Tag Archives: মুমিনুল হক

পারফরমার মুমিনুলকে চান মিনহাজুল

যার গায়ে সেঁটে গেছে ‘টেস্ট ব্যাটসম্যান’ তকমা, শেষ আন্তর্জাতিক ওয়ানডেটি যিনি খেলেছেন ২০১৫ বিশ্বকাপে, সেই মুমিনুল হক এবার বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইমার্জিং টিমস এশিয়া কাপে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের চার বছর পরও তিন সংস্করণের ব্যাটসম্যান হিসেবে স্বীকৃতি না মেলা মুমিনুলের কাঁধে কেন ৫০ ওভার ক্রিকেটের এই টুর্নামেন্টে নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হলো, আজ সেটির একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিসিবির প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন, ‌ ‘ওয়ানডেতে একটা সময় নিয়মিত ছিল সে। মাঝখানে বাদ পড়েছে। এখানে ভালো খেলে যাতে মুমিনুল ফিরে আসতে পারে সে কারণেই এই টুর্নামেন্টে তাকে খেলানো।’
কক্সবাজারে ম্যাচ দেখতে আসা মিনহাজুল অবশ্য অধিনায়ক মুমিনুল নন, ব্যাটসম্যান মুমিনুলকেই বেশি করে দেখতে চান, ‘এখানে তার অধিনায়কত্ব নয়, আমরা চাই পারফরমার মুমিনুলকে।’
মুমিনুলের ডেপুটি হয়ে টুর্নামেন্টে খেলছেন নাসির হোসেন। জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই অলরাউন্ডারও আশাবাদী হতে পারেন প্রধান নির্বাচকের কথায়, ‘আমরা এখন টানা সিরিজ খেলছি। কেউ হঠাৎ চোটে পড়ে গেলে তাদের বদলি খেলোয়াড় রাখা জরুরি। নাসিরও একটা সময় জাতীয় দলে নিয়মিত ছিল। কিন্তু খারাপ খেলায় বাদ পড়েছে। আশা করব এ ধরনের টুর্নামেন্টে ভালো খেলে সেও ফিরে আসেব।’

জয়ের কথা ভাবছেন মুমিনুলও

একমাত্র টেস্ট খেলতে ভারতে রওনা হওয়ার আগে কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে বলে গেছেন, বাংলাদেশ খেলবে জয়ের জন্য। কাল হায়দরাবাদে মুমিনুল হকের মুখেও শোনা গেল একই কথা। কোহলিদের সঙ্গে জয়ের লক্ষ্যেই খেলবেন তাঁরা।

দেশের মাঠে টেস্টে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ কখনো জিততে পারেনি। ৮ টেস্টের ৬টিতে হার, বাকি দুটি বৃষ্টির সৌজন্যে ড্র। ভারতের মাটিতে বাংলাদেশ কি পারবে দুর্দান্ত কিছু করতে? মুমিনুল অবশ্য আশাবাদী, ‘অসাধারণ সব খেলোয়াড় আছে তাদের। তারা শক্তিশালী এক দল। এই মুহূর্তে টেস্টে তারা এক নম্বর। তবে আমরা চেষ্টা করব ভালো খেলতে। আমরা খেলব জয়ের জন্য।’
টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার ১৭ বছরের মধ্যে ভারতে প্রথম টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। দুই দলের এই ম্যাচ নিয়ে মুমিনুল খানিকটা রোমাঞ্চিত, ‘আমাদের দলের জন্য এটা রোমাঞ্চকর। অন্যদের মতো আমিও এখানে কখনো খেলিনি (টেস্ট)। এখানে আমাদের আরও শিখতে হবে, ভালো খেলতে হবে। ভারতের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে খুব বেশি খেলা আমাদের হয় না। যেটা আমরা চাই।’
ভারতে গিয়েও বাংলাদেশকে পিছু ছাড়ছে না নিউজিল্যান্ড সফরের ব্যর্থতা। তবে কিউইদের বিপক্ষে টানা ব্যর্থ হলেও অনেক প্রাপ্তি খুঁজে পাচ্ছেন মুমিনুল, ‘প্রতিটা সিরিজই ভালো। নিউজিল্যান্ডে কী হয়েছে সেটি ভাবতে চাই না। আমরা আপাতত এই সিরিজেই চোখ রাখছি। তবে সেখানে সাকিব ভাই ডাবল সেঞ্চুরি করেছে, মুশফিক ভাই ১৫০ রান করেছে। এটা আমাদের অনুপ্রাণিত করছে। আশা করি, তারা এখানেও ভালো করতে পারবে।’
ভারতের বিপক্ষে একটিই টেস্ট খেলেছেন মুমিনুল। ২০১৫ সালের জুনে ফতুল্লা টেস্টে খুব একটা ভালো করতে পারেননি বাঁহাতি টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান, করেছিলেন ৩০ রান। এবার নিশ্চয়ই পুরোনো ব্যর্থতা পুষিয়ে দিতে চাইবেন। যদিও ব্যক্তিগত লক্ষ্য নিয়ে কিছু বলতে চান না মুমিনুল, ‘আমার কোনো ব্যক্তিগত লক্ষ্য নেই। তবে অনেক দিন ধরে লম্বা ইনিংস খেলতে পারছি না। এবার চেষ্টা করব বড় স্কোর করতে। আমার প্রমাণেরও কিছু নেই। তবে প্রতিদিনই আরও উন্নতি করে যেতে চাই।’
মেহেদী হাসান মিরাজ জানিয়েছেন, হায়দরাবাদ টেস্ট শেষে তিনি দেখা করবেন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনের সঙ্গে। মুমিনুলেরও এমন একটা ইচ্ছে আছে। তিনি চান সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলির সঙ্গে কথা বলতে, ‘সে দুর্দান্ত। চেষ্টা করব তার সঙ্গে কথা বলতে। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ভালো লাগে। যদি আক্রমণাত্মক হন কারও কাছে আপনি হারবেন না।’
টিম হোটেল থেকে রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে যেতে কাল বাংলাদেশের লেগেছে এক ঘণ্টা। হায়দরাবাদের যানজট দেখে খেলোয়াড়দের হয়তো ঢাকার কথা মনে পড়েছে। অনুশীলন বিকেল ২টা থেকে শুরু হলেও বাংলাদেশ দল রওনা দেয় বেলা সাড়ে ১১টায়। জুমার নামাজ আর দুপুরের খাবার খেতে একটু আগেভাগেই বের হওয়া। ৬টা পর্যন্ত অনুশীলন করে মুশফিকরা হোটেলে ফিরেছেন সন্ধ্যা ৭টায়।

লাঞ্ছনার শিকার মুমিনুল হক

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার মুমিনুল হক, যিনি ২২ গজে ব্যাট হাতে একের পর এক নতুন কীর্তি গড়ে বহিঃ বিশ্বের সামনে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করে চলেছেন সেই মুমিনুল হক’ই এবার লাঞ্ছনার শিকার হলেন। তাও আবার বিমানবন্দরে আনসার বাহিনীর হাতে!

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের নিজের সত্যায়িত পাতায় (ফেসবুক পেজ) এক বার্তা দিয়ে দুঃখপ্রকাশ করে বিষয়টি জানিয়েছেন মুমিনুল হক।

ছবিঃ ফেসবুক পেজে দেওয়া মুমিনুলের স্ট্যাটাসটি

মুমিনুল হক তার পেজে লিখেন, আজ খুব লাঞ্ছিত হয়েছি এয়ারপোর্টে। বাংলাদেশ আনসাররা খুব খারাপ ব্যবহার করেছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে বিমানবন্দরে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনাটি ঘটে।

বিমানবন্দরে মুমিনুল হকের মতো একজন ক্রিকেটারের উপর এমন ঘটনার পর আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তীব্র সমালোচনায় মেতেছে তার ভক্ত ও সতীর্থরা। সে সাথে এ মুহূর্তে তাকে ধৈর্য্য ধরার জন্যও পরামর্শ জানিয়েছে সবাই।

ভারত টেস্টে উইকেট নিয়ে ভাবনা নেই মুমিনুলের

আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট। মুমিনুল হক জানালেন, দলের আর সবার মতো রোমাঞ্চ ছুঁয়ে যাচ্ছে তাকেও।

“কি উইকেট হবে এখনও চিন্তা করছি না। স্পিন ট্র্যাক হলে স্পিন ট্র্যাক হবে বা পেস হলে পেস। আমরা স্পিন ও পেস দুটোর জন্যই পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়ে যাব। এখন অল্প সময়ের মধ্যে নিজেকে তাড়াতাড়ি মানিয়ে নিতে হবে।”

উপমহাদেশের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বেশি সময় লাগার কথা নয় বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। কিন্তু দেড় মাস ধরে অস্ট্রেলিয়া-নিউ জিল্যান্ডে থাকায় ভারত গিয়ে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া খুব একটা সহজ হবে না তাদের জন্য। সঙ্গে যোগ হয়েছে, টানা হারের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ।

“নিউ জিল্যান্ডে হারের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠা অবশ্যই সম্ভব। চার বছর ধরে জাতীয় দলে খেলি, এই সময়ে দেখেছি, দল যখন খারাপ খেলে তখন সবার মধ্যে ঐক্য আরও দৃঢ় হয়। সেখানে সব ম্যাচ হারার পরও দল ছন্নছাড়া হয়ে যাবে না।”

দলের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় অবদান রাখতে চান মুমিনুল, “প্রতি সফরে যা করতে পারিনি, চেষ্টা করি পরের সিরিজে তা কাজে লাগাতে। ভারতে চেষ্টা করব বড় ইনিংস খেলতে।”

ওয়ানডে ফরম্যাট নিয়ে ভাবনা নেই মুমিনুলের

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে তার যাত্রা শুরু হয়েছিল ওয়ানডে ফরম্যাট দিয়ে। অভিষেকের পর টানা বেশ কয়েকটি ম্যাচও খেলেন মুমিনুল হক। কিন্তু একটু একটু করে বদলে যেতে থাকে বাঁ-হাতি এই ব্যাটসম্যানের ফরম্যাট। তার গায়ের সাথে লেগে যায় টেস্ট ব্যাটসম্যানের ট্যাগ। যে ট্যাগ এখনও ঝেরে ফেলতে পারেননি মুমিনুল।

টেস্ট ফরম্যাটের নিয়মিত সদস্য হলেও ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টিতে উপেক্ষিতই থেকে যান মুমিনুল। বাংলাদেশের হয়ে সর্বশেষ ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়ানডে খেলেন বাঁহাতি এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। শেষ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন এরও প্রায় এক বছর আগে। যদিও এসব ভাবায় না তাকে। মজে থাকেন টেস্ট ফরম্যাট নিয়েই।

নিউজিল্যান্ড সফরটা ভাল যায়নি মুমিনুলের। প্রথম টেস্টে খেলেই পাঁজড়ের হাড়ের ইনজুরিতে পড়েন। দ্বিতীয় টেস্ট না খেলেই অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও ইমরুল কায়েসের সাথে দেশে ফিরে আসতে হয় বাংলাদেশের হয়ে ২০ টেস্টে চার সেঞ্চুরিসহ ৫১.১৫ গড়ে ১৬৩৭ রান করা মুমিনুলকে। বুধবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে এসেছিলেন চিকিৎসক দেখাতে।

এ সময় সাংবাদিকরা ওয়ানডে ফরম্যাট নিয়ে কথা তুলতেই মুমিনুল বলেন, ‘না, এমন কোনো চিন্তা করিনি। ওটা হলেও পরবর্তীতে। সুযোগ পেলেও আমি জানি না পারব কি, পারব না। কিন্তু আমি চেষ্টা করব। ওটা নিয়ে এখন চিন্তা করি না। আপাতত টেস্ট নিয়ে চিন্তা করছি। টেস্টে আরও ভালভাবে খেলে ভাল কিছু করতে হবে। ওটা টিম ম্যানেজম্যান্টের ব্যাপার। আমার ব্যাপার নয়।’

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পুরো সিরিজে বাংলাদেশ দল ব্যর্থতার ঘানিই টেনেছে। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে টানা আট ম্যাচ হেরেছে সফরকারিরা। তবে এর মধ্যেও ইতিবাচক দিক খুঁজে পাচ্ছেন মুমিনুল, ‘পুরো সিরিজে হয়তো ফল হয়নি। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় অনেক ইতিবাচক দিক আছে। আমি আমার জীবনের অর্ধেকের বেশি সময় ধরে যেটা শিখেছি এবারের নিউজিল্যান্ড সিরিজে আমি তা শিখেছি। এই সিরিজ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। যা পরবর্তীতে আমার ক্যারিয়ারে অনেক বেশি কাজে দেবে।’

অস্ট্রেলিয়াতে ক্যাম্প করায় নিউজিল্যান্ডে মানিয়ে নিতে সুবিধাই হয়েছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। এ জন্য বিসিবি, টিম ম্যানেজম্যান্টসহ কোচকে ধন্যবাদ জানান মুমিনুল, ‘আমার মনে হয় বোর্ড, টিম ম্যানেজম্যান্ট, চান্দিকা হাতুরুসিংহেকে ধন্যবাদ দেয়া উচিত। সফর শুরুর অনেকদিন আগে গিয়েছি। পুরো একমাস সময় পেয়েছি। ওই জিনিসটা আমার খুব কাজে লেগেছে।’

‘দল যখন খারাপ খেলে তখন আরও একতা বাড়ে’

নিউজিল্যান্ড সফর কঠিন হবে সেটা আগে থেকেই জানা ছিল। কিন্তু এমন পরণতির কথা কেউই হয়তো ভাবেনি। ওয়ানডে থেকে শুরু করে টি-টোয়েন্টি, টেস্ট সব ফরম্যাটে কেবল হারই সঙ্গী হয়েছে বাংলাদেশের। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে টানা আট ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ। অবশেষে দুঃস্বপ্নের সফর শেষে হয়েছে।

বুধবার রাতে ঢাকা পৌঁছে গেছে বাংলাদেশে দল। এমন সফরের পর সিনিয়র ক্রিকেটারদের দায়িত্ববোধ নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। পুরো দলের পারফরম্যান্স নিয়েও হচ্ছে নানা সমালোচনা। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন তো সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালের মতো তারকা ক্রিকেটারদের নিয়ে সমালোচনা করতেও দ্বিধা দেখাননি।

সব মিলিয়ে কিছুটা চাপের মধ্যেই আছে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। কিন্তু এমন অবস্থা হলে নাকি নিজেদের মধ্যে একতা বাড়ে বলে জানিয়েছেন ইনজুরির কারণে আগেই দেশে ফেরা বাংলাদেশ ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক। বুধবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চিকিৎসক দেখাতে এসে এমনই জানিয়েছেন বাঁ-হাতি এই ব্যাটসম্যান।

দলের মানসিক অবস্থা জানতে চাইলে মুমিনুল বলেন, ‘আমি জাতীয় দলে ঢুকেছি চার বছর। ঢোকার পর থেকে আমি দেখছি, দল যখন খারাপ খেলে তখন ঐক্য ভাল থাকে। আগে অনেক সময় দেখা যেত, খারাপ খেললে দল ছন্নছাড়া হয়ে যায়। আমি বাংলাদেশ ঢোকার পর থেকেই দেখছি দল যখন খারাপ খেলে তখন আরও একতা বাড়ে। আমার মনে হয় না তেমন কোনো সমস্যা হবে।’

নিউজিল্যান্ড সফর শেষ হতেই আলোচনায় ভারত সফর। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি হায়দরাবাদে শুরু হবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি। এই ম্যাচ নিয়ে মুমিনুল বলছেন, ‘স্পিন ট্র্যাক হলে স্পিন, পেস হলে পেস। আমরা পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়ে যাব। এখন অল্প সময়ের মধ্যে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে। ওখানেও পারফর্ম করতে হবে। দিন শেষে আপনার পারফরম্যান্সটা কাউন্ট হবে।’

প্রথম টেস্ট খেলে পাজড়ের হাড়ের ইনজুরিতে পড়েন মুমিনুল। যে কারণে দ্বিতীয় টেস্ট না খেলেই অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও ইমরুল কায়েসের সাথে দেশে ফিরে আসতে হয় তাকে। তার ভারত সফর এখনও অনিশ্চিত। তবে মুমিনুল আশাবদী, ‘ব্যথা এখন আগের চেয়ে কিছুটা কম। হয়তো যাওয়ার আগে ফিটনেস টেস্ট দিব। যদি পাস করি, ইনশাল্লাহ যাব।’

মুশফিক, ইমরুলের পর এবার ছিটকে গেলেন মুমিনুল

চলতি নিউজিল্যান্ড সিরিজ বাংলাদেশের কাছে যেন মতো দুঃস্বপ্নের মতো। একের পর এক পরাজয়ের সাথে যুক্ত হয়েছে ক্রিকেটারদের ইনজুরি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ক্রাইস্টচার্চের শেষ টেস্টের স্কোয়াড থেকে আগেই বাদ পড়েছেন ইনজুরিতে থাকা দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটের মুশফিকুর রহিম ও ইমরুল কায়েস। এবার ছিঁটকে গেলেন বাংলাদেশের টেস্ট স্পেশালিস্ট মুমিনুল হক। বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট নিশ্চিত করেছে বিষয়টি।


জানা গেছে, ওয়েলিংটন টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করার সময় পাঁজরে চোট পেয়েছেন মুমিনুল। তবে এক্সরে রিপোর্টে কিছু ধরা না পড়লেও অনুশীলন করতে গিয়ে ব্যথা অনুভব করেন মিমি। যার ফলে দ্বিতীয় টেস্টে খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশের টেস্টের সবচেয়ে বড় ভরসার।

নিউজিল্যান্ড সিরিজের শুরু থেকেই ইনজুরি আক্রান্ত টিম বাংলাদেশ। ইনজুরি থেকে নিউজিল্যান্ড সিরিজ দিয়েই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিরেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু নতুন করে কোমড়ের ব্যথায় সব ম্যাচ খেলতে পারেন নি ফিজ। এদিকে প্রথম একদিনের ম্যাচেই ইনজুরিতে পড়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। টেস্ট ক্রিকেটে ফিরলেও আবার পড়েন ইনজুরিতে। এছাড়া রান নিতে গিয়ে ইনজুরিতে পড়েছিলেন ওপেনার ইমরুল কায়েস। নিউজিল্যান্ড সিরিজ যেন বাংলাদেশের জন্য শনির সিরিজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, মুশফিক, ইমরুল, মুমিনুলকে ছাড়াই দ্বিতীয় টেস্টে আগামীকাল ভোর ৪ টায় মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

মুমিনুলকে কেন মনে পড়ে না হাথুরুর?

সীমিত ওভারের ব্যাটসম্যান হিসেবে এখনো স্বীকৃতি মেলেনি মুমিনুলের। ছবি: প্রথম আলোবিপিএলে দুর্দান্ত খেলছিলেন মুমিনুল হক, বিসিবি একাডেমি মাঠে অনুশীলনের ফাঁকে প্রশ্নটা করা হলো তাঁকে। এবার টি-টোয়েন্টিতেও নিজেকে প্রমাণ করার প্রত্যয়ে এগোচ্ছেন? মুমিনুল লাজুক হাসেন, ‘ঠিক তা না, ফ্র্যাঞ্চাইজি আমাদের পেছনে এত টাকা খরচ করছে…। তাদেরও তো কিছু দেওয়ার আছে!’
কিন্তু এটা কি মুমিনুলের মনের কথা? তাঁর ভেতর থেকে কি একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে না? আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছে প্রায় চার বছর। কিন্তু এখনো তিন সংস্করণের ব্যাটসম্যান হিসেবে স্বীকৃতি মেলেনি তাঁর। ‘টেস্ট ব্যাটসম্যান’ হিসেবে যে তকমা তাঁর গায়ে সেঁটে গেছে, সেটি মানতেও মুমিনুলের আপত্তি ছিল না, যদি বাংলাদেশ বছরে ১০-১২টা টেস্ট খেলত।
সীমিত ওভারে জাতীয় দলে নিয়মিত হতে মুমিনুলের চেষ্টার কমতি নেই। সর্বশেষ বিপিএলে তাঁর শুরুটা হয়েছে অসাধারণ। খুলনা টাইটানসের সঙ্গে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৫৭ বলে করেন ৬৪ রান। প্রথম ছয় ম্যাচে তাঁর রান ২১৬। এর মধ্যে ফিফটিই তিনটি। তবে শুরুর ছন্দটা পরে ঠিক ধরে রাখতে পারেননি। পরের ৯ ম্যাচে রান ১১৫। ১৫ ম্যাচে মুমিনুলের রান ৩৩১। পরিসংখ্যান যা-ই হোক, সিডনিতে বাংলাদেশ দলের কন্ডিশনিং ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার আগে মুমিনুল জানিয়েছিলেন, তাঁর ভেতর একটা বিশ্বাস জন্মেছে, সীমিত ওভারেও মেলে ধরতে পারেন।
মুমিনুল যে পারেন, আরেকটি উদাহরণ গত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। ১৬ ম্যাচে ১ সেঞ্চুরি, ৭ ফিফটিতে ৪১.৯৩ গড়ে ৬৭১ রান করে ছিলেন শীর্ষ পাঁচে। ৫৫ শতাংশ রানই তুলেছেন বাউন্ডারি থেকে। স্ট্রাইকরেট ৯৫.৯৯। একাদশ নির্বাচনে ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্স কি মূল্যায়ন করে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট? কখনো করে, কখনো করে না—মূল্যায়নের এই বৈপরীত্য অবশ্য বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন নয়।
টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে—দুই সংস্করণের ক্রিকেটেই মুমিনুলের সর্বশেষ স্মৃতি দুটি বিশ্বকাপ। শেষ আন্তর্জাতিক ওয়ানডেটি খেলেছেন গত বছর অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপে। টি-টোয়েন্টি খেলেছেন তারও এক বছর আগে। ঘরের মাঠে ২০১৪-এর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। মুমিনুল ‘টেস্টের খেলোয়াড়’—এই সনদ দেওয়ার আগে তাঁকে যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়েছে কি না, প্রশ্নটা আরেকবার তোলাই যায়। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডেতে ব্যাটিং নিয়ে চিন্তার ভাঁজ পড়লেও টিম ম্যানেজমেন্টের ভাবনায় মুমিনুল আসেননি। অথচ মুমিনুল দলের সঙ্গেই আছেন নিউজিল্যান্ডে।
প্রশ্ন হতে পারে, মুমিনুলকে খেলাবে কোথায়? উত্তরের খোঁজে পাল্টা প্রশ্ন হতে পারে, সৌম্য সরকারকে যদি একাদশের বাইরে রাখতে হয়, তবে তাঁর বিকল্প কেন হতে পারেন না আরেকজন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান?
অথচ সীমিত ওভারে ব্রাত্য হয়ে পড়া মুমিনুলের আন্তর্জাতিক আঙিনায় পা রাখা ওয়ানডে দিয়েই। শুধুই টেস্টের জন্য—এটাই যদি তাঁর জন্য সত্য হয়ে যায়, তথ্যটা একটা সময় মুমিনুলকে শুধু হাসাবেই না, কষ্টও দেবে!