Tag Archives: মুশফিকুর রহিম

মুশফিক-তামিম ছাড়া কেউ ‘সিরিয়াস’ ছিলেন না

চতুর্থ দিন শেষে যখন বিনা উইকেটে ৬৭ রান তুলে ফেললো, মনে করেছিলাম এই টেস্ট ড্র করে ফেলবে বাংলাদেশ। এবং সেটাই হওয়া উচিৎ ছিল। চতুর্থ এবং পঞ্চম দিনে এমন ব্যাটিং উপযোগী পিচ খুব কমই হয়। শ্রীলঙ্কান বোলিংও আহামরি কিছু ছিল না। তিনটা সেশন কাটিয়ে দেওয়া খুব কঠিন কিছু ছিল বলে আমার মনে হয়নি। কিন্তু দুই সেশনে যেভাবে আমাদের ব্যাটসম্যান উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসলেন, দশ দশটি উইকেট হুড়মুড়িয়ে পড়ে গেল, তাতে আমি হতাশ এবং লজ্জিত। গলেতে এভাবে হেরে যাওয়াটা দু:খজনক। এভাবে হারলে আমাদের টেস্ট সামার্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, এটাই স্বাভাবিক।

আমার কাছে মুশফিক ও তামিমকে ছাড়া অন্য কাউকে সিরিয়াস মনে হয়নি। মুশফিক সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন। তামিমও যথাসম্ভব লড়াই করেছেন। কিন্তু বাকিরা হল্কা মেজাজে ব্যাট করেছেন। তাদের সিরিয়াসনেস,অ্যাপ্রোস ও অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে আমার প্রশ্ন আছে।

একাদশ নির্বাচন নিয়ে বাবারও কথা বলতে হচ্ছে আমার। এবারও ভুল একাদশ নিয়ে মাঠে নামলো বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কান একাদশে যখন তিন স্পিনার ও দুই পেসার বাংলাদেশ তখন তিন পেসার নিয়ে মাঠে নেমে পড়লো। তিন পেসারের ভাগ্যে জুঁটলো মাত্র ৬ উইকেট। এ তিনজন আবার একদমই ব্যাট ধরতে জানেন না।

ক্রিকেটে আসলে এখন আর সেই দিন নেই। এখন সবাইকে কিছু না কিছু রান করতে হয়। দুই পেসার নিয়ে স্পিনার তাইজুলকে একাদশে রাখা যেত। তাইজুল তো ব্যাটও করতে পারেন। মুশফিক তো প্রথম ইনিংসে আউট হলেন সঙ্গীর অভাবে।

গলেতে যা হয়েছে সেটা কলম্বোতেও হলে আমাদের জন্য সেটা হবে বিব্রতকর। ওটা আমাদের জন্য খুবই ভাইটাল টেস্ট। ওখাবে ভালো না করার সুযোগ নেই। যতদূর জানি, কলম্বোর উইকেট ব্যাটিং ও স্পিন সহায়ক। এই দিকটা চিন্তা করেই একাদশ ঠিক করতে হবে। একাদশ নির্বাচনে ভুল করলে আবারও পসতাতে হবে।

আপাতত জয়ের হিসেব কষে লাভ নেই। প্রাথমিক লক্ষ্য হবে ড্র। আর যেহেতু ওখানে ব্যাটিং ও স্পিন উইকেট, তাই তাইজুলকে অবশ্যই নিতে হবে। আর ব্যাটিং লাইন আরো দীর্ঘ করতে হবে। অনেক দিন ধরে ব্যাটে রান নেই মুমিনুল ও রিয়াদের। ওদের বিশ্রামে পাঠিয়ে ইমরুল ও সাব্বির কিংবা মোসাদ্দেককে একাদশে রাখতে হবে।

এরআগেও বাংলাদেশ এক পেসার নিয়ে টেস্ট খেলতে নেমেছে। কলম্বোর যা কন্ডিশন তাতে ওখানেও এক পেসার খেলানো যেতে পারে ।সেই এক পেসার কে? মোস্তাফিজের বোলিং নিয়ে আমি হতাশ। টেস্টে তেমন উপযোগী মনে হচ্ছে না তার বোলিং। আমার মনে হয় কলম্বোতে মোস্তাফিজকে বসিয়ে তাসকিনকে খেলানো ভালো হবে। তাসকিনের বলে অত্যন্ত তো গতি আছে।

