Tag Archives: বাংলাদেশ

রানের পাহাড় গড়ছে শ্রীলঙ্কা একাদশ; দুই উইকেটের পতন

শ্রীলঙ্কান বোর্ড একাদশের বিপক্ষে ৫০ ওভারের প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। কলম্বো ক্রিকেট গ্রাউন্ড ক্রিকেট একাডেমি মাঠে স্থানীয় সময় সকাল দশটায় মাঠে নামে সফরকারীরা। টস জিতে বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কান বোর্ড একাদশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান।

সাতাশ ওভার শেষে স্বাগতিক বোর্ড একাদশ ১৭৩ রান সংগ্রহ করেছে দুই উইকেট হারিয়ে। কুশল পেরেরা ৫৮ ও সিরিওয়ার্দানা ১১ রানে নট আউট।

প্রথম স্পেলে তাসকিন ও মাশরাফি মিলে ৫ ওভারের স্পেল করেছেন। এরপর এক প্রান্তে বোলিংয়ে আসেন শুভাগত, অন্যপ্রান্তে রুবেল হোসেন।

প্রথম স্পেলে তাসকিন বেশ ব্যয়বহুল ছিলেন। তিন ওভার বোলিং করে ১৭ রান খরচায় একটি উইকেট নিয়েছেন। অন্যদিকে মাশরাফি ২১ রান খরচ করে উইকেট শূন্য ছিলেন।

বোর্ড একাদশ ৭.৪ ওভারে প্রথম অর্ধশত রান পূর্ণ করেন। দিলশান মুনাবিরা ২৪ রান করে তাসকিনের বলে আউট হয়েছিলেন।

প্রস্তুতি ম্যাচটিতে বাংলাদেশের প্রায় সবাই অংশ নেবে। মূলত সবার ব্যাটিং প্রস্তুতির লক্ষ্যেই হাথুরুসিংহের এই পরিকল্পনা। তবে সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুস্তাফিজুর রহমান ও শুভাশিষ রায় প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নামবেন না।

আগামী ২৫ মার্চ ডাম্বুলাতে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সবমিলিয়ে তাই একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচটি টাইগারদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

অনুশীলন ম্যাচটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে শক্তিশালী দলই গড়েছে লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড। অলরাউন্ডার মিলিন্দা সিরিবর্ধনেকে অধিনায়ক করে মাঠে নামা একাদশের বেশিরভাগেরই রয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার অজ্ঞিতা। শ্রীলঙ্কার ওয়ানডে দলে জায়গা পাওয়া ধনঞ্জয়া ডি সিলভা, কুশল পেরেরা, থিসারা পেরেরা রয়েছেন স্কোয়াডে।

একাদশের বেশ কয়েকজনই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ও ঢাকা লিগে খেলেছেন। সেই সুবাদে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের খেলা সম্পর্কেও খুব ভালো জানা তাদের।

শীর্ষ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান

শততম টেস্টের জয় যেন একের পর এক সুখবর এনে দিচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে শীর্ষ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ টেস্টের পারফরম্যান্স দিয়ে সাদা পোশাকেও সেরা অলরাউন্ডারের স্থানটা দখল করেছেন।

অর্থাৎ, সেরার মুকুটে শেষ পালকটিও নিজ হাতে গুঁজে নিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই বিজ্ঞাপন। তিনিই একমাত্র ক্রিকেটার যিনি তিন ফরম্যাটেই অলরাউন্ডার হিসেবে শীর্ষস্থান দখলে রেখেছেন।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) প্রকাশিত সর্বশেষ র‍্যাংকিং অনুযায়ী ভারতীয় অলরাউন্ডার রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে পেছনে ফেলে টেস্টে সেরা অলরাউন্ডারের মুকুট পুনরুদ্ধার করেছেন সাকিব।। সাকিবের পয়েন্ট ৪৩১, অশ্বিনের ৪০৭। তিন নম্বরে রয়েছেন আরেক ভারতীয় রবীন্দ্র জাদেজা।

শুধু অলরাউন্ডারই নয়, বোলার ও ব্যাটসম্যানের র‌্যাংকিংয়েও উন্নতি হয়েছে সাকিবের। পি সারা ওভালে সেঞ্চুরি করা সাকিব পাঁচ ধাপ এগিয়ে ২১ নম্বরে উঠে এসেছেন। বোলিংয়ে ছিলেন ১৮ নম্বরে। নতুন অবস্থান ১৭ তে।

সীমিত ওভারে বড় ইনিংসের অপেক্ষায় সৌম্য

মাঝে একটা বছর খুঁজে পাওয়া যায়নি চেনা সৌম্য সরকারকে। ২০১৪ সালে অভিষেকের পরে নিজেকে যে উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন, ২০১৬তে এসে যেন তা মুদ্রার অন্য পিঠ। ব্যাটে রান না আসায় বাদও পড়তে হয়েছে দল থেকে। কিন্তু হতাশ হয়ে থেমে যাননি সৌম্য। নিজেকে ঝালাই করেছেন এবং আবারো ফিরে এসেছেন। তবে এই সৌম্য হয়েছেন অনেকটাই দায়িত্বশীল ও শান্ত।

গেল নিউজিল্যান্ড সফর থেকেই আবারো যেন ধীরে ধীরে তার ব্যাট কথা বলতে শুরু করেছে। ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে ৮৬ রান। এরপরেই আবারো ভরসার নাম হয়ে গেলো সৌম্য। ভরসা করে যে ভুল হয়নি তার প্রমানও দিলেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টে।  দুই টেস্টের প্রথম তিন ইনিংসে ৭১, ৫৩, ৬১।

তবু একটা প্রশ্ন থেকে রেহাই পাচ্ছেন না এই বাঁহাতি ওপেনার। কেন এই ইনিংসগুলো আরও বড় হচ্ছে না? চেষ্টার কম করছেন না। কিন্তু হচ্ছে না। তবে সামনেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ। আরেকটি সুযোগ পাচ্ছেন নিজেকে প্রমানের। সীমিত ওভারে বড় ইনিংস দিয়েই নিজের প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চান সৌম্য।

মঙ্গলবার প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়ে গেলেন নিজের ইচ্ছার কথা। বললেন,  ‘আমি সব সময়ই চেষ্টা করে যাচ্ছি। কেউ তো ইচ্ছে করে ওভাবে আউট হয় না। আমি চাইব পেছনের ভুলগুলো যেন আর না হয়। চেষ্টা করব ওয়ানডেতেও টেস্টের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে রান করতে।’

বলেন, ‘টেস্টে ইনিংস বড় করতে পারিনি। ওয়ানডেতে সেরকম সুযোগ পেলে বড় করার চেষ্টা করব। চেষ্টা করব নিজের কাজ শতভাগ দেওয়ার। দলে আরও বেশি অবদান রাখার।’

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচটিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ, তাও জানালেন সৌম্য। টানা পাঁচ টেস্ট পরে আবারো সাদা বলে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার জন্যই এখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলের সবাই।

ওয়ানডেতে সৌম্যর রেকর্ড বরাবরই চোখে পড়ার মতো। একমাত্র আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরিটিও করেছেন এই সংস্করণেই। তাই ২৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই ফরম্যাটে প্রত্যাশাই বেশি সৌম্যর কাছে। সৌম্যও চান আবারো নিজেকে প্রমান করতে।

সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার

টেস্ট র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বড় পরিবর্তন

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ ১-০ তে জিতলে র‍্যাংকিংয়ের আটে উঠে আসতো বাংলাদেশ। কিন্তু ১-১ ব্যবধারনে ড্র হওয়ায় র‍্যাংকিংয়ে পরিবর্তন আসেনি। তবে উন্নতি হিসেবে যোগ হয়েছে পাঁচ রেটিং পয়েন্ট। শুধু দল নয়, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বদৌলতে বাংলাদেশের পাঁচজন ক্রিকেটারের র‍্যাংকিংয়ে পরিবর্তন এসেছে।

দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন সাকিব আল হাসান টেস্ট অলরাউন্ডারের শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছেন। ৪৩১ পয়েন্ট নিয়ে পিছনে ফেলেছেন ভারতের রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে। অর্থাৎ, আবারও ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই শীর্ষ অলরাউন্ডার হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন সাকিব।

উন্নতি হয়েছে ব্যাটসম্যান সাকিবেরও। পি সারা ওভালে সেঞ্চুরি করা সাকিব পাঁচ ধাপ এগিয়ে ২১ নম্বরে উঠে এসেছেন। বোলিংয়ে ছিলেন ১৮ নম্বরে। নতুন অবস্থান ১৭ তে। টেস্টে ৩৩তম ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল নতুন র‍্যাংকিংয়ে এগিয়েছেন ৯ ধাপ। তার নতুন অবস্থান ২৪। একধাপ এগিয়েছেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। ২৯তম স্থান থেকে জায়গা করে নিয়েছেন ২৮ এ।

বোলিংয়ে তাক লাগিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই টেস্টে মোট আট উইকেট নেওয়া বাঁ-হাতি এই পেসার এগিয়েছেন ২০ ধাপ। ‘কাটার মাস্টার’ খ্যাত মুস্তাফিজের নতুন অবস্থান ৪৭ নম্বরে। এছাড়া পি সারা ওভালে বাংলাদেশের শততম টেস্ট দিয়ে অভিষেক হওয়া মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত এক ম্যাচ খেলেই ৮৮ নম্বরে জায়গা করে নিয়েছেন।

দল হিসেবে টেস্টে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট বেড়েছে পাঁচ। অষ্টম অবস্থানে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের (৬৯) চেয়ে তিন পয়েন্ট কম পেয়ে অর্থাৎ, ৬৬ পয়েন্ট নিয়ে নয় নম্বরেই অবস্থান করছে বাংলাদেশ।

ওয়ানডে সিরিজের আগে ছুটিতে সাকিব-তামিম

নিজেদের শততম টেস্ট জিতে নিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ড্র করেছে বাংলাদেশ। আগামী ২৫ মার্চ থেকে শুরু হবে লঙ্কানদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ। সীমিত ওভারের এই লড়াইয়ে মাঠে নামার আগে ছুটিতে গেলেন সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল।

সাকিবের স্ত্রী শিশির আগে থেকেই শ্রীলঙ্কাতে আছেন। স্ত্রীকে নিয়ে শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতেই ছুটি নিয়েছেন সাকিব। অন্যদিকে নিজের জন্মদিনের আনন্দ পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নিতে ছুটি নিয়ে মুম্বাই উড়ে গেছেন তামিম।

সাকিব-তামিমের ছুটির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন।

ওয়ানডে সিরিজের আগে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে ২২ তারিখ মাঠে নামবে সফরকারীরা। তার আগেই দলের সঙ্গে যোগ দেবেন সাকিব-তামিম।

আগামী ২৫ মার্চ ডাম্বুলায় প্রথম ওয়ানডে দিয়ে মাঠে গড়াবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে। আগামী ১ এপ্রিল সিরিজের তৃতীয় এবং শেষ ওয়ানডেতে কলম্বোর পি সারা স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবেন সাকিব-তামিম-মুশফিকরা।

মুশফিক-সাকিব-তামিম বাংলাদেশের উত্থানের রূপকার: আমিনুল ইসলাম বুলবুল

ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম)  ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত যুব বিশ্বকাপে একসঙ্গে পথচলা শুরু হয় মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের। এরপর জাতীয় দলের জার্সিতেও মাঠ মাতাতে থাকেন তারা। দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে ১২টি বছর। এই একযুগে অনেক ঝড় ঝাপটাই সামলেছেন এই তিনজন। বাংলাদেশের সর্বশেষ আট টেস্ট জয় সহ নিজেদের শততম টেস্টেও জয় তুলে নিতে অবদান ছিল এই ত্রয়ীর।

তাই তো এই ত্রয়ীকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের উত্থানের রূপকার বলে আখ্যায়িত করেছেন দেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান আমিনুল ইসলাম বুলবুল। কলম্বোতে নিজেদের শততম টেস্ট জয়ের পর ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে একটি কলাম লিখেছেন আমিনুল। সেখানেই বাংলাদেশের ক্রিকেটে মুশফিক-সাকিব-তামিমের অবদানের কথা তুলে ধরেছেন।

শততম টেস্ট জয়ে সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব এই তিনজনকেই দেওয়া উচিত জানিয়ে আমিনুল লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের অবিস্মরণীয় এবং ঐতিহাসিক শততম টেস্টে জয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব দেওয়া উচিত তিন ধারাবাহিক পারফরমার- অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম, যিনি মেহেদী হাসান মিরাজ জয়সূচক রান নেওয়ার সময় অন্য প্রান্তে ছিলেন, সাকিব আল হাসান প্রথম ইনিংসে করেছিলেন অসাধারণ এক সেঞ্চুরি, যার ফলে প্রথম ইনিংসে ১২৯ রানের লিড পেয়েছিল বাংলাদেশ, আর তামিম ইকবাল, যিনি ৮২ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে চার উইকেটের জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন।’

বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পেছনে এই তিনজনের পথচলা সহজ ছিল না উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, ‘এই তিনজন ক্রিকেটে একসঙ্গে যাত্রা শুরু করেছিলেন ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কায় আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের মধ্য দিয়ে। এরপর থেকে এই তিনজন বাংলাদেশের উত্থানের রূপকারে পরিণত হয়েছেন। যদিও এই পথচলা খুব সহজ ছিল না। কারণ বছরের পর বছর বাংলাদেশের জয়ের তুলনায় হারের সংখ্যাই বেশি। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং দিন দিন উন্নতি করে বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে আসার জন্য প্রয়োজন ছিল সিংহ হৃদয়ের। কারণ ক্রমাগত পরাজয় এবং হতাশা খুব সহজেই যে কারও স্বপ্ন এবং আবেগকে নষ্ট করে দিতে পারে।’

২০১২ এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে দুই রানের হারের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। স্বপ্নভঙ্গের পর সাকিব-মুশফিকদের কান্নার সেই স্মৃতিও উঠে আসে আমিনুলের লেখায়, ‘আমি নিশ্চিত, আমার মতো বাংলাদেশের সব ক্রিকেট সমর্থকদের এখনো মনে আছে, ২০১২ এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে দুই রানে হারের পর মুশফিক কিভাবে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। ওই অশ্রুগুলো ছিল বড় ইভেন্টে কারও কারও সাফল্য তুলে নিয়ে আসতে না পারার করুণ অনুভূতি। এই পর্যায়ে আমি নিজেও খুব গর্বিত এবং খুশি যে মানুষ আবার বাংলাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গে থেকেছেন। সাহস ও উৎসাহ জুগিয়েছেন। তবে সবচেয়ে বেশি থেকেছেন যেন মুশফিকই।’

শততম টেস্টে জয় তুলে নেওয়ার পর অধিনায়ক মুশফিক। ছবি: সংগৃহীত

এই সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের রোল মডেল হিসেবে এই তিনজনকেই দেখেন বুলবুল, ‘আপনি যদি এই সময়ে বাংলাদেশের কোনো রোল মডেল খুঁজে বের করতে চান, তাহলে আপনি মুশফিক, সাকিব, তামিমকে এড়িয়ে যেতে পারেন না।’

আমিনুলের চোখে বাংলাদেশের টেস্ট পরিভ্রমণের দ্বিতীয়ভাগের মেরুদণ্ড মুশফিক-সাকিব-তামিম, ‘এই তিন ক্রিকেটার মিলে খেলেছে ১৫০টির মতো টেস্ট। এর মধ্যে মুশফিক একাই খেলেছেন ৫৪টি। যার ৩০টিতেই তিনি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সুতরাং চোখ বন্ধ করে বলে দেওয়া যায়, এই ত্রয়ী বাংলাদেশের টেস্ট পরিভ্রমণের দ্বিতীয়ভাগের মেরুদণ্ড। একবার ভাবুন তো, এই তিন চ্যাম্পিয়ন কয়টি টেস্ট জিতিয়েছে বাংলাদেশকে? সাতটি (হবে আটটি), এই সংখ্যাটা সহজেই দুই অঙ্কে চলে যেতে পারত, যদি দল আরো অভিজ্ঞ হতো, বিশেষ করে দ্বিতীয় ইনিংসে। কেউ যদি খুব গভীরভাবে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক টেস্ট পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করে দেখেন, তাহলে কলম্বো টেস্টের ফল দেখে অবাক হবেন না।’

দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শেষে এবার বাংলাদেশের সামনে ওয়ানডে মিশন। শততম টেস্টে জয়ের ধারাবাহিকতা ওয়ানডেতেও নিয়ে যেতে পারবে বলে বিশ্বাস বুলবুলের, ‘শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডেতেও বাংলাদেশের রেকর্ড খারাপ নয়। কলম্বো টেস্টে জয়ের ধারাবাহিকতা তারা ওয়ানডেতেও নিয়ে যেতে পারবে আমার বিশ্বাস। কারণ, দলের মূল ক্রিকেটাররা রয়েছেন দারুণ ছন্দে। শ্রীলঙ্কাতেই বিশ্বকাপ নিশ্চিত করার দারুণ সুযোগ বাংলাদেশের। একই সঙ্গে আগামী দুই বছরের পরিকল্পনা সাজিয়ে তোলারও সুবর্ণ সুযোগ বাংলাদেশের সামনে, যা তাদের নিয়ে যাবে লর্ডস পর্যন্ত।’

লঙ্কানদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে জয় পেলে ২০১৯ বিশ্বকাপে খেলার রাস্তা আরও সুগম হবে বলে মনে করেন আমিনুল, ‘ওয়ানডে সিরিজে জিততে পারলে বাংলাদেশ ২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার ক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই ২০১৭ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করে তাদের ভক্ত-সমর্থকদের গৌরাবান্বিত করে তুলেছে। যে সুযোগটা এলো প্রায় ১১ বছর পর। যদি স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজটা জিততে পারে, তাহলে ২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার পথে অনেক দূর এগিয়ে যাবে টিম বাংলাদেশ।’

সূত্র: আইসিসি

‘মৃতদেহ দাহ করা হবে এবং ছাই নিয়ে যাওয়া হবে বাংলাদেশ।’

দ্য আইল্যান্ড মৃত্যুফলক বানিয়েছে.

কলম্বোয় নিজেদের মাটিতে, চেনা কন্ডিশনে টাইগারদের ১৯১ রান লক্ষ্য ছুড়ে দিয়ে শ্রীলঙ্কা তো জয়ের স্বপ্ন দেখতেই পারে। কেননা ভারত-পাকিস্তানকে এমন ছোট্ট লক্ষ্য দেয়া হয়েছিল, সেটা উৎরে যেতে পারেনি। তবে তামিম ইকবালের ৮২ রানের মহামূল্যবান ইনিংস ও সাব্বির রহমানের (৪১) সময়োচিত ব্যাটিংয়ে জয়ের ভিত তৈরি হয় বাংলাদেশের। শেষ দিকে মুশফিকের বুক চিতিয়ে লড়া ২২ রানে ভর করে জয় নিশ্চিত হয় টাইগারদের।

তাইতো যা পারেনি ