Tag Archives: বিসিবি

প্রযুক্তিতেও স্বয়ংসম্পূর্ণ হচ্ছে বিসিবি

বছর পাঁচেক আগের কথা। ২০১২ সালে বাংলাদেশ সফরে এসেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল। ব্যাটিং দানব ক্রিস গেইল তখন ফর্মের তুঙ্গে। ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং ঝড়কে নিয়ে ভাবনার শেষ নেই বাংলাদেশ দলের। অনেকে বলাবলি করছিলো, গেইলকে আউট করতে পারবে না বাংলাদেশ। ক্রিকেটারদের মতো গেইলকে নিয়ে গবেষণা করছিলেন দীর্ঘদিন বাংলাদেশ দলের ভিডিও অ্যানালিস্ট হিসেবে কাজ করা নাসির আহমেদ নাসুও।

তিনিই আবিষ্কার করেছিলেন গেইলকে আউট করার উপায়। নিশ্চয়তা ছিলো না, তবে চেষ্টা করতে দোষ কি! তার কথাতেই গেইলের বিপক্ষে ডানহাতি স্পিনার সোহাগ গাজীকে দিয়ে বোলিং শুরু করানো হয়। যা টনিকের মতো কাজ করেছিলো। পুরো সফরে ফ্লপ উইন্ডিজ ব্যাটিং ত্রাস। প্রযুক্তির ব্যবহারে বদলে যায় সিরিজের চেহারা।

প্রযুক্তি কিভাবে কাজে আসতে পারে সেটা বুঝতে পেরেছিলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ক্রমেই প্রযুক্তির ব্যবহারে আগ্রহ বেড়েছে বিসিবির। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি এখন তাই পযুক্তির ব্যবহারের দিকেও জোর দিচ্ছে বিসিবি। দলের মতো প্রযুক্তিতেও স্বয়ংসম্পূর্ণ হচ্ছে ক্রিকেট বোর্ড। আর এর জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন বিসিবির নতুন পদ ম্যানেজম্যান্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) ম্যানেজারের দায়িত্ব পাওয়া নাসির আহমেদ নাসু।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রযুক্তিগত বিষয়গুলোর তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব আছেন সাবেক এই ভিডিও অ্যানালিস্ট। এসব নিয়ে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে গেইলের বিষয়টিও উঠে এলো। তিনি বলেন, ‘আমার জানা মতে, ক্রিস গেইলের বিপক্ষে কখনো অফ স্পিনার দিয়ে শুরু করা হয়নি। আমি অনেক ভিডিও অ্যানালাইসিস করে দেখেছি, এই একটা বিষয় করা যেতে পারে। তখন অনেকে বলছিলো, গেইল দারুণ ফর্মে। আপনারা তো গেইলকে আউট করতে পারবেন না। আমি বলেছিলাম, একটা নতুন জিনিস ট্রাই করবো আমরা। এভাবেই দল লাভবান হয়েছে। আমরা তখন অফস্পিনার দিয়ে শুরু করেছি। এবং সফলতা পেয়েছি।’

নাসির আহমেদ নাসু। ছবি: সংগৃহীত

প্রযুক্তি থেকে উপকৃত হয়ে একে একে অনেক ধরনের প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটে। আগে যেখানে একটি ছবি খুঁজতেই রীতিমতো হিমশিম খেতে হতো, এখন কয়েক বছর আগের পুরো ম্যাচের ভিডিও পেতেও সময় লাগে না। ২০১৪ সাল থেকে ক্রিকেটে বিশ্বের সব আন্তর্জাতিক ম্যাচের পুরো ভিডিও সার্ভারে জমা করা আছে বলে জানালেন বাংলাদেশের সাবেক এই ক্রিকেটার। বলেন, ‘আমার কাছে ২০১৪ থেকে যে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচের ভিডিও আছে। আর ডাটা যদি বলেন যে দিন থেকে ক্রিকেট খেলা শুরু হয়েছে ওই ১৮৭৭ সাল থেকে, ওই দিন থেকে সব তথ্য আছে।