এক পেসার মানে একাদশে একজন বাড়তি ব্যাটসম্যান। মানে সাব্বির ও মোসাদ্দেক। যদি দুই পেসার নেওয়া হয় তাহলে সাব্বিরের চেয়ে আমি মোসাদ্দেককে এগিয়ে রাখবো। মোসাদ্দেকের শট সিলেকশন সাব্বিরের চেয়ে ভালো। মোস্তাদ্দেক ভালো বোলিংও করতে পারে। আমার মনে হয় সৌম্য সরকারকে দিয়েও নিয়মিত বল করানো উচিৎ।

কলম্বোতে শততম টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। এই ম্যাচটা অনেক দিক দিয়েই গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয় নিচের একাদশটাই কলম্বোর কন্ডিশনে সবচেয়ে উপযুক্ত হবে।

তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন, সাব্বির রহমান, লিটন কুমার দাশ, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান/তাসকিন আহমেদ।

খন্দকার জামিল উদ্দিন : সাবেক বিসিবি পরিচালক ও ক্রিকেট বিশ্লেষক সূত্রঃ ঢাকা টাইমস

নিজের আউটের অদ্ভুত যুক্তি দাঁড় করালেন

গল টেস্টের দুই ইনিংসেই বাংলাদেশ দলের ব্যাটসম্যানরা লেগস্ট্যাম্পের অনেক বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে আউট হয়েছেন। প্রথমবার তামিম ও সাকিব আর দ্বিতীয় ইনিংসে মুশফিকুর রহীম।

তামিম-সাকিব না হয় একটু বেশি শটস খেলতে পছন্দ করেন, উচ্চাভিলাষী শট খেলার প্রবণতা বেশি। তারা না হয় স্বভাবজাত কারণেই খেলে ফেলছেন। কিন্তু অধিনায়ক মুশফিক তো অমন নন। তিনি তো অনেক ধীর-স্থির। তার মাঝে লেগস্ট্যাম্পের বাইরের বল তাড়া করার প্রবণতা আসলো কিভাবে? এটা কি সংক্রমিত হলো?

মুশফিক বোঝানোর প্রাণপণ চেষ্টা করলেন, ওই শট খেলা ঠিকই ছিল। শুধু শটটা পারফেক্ট হয়নি। তাই মুখে এমন কথা, ‘সেদিন লেগ স্লিপ ও শর্ট লেগ কিছুই ছিল না। ফিল্ডার ছাড়া খালি জায়গায় বল পাঠাতে গিয়েই সাকিব ব্যাট চালিয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বল ব্যাটের জায়গামতো লাগেনি।’

এটুকু বলে শেষ করলে মানা যেত। কিন্তু তা না করে আজ সংবাদ সম্মেলনে মুশফিক যা বলেছেন, তা রীতিমতো বিস্ময়কর। আজ দলের চরম বিপর্যয়ে তিনি নিজেও লক্ষ্মণ সান্দাকানের লেগস্ট্যাম্পের অন্তত এক ফুট বাইরের বলকে তাড়া করে উইকেটের পিছনে ক্যাচ দিয়েছেন।

টেস্টে লেগস্ট্যাম্পের অত বাইরে পিচ করা ডেলিভারির পিছু তাড়া করেন না কেউ। মুশফিক সেটাকে ভুল না বলে উল্টো নিজের সাফাই গাইলেন, ‘ওটা তো বাইরের বল। মারতে হলে বাইরের বলকেই মারতে হবে। উইকেটের বল তো আর মারা যাবে না। তাতে আউটের সম্ভাবনা থাকবে। তাই বাইরের বলে ব্যাট চালানো। খেলার উদ্দেশ্য ও শট ঠিকই ছিল। বলতে পারেন, শটটা পারফেক্ট হয়নি। ব্যাটের জায়গা মতো লাগেনি। সাকিবেরও না, আমারও নয়। শর্ট লেগ ও লেগ স্লিপ ছিল না। লাগলে রান পেতাম।’

ওপরের এ কথাটিই জন্ম দিয়েছে অনেক বড় প্রশ্নের। এ কি বললেন বাংলাদেশ অধিনায়ক? এটা কি ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি খেলা যে বাইরের বল পেলেই মারতে হবে? এটা টেস্ট। পাঁচ দিনের ম্যাচ। এখানে রান করার তাড়া অনেক কম। মারার চেয়ে ঠেকানোর অভ্যাস বেশি দরকার।

তারপরের কাজ হলো বল ছাড়া। অফস্ট্যাম্প ও লেগস্ট্যাম্পের বাইরে পিচ পড়া ডেলিভারি, যেগুলোতে বোল্ড বা এলবিডব্লিউ হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে, সেগুলো ছেড়ে দেয়াই উত্তম। টেস্ট ক্রিকেটে যারা বড় ও সফল ব্যাটসম্যান বলে পরিগণিত তারা সবাই তা-ই করেন। বরং ব্যাট পেতে দিলে উইকেটের পেছনে ক্যাচে হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি।

সেখানে মুশফিক বলছেন, ওই সব বল থেকেই রান করতে হবে। তার ভাষায়, উইকেট সোজা বল মারা যাবে না। ক্রিকেটের কোন মহাগ্রন্থে আছে উইকেট সোজা ডেলিভারি মারা যাবে না? টেস্টে মারার বল হলো ওভার পিচ, হাফ ভলি। সেটা উইকেট সোজাই হোক কিংবা একটু বাইরে।

একবার ভাবুন তো, বিরাট কোহলি যদি উইকেটে এসেই মিডল স্ট্যাম্প সোজা হাফ ভলি পান, তিনি কি ছেড়ে দেবেন? প্রশ্নই ওঠে না। বাঁ পা বাড়িয়ে হয় মিড অফ, মিড অন না হয় কভার দিয়ে কিংবা সোজা বোলারের পাশ দিয়ে ড্রাইভ খেলে সীমানার ওপারে পাঠাবেন।

সেই হাফ ভলি- ওভার পিচের অপেক্ষায় থাকেন বিশ্বের তাবত সফল ব্যাটসম্যানরা। আর বাংলাদেশের অধিনায়কের কথা শুনে মনে হলো, তারা অপেক্ষায় থাকেন- কখন অফ ও লেগস্ট্যাম্পের বাইরের বল পাবেন। সেগুলোকে মারতে যান। আর তাতেই নির্বিবাদে উইকেট দিয়ে আসা!

যে কারণে লঙ্কাকে বধ করার স্বপ্ন দেখছে মুশফিক!

পরিসংখ্যান ঘাটলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের অসহায় রূপটাই ভেসে উঠবে আগে। তবে অতীতকে পাশ কাটিয়ে এবারের সফরে বাংলাদেশ দলের কাছে দারুণ কিছুর প্রত্যাশা সবার। প্রথমত সম্প্রতি দারুণ ক্রিকেট খেলছে বাংলাদেশ। তার উপর সাঙ্গাকারা-জয়াবর্ধনে-মুরালিধরনের পরবর্তি যুগে শ্রীলঙ্কার বর্তমান দলটা বেশ তরুণ।

তাছাড়া শ্রীলঙ্কায় কন্ডিশন নিয়েও তো খুব বেশি সমস্যায় পড়ার কথা নয় মুশফিক-তামিম-সাকিবদের। ফলে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন দলের সিনিয়র ক্রিকেটাররাও। আজ ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমও লঙ্কান বধের স্বপ্ন একে দিলেন।

আর মুশফিকের এমন স্বপ্নের বড় কারণ মোস্তাফিজুর রহমানের ফেরা। প্রায় ছয় মাস চোটের সাথে লড়াই করে নিউজিল্যান্ড সিরিজেই অবশ্য ফিরেছিলেন মোস্তাফিজ। কিন্তু পুরো ফিট ফিজকে দেখা যায়নি। ভারত সফরে গেলেন না এই কারণেই। ওই সময়টাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএলে) খেলে আত্মবিশ্বাসী হয়েছেন ‘ফিজ’। শ্রীলঙ্কা সিরিজের আগে শতভাগ ফিট মোস্তাফিজুর।

শতভাগ মোস্তাফিজের ফেরাতেই বেশ উচ্ছাসিত মুশফিক। প্রথম টেস্টের আগে আজ বাংলাদেশ দলপতি বলে গেলেন, ‘এটা অবশ্যই আমাদের জন্য বিশাল অ্যাডভানটেজ। আমাদের যে মানের স্পিনার আছে তার সঙ্গে মোস্তাফিজ ফিট হয়ে উঠেছে। এটা আমাদের জন্য বড় একটা প্লাস পয়েন্ট। ’

বাংলাদেশ অধিনায়ক যোগ করেছেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এ উইকেটে আমাদের বোলিং বৈচিত্র্য ওদের ভোগাবে। এমন অনেক খেলোয়াড় আছে যারা মোস্তাফিজকে এর আগে খেলেনি। তাসকিন, রুবেল হোসেন, মিরাজ, সাকিব যারাই আছে তাদেরও খেলতে কষ্ট হবে তাদের। ’

মোস্তাফিজ-সাকিব-মিরাজরা নিজেদের সামর্থটা প্রয়োগ করতে পাড়লে সমস্যায় পড়তেই হবে শ্রীলঙ্কাকে। পরে ব্যাটসম্যানরাও যদি বোলারদের অনুসরণ করতে পারেন তাহলে দুরুণ কিছু তো হতেই পারে!

কিপিংয়ের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন মুশফিক

বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম আসন্ন শ্রীলংকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে উইকেটের পিছনে থাকবেন না। পাশাপাশি ব্যাটিং অবস্থানে এগিয়ে এসে চার নাম্বারে ব্যাট করবেন।

গত কয়েক সিরিজ থেকেই উইকেটের পিছনে ভালো সময় যাচ্ছে না মুশফিকের। অনেকেই টেস্টে উইকেট কিপিং ছেড়ে দেবার পরামর্শ দিয়েছিলেন। দলের অন্যতম ব্যাটিং ভরসা, অধিনায়কত্ব, উইকেট রক্ষক- গুরুত্বপূর্ণ তিনটি দায়িত্ব আলাদা চাপ তৈরী করছে বলে অভিজ্ঞরা মতামত দিয়েছিলেন। তবে মুশফিক কিছুদিন আগে জানিয়েছিলেন, উইকেট কিপিং ছাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তিনি সব দিক দিয়েই দলকে ভালো কিছু দিতে চান।

নিউজিল্যান্ড ও ভারত সিরিজে ৬ নাম্বারে ব্যাট করা মুশফিককে টিম ম্যানেজমেন্ট ৪ নাম্বারে ব্যাট করার কথা বলেছে। পাশাপাশি শ্রীলংকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে উইকেট কিপিং থেকে বিরতি নিতে বলেছে। মুশফিক এই সিদ্ধান্তে সম্মতি দিয়েছেন। উল্লেখ্য, ৭ মার্চ গলে শুরু হবে বাংলাদেশ-শ্রীলংকা প্রথম টেস্ট।

তাই, শ্রীলংকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে উইকেটের পিছনে দেখা যাবে না মুশফিককে।

টাইগারদের শততম টেস্ট নিয়ে রোমাঞ্চিত মুশফিক

ক্রিকেটের দীর্ঘতম ফরম্যাটে ২০০০ সালে বাংলাদেশের অভিষেকের পর ধীরে ধীরে শততম টেস্টের দ্বারপ্রান্তে উপনীত বাংলাদেশ। সর্বশেষ ভারতের মাটিতে ঐতিহাসিক হায়দরাবাদ টেস্টে ৯৮ টেস্ট খেলে ফেলেছে টাইগার দল।

ঐতিহাসিক শততম টেস্ট নিয়ে মুশফিক বলেছেন, ‘এটা তো অবশ্যই রোমাঞ্চিত হওয়ার ব্যাপার। এটা একটা মাইলফলক। এই টেস্টকে সামনে রেখে আমরা এমন কিছু যেন করতে পারি, যা আমাদের দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনবে। আমরা সেটার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

শ্রীলংকায় শুধু টেস্ট নয়, ওয়ানডে এবং টি২০ সিরিজও জিততে চান মুশফিক, ‘আমরা যদি শ্রীলংকার বিপক্ষে টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি২০ তে সিরিজ জিততে পারি, তাহলে আমাদের রেটিং পয়েন্ট বাড়বে। আর যেটা বলা হচ্ছে- শততম টেস্ট; এটা শুধু আমার জন্য নয় বরং অবশ্যই পুরো বাংলাদেশের জন্য এটা একটা বড় মাইলফলক, আমাদের জাতির জন্যই একটা বড় উপলক্ষ।’

উল্লেখ্য, দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে গলে ৭-১১ মার্চ স্বাগতিক আর দ্বিতীয় টেস্টটি হবে ১৫-১৯ মার্চ পিসারা ওভালে। শুরুতে অবশ্য দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে তারা। ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডকে টেস্ট হারানো। এরপর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ফরমেটে হোয়াইট ওয়াশ হলেও ভারতের বিপক্ষে টেস্টে পাঁচদিন লড়াই করার আত্মবিশ্বাসী নিয়েই শ্রীলঙ্কায় লড়বে বাংলাদেশ।

এদিকে, ২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর বাংলাদেশ টেস্ট খেলেছে ৯৮টি। এর মধ্যে জয় মাত্র ৮টিতে আর ড্র ১৫টিতে।

অশ্বিনের স্মরণীয় বলে মুশফিকের অটোগ্রাফ

হায়দরাবাদ টেস্টে ২৫০ উইকেট শিকারের মাইলফলক স্পর্শ করেন ভারতের স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। মাত্র ৪৫ টেস্ট খেলেই ২৫০ উইকেট শিকারের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। নিজের ২৫০ উইকেট শিকার স্মরণীয় করে রাখতে অশ্বিন রেখে দিয়েছেন ২৫০ উইকেট শিকার করার বলটি। সেই বলটিতে নিয়েছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের অটোগ্রাফ।

সোমবার ম্যাচের পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে ভারতের এ স্পিনার বল হাতে এগিয়ে যান বাংলাদেশের অধিনায়কের দিকে। চেয়ে বসেন অটোগ্রাফ। অশ্বিনকেও নিরাশ করেননি মুশফিক। হাসিমুখে বলে অটোগ্রাফ দিয়েছেন তিনি।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসে খুলে বলেন মুশফিকই। তিনি মাইলফলক ছোঁয়া সেই বল স্মরণীয় করে রাখতেই তার কাছে অটোগ্রাফ চেয়েছিলেন অশ্বিন। প্রথম ইনিংসে মুশফিকুর রহিমের উইকেট শিকার করেই ২৫০ উইকেট পূর্ণ করেছিলেন অশ্বিন।

বর্তমানে অশ্বিনের উইকেট ২৫৪ টি। দ্বিতীয় ইনিংসে আরো চারটি উইকেট পেয়েছেন এ অফ-স্পিনার। টেস্ট ইতিহাসে সবচেয়ে কম ম্যাচে ২৫০ উইকেট শিকারের রেকর্ডটাও এখন তার দখলে।

এবার ধোনি, গিলক্রিস্টদের পাশে মুশফিক

ভারতের সঙ্গে একমাত্র টেস্টে হেরেছে বাংলাদেশ। তবে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম করেছেন অনন্য এক রেকর্ড। যে রেকর্ড দুটি এর আগে করেছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি ও অ্যাডাম গিলক্রিস্ট।

হায়দরাবাদ টেস্টের প্রথম ইনিংসে মুশফিকের ব্যাট থেকে এসেছে ১২৭ রান। এটি তার পঞ্চম টেস্ট সেঞ্চুরি। এই সেঞ্চুরিতে দারুণ এক কীর্তিও গড়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ভারতের মাটিতে টেস্ট সেঞ্চুরি করা মাত্র তৃতীয় উইকেটকিপার-অধিনায়ক মুশফিক।

হায়দরাবাদ টেস্টের প্রথম ইনিংসে মুশফিকের ব্যাট থেকে এসেছে ১২৭ রান।

ভারতের মাটিতে গিলক্রিস্টের টেস্ট সেঞ্চুরি আছে দুটি। ২০০১ সালে মুম্বাইয়ে ১২২ ও ২০০৪ সালে বেঙ্গালুরুতে ১০৪। এর মধ্যে বেঙ্গালুরু টেস্টে উইকেটকিপারের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কও ছিলেন ‘গিলি’। আর ধোনির টেস্ট ক্যারিয়ারের ছয় সেঞ্চুরির পাঁচটিই ভারতের মাটিতে। পাঁচটিতেই তিনি ছিলেন ভারতের উইকেটকিপার-অধিনায়ক।

ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্টে বিরল আরও এক রেকর্ড গড়েছেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। প্রথম ইনিংসে ভারতের হয়ে সেঞ্চুরি করেছিলেন ঋদ্ধিমান সাহা। পরে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশের হয়ে সেঞ্চুরি করেন মুশফিক। এর আগেও প্রতিপক্ষের উইকেটরক্ষকের সঙ্গে সেঞ্চুরি করেছিলেন মুশফিক।

আর এর মধ্য দিয়ে অনন্য রেকর্ডের মালিক হলেন বাংলাদেশ টেস্ট দলপতি। একমাত্র মুশফিকই, যার এই রেকর্ড রয়েছে দু’বার। এর আগে ২০১৩ সালে মুশফিক শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করেছিলেন। সেই ম্যাচে সেঞ্চুরি করে‌ছিলেন শ্রীলঙ্কার উইকেটকিপার চান্দিমালও।

ফলে বিশ্বের অন্যতম সেরা উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, এবি ডিভিলিয়ার্স, মহেন্দ্র সিং ধোনি ও কুমার সাঙ্গাকার যে রেকর্ড নেই সেই রেকর্ড আছে বাংলাদেশি উইকেটরক্ষকের।

ফিল্ডিংই আমাদের ডুবিয়েছে : মুশফিক

পুরো ম্যাচে ছিল ফিল্ডিংয়ের হতশ্রী অবস্থা। স্লিপ থেকে শুরু করে উইকেট কিপিং সবখানেই বাংলাদেশের ফিল্ডারদের বাজে ফিল্ডিংয়ে খেসারত দিতে হয়েছে ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে। হায়দারাবাদে হওয়া একমাত্র টেস্টে ২০৮ রানে হেরেছে মুশফিকবাহিনী। এজন্য নিজেদের বাজে ফিল্ডিংকেই অনেকটা দায়ী করছেন অধিনায়ক মুশফিক।

ম্যাচ শেষে পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসে মুশফিক বলেন, ‘আমরা বোলিংয়ে অনেক সুযোগ সৃষ্টি করেছি। আমরা যদি ভারতকে ৫০০ বা ৬০০ এর ভেতর আটকাতে পারতাম তাহলেও আমাদের সুযোগ ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে এটা আসলেই অনেক কঠিন। আমরা ১০০ ওভারের বেশি ব্যাটিং করেছি প্রত্যেক ইনিংসে। মেহেদী ভালো ব্যাটিং এবং বোলিং করছে। তাইজুলও ভালো বল করছে। কিন্তু আমার মনে হয় আমাদের ফিল্ডিংই আমাদের ডুবিয়েছে।’

প্রথম ইনিংসে মুরালি বিজয়ের সহজ রানআউট মিস। এরপরেই সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। এছাড়া ঋদিমান সাহা মাত্র  ৪ রানে জীবন পান। এরপরে তিনিও তুলে নেন সেঞ্চুরি। আজিংকা রাহানের ক্যাচ মিস করেছেন সাব্বির। এরকম আরো ত্রুটি ছিল বাংলাদেশের ফিল্ডিংয়ে। তবুও সবকিছুকে পেছনে ফেলে এখান থেকে ভালো কিছু গ্রহণের কথাই বললেন মুশফিক।

‘আশা করছি আমরা এখান থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবো যা আমাদের ভালো পারফরম্যান্সে কাজে আসবে। আমি আমার দলের সবাইকে নিয়ে গর্ব করি। বিশেষ করে টেলএন্ডারদের নিয়ে, তারা বেশ ভালো লড়াই করেছে। কিছু জিনিস আছে যেগুলো আমাদের উন্নতি করতে হবে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আমাদের ম্যাচ রয়েছে সামনেই। আশা করছি সেখানে ভালো খেলবো আমরা।’

সাকিবকে ছাড়িয়ে গেলেন মুশফিকুর রহিম

ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্টে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন টাইগার দলপতি মুশফিক। এতেই বেশ কিছু রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান।

২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সাদা পোষাকে অভিষেক হয়েছিলো মুশফিকুর রহিমের। সেরাটা দিয়ে ক্রমেই বাংলাদেশ ক্রিকেটে নিজের অবস্থান তৈরি হরে নেন তিনি।

টেস্টে এটা মুশফিকের পঞ্চম সেঞ্চুরি। যেখানে তার সর্বোচ্চ স্কোর ২০০। সবশেষ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৫৯ রানের চমৎকার একটি ইনিংস খেলেছেন তিনি। পঞ্চম শতকের পথে মুশফিক ছাড়িয়ে গেলেন অলরাউন্ডার সাবিক আল হাসানকে।

এতদিন চারটি করে শতকে দু’জন একই বৃন্তে ছিলেন। মুশফিকের ওপরে এখন কেবল সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল (৬) ও জাতীয় দলের সহ অধিনায়ক তামিম ইকবাল (৮)।

এছাড়া এই ইনিংস দিয়েই গতকাল অবশ্য মুশফিক সাকিব, তামিম ও হাবিবুল বাশারের পর মাত্র চতুর্থ বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে তিন হাজারি ক্লাবের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।

ভারতের হায়দরাবাদে টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার দিনে বাংলাদেশের ব্যাটিং কান্ডারি হিসেবে আবির্ভাব হয় মুশফিক। ভারতের পাহাড়সম রানের বিপরীতে ব্যাট হাতে দলকে একাই অনেক দূর টেনে আনেন তিনি।

হায়দরবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে গতকাল তৃতীয় দিনে ৮১ রানে অপরাজিত ছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিক। আজ চতুর্থ দিনে ব্যাটিংয়ে নেমেই গতকালের নির্ভরযোগ্য সঙ্গী মিরাজকে হারান তিনি।

দিনের শুরুতেই ভুবনেশ্বর কুমারের করা প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই মিরাজ বোল্ড হলে কিছুটা ধাক্কা খান মুশফিক। তারপরও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়ে ক্রিজে আকড়ে থেকে সেঞ্চুরি তুলে নেন টাইগার অধিনায়ক।

উমেশ যাদবের করা ইনিংসের ১১৭ তম ওভারের প্রথম বলটিকে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে সেঞ্চুরি তুলে নেন মুশফিক। সেঞ্চুরি করতে ২৩৭ বল মোকাবেলা করে ১৩টি চার ও ১টি ছক্কা হাঁকান তিনি। টেস্টে ভারতের বিপক্ষে এটি মুশফিকের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি।

মুশফিকের পাঁচটি শতক এসেছে ভারত, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলংকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। এর মধ্যে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ অধিনায়কের এটি দ্বিতীয় শতক। ২০১০ সালে চট্টগ্রামে তিনি ধোনিদের বিপক্ষে ১১৪ বলে করেছিলেন ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস।

এর বাইরে গত মাসে নিউজিলান্ডের বিপক্ষে মুশফিক ১৫৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। তার বাকি শতকগুলোর মধ্যে ২০১৪ সালে কিংসটাউনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১১৬ ও ২০১৩ সালে গলেতে শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি (২০০)।

আর সাকিব আল হাসানের চারটি শতকের দুটিই এসেছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। একটি গত মাসে নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে ২১৭, অন্যটি ২০১০ সালে হ্যাশির্টনে ১০০ রান। বাকি দুটির একটি পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০১১ সালে ঢাকায়, ১৪৪ রান। আর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সাকিব খুলনাতে করেন ১৩৭ রান।

রেকর্ডটা হবে মুশফিকের?

যত বড় জুটি, ততই সম্ভাবনা স্কোর হৃষ্টপুষ্ট হয়ে ওঠার। ভারতের বিপক্ষে হায়দরাবাদ টেস্টে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ শতরানের জুটি পেয়েছে একটি। পঞ্চম উইকেট জুটিতে সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম যোগ করেছেন ১০৭ রান। মুশফিক এই টেস্টে সেঞ্চুরি করতে পারবেন কি না, কালই জানা যাবে। তবে জুটির সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক কিন্তু একটি রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেছেন আজ। আর ১৩ রান হলেই গড়বেন নতুন রেকর্ড।

বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে শতরানের জুটির সবচেয়ে বেশি অংশীদার হাবিবুল বাশার, ১৪ বার। মুশফিকও তা-ই। এই ১৪টি শতরানের জুটিতে সর্বোচ্চ চারবার তাঁর সঙ্গী ছিলেন সাকিব আল হাসান। কদিন আগে ওয়েলিংটন টেস্টে সাকিবের সঙ্গেই গড়েছেন রেকর্ড ৩৫৯ রানের জুটি। মাহমুদউল্লাহ, নাসির ও আশরাফুলের সঙ্গে মুশফিক শতরানের জুটি গড়েছেন দুবার। নাঈম, মুমিনুল, মেহরাব জুনিয়র ও জুনায়েদের সঙ্গে গড়েছেন একবার করে।
হাবিবুল বাশার সবচেয়ে বেশি শতরানের জুটি গড়েছেন জাভেদ ওমরকে নিয়ে। দুজনের জুটি ‘সেঞ্চুরি’ করেছে পাঁচবার। বাংলাদেশ দলের সাবেক এই অধিনায়ক হান্নান সরকারের সঙ্গে তিনবার, রাজিন ও শাহরিয়ার নাফীসকে নিয়ে দুবার গড়েছেন শতরানের জুটি। মানজারুল ইসলাম ও মেহরাব হোসেনের সঙ্গে একবার করে।
এই তালিকায় তিনে আছেন সাকিব আল হাসান। ১৩ বার শতরানের জুটিতে অংশ হয়েছেন বাঁহাতি অলরাউন্ডার। ২২ গজে সাকিবের রসায়ন সবচেয়ে বেশি জমেছে মুশফিকের সঙ্গে চারবার। শাহরিয়ার, নাঈম, মাহমুদউল্লাহ, নাসির, তামিম, সৌম্য, মুমিনুল, আশরাফুল, রকিবুলের সঙ্গে একবার জুটিতে ‘সেঞ্চুরি’ করেছেন।
শতরানের জুটি গড়তে তামিম ইকবাল অবদান রেখেছেন ১২ বার। ইমরুল ও মুমিনুলের সঙ্গে চারটি করে শতরানের জুটি গড়েছেন তামিম। জুনায়েদ-তামিম মিলে শতরানের জুটি গড়েছেন তিনটি। শত রানের বাকি জুটিটা গড়েছেন সাকিবের সঙ্গে।
এখন পর্যন্ত টেস্টে বাংলাদেশের যে ৬০টি শতরানের জুটি হয়েছে এর মধ্যে ৫৩টিতেই অবদান আছে মুশফিক, হাবিবুল, সাকিব ও তামিমের। এ তালিকায় হাবিবুলকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে মুশফিকের। হায়দরাবাদ টেস্টের তৃতীয় দিনে অবিচ্ছিন্ন সপ্তম উইকেট জুটিতে মুশফিক-মেহেদী হাসান মিরাজ যোগ করেছেন ৮৭ রান। এই জুটি তিন অঙ্কে পৌঁছালেই ১৫টি সেঞ্চুরি জুটিতে নাম লেখানো হয়ে যাবে মুশফিকের।

শতরানের জুটির অংশীদার (বার)
হাবিবুল বাশার  ১৪
মুশফিকুর রহিম  ১৪
সাকিব আল হাসান  ১৩
তামিম ইকবাল  ১২