Tag Archives: বিপিএল-৪

‘সাব্বিরের অপরাধ’ করেও শাস্তি পাননি পাকিস্তানি ক্রিকেটার?

বিপিএলের সময় হোটেল কক্ষে নারী অতিথি ডেকে নিয়ে গিয়ে বড় শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন সাব্বির রহমান ও আল আমিন হোসেন। ব্যাপারটিকে ‘গুরুতর শৃঙ্খলাবহির্ভূত’ কাজ আখ্যা দিয়ে বিশাল অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে এ দুজনকে। দুজনের মিলিত জরিমানার অঙ্ক ২৫ লাখ টাকা। কিন্তু বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের একটি সংবাদে জানা গেছে, এবারের বিপিএলে একই ‘অপরাধ’ করে পার পেয়ে গেছেন পাকিস্তানের একজন ক্রিকেটার। সাব্বির, আল আমিনকে শাস্তি দেওয়া হলেও সেই পাকিস্তানি ক্রিকেটারের ব্যাপারে নিশ্চুপ থেকেছে বিপিএলের গভর্নিং কাউন্সিল।

পিটিআই অবশ্য সেই পাকিস্তানি ক্রিকেটারের পরিচয় প্রকাশ করেনি। তবে তিনি পাকিস্তানের বর্তমান জাতীয় দলের সদস্য বলে উল্লেখ করেছে। চট্টগ্রামে নিজের হোটেল কক্ষে ওই ক্রিকেটার একজন নারী অতিথিকে নিয়ে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পিটিআই। তাঁর শাস্তি না হলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি অবশ্য শেষ পর্যন্ত তাঁকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছিল।
বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল থেকে খেলোয়াড়দের নির্দিষ্ট করেই নারী অতিথিদের ব্যাপারে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল। পাকিস্তানি ক্রিকেটার যে নারীকে নিজের কক্ষে নিয়ে গিয়েছিলেন, সেই নারী ছিলেন একজন বিদেশি নাগরিক। নিজস্ব সূত্রের বরাত দিয়ে পিটিআই জানিয়েছে, প্রথম থেকেই সেই নারীকে চোখে চোখে রেখেছিলেন বিপিএলের দুর্নীতি বিরোধী কর্মকর্তারা। পাকিস্তানি ক্রিকেটারকে হাতেনাতে ধরে নিরাপত্তা কর্মীরা নারীকে হোটেল কক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।
সূত্রের বরাতে পিটিআই লিখেছে, পুরো বিষয়টিই পরে ধামাচাপা দেওয়া হয় শীর্ষ ক্রিকেট কর্তাদের হস্তক্ষেপে। তবে সেই পাকিস্তানি ক্রিকেটারের আচার-আচরণ নাকি ছিল যথেষ্ট আপত্তিকর। বিদেশি ক্রিকেটার বলেই তাঁকে শাস্তি দেওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সেই সূত্রটি।
এবারের বিপিএলে খেলার জন্য মোট ১৮ জন পাকিস্তানি ক্রিকেটারকে পিসিবির পক্ষ থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

বিপিএল সেরা একাদশের অধিনায়ক স্যামি

শুক্রবার ফাইনালের মহারণে রাজশাহী কিংসকে হারিয়ে এই আসরের শিরোপা জিতেছে সাকিব আল হাসানের ঢাকা ডায়নামাইটস। সেই সঙ্গে মাসব্যাপী ব্যাট-বলের লড়াই শেষে পর্দা নেমেছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চতুর্থ আসরের। ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ঘরোয়া টুর্নামেন্টের এই আসরে ব্যাট-বল হাতে আলো ছড়িয়েছে দেশি-বিদেশি অনেক ক্রিকেটাররাই।

সদ্য শেষ হওয়া এই আসরের সেরা ক্রিকেটারদের বাছাই করে একাদশ তৈরি করেছে ক্রিকেট বিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো। এ একাদশের অধিনায়ক হিসেবে আছেন এই আসরের একমাত্র বিদেশি অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি। এছাড়া একাদশে আছেন ব্যাট হাতে শীর্ষ রান সংগ্রাহক তামিম ইকবাল, বল হাতে সেরা উইকেট শিকারি ডোয়াইন ব্রাভো, টুর্নামেন্ট সেরা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, চলতি আসরের একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান সাব্বির রহমান।

তবে ক্রিকইনফোর সেরা এই একাদশে জায়গা হয়নি প্রথম দুই আসরের ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্ট সাকিব আল হাসান, ব্যাট হাতে শুরু থেকেই আলো ছড়ানো শাহরিয়ার নাফিস কিংবা গেল আসরের চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার। বিপিএলের নিয়ম অনুযায়ী এই একাদশে দেশি ক্রিকেটার হিসেবে রাখা হয়েছে সাতজনকে। আর বাকি চার ক্রিকেটার পূর্ণ হয়েছে বিদেশি ক্রিকেটারদের দিয়ে।

ক্রিকইনফো’র একাদশে ওপেনার হিসেবে রাখা হয়েছে তামিম ইকবাল ও ঢাকা ডায়নামাইটসের আক্রমণাত্মক ওপেনার মেহেদি মারুফকে। ব্যাটিং অর্ডারে এরপর রয়েছেন সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোহাম্মদ নবী, ড্যারেন স্যামি। এই একাদশে উইকেটরক্ষক হিসেবে জায়গা পেয়েছেন বরিশাল বুলসের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। বোলিং বিভাগের দায়িত্বে থাকবেন ডোয়াইন ব্রাভো, জুনায়েদ খান, শফিউল ইসলাম। বাঁ-হাতি স্পিনার হিসেবে দলে রয়েছেন আরাফাত সানি।

ক্রিকইনফো’র বিপিএল সেরা একাদশ:

তামিম ইকবাল (চিটাগাং ভাইকিংস), মেহেদি মারুফ (ঢাকা ডায়নামাইটস), সাব্বির রহমান (রাজশাহী কিংস), মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (খুলনা টাইটান্স), মোহাম্মদ নবী (চিটাগাং ভাইকিংস), ড্যারেন স্যামি (অধিনায়ক, রাজশাহী কিংস), মুশফিকুর রহিম (বরিশাল বুলস), ডোয়াইন ব্রাভো (ঢাকা ডায়নামাইটস), আরাফাত সানি (রংপুর রাইডার্স) শফিউল ইসলাম (খুলনা টাইটান্স) এবং জুনায়েদ খান (খুলনা টাইটান্স)।

বিপিএলে সাকিবের রেকর্ড

শুক্রবারের ফাইনাল ম্যাচে সাকিব আল হাসান রাজশাহীর ওপেনার মুমিনুল হক সৌরভকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন। আর রাজশাহীর অধিনায়ক ড্যারেন স্যামিকে করেন বোল্ড। এই দুটি উইকেটই দরকার ছিল তার। সেটা তিনি পেয়েও গেলেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি হয়ে গেলেন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারি বোলার।

এর আগে ৬০টি উইকেট নিয়ে বিপিএলের বোলারদের মধ্যে সবার ওপরে ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কেভন কুপার। সাকিব এবার ছাড়িয়ে গেলেন তাকে। বিপিএলের এবারের আসরে ১৪ ম্যাচ খেলে সাকিব নিলেন ১৩ উইকেট।

চ্যাম্পিয়নের ট্রফিও উঠল সাকিবের হাতে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক এই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের চতুর্থ আসরের সমাপ্তি ঘটল মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। ফাইনালে রাজশাহী কিংসকে ৫৩ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা জিতে নিল সাকিবের ঢাকা ডায়নামাইটস।

বিপিএলের সেরা পাঁচ ব্যাটসম্যান ও বোলার

শেষ হল বিপিএলের চতুর্থ আসর। রাজশাহী কিংসকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ঢাকা ডায়নামাইটস। টান টান উত্তেজনাপূর্ণ এই টি-২০ টুর্নামেন্টে কে হয়েছেন সেরা ব্যাটসম্যান ও বোলার। দেখে নিন একনজরে-

সেরা পাঁচ ব্যাটসম্যান:

ক্রম খেলয়ার দল ম্যাচ ইনিংস নট আউট রান সর্বোচ্চ রান
তামিম ইকবাল চিটাগাং ১৩ ১৩ ৪৭৬ ৭৫
মাহমুদুল্লাহ খুলনা ১৪ ১৪ ৩৯৬ ৬২
সাব্বির রহমান রাজশাহী ১৫ ১৫ ৩৭৭ ১২২
কুমার সাঙ্গাকারা ঢাকা ১৩ ১৩ ৩৭০ ৬৬
মোহাম্মদ শেহজাদ রংপুর ১১ ১১ ৩৫০ ৮০*