আন্তর্জাতিক ম্যাচ সংরক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিসিবিতে এখন আমরা ছয় ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করি। জাতীয় দলে ব্যাকহ্যান্ড সার্ভিস বলে সার্ভিস আছে। এটা আমি জাতীয় দলে থাকতেই ছিলো। তবে এখন এটা আরও বড় পরিসরে এগিয়েছে। এটার কাজ হলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যতো ক্রিকেট ম্যাচ, এটা অনূর্ধ্ব-১৯, মেয়েদের কিংবা জাতীয় দলের সব ম্যাচ যা টিভিতে সম্প্রচার হয় তার সব রেকর্ড করা হয়। বল টু বল ক্যাপচার করে সার্ভারে আপলোড করা হয় ৭২ ঘণ্টার ভেতরে।’

কোচিং স্টাফদের জন্য ব্যবহৃত হয় সিলিকন সফটওয়্যার। এটার ব্যবহার সম্পর্কে বললেন, ‘আমাদের কোচিং সফটওয়্যারের জন্য সিলিকন সফটওয়্যার ব্যবহার করি। আমাদের এখানে তিন জন লোকাল অ্যানালিস্ট আছে, তারা কোথায় যাবে কি করবে তার দেখা শুনা করি। ওদের এরিয়া লোকেট করা, ওদের কোনো প্রবলেম হলে ট্রাবলশুট করা, ওদের সমস্ত কিছুর পেছন থেকে সাপোর্ট দেওয়ার কাজটা আমাকে করতে হয়।’

খেলাধুলায় প্রযুক্তির ব্যবহারের গুরুত্বর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘খেলাধুলা এখন প্রযুক্তি ছাড়া নড়তেই পারবে না। এখন অ্যানালিস্ট ছাড়া কোনো কোচ টিকতেই পারবে না। আপনি যদি বলেন, এই সিরিজে তোমার সঙ্গে কোনো অ্যানালিস্ট নেই। তাহলে ওই কোচ ওখানেই শেষ হয়ে যাবে। এটা যতো দিন যাবে ততো আরও বাড়তে থাকবে। আগে যেমন আমরা শুধু জাতীয় দলের জন্য একটা জিনিস নিয়ে কাজ করতাম। এখন দেখেন কত কত জিনিস চলে আসছে। এখন আরও বেশি গবেষণা হচ্ছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, এই প্রযুক্তির এগিয়ে চলাটা পুরো খেলাধুলার জন্য লাভের বিষয়।’

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে নতুন ফিজিও

দেনা-পাওনা নিয়ে ঝামেলার জেরে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে শ্রীলংকা সফরে যাননি ফিজিও ডিন কনওয়ে। তখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) তরফ থেকে জানানো হয়েছিল, ঝামেলা মিটলেই শ্রীলংকায় যাবেন তিনি। কিন্তু সেই ঝামেলা আর মেটেনি বরং গড়িয়েছে বিচ্ছেদে। কনওয়ের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে বিসিবি।

ইতোমধ্যে টাইগারদের জন্য নতুন ফিজিও পেয়েও গেছে সংস্থাটি। শ্রীলংকার বিপক্ষে সিরিজের জন্য আপাতত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে থিহান চন্দ্রমোহনকে। সোমবারই গলে দলের সঙ্গে যোগ দেয়ার কথা চন্দ্রমোহনের।

৩৭ বছর বয়সী এই অস্ট্রেলিয়ান কনওয়ের মত ততটা ‘হাই-প্রোফাইল’ না হলেও বেশ অভিজ্ঞ। প্রধান ফিজিও হিসেবে কাজ করেছেন হ্যাম্পশায়ার কাউন্টি ক্লাবে। কাজ করেছেন অস্ট্রেলিয়ায় মেলবোর্ন স্টার্স এবং ভিক্টোরিয়া বুশরেঞ্জার্সেও।

ডিন কনওয়ের সঙ্গে চুক্তি  বাতিল করার বিষয়টি প্রকাশ না করলেও এক সূত্রে জানা গেছে, অর্থকড়ি নিয়ে জটিলতা নিয়েই তাঁর সঙ্গে বিসিবির দূরত্ব বাড়ে। আর সে কারণে শ্রীলঙ্কা সফরে যেতে চাননি এই ইংলিশ ফিজিও, যে সম্পর্কটা ছিন্ন হয়।

অবশ্য তাঁর সঙ্গে চুক্তি ছিল ২০১৯ সাল পর্যন্ত। গত বছরের নভেম্বরে টাইগারদের ফিজিও হিসেবে নিয়োগ পান কনওয়ে। এ বছরের শুরুতে নিউজিল্যান্ড সিরিজের প্রস্তুতি ক্যাম্পে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। দলের সঙ্গে নিউজিল্যান্ড ও ভারত সফেরেও ছিলেন তিনি।

শ্রীলংকায় থাকা টাইগারদের জন্য বড় একটা সুখবর দিল বিসিবি

শ্রীলঙ্কা সফরে যাওয়া বাংলাদেশ দলের জন্য সুখবর। দলে যোগ দিতে শ্রীলঙ্কা যাচ্ছেন ইমরুল কায়েস। নিজেকে ফিট প্রমাণ করে ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে অনুমতি আদায় করে নিয়েছেন।

বাংলাদেশ দলের টেস্ট ক্রিকেটের নির্ভরযোগ্য এক প্লেয়ার ইমরুল কায়েস। অথচ ইনজুরির কারণে বেশ সময় ধরেই মাঠের বাইরে তিনি। অবশ্য গিয়েছিলেন ভারতে হায়দরাবাদ টেস্ট খেলতে। কিন্তু প্রস্তুতি ম্যাচে ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে আবারো তার উরুর পুরনো ব্যথা জেগে উঠে। এমনকি দেশে চলে আসেন দ্বিতীয় ইনিংস ব্যাট না করেই। এর আগেও ব্যথা পেয়েছিলেন ওয়েলিংটন টেস্টে। টানা দুই টেস্টে এমন ইনজুরির পর ঝুঁকি না নিতে চেয়ে নির্বাচকদের যুক্তি – ইমরুল এখনও পুরোপুরি ফিট নন।

২১ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘোষিত ১৬ সদস্যের টেস্ট দলে নাম ছিলো না ইমরুলের। অবশ্য ঘরোয়া লিগে নিজেকে ফিট প্রমাণ করতে পারলে দ্বিতীয় টেস্ট খেলার সুযোগ হতে পারে ইমরুলের, এমনটাই জানিয়েছিলেন প্রধান নির্বাচক।

বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) এ সাবলীলভাবে কোনরকম আড়ষ্টতা ছাড়াই ব্যাটিং এবং ফিল্ডিং করেছেন তিনি। করেছিলেন সেঞ্চুরিও। পূর্বাঞ্চলের বিপক্ষে ২১০ বলে ১৩৬ রানের এবং ২৯৪ মিনিট (৪ ঘন্টা ৫৪ মিনিট) এর অসাধারণ ইনিংস খেলে তিনি তার ফিটনেসের প্রমাণের চেষ্টাটাই বোধহয় করেছেন।

তার এই ফিটনেসে সন্তুষ্ট হয়েই জাতীয় দলের নির্বাচকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই ওপেনারকে কলম্বোর পি সারা ওভালে অনুষ্ঠিতব্য শততম টেস্টের জন্য শ্রীলঙ্কা পাঠানোর। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ১৫ মার্চ। ইমরুল কায়েস শ্রীলঙ্কার উদ্দেশ্যে রওনা দিবেন ১১ মার্চ।

শততম টেস্টকে ঘিরে বিসিবির বিশেষ আয়োজন

শ্রীলঙ্কা সফরে নিজেদের শততম টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে শেষ টেস্টে নিজেদের শততম টেস্ট খেলবে টাইগাররা। এ ম্যাচ উপলক্ষে মুশফিকুর রহিমদের দেওয়া হবে বিশেষ স্মারক ক্যাপ ও ক্রেস্ট।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বলেন, “খেলাটি হবে বাইরে। তাই শততম টেস্ট উদযাপনের সুযোগ আমাদের হাতে কম। তবে আমরা এটিকে স্মরণীয়ে করে রাখতে কিছু ছোট্টো আয়োজন করেছি। ক্রিকেটারদের স্মারক ক্যাপ ও স্মারক ক্রেস্ট দেওয়া হবে।”

দেশের মাটিতে হলে হয়তো আরো অনেক কিছুই করতো বিসিবি। কিন্তু দেশের বাইরে হওয়ায় আপাতত তা হচ্ছে না। তবে এ নিয়ে বিশেষ আয়োজনের জন্য শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডকে অনুরোধ করেছে বিসিবি।

২০০০ সালে টেস্ট ক্রিকেটে যাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশের। ভারতের বিপক্ষে অভিষেক টেস্ট খেলেছিলো টাইগাররা। এখন পর্যন্ত ৯৮ টেস্টে জয় ৮ টিতে এবং ড্র ১৫ টিতে।

ইতোমধ্যেই শ্রীলঙ্কা পৌছে গিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ৭ মার্চ সিরিজের প্রথম ও ১৫ মার্চ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে।

কনওয়েকে বরখাস্ত করলো বিসিবি

বাংলাদেশ জাতীয় দলের ইংলিশ ফিজিও ডিন কনওয়েকে বরখাস্ত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ডিন কনওয়ের সাথে ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তি হলেও বোর্ডের সাথে বেতন সংক্রান্ত ঝামেলায় জড়িয়ে চাকরির তিন মাস পার না হতেই বরখাস্ত হলেন তিনি।

জাতীয় দলের ফিজিওর দায়িত্ব থেকে ডিন কনওয়েকে অপসারণ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান।

ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার। পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ জাতীয় দল শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে দেশ ছাড়লেও দলের সাথে যোগ দেননি কনওয়ে। পরবর্তীতে বাতাসে গুঞ্জন ছড়ায় বিসিবির সাথে বেতন সংক্রান্ত ঝামেলায় জড়িয়েছেন এ ইংলিশ ফিজিও। বিষয়টি ভালো চোখে দেখেনি বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক বোর্ড বিসিবি। শেষ দিকে তাই আপোসের চেষ্ঠা চালালেও ডিন কনওয়ের প্রতি মন গলেনি বোর্ড কর্তাদের। তাই বরখাস্তই করা হয় ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের সাবেক এ ফিজিওকে।

এ প্রসঙ্গে আকরাম খান বলেন, ‘কনওয়ের সঙ্গে আমাদের বেশ কিছুদিন থেকেই বনিবনা হচ্ছিল না। তাই তাকে আমরা ছেড়ে দিয়েছি। আজ থেকেই তাকে ছাটাই করা হয়। ইতোমধ্যেই তিনি দেশে ফিরে গেছেন।’

ডিন কনওয়েকে বরখাস্ত করার পর আপাতত জাতীয় দলের জন্য স্থায়ী কোন ফিজিও না থাকলেও এ নিয়ে চিন্তিত নয় বোর্ড। সব্লপ সময়ের মধ্যে ভালো ও মান-সম্পন্ন একজন ফিজিওকে নিয়োগ দেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী বিসিবি।

উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কা সফরে ডিন কনওয়ের অনুপস্থিতিতে সাকিব-তামিমদের ফিজিওর দায়িত্ব পালনের জন্য জাতীয় দলের সাথে শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়েছেন খাদেমুল ইসলাম শাওন।

বিশ্বের ৫ম ধনী ক্রিকেট বোর্ড বিসিবি

বিশ্বের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে আর্থিক দিক থেকে এখন ৫ম স্থানে রয়েছে এদেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে এমন তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উপরে আছে যেসব বোর্ড সেগুলো হল যথাক্রমে বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই), ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা (সিএসএ), ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

ধনী হওয়ার দৌড়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড পেছনে ফেলেছে ‘বিগ থ্রি’র অন্যতম প্রধান অংশ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)-কেও। শুধু তা-ই নয়, বিসিবির বার্ষিক আয় সিএ-এর দ্বিগুণেরও বেশি। এদেশের ক্রিকেটের জন্য সমর্থকদের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই মূলত আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে দেশের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

এক নজরে টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর নিজস্ব ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার বার্ষিক আয়

১. বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন্ডিয়া- ২৯৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার

২. ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা- ৭৯ মিলিয়ন ইউএস ডলার                                                                     ৩. ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড- ৫৯ ইউএস ডলার                                                             ৪. পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড- ৫৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার                                                                   ৫. বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড- ৫১ মিলিয়ন ইউএস ডলার                                                                 ৬. জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট- ৩৮ মিলিয়ন ইউএস ডলার

৭. ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া- ৩৮ মিলিয়ন ইউএস ডলার                                                                         ৮. শ্রীলংকা ক্রিকেট- ২০ মিলিয়ন ইউএস ডলার                                                                               ৯. ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড- ১৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার                                                               ১০. নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট- ৯ মিলিয়ন ইউএস

বিসিবি সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর আভাস পাপনের

বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। ছবি: সংগৃহীত

সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি পদের মেয়াদ চার বছর। ২০১৩ সালের অক্টোবরে বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব নেওয়া নাজমুল হাসান পাপনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের অক্টোবরে। নতুন মেয়াদে বিসিবি সভাপতি পদে আর থাকতে চান না পাপন।

সোমবার নিজ কার্যালয় বেক্সিমকোর সম্মেলন কক্ষে গণমাধ্যমকে এমনটাই জানালেন নাজমুল হাসান পাপন এমপি।

বিসিবি সভাপতির পদ ছাড়াও বেক্সিমকো গ্রুপের বড় পদে কর্মরত নাজমুল হাসান পাপন। এছাড়া তিনি জাতীয় সংসদেরও সদস্য। তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করাটাকে শক্ত বলে মনে করেন তিনি। তাই এই তিনটির মধ্য থেকে দু’টি বেছে নেবেন বলে আভাস দিলেন বিসিবির বর্তমান সভাপতি।

এ প্রসঙ্গে পাপন বলেন, ‘আমার বেশ সমস্যা হচ্ছে। একটা হচ্ছে আমি একজন চাকুরিজীবি। তার চেয়েও বড় কথা হলো আমি একজন সংসদ সদস্য। আমার এলাকায় কাজ করা ও সংসদে যাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশের জন্য কাজ করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সভাপতি হিসেবে ক্রিকেটের জন্য সময় দেয়া আমার পক্ষে এক কথায় অসম্ভব। কেননা আমি একদমই সময় পাই না। সবসময়ই আমাকে দৌঁড়ের মধ্যে থাকতে হয়। আমি আইসিসি সভা শেষ করে মাত্রই আসলাম, এখন যেতে হবে টেস্টের জন্য হায়দরাবাদে। ওখান থেকে দেশে ফিরে ১৫ তারিখের মধ্যে চাকুরির সুবাদে আবার যেতে হবে আরেক দেশে।’

পাপন আরও বলেন, ‘এতে করে কোনো মানসিক সমস্যা হয় না, তবে শারীরিকভাবে সমস্যা হয়ে যাচ্ছে। কেননা আমাকে ভ্রমণ অনেক বেশি করতে হচ্ছে। যে সমস্ত জায়গায় সময় দেয়া দরকার বিশেষ করে আমি মনে করি চাকুরিতে আমি সময় দিতে পারছি না। আমার এলাকায় তো একেবারেই না। আমার যে সময় আছে তার ৭০-৮০ ভাগই ক্রিকেট নিয়ে বসে থাকতে হয়। কারণ এটা এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু যেখানে সময় দিতেই হয়। তবে আমি উপভোগ করি, ভালো না লাগলে তো আর করতে পারতাম না। তবে সমূহ সম্ভাবনা আছে নিজের তরফ থেকে নতুন করে আর মেয়াদ না বাড়ানোর।’

আইসিসির নতুন প্রস্তাবনায় খুশি বিসিবি

বিগ থ্রি তত্ত্ব বাদ দেয়ার প্রস্তাবে স্বস্তিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। আইসিসির দ্বি-স্তর টেস্ট কাঠামোর নতুন প্রস্তাবনা-কে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ। লিগ ভিত্তিক এই কাঠামোয় টাইগারদের টেস্টের সংখ্যা বাড়বে বলছেন বোর্ড কর্তারা। ক্রিকেটের বিশ্বায়নে নতুন এই প্রস্তাবনা কার্যকর হবে বলেও বিশ্বাস ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের।

২০১৬তে আইসিসির দ্বিস্তর টেস্ট কাঠামোর পরিকল্পনা নাড়িয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশকে। সে সময় বিসিবির শক্ত অবস্থান বিফলে যায়নি। এক বছর পর আবারো আইসিসির দ্বিস্তর টেস্ট প্রস্তাবনা। এবারে কোন হুমকি নেই বাংলাদেশের জন্য। নতুন এই কাঠামোয় বরং লাভবান হবে বিসিবি।

নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী টেস্ট র‍্যাংকিংয়ের নয় নম্বর দল বাংলাদেশ থাকছে প্রথম স্তরে। র‍্যাংকিংয়ের প্রথম নয় দেশ নিজেদের মধ্যে হোম এন্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে খেলবে। আর পরের সারির তিন দল খেলবে নিজেদের মধ্যে। শর্তসাপেক্ষে তারাও বড় দলগুলোর সাথেও নামতে পারবে। লিগ পদ্ধতিতে খেলা হওয়ায় পুরো লিগে আট প্রতিপক্ষের সঙ্গে ঘরের মাঠে আটটি আর প্রতিপক্ষের মাঠে আটটি সিরিজ খেলার সুযোগ পাবে দল।

তবে শংকাও থাকছে এই নিয়মে ব্যর্থতায় অবনমন হতে পারে দ্বিতীয় স্তরে। আফগানিস্তান-আয়ারল্যান্ডের টেস্ট স্ট্যাটাস ক্রিকেটের অগ্রগতির পক্ষেই থাকবে। বিসিবি ক্রিকেটের বিশ্বায়নের পক্ষে তবে নিজেদের ঘর গুছিয়ে রাখতে সবসময়-ই সচেষ্ট।

১৪ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলেছিলো বাংলাদেশ, ইংল্যান্ডে খেলেছে সাত বছর আগে। টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর এই প্রথম ভারতের মাটিতে টেস্ট খেলছে টাইগাররা। নতুন নিয়ম অনুমোমদন পেলে এসব দেশে নিয়মিত টেস্ট খেলার সুযোগ মিলবে।

বছরজুড়ে ক্রিকেট আর ক্রিকেট

এক বছরের জন্য একটা বিমান ভাড়া করে ফেলতে পারে বিসিবি। সেই বিমান আজ ভারত, কাল আয়ারল্যান্ড, পরশু দক্ষিণ আফ্রিকা উড়ে যাবে। কথাটা হাস্যকর শোনালেও ২০১৭ সাল বাংলাদেশের ক্রিকেটের সামনে যে রকম ব্যস্ত সূচি নিয়ে এসেছে, দলের নিজস্ব একটা বাহন থাকলে খারাপ হতো না। লম্বা সময় শারীরিক ও মানসিক ফিটনেস ধরে রাখার দারুণ এক চ্যালেঞ্জ তাই ক্রিকেটারদের সামনে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ওয়ানডের হোম সিরিজ দিয়েই এই ব্যস্ত সূচির শুরু। আফগানিস্তান দল ঢাকায় থাকতে থাকতেই ইংল্যান্ড চলে এল তিন ওয়ানডে ও দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে। এরপর প্রায় এক মাস ধরে চলল বিপিএল। ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ হলেও তারকা বিদেশি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণে বিপিএলের মাঠের চাপটাও কম নয়।
ডিসেম্বরে বাংলাদেশ দল গেল সাম্প্রতিক সময়ের দীর্ঘতম সফরে। প্রথমে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ৯ দিনের অনুশীলন ক্যাম্প, সেখান থেকে নিউজিল্যান্ডে ৩৫ দিনের সফর। তিন ওয়ানডে, তিন টি-টোয়েন্টি ও দুই টেস্টের সিরিজে বাংলাদেশ বিধ্বস্ত হয়েছে সব দিক দিয়েই। খেতে হলো একের পর এক হারের ধাক্কা, সঙ্গে একের পর এক চোটের হামলা। ক্রাইস্টচার্চের শেষ টেস্টে তো এমন হলো, ১১ জনই খুঁজে পাওয়া যায় না! ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় দলের সঙ্গে যাওয়া নাজমুল হোসেনের আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়ে গেল এই সুযোগে।
২৫ জানুয়ারি নিউজিল্যান্ড থেকে ফিরে এক সপ্তাহেরও বিরতি পাননি ক্রিকেটাররা। দুই দিন হালকা অনুশীলন করে পরশু তারা উড়ে গেছেন ভারতে। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের সফর সাম্প্রতিক সময়ের দীর্ঘতম হলে এটি সংক্ষিপ্ততম। মাত্র ১৪ দিনের সফর। এই দুই সপ্তাহে বাংলাদেশ দল খেলবে একটি দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ ও একমাত্র টেস্ট।
বছর শুরুই হলো পিঠাপিঠি সফর দিয়ে। বাকিটাও আন্তর্জাতিক সূচিতে ঠাসা। ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে ফিরে ২৭ ফেব্রুয়ারি দল যাবে শ্রীলঙ্কা। মার্চ-এপ্রিল মিলে হবে দুই টেস্ট, দুই টি-টোয়েন্টি ও তিন ওয়ানডের সিরিজ। আয়ারল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে মে মাসে আয়ারল্যান্ড সফর। ১২ থেকে ২৪ মে অনুষ্ঠেয় এই সফর শেষ করেই ১ জুন থেকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে দল চলে যাবে ইংল্যান্ডে।
পরের মাসে, মানে জুলাইয়ে পাকিস্তান দলের আসার কথা বাংলাদেশে। আগস্টে বকেয়া টেস্ট সিরিজ খেলতে আসার কথা অস্ট্রেলিয়ারও। দেশের মাটিতে এ বছর এখন পর্যন্ত এই দুটি সিরিজই আছে। তবে পাকিস্তান নাকি আসার জন্য একটা শর্ত জুড়ে দিয়েছে—তারা বাংলাদেশে আসবে, যদি বিসিবি দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ দলকে পাকিস্তানে পাঠায়। বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা প্রধান আকরাম খান অবশ্য জানিয়েছেন, এ রকম কোনো প্রস্তাবের কথা তিনি শোনেননি।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পর এ বছর নিশ্চিত সফর আছে আর একটাই—সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। দুই টেস্ট, তিন ওয়ানডে, দুই টি-টোয়েন্টি সেখানেও। দেশে ফিরেই নভেম্বর-ডিসেম্বরে বিপিএল।
২০১৭ সালে তাই শ্বাস ফেলার সময়টাও কম মাশরাফি-মুশফিকদের। নিউজিল্যান্ডের পর ভারত, শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এক বছরে ক্রিকেটের সব কন্ডিশনেই খেলা হয়ে যাবে বাংলাদেশ দলের। সিঙ্গাপুর ও দুবাই সফর দুটি চূড়ান্ত হলে এর সঙ্গে যোগ হতে পারত দুটি ভিন্ন কন্ডিশনও। একটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উদ্বোধন উপলক্ষে সিঙ্গাপুরে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে তিন জাতি সিরিজ খেলার আলোচনা চলছিল। দুবাইয়ে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের একটি টুর্নামেন্টেও দল পাঠানোর কথা। তবে এ দুটি সফরের ব্যাপারে প্রাথমিক আলোচনার পর আর কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানিয়েছেন আকরাম।
সফর দুটি না হলে ক্রিকেটাররা একটু বিশ্রামই পাবেন। তবে যে সূচিটা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত, সেটি ধরলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এত ব্যস্ত বছর আগে কাটায়নি বাংলাদেশ। টেস্ট ম্যাচই আছে সাতটি! বছরজুড়ে এত শারীরিক ও মানসিক ধকল কতটা সইতে পারবে টানা ক্রিকেটে অনভ্যস্ত বাংলাদেশ দল?
বিসিবির চিকিৎসক দেবাশিস চৌধুরী অবশ্য অভয় দিলেন, খেলার মাঠে কেউ চোটে না পড়লে অন্য কোনো সমস্যার আশঙ্কা কম, ‘আমাদের বেশির ভাগ ক্রিকেটারের বয়স ২২ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে। এই বয়সেই সামর্থ্যের সবটুকু ঢেলে দেওয়া যায়। নিয়মিত যেসব ফিটনেস টেস্ট হচ্ছে, সেগুলোতেও সবাই ভালোভাবে পাস করছে। বলতে পারেন বাংলাদেশের সবচেয়ে ফিট খেলোয়াড় তারা। আকস্মিক কিছু না ঘটলে খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়ে তেমন চিন্তার কিছু নেই।’
তবে টানা খেলার মানসিক শক্তি সবাই ধরে রাখতে পারবেন কি না, সেই নিশ্চয়তা দিতে পারেন না তিনিও, ‘আমাদের গাইডলাইন সব সময়ই থাকে। তবে শারীরিক ও মানসিকভাবে ফিট থাকতে খেলোয়াড়দেরও নিজস্ব কিছু দায়িত্ব আছে।’
বাংলাদেশের
ক্রিকেট সূচি ২০১৭
ভারত সফর
৯-১৩ ফেব্রুয়ারি একমাত্র টেস্ট হায়দরাবাদ
আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ
১২ মে বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড
১৭ মে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড
১৯ মে বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড
২৪ মে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড
চ্যাম্পিয়নস ট্রফি
গ্রুপ পর্ব
১ জুন বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড কেনিংটন ওভাল
৫ জুন বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া কেনিংটন ওভাল
৯ জুন বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড কার্ডিফ
দক্ষিণ আফ্রিকা সফর
২৮ সেপ্টে.-২ অক্টো. ১ম টেস্ট পচেফস্ট্রুম
৬-১০ অক্টোবর ২য় টেস্ট ব্লুমফন্টেইন
১৫ অক্টোবর ১ম ওয়ানডে কিম্বার্লি
১৮ অক্টোবর ২য় ওয়ানডে পার্ল
২২ অক্টোবর ৩য় ওয়ানডে ইস্ট লন্ডন
২৬ অক্টোবর ১ম টি-টোয়েন্টি ব্লুমফন্টেইন
২৯ অক্টোবর ২য় টি-টোয়েন্টি পচেফস্ট্রুম
* মার্চ-এপ্রিলে শ্রীলঙ্কা সফরে ২টি টেস্ট, ৩টি ওয়ানডে ও ২টি টি-টোয়েন্টি খেলবে বাংলাদেশ

জন্টি রোডসকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগের কথা ভাবছে বিসিবি

নিউজিল্যান্ড সিরিজে বাংলাদেশের ভরাডুবির অন্যতম বড় কারণ বাজে ফিল্ডিং। সব ফরমেটেই টাইগাররা মিস করেছে অসংখ্য ক্যাচ। পুরো সিরিজ জুড়ে ১৮ টি ক্যাচ হাত ফসকে গেছে। প্রশ্ন উঠেছে বাংলাদেশের ফিল্ডিং সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ কি? বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ক্রিকেটারদের ফিটনেস নিয়ে বলতে গেলে ‘বিরক্ত’। ফিল্ডিং পরামর্শক হিসেবে জন্টি রোডসকে নিয়োগের কথা ভাবছেন বিসিবি প্রধান।

অনুশীলন ক্যাম্পে ফিটনেস ধরে রাখলেও খেলার বিরতিতে তা ধরে রাখতে পারছেন না বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। তাই ক্রিকেটারদের সবসময় নজরদারীতে রাখার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেন, “অনুশীলন ক্যাম্প থেকে শুরু করে ক্রিকেটাররা যখন ছুটিতে নিজ নিজ বাড়িতে থাকবেন তখনও তাদের কড়া নজরদারীতে রাখা হবে। যাতে করে তারা ফিটনেস হারিয়ে না ফেলে। প্লেয়াররা যখন ক্যাম্পে থাকে তখন তাদের ফিটনেস বেশ ভালো থাকে। কিন্তু ছুটিতে গেলে তা পুরোপুরি বদলে যায়। একমাস ছুটি কাটিয়ে আসার পরে চেনাই যায় না। তাই আমরা ঠিক করেছি তাদের বাড়িতেও আমাদের মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা রাখবো।”

২০১৭ সালে পুরো বছর জুড়েই টাইগারদের আন্তর্জাতিক সফর। ফিটনেস ধরে রাখা তাই কঠিন হয়ে পড়বে। এসব কিছু বিবেচনায় সর্বকালের সেরা ফিল্ডার দক্ষিণ আফ্রিকার জন্টি রোডসকে ফিল্ডিং পরামর্শক হিসেবে আনার চেষ্টা করছে বিসিবি। এই প্রসঙ্গে পাপন বলেন, “ফিটনেসের প্রতি আমরা আরও বেশি জোর দেব। জন্টি রোডসের মতো ফিল্ডিং পরামর্শক আমরা নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। কারণ এ বছর যে হারে আমাদের দেশের বাইরে খেলা, তাতে ভালো ফিটনেস থাকাটা জরুরি। পর্যাপ্ত ফিটনেস না থাকলে তারা পেরে উঠবে না। তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।”

খেলার সর্বশেষ নিউজ পেতে সঙ্গে থাকেন……….

%d bloggers like this: