নেই রাব্বি

শ্রীলংকার বিপক্ষে ড্র’য়ের আশা জাগিয়েও ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় প্রথম টেস্টের শেষ দিনে ২৫৯ রানের বড় পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়া বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ইতোমধ্যে সিরিজের পরবর্তী ও শেষ টেস্ট ম্যাচকে সামনে রেখে কলম্বো পৌঁছেছে। কলম্বোর পি সারা ওভালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটি হতে যাচ্ছে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের শততম ম্যাচ। তাই প্রথম টেস্টের তিক্ত স্মৃতি পিছনে ফেলে এ’ম্যাচে মাঠে নামতে ও ভালো করতে মুখিয়ে আছে মুশফিকবাহিনী।

এদিকে, ঐতিহাসিক এই ম্যাচকে সামনে রেখে ১৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। প্রথম টেস্টের দল থেকে শততম টেস্ট ম্যাচের দলে পরিবর্তন এসেছে দু’টি।

ফিটনেস ইস্যুতে প্রথম টেস্ট থেকে ছিটকে গেলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের পঞ্চম আসরের শেষ দুই রাউন্ডে নিজেকে প্রমাণ করে আবারো জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েস। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে উজ্জ্বল ইমরুল কায়েসের অন্তর্ভুক্তির বিপরীতে প্রথম টেস্টে একাদশের বাইরে থাকা পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বি বাদ পড়েছেন দ্বিতীয় টেস্টের দল থেকে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের শততম টেস্ট ম্যাচকে সামনে রেখে শনিবার কলম্বোতে দলের সাথে যোগ দিয়েছেন ইমরুল কায়েস। অন্যদিকে, দ্বিতীয় টেস্টের দল থেকে জায়গা হারালেও স্কোয়াডের সাথেই অবস্থান করছেন কামরুল ইসলাম।

দ্বিতীয় টেস্টের বাংলাদেশ দলঃ মুশফিকুর রহিম, (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল (সহ-অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক, মাহমুদউল্লাহ, সাকিব আল হাসান, লিটন কুমার দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, শুভাশিস রায়, ইমরুল কায়েস, রুবেল হোসেন, তাইজুল ইসলাম, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

এবার কলম্বো ভীতি কাটবে বাংলাদেশের!

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে ২৫৯ রানে হারার পর বাংলাদেশের মিশন এবার কলম্বো। আগামী ১৫ মার্চ কলম্বোর পি সারা ওভালে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে লঙ্কানদের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

কিন্তু অতীত পরিসংখ্যান বলছে, কলম্বোর পি সারা ওভালে মুশফিকবাহিনীর জন্য ভয়ঙ্কর কিছুই অপেক্ষা করছে! এর আগে এই মাঠে খেলা তিন টেস্টেই (২০০২, ২০০৫ ও ২০০৭) ইনিংস ব্যবধানে হারের লজ্জায় ডুবতে হয়েছিল সফরকারী বাংলাদেশকে।

যদিও এখনকার বাংলাদেশ দল আগের চেয়ে অনেকটাই পরিণত। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যে মেশানো এই দল সিরিজের প্রথম টেস্টে গল স্টেডিয়ামে লঙ্কানদের বিপক্ষে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। যদিও টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিন ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ২৫৯ রানের বড় হারের স্বাদ পায় বাংলাদেশ।

কলম্বোর পি সারা ওভালের এই টেস্টটি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের শততম টেস্ট। ঐতিহাসিক এই টেস্টে তাই নিজেদের ফিরে পেতে মরিয়া চান্দিকা হাতুরুসিংহের শিষ্যরা। দেখার বিষয়, শততম টেস্টে ‘কলম্বো ভীতি’ কাটিয়ে উঠতে পারে কিনা বাংলাদেশ!

শততম টেস্টের জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষণা; থাকছে নতুন আকর্ষণ

গল টেস্টে দারুণ সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ২৫৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে গেলো বাংলাদেশ। কলম্বোর পি সারা ওভালে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট আবার বাংলাদেশের জন্য খুব স্পেশাল। শততম টেস্ট খেলার জন্য মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ১৫ মার্চ শুরু হবে টেস্ট ম্যাচটি।

শততম টেস্টের জন্য ১৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দল ঘোষণা করা হয় বিসিবির পক্ষ থেকে। এই দলে প্রবেশ করেছেন ইমরুল কায়েস। ইনজুরির কারণে হায়দরাবাদ টেস্ট শুরু হওয়ার আগেই দেশে ফিরেছিলেন তিনি। মাঝে বিসিএল এ নিজের ফিটনেস ফিরিয়েছেন এবং দারুণ পারফরম্যান্স করে আবার ফিরেছেন দলে।

তবে শততম টেস্টের দল থেকে ছিটকে পড়েছেন পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বি। হায়দরাবাদ এবং তার আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্টে দারুণ বোলিং করার পাশাপাশি টেলএন্ডে ব্যাট হাতে দারুণ ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি। সেই রাব্বি ছিলেন গল টেস্টের জন্য ঘোষিত ১৬ জনের দলে। তবে তাকে বাদ দিয়েই গল টেস্টের একাদশ গঠন করা হয়েছিল। এবার কলম্বো টেস্টের জন্য তাকে ১৬ জনের দল থেকেই বাদ দিয়ে দেয়া হয়েছে।

রাব্বির জায়গাতেই মূলতঃ দলে ফিরেছেন ইমরুল কায়েস। বাকি জায়গাগুলো রয়েছে আগের মতই। আগের ১৫জন ঠিকই আছেন। শুধু কলম্বোয় আজ রাতে গিয়ে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন ইমরুল কায়েস। রাব্বি থাকবেন নাকি ফিরে আসবেন, সে ব্যাপারে এখনও কিছু জানায়নি টিম ম্যানেজমেন্ট।

দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশ দল: মুশফিকুর রহীম, (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল (সহ-অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক, মাহমুদউল্লাহ, সাকিব আল হাসান, লিটন কুমার দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, শুভাশিস রায়, ইমরুল কায়েস, রুবেল হোসেন, তাইজুল ইসলাম, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

নিজের আউটের অদ্ভুত যুক্তি দাঁড় করালেন

গল টেস্টের দুই ইনিংসেই বাংলাদেশ দলের ব্যাটসম্যানরা লেগস্ট্যাম্পের অনেক বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে আউট হয়েছেন। প্রথমবার তামিম ও সাকিব আর দ্বিতীয় ইনিংসে মুশফিকুর রহীম।

তামিম-সাকিব না হয় একটু বেশি শটস খেলতে পছন্দ করেন, উচ্চাভিলাষী শট খেলার প্রবণতা বেশি। তারা না হয় স্বভাবজাত কারণেই খেলে ফেলছেন। কিন্তু অধিনায়ক মুশফিক তো অমন নন। তিনি তো অনেক ধীর-স্থির। তার মাঝে লেগস্ট্যাম্পের বাইরের বল তাড়া করার প্রবণতা আসলো কিভাবে? এটা কি সংক্রমিত হলো?

মুশফিক বোঝানোর প্রাণপণ চেষ্টা করলেন, ওই শট খেলা ঠিকই ছিল। শুধু শটটা পারফেক্ট হয়নি। তাই মুখে এমন কথা, ‘সেদিন লেগ স্লিপ ও শর্ট লেগ কিছুই ছিল না। ফিল্ডার ছাড়া খালি জায়গায় বল পাঠাতে গিয়েই সাকিব ব্যাট চালিয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বল ব্যাটের জায়গামতো লাগেনি।’

এটুকু বলে শেষ করলে মানা যেত। কিন্তু তা না করে আজ সংবাদ সম্মেলনে মুশফিক যা বলেছেন, তা রীতিমতো বিস্ময়কর। আজ দলের চরম বিপর্যয়ে তিনি নিজেও লক্ষ্মণ সান্দাকানের লেগস্ট্যাম্পের অন্তত এক ফুট বাইরের বলকে তাড়া করে উইকেটের পিছনে ক্যাচ দিয়েছেন।

টেস্টে লেগস্ট্যাম্পের অত বাইরে পিচ করা ডেলিভারির পিছু তাড়া করেন না কেউ। মুশফিক সেটাকে ভুল না বলে উল্টো নিজের সাফাই গাইলেন, ‘ওটা তো বাইরের বল। মারতে হলে বাইরের বলকেই মারতে হবে। উইকেটের বল তো আর মারা যাবে না। তাতে আউটের সম্ভাবনা থাকবে। তাই বাইরের বলে ব্যাট চালানো। খেলার উদ্দেশ্য ও শট ঠিকই ছিল। বলতে পারেন, শটটা পারফেক্ট হয়নি। ব্যাটের জায়গা মতো লাগেনি। সাকিবেরও না, আমারও নয়। শর্ট লেগ ও লেগ স্লিপ ছিল না। লাগলে রান পেতাম।’

ওপরের এ কথাটিই জন্ম দিয়েছে অনেক বড় প্রশ্নের। এ কি বললেন বাংলাদেশ অধিনায়ক? এটা কি ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি খেলা যে বাইরের বল পেলেই মারতে হবে? এটা টেস্ট। পাঁচ দিনের ম্যাচ। এখানে রান করার তাড়া অনেক কম। মারার চেয়ে ঠেকানোর অভ্যাস বেশি দরকার।

তারপরের কাজ হলো বল ছাড়া। অফস্ট্যাম্প ও লেগস্ট্যাম্পের বাইরে পিচ পড়া ডেলিভারি, যেগুলোতে বোল্ড বা এলবিডব্লিউ হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে, সেগুলো ছেড়ে দেয়াই উত্তম। টেস্ট ক্রিকেটে যারা বড় ও সফল ব্যাটসম্যান বলে পরিগণিত তারা সবাই তা-ই করেন। বরং ব্যাট পেতে দিলে উইকেটের পেছনে ক্যাচে হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি।

সেখানে মুশফিক বলছেন, ওই সব বল থেকেই রান করতে হবে। তার ভাষায়, উইকেট সোজা বল মারা যাবে না। ক্রিকেটের কোন মহাগ্রন্থে আছে উইকেট সোজা ডেলিভারি মারা যাবে না? টেস্টে মারার বল হলো ওভার পিচ, হাফ ভলি। সেটা উইকেট সোজাই হোক কিংবা একটু বাইরে।

একবার ভাবুন তো, বিরাট কোহলি যদি উইকেটে এসেই মিডল স্ট্যাম্প সোজা হাফ ভলি পান, তিনি কি ছেড়ে দেবেন? প্রশ্নই ওঠে না। বাঁ পা বাড়িয়ে হয় মিড অফ, মিড অন না হয় কভার দিয়ে কিংবা সোজা বোলারের পাশ দিয়ে ড্রাইভ খেলে সীমানার ওপারে পাঠাবেন।

সেই হাফ ভলি- ওভার পিচের অপেক্ষায় থাকেন বিশ্বের তাবত সফল ব্যাটসম্যানরা। আর বাংলাদেশের অধিনায়কের কথা শুনে মনে হলো, তারা অপেক্ষায় থাকেন- কখন অফ ও লেগস্ট্যাম্পের বাইরের বল পাবেন। সেগুলোকে মারতে যান। আর তাতেই নির্বিবাদে উইকেট দিয়ে আসা!

সৌম্য-মুমিনুলের কেন অমন রিভিউ!

.

বোল্ড হওয়ার পরও রিভিউ নিয়েছেন সৌম্য। ছবি: এএফপিবোল্ড হওয়ার পরও রিভিউ নিয়েছেন সৌম্য। আশার সলতে জ্বালিয়ে রেখে চতুর্থ দিন শেষ করেছিলেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল-সৌম্য সরকার। সেই আশায় যে গুঁড়েবালি, ইঙ্গিত মিলল আজ শেষ দিনের দ্বিতীয় বলেই। আসেলা গুনারত্নের বলে সৌম্য বোল্ড (৫৩)! বাংলাদেশের বাঁহাতি ওপেনারের যেন কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছিল না ব্যাপারটা!একটি বারও পেছনে না দেখে বিস্ময়করভাবে রিভিউ নিতে চাইলেন সৌম্য। আম্পায়ার অবশ্য দ্রুতই তাঁকে জানিয়ে দিলেন, পরিষ্কার বোল্ড; এখানে রিভিউ নেওয়ার কিছু নেই। বোল্ড হলে ব্যাটসম্যানের বাঁচার একটাই সুযোগ থাকে। বোলারের পা বাইরে পড়ে নো হয়। এখন আর সেটি রিভিউ নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। কোনো ব্যাটসম্যান আউট হওয়ার পর তৃতীয় আম্পায়ার নিজে থেকে তখনই দেখে নেন বোলারের পা ঠিক ছিল কি না। তাই বোল্ড হওয়ার পর রিভিউ চাওয়া এখন বিস্ময়কর সিদ্ধান্ত।
বোল্ড হয়েছেন, বেল উৎপাটিত হওয়ার শব্দও নিশ্চয়ই শুনেছেন। তবুও কেন সৌম্য রিভিউ নিতে চাইলেন? ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মুশফিকুর রহিম বললেন, ‘সৌম্য আসলে বুঝতে পারেনি বোল্ড হয়ে গেছে। হয়তো ভেবেছিল ক্যাচ হয়েছে। আর ব্যাটেই যখন লাগেনি তাহলে আউট কেন? আম্পায়াররা অবশ্য জানিয়ে দিয়েছে, সে পরিষ্কার বোল্ড!’
মুমিনুল হক বোল্ড হননি। দিলরুয়ান পেরেরার মিডল স্টাম্পে পিচ করা বলটা লাইন মিস করে এলবিডব্লু হয়েছেন বাঁহাতি টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। রিভিউ নেবেন কি না এ নিয়ে মুমিনুল তামিমের সঙ্গে খানিকক্ষণ আলোচনা করলেন। তামিম তাঁকে মানা করলেও রিভিউ নিলেন। মজাটা হচ্ছে, রিভিউ নিয়েও হাঁটা ধরলেন ড্রেসিংরুমের দিকে!
কেন মুমিনুল আউট নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন, সেটি বললেন মুশফিক, ‘ওরা দুজন (মুমিনুল-তামিম) আলোচনা করে ঠিক করেছে। ভেবেছে বলটা স্টাম্পের ওপরে বা পিচ আউটসাইড লেগ হতে পারে।’
পঞ্চম দিনে ছন্নছাড়া বাংলাদেশের প্রতীক হয়ে থাকল রিভিউ দুটিও!

মুশফিকের বিদায়; ৯ উইকেট হারিয়ে চা-বিরতিতে বাংলাদেশ

গল টেস্টে শ্রীলঙ্কার ৪৯৪ রানের জবাবে তৃতীয় দিন নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করছে বাংলাদেশ। তৃতীয় দিনের শুরুটা ভালো হয়নি সফরকারীদের। ১৯২ রানে ৬ উইকেট হারায় টাইগাররা। কিন্তু এরপর মুশফিক ও মিরাজের ব্যাটে ফলোঅন এড়ায় বাংলাদেশ। তবে সেট হয়েও দু’জনই বিদায় নেন। আর মুশফিকের বিদায়ের পর চা-বিরতিতে যায় দু’দল।


এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৯৭ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩১২ রান তুলেছে বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে আছেন শুভাষিশ রায় ও মোস্তাফিজুর রহমান।

দ্বিতীয় দিন তামিম ইকবালের সঙ্গে রেকর্ড জুটি গড়া সৌম্য তৃতীয় দিন বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। সুরাঙ্গা লাকমালের বলে ব্যক্তিগত ৭১ রানে বিদায় নেন তিনি। ১৩৭ বল খেলা বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যান আটটি চার ও একটি ছক্কা মেরেছিলেন।

সৌম্য‘র বিদায়ের পর উইকেটে এসে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে সাবলীল ব্যাটিং করতে থাকেন সাকিব আল হাসান। কিছুটা টি-টোয়েন্টি মেজাজেই খেলেন তিনি। মনে হচ্ছিল পিএসএলে খেলে এসে সেই ঘোর এখনও কাটাতে পারেননি। সানদাকানের বলে খোঁচা দিতে গিয়ে উইকেটরক্ষক নিরোশান দিকওয়ালার ক্যাচে পরিণত হন তিনি। ১৯ বলে এক চার ও এক ছক্কায় ২৩ করেন তিনি। প্রস্তুতি ম্যাচেও সাকিব ৪৬ বলে করেছিলেন ৩০ রান।

দিলরুয়ান কুমারার বলে আউট হন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। নিজেকে হারিয়ে খোঁজা সিনিয়র এই মিডলার্ডার শটপিচ বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে ফেরেন। ২৬ বলে একটি চারে ৮ রান করেন তিনি। মাঠে এসে উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান লিটন দাশ কোনো অবদান রাখতে পারেননি। লঙ্কান অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথের প্রথম শিকার হন তিনি। ব্যক্তিগত ৫ রানে গুনারত্নেকে ক্যাচ দেন তিনি। বাংলাদেশের লেজ অনেকটাই বেরিয়ে আসে। তবে, ঘুরে দাঁড়ান গত সফরে এই ভেন্যুতে ডাবল সেঞ্চুরি করা মুশফিক। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন মিরাজ।

দারুণ খেলে সাদা পোশাকের ১৬তম হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন মুশফিক। এরপর মুশফিক ও মিরাজের ব্যাটে ফলোঅন এড়ায় বাংলাদেশ। ফলোঅন এড়াতে টাইগারদের ২৯৫ রানের দরকার ছিল। ৯১তম ওভারে বিদায় নেন মেহেদি হাসান মিরাজ। ব্যক্তিগত ৪১ রানে পেরেরার বলে এলবির ফাঁদে পড়েন মিরাজ।

মুশফিক-মিরাজ জুটিতে স্কোরবোর্ডে যোগ হয় ১০৬ রান। ৭৭ বলে ৫টি বাউন্ডারি হাঁকান মিরাজ। দলীয় ২৯৮ রানের মাথায় টাইগারদের সপ্তম ব্যাটসম্যান হয়ে ফেরেন তিনি। পরের বলেই তাসকিন এলবির ফাঁদে পড়েন। দারুণ খেলতে থাকা মুশফিক জুটির অভাবে কিছুটা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। পরে হেরাথের বলে ব্যক্তিগত ৮৫ রানে বোল্ড হন তিনি। ১৬১ বলে ৮ চার ও ১ ছক্কায় তিনি নিজের ইনিংস সাজান।

হাথুরুসিংহের আশা ৬০০ রান করবে বাংলাদেশ

২০১৩ সালে এই গলেই শ্রীলঙ্কার ৫৭০ রানের জবাবে ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসের দলীয় সর্বোচ্চ ৬৩৮ রান করেছিল বাংলাদেশ। এবার দীর্ঘ দিন পর আবারো গল টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে এমন স্বপ্ন দেখছেন টাইগারদের হেড কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহ।

গল ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কার ৪৯৪ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে সফরকারী বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেটের বিনিময়ে ১৩৩ রান। ম্যাচের দ্বিতীয় দিন শেষে কোচ নিজেই আসেন সংবাদ-সম্মেলনে। জানিয়েছেন নিজেদের লক্ষ্যের কথাও।

হাথুরুসিংহের মতে টাইগারদের সামর্থ্য আছে পাঁচশ রান করার। আর সম্ভব হলে আরও বেশি রান করার চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি। হাথুরু বলেন,‘আমি তো চাইবো যদি সম্ভব হয় ৬০০ রান। আমরা প্রথমে চাইবো ওদের রানের কাছাকাছি যেতে। সম্ভব হলে তার চেয়ে বেশি করতে। আমার মনে হয়, এখানে ৫০০ রান করার সামর্থ্য আমাদের রয়েছে। ’

ম্যাচ শুরুর আগে শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথ আশঙ্কা করেছিলেন শেষের দিকে স্পিনাররা সহায়তা পাওয়ায় প্রথম ইনিংস খুব গুরুত্বপূর্ণ হবে। তার সাথে সুর মিলিয়েছেন টাইগার কোচ হাথুরুসিংহেও।

‘আমরা যত রান করি, দিন শেষে সেটা খুব কাজে লাগবে। পঞ্চম দিনে ম্যাচ জিততে বা ড্র করতে আমাদের খুব সাহায্য করবে তৃতীয় দিনের রান। ’

দ্বিতীয় দিনে নিজেদের প্রথম ইনিংসে খেলতে নেমে সৌম্য সরকারের সাথে ১১৮ রানের এক দুর্দান্ত উদ্বোধনী জুটি গড়েছিলেন তামিম ইকবাল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অদ্ভুতভাবে রান আউটের শিকার হয়ে সম্ভাবনার মৃত্যু ঘটিয়েছেন যা ইতিমধ্যে জেনে গেছেন অনেকেই।

তামিমের পর দিনের শেষ ভাগে এসে আউট হয়ে ফিরে গেছেন মমিনুল হকও। তবে আশার কথা হলো ক্রিজে ১৩৩ বলে ৬৬ রানে এখনও অপরাজিত আছেন ওপেনার সৌম্য সরকার। পুরোদস্তুর টেস্ট মেজাজে খেলে যাচ্ছেন তিনি।

আর সৌম্যর এই দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন কোচ হাথুরু। তবে পাশাপাশি সংবাদ সম্মেলনে সৌম্যসহ অন্যান্য টাইগার ব্যাটসম্যানদের লঙ্কান স্পিনারদের সম্পর্কে সাবধান করতে ভোলেননি তিনি।

উইকেট এখন আস্তে আস্তে স্পিন বান্ধব হয়ে পড়ছে উল্লেখ করে টাইগারদের লঙ্কান কোচ বলেন, ‘ওদের স্পিনাররা ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ওরা রান রেট নামিয়ে এনেছে, এখানে এই কাজটা ওরা খুব ভালো করে। উইকেট মন্থর হয়ে পড়ছে। একটু স্পিন বান্ধব হয়ে যাচ্ছে। আমাদের সামনে এটাই চ্যালেঞ্জ। ’

তামিম ‘বিভ্রমে’ হতাশ হাতুরুসিংহে

হাফ সেঞ্চুরির পর ইনিংসের ৩৬তম ওভারে লাকসান সান্দাকানের বল তামিম ইকবালের ব্যাট ফাঁকি দিয়ে লঙ্কান উইকেটরক্ষক নিরোসান ডিকভেলার হাতে জমা পড়ে। এমন সময় বুঝে উঠতে না পেরে হঠাৎ করেই রান নেওয়ার উদ্দেশে দৌর শুরু করেন তামিম। এই সুযোগে উইকেট ভেঙে দেন উইকেটরক্ষক ডিকভেলা। রান আউটের শিকার হয়ে ব্যক্তিগত ৫৭ রানে সাজঘরে ফেরেন তামিম।

বিনা উইকেটে ১০০ রান করা বাংলাদেশ দ্বিতীয় দিন শেষ করে দুই উইকেটে ১৩৩ রান নিয়ে। দিন শেষে তামিমের সেই অদ্ভুত আউটটাই আলোচনা কেন্দ্রবিন্দুতে। জাতীয় দলের প্রধান কোচ চান্দিকা হাতুরুসিংহে তামিমের এই আউটকে বললেন বললেন ‘ব্রেইন ফেড’! এর মানে ক্ষণিকের জন্য মতিভ্রম ঘটেছিল বাংলাদেশের এই ওপেনারের।

দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে তামিমের আউট নিয়ে কোচ হাতুরুসিংহে বললেন, ‘তার সঙ্গে আমার কথা হয়নি। আমার মাথায় যা আসছে তা এখন ক্রিকেটের আলোচিত শব্দ ‘ব্রেইন ফেড’। এখানে ঠিক তাই ঘটেছে, হয়তো ভেবেছিল বল উইকেটরক্ষককে ছাড়িয়ে গেছে। এজন্য সে দৌড় শুরু করেছিল। আমি শুধু বলতে পারি, এটা ব্রেইন ফেড।’

তামিমের এমন অদ্ভুত আউট নিয়ে হতাশা থাকলেও শিষ্যর ইনিংস নিয়ে প্রশংসা করতে ভোলেননি হাতুরুসিংহে, ‘এটা খুব হতাশাজনক, কারণ তখন আমরা ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। ওরা খুব ভালো ব্যাটিং করছিল। বিশেষ করে তামিম যেভাবে ইনিংসটি সাজাচ্ছিল তা সত্যিই আমাকে মুগ্ধ করেছে। এমন সময় তামিমের আউটটা সত্যি হতাশার।’