 

সেরা পাঁচ বোলার: 

ক্রম খেলোয়াড় দল ম্যাচ ইনিংস রান উইকেট সেরা বোলিং
ডি.জে. ব্রাভো ঢাকা ১৩ ১৩ ৩৩৫ ২১ ৩/২৭
জুনায়েদ খান খুলনা ১৪ ১৪ ৩২১ ২০ ৪/২৩
মোহাম্মাদ নবী চিটাগাং ১৩ ১৩ ২৮৫ ১৯ ৪/২৪
শফিউল ইসলাম খুলনা ১৩ ১২ ৩৩১ ১৮ ৪/১৭
শহীদ আফ্রিদি রংপুর ১১ ১১ ২৫৪ ১৭ ৪/১২

বিপিএল সেরা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) প্রথম দুই আসরে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার জিতে নিয়েছিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তৃতীয় আসরে এই পুরস্কার পান আফগানিস্তানের আসহার জাইদি। আর চতুর্থ আসরে ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্টের মুকুট মাথায় পড়লেন খুলনা টাইটান্সের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

ব্যাট হাতে ১৪ ম্যাচে ৩৯৬ রান নিয়ে চলতি আসরে শীর্ষ রান সংগ্রাহকের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। আর বল হাতে তার শিকার ১০ উইকেট। এ ছাড়াও মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্বে তার দল খুলনা খেলেছে কোয়ালিফায়ার রাউন্ডও। যদিও দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে রাজশাহী কিংসের কাছে সাত উইকেটে হেরে চলতি আসর থেকে বিদায় নেয় খুলনা টাইটান্স।

ছবি: বিসিবি

দল ফাইনাল না খেললেও ব্যাট-বল এবং নেতৃত্বগুণে এবারের আসরের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ‘সাইলেন্ট কিলার’ খ্যাত মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সিরিজ সেরার পুরস্কার হিসেবে জাতীয় দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য এই খেলোয়াড় পেয়েছেন পাঁচ হাজার ইউএস ডলার। তবে আসন্ন নিউজিল্যান্ড সফরের প্রস্তুতি নিতে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এখন অস্ট্রেলিয়ায় আছেন। তার হয়ে পুরস্কার গ্রহণ করেন হাবিবুল বাশার।

শুক্রবার মাসব্যাপী ব্যাট-বলের লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছে ঢাকা ডায়নামাইটস। ঢাকার তৃতীয় শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে পর্দা নামল বিপিএলের চতুর্থ আসরের। ফাইনালের মহারণে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতে নিয়েছেন ঢাকার লঙ্কান কিংবদন্তি কুমার সাঙ্গাকারা।

জিতলেন সাকিব, জিতলো ঢাকা

সবাইকে ছাড়িয়ে যেতে দরকার ছিলো দুটি উইকেট। দুই উইকেটই নিলেন সাকিব আল হাসান। যে দুই উইকেট সবচেয়ে বেশি অবদান রাখলো ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপিএল শিরোপা জয়ে। ৬১ উইকেট নিয়ে সাকিব ছাড়িয়ে গেলেন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সব বোলারদের। আর ৫৬ রানের জয়ে তার দল ঢাকা ডায়নামাইটস উঁচিয়ে ধরলো বিপিএলের প্রথম শিরোপা। শুধু ঢাকাই নয়, অধিনায়ক হিসেবে সাকিবও জিতলেন প্রথম শিরোপা।

বিভ্রান্ত হতে পারেন অনেকেই। ঢাকা তো আগেও দুটি বিপিএল শিরোপা জিতেছে, এটা কিভাবে প্রথম! তাদের জ্ঞাতার্থে বলা প্রথম দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন দলটি ছিলো ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স। আর সাকিবের এই দলটি ঢাকা ডায়নামাইটস। যে ডায়নামাইটসের কাছে পাত্তাই পেল না ড্যারেন স্যামির দল রাজশাহী কিংস। অসহায় আত্মসমপর্ণন করে মেনে নিতে হলো ৫৬ রানের হার। মিরপুরে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে নয় উইকেট ১৫৯ রান তোলে ঢাকা। জবাবে ১০৩ রানেই শেষ হয়ে যায় রাজশাহীর ইনিংস।

শেষ ভালো যার সব ভালো তার- এই মন্ত্রে উদ্দীপ্ত হয়েই হয়তো বিপিএলের ফাইনালে রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলো ঢাকা ডায়নামাইটস। গ্রুপ পর্বে এই রাজশাহীর বিপক্ষে দুই ম্যাচেই হেরেছিলো ঢাকা। কিন্তু সময় মতো প্রতিশোধটা নিয়ে নিলো সাকিব আল হাসানের দল। যে প্রতিশোধটা মরণ কামড় হয়ে লেগেছে রাজশাহীর গায়ে।

শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে মনের মতো শুরু করতে পারেনি রাজশাহী। দলীয় ১৫ রানেই পিরে যান ওপেনার নুরুল হাসান সোহান। যদিও সোহানকে হারানোর ব্যথা দলকে বুঝতে দেননি আরেক ওপেনার মুমিনুল হক ও সাব্বির রহমান। সব ঠিকঠিকই এগোচ্ছিল। এ জুটি যখন ৪৭ রানে পৌঁছেছে তখনই ভুল বোঝাবুঝি।

যার শিকার হয়ে সাঝঘরে ফিরতে হয় ২৬ রান করা সাব্বিরকে। এরপর বাজে আম্পায়ারিংয়ের শিকার মুমিনুল হক। সাকিবের করা ১১তম ওভারের তৃতীয় ডেলিভারিটি মুমিনুলের পায়ে লাগা মাত্র আঙুল তুলে দিলেন আম্পায়ার মাহফুজুর রহমান। কিন্তু পরে টিভি রিপ্লেতে দেখা গেল অফ স্টাম্প ঘেষে বেরিয়ে যাচ্ছিলো বলটি। এমনকি নাও লাগতে পারতো স্টাম্পে।

২৭ রান করা মুমিনুলের বিদায়েই যেন সব আশা শেষ হয়ে গেল। এরপর একে এক ফিরে গেলেন জেমস ফ্রাঙ্কলিন, অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি, সামিত প্যাটেল, মেহেদী হাসান মিরাজরা। তখন রাজশাহীর হারটা কেবল সময়ের ব্যাপার। হলোও তাই। রাজশাহীর ইনিংস শেষ ১০৩ রানেই।

ফেবারিট হওয়ায় শিরোপা জয়ের চাপটা আগে থেকেই ছিলো মাথার ওপর। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সেই চাপটা যেন দিক হারিয়ে দেয় ঢাকা ডায়নামাইটসের প্রথম সারির কয়েকজন ব্যাটসম্যানকে। ঢাকার শুরুটাও তাই হয়েছে নড়বড়ে। দলীয় ২৩ রানেই ওপেনার মেহেদী মারুফের বিদায়। নাসির হোসেনও উইকেটে গিয়ে স্থির হতে পারেননি। পাঁচ রান করেই থামেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।

৩৪ রানে দুই উইকেট হারানো ঢাকার চাপটা দ্বিগুণ হয়ে ওঠে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের বিদাযে। ৪২ রানেই নেই তিন উইকেট। তবে একটা পাশ আগলে রাখেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওপেনার এভিন লুইস। তার সাথে যোগ দেন লঙ্কান গ্রেট কুমার সাঙ্গাকারা। নিমেষেই পাল্টে যায় ঢাকার ইনিংসের চেহারা। সাঙ্গাকারাকে সাশে পেয়ে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন মারুকুটে লুইস। কিন্তু খুব একটা লম্বা হয়নি লু্ইস-সাঙ্গাকার জুটি।

দলীয় ৮৩ রানে একটি শট খেলতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে কেসরিস উইলিয়ামসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৪৫ রান করা লুইস। ফেরার আগে সাঙ্গাকারার সাথে ৪১ রানের জুটি গড়েন বাঁহাতি এই ওপেনার। এরপর দ্রুতই আউট হয়েছেন ১৩ রান করা ডোয়াইন ব্রাভো। আন্দ্রে রাসেল ও অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও দলে হয়ে ব্যাট চালাতে পারেননি। শেষপর্যন্ত ৩৩ বলে সাঙ্গকারার করা ৩৬ রানের সুবাদে ১৫৯ রান তোলে ঢাকা।

বিপিএল ফাইনালের সময়সূচিতে পরিবর্তন

ঢাকা ডায়নামাইটস ও রাজশাহী কিংসের ফাইনাল খেলার মধ্যে দিয়ে আগামীকাল পর্দা নামবে বিপিএলের। অপেক্ষার সময় দিন পেরিয়ে এখন ঘন্টায় এসে দাঁড়িয়েছে। আগামীকাল শুক্রবারই ফাইনালের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।

শেষ সময়ে এসে বিপিএলের চতুর্থ আসরের ফাইনাল খেলার সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে।  আগের সময়সূচি অনুযায়ী ফাইনাল শুরু হওয়ার কথা ছিল সন্ধ্যা ৬.১৫ টায় (সোয়া ছয়’টা)। এখন সেটা আধঘন্টা এগিয়ে এসে ফাইনাল ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা ৫.৪৫টায় (পৌনে ছয়’টায়)।

সূচি পরিবর্তনের বিষয়টি বৃহস্পতিবার বিকেলে এক ই-মেইল বার্তায় জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

 

বিপিএল ফাইনালের সময়সূচি :
 তারিখ                     মুখোমুখি                      সময়                 ভেন্যু
৯ ডিসেম্বর                     ঢাকা-রাজশাহী                   সন্ধ্যা ৫.৪৫টা              মিরপুর

অলরাউন্ডাররাই ভরসা ঢাকা ডায়নামাইটসের

দল গড়ার পর থেকেই এবারের বিপিএলে ফেবারিট বলা হচ্ছিলো ঢাকা ডায়নামাইটসকে। শিরোপার দাবিদার হিসেবে সাকিব আল হাসানের দল ঢাকাকেই এগিয়ে রেখেছিলেন সবাই। বিপিএলে এখন পর্যন্ত ফেবারিটের মতোই খেলেছে ঢাকা। গ্রুপ পর্বের ১২ ম্যাচের আটটি জিতে শীর্ষ দল হিসেবে শেষ চার নিশ্চিত করে তারা।

ফাইনালে ওঠার জন্য দুটি সুযোগ ছিল তাদের সামনে। কিন্তু দ্বিতীয় সুযোগের জন্য অপেক্ষা করেনি ঢাকা। প্রথম কোয়ালিফায়ারে খুলনা টাইটান্সকে ৫৪ রানে হারিয়ে ফাইনালে উঠে যায় ঢাকা ডায়নামাইটস। এই ফাইনালে ওঠার পথে বেশ কয়েকজন অলরাউন্ডার ঢাকার জয়ে অবদান রেখে এসেছেন।

এবারের বিপিএলে সবচেয়ে বেশি অলরাউন্ডারের দল ঢাকাই। এবার ঢাকার হয়ে খেলেছেন দুই ওয়েস্ট ইন্ডিজ অলরাউন্ডার ডোয়াইন ব্রাভো ও আন্দ্রে রাসেল। আছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। স্থানীয়দের মধ্য থেকে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও নাসির হোসেনরাও ব্যাটে বলে লড়েছেন। মাঝে মধ্যে আলাউদ্দিন বাবুও হয়ে উঠেছেন অলরাউন্ডার।

রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে ৯ ডিসেম্বরের ফাইনালের আগে তাই আরও একবার অলরাউন্ডারদের ওপরই আস্থা রাখছে ঢাকা। আস্থা রাখার বিষয়টি জানালেন আরেক অলরাউন্ডার নাসির হোসেন। বেশি অলরাউন্ডার থাকায় এটা বাড়তি পাওয়া হবে বলে মনে করেন তিনি, ‘আমাদের দলটা অলরাউন্ডার নির্ভর। প্লাস পয়েন্ট হচ্ছে আমাদের দলে অলরাউন্ডার বেশি। বোলিং পরিবর্তন করার অপশনও বেশি থাকে।’

দলে বেশি অলরাউন্ডার থাকার ব্যাপারটি নাসিরেরই বেশি অনুধাবন করার কথা। ব্যাটিং করলেও অন্যদের ভিড়ে বল হাতে সেভাবে দেখাই যায়নি নাসিরকে। এ নিয়ে ডানহাতি এই অলরাউন্ডার বলছেন, ‘আমাদের দলে অলরাউন্ডার অনেকগুলো তাই বোলিং সেভাবে করা হচ্ছে না। আর ব্যাটিংয়ে আমি যেটাই করেছি এর থেকেও ভালো করার সুযোগ ছিল সেটা করতে পারিনি।’

ফাইনালের আগে রাজশাহীই এগিয়ে আছে। গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচেই রাজশাহীর কাছে হেরেছিলো ঢাকা। যদিও এ ব্যাপারটি আমলে নিচ্ছেন না নাসিররা, ‘অবশ্যই ফাইনাল ম্যাচ বিগ ম্যাচ। চাপ আমাদেরও থাকবে তাদেরও থাকবে। আমার মনে হয় না এমন কোনো চাপ আছে যে আমরা ওদের কাছে দুইটা হেরেছি। এমন কোনো কিছুই না। আমাদের কাজ হচ্ছে গিয়ে পারফর্ম করা। চ্যাম্পিয়ন হওয়া।’

এলিমিনেটর ম্যাচে চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে হেরেই বসেছিলো রাজশাহী কিংস। কিন্তু অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি একাই ম্যাচের ভাগ্য ঘুরিয়ে দেন। ৫৫ রানের হার না মানা এক ইনিংস খেলে রাজশাহীকে তিন ‍উইকেটের জয় এনে দেন ডানহাতি ওয়েস্ট ইন্ডিজ অলরাউন্ডার। ফাইনালে আর সবার পাশাপাশি স্যামিকেও আটকাতে হবে ঢাকাকে। তবে নাসির বলছেন স্যামির মতো ম্যাচ উইনার তাদেরও আছে, ‘স্যামির মতো আমাদেরও অনেক খেলোয়াড় আছে ম্যাচ জেতানোর। আমরা এসব নিয়ে চিন্তা করছি না।’

শিরোপা জিততে ইতিহাস বদলাতে হবে রাজশাহীকে

সামনে শক্তিশালী ঢাকা ডায়নামাইটস। তার ওপর আবার বিপক্ষে কথা বলছে অতীত রেকর্ডও। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চতুর্থ আসরের শিরোপা জিততে হলে তাই রাজশাহী কিংসকে ইতিহাসই গড়তে হবে। এমন জটিল হিসাব নিয়েই বিপিএলের ফাইনালে শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা ডায়নামাইটসের মুখোমুখি হচ্ছে রাজশাহী কিংস।

বিপিএলের প্রথম আসরে প্লে অফ পদ্ধতি ছিল না। ওই আসরে দুটি সেমিফাইনালের পর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরের আসর থেকেই চালু হয় প্লে অফ পদ্ধতি। দুটি কোয়ালিফায়ার ও একটি এলিমিনেটর ম্যাচের পর নিশ্চিত হয় ফাইনালের দুই দল। মজার ব্যাপার হলো- প্লে অফের দুই ম্যাচ জিতে ফাইনালে ওঠা কোনো দল এখন পর্যন্ত বিপিএলের শিরোপা জিততে পারেনি।

রাজশাহী কিংস সেই পথেই আছে। চার নম্বর দল হিসেবে শেষ চার নিশ্চিত করে রাজশাহী কিংস। চার নম্বর দল হওয়ায় এলিমিনেটর ম্যাচ খেলতে হয় তাদের। এলিমিনেটর ম্যাচে চিটাগং ভাইকিংসকে তিন উইকেট হারিয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচ নিশ্চিত করে ড্যারেন স্যামির দল। এই ম্যাচে খুলনা টাইটান্সকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে রাজশাহী।

সেদিক থেকে প্লে অফে টানা দুই জয় পেয়ে গেছে রাজশাহী। আর এই টানা দুই জয়ের রেকর্ড বলে, প্লে অফে দুই জয় পেয়ে ফাইনালে ওঠা দলগুলো আগের দুই আসরে রানারআপ ট্রফি নিয়েই সন্তুষ্ট থেকেছে। যদিও এ সবের দিকে নজর দিচ্ছে না রাজশাহী। ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পর রাজশাহীর অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি জানিয়েছেন, শিরোপা জেতার সামর্থ্য তাদের আছে।

এর জন্য অবশ্য আগের দুই আসরের প্লে অফ রেকর্ড মিথ্যা প্রমাণ করতে হবে স্যামিদের। ২০১৩ বিপিএলের প্লে অফে এলিমিনেটর ম্যাচ খেলে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত করা চিটাগং কিংস ফাইনালেও ওঠে। কিন্তু ফাইনালে গিয়ে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের কাছে ৪৩ রানে হেরে যায় তারা।

২০১৫ বিপিএলেও একই দৃশ্য। এলিমিনেটর, দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার পেরিয়ে ফাইনালে ওঠে বরিশাল বুলস। দুই জয় পাওয়া বরিশাল ফাইনালে গিয়ে তিন উইকেটে হার মানে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কাছে। এবার একইভাবে ফাইনালে উঠেছে রাজশাহী। তবে ড্যারেন স্যামি, সাব্বির রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজরা প্রস্তুত শিরোপা উঁচিয়ে ধরতে। তবে কি এবার বদলাচ্ছে বিপিএলের ফাইনাল ভাগ্য?

বিপিএল ফাইনাল: চার দেশি ক্রিকেটারের লড়াই

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চতুর্থ আসর শেষ হতে আর মাত্র এক দিনের অপেক্ষা। শুক্রবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঢাকা ডাইনামাইটস ও রাজশাহী কিংসের মধ্যে ফাইনাল দিয়ে ইতি ঘটবে ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক এই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের।

সেই ফাইনাল নিয়ে এখন চলছে হিসাব-নিকাশ। কার হাতে উঠবে শিরোপার ট্রফি?–এই প্রশ্নের উত্তরে চলছে অনেক জল্পনা-কল্পনা। ফাইনালের তুরুপের তাস হয়ে উঠতে পারেন দু’দলের বাংলাদেশি চার ক্রিকেটার।

সাকিব আল হাসান, ঢাকা ডাইনামাইটস

অধিনায়ক কিংবা অলরাউন্ডার; চলতি বিপিএলে দুই পরিচয়েই হিট সাকিব। ১১ ইনিংসে ব্যাট হাতে সাকিব করেছেন ২০৬ রান। বল হাতে ১৩ ইনিংসে তুলে নিয়েছেন ১১টি উইকেট। পরপর দুই ম্যাচে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও বরিশাল বুলসের বিপক্ষে ব্যাটে-বলে পারফর্ম করে ম্যান অব দ্য ম্যাচও হয়েছেন তিনি।

সাব্বির রহমান রুম্মান, রাজশাহী কিংস

ডানহাতি এই মারকুটে ব্যাটসম্যানের সর্বশেষ ম্যাচে অপরাজিত ৪৩ রানের ইনিংসটি তার ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১৪ ম্যাচে ২৭.০০ গড়ে মোট ৩৫১ রান করে সাব্বির আছেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকার তৃতীয় স্থানে। এবারের বিপিএলে একমাত্র সেঞ্চুরির মালিকও তিনি।

মেহেদি মারুফ, ঢাকা ডাইনামাইটস

চলতি বিপিএলের ‘সারপ্রাইজ প্যাকেজ’ তিনি। ঢাকার এই ওপেনার প্রায় প্রতিটা ম্যাচেই ব্যাট হাতে নিজেকে মেলে ধরেছেন। ঢাকার সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। মেহেদি ১৩ ম্যাচে ২৮.২৫ গড়ে মোট ৩৩৯ রান করেছেন এই টুর্নামেন্টে। স্ট্রাইক রেট ১৩১.৮০। এই বিপিএলে তার চেয়ে বেশি রান করতে পেরেছেন মাত্র পাঁচ জন।

মেহেদি হাসান মিরাজ, রাজশাহী কিংস

চলতি বিপিএলের আগেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজেই মিরাজ বুঝিয়ে দিয়েছেন বোলার হিসেবে তিনি কতটা বড় দক্ষ। বিপিএলেও তিনি উজ্জ্বল। বল হাতে ১১টি উইকেট নিয়েছেন ডানহাতি এই অফ স্পিনার। আর প্রয়োজনের সময় যে ব্যাট হাতেও তিনি দারুণ, সেটাও প্রমাণ করেছেন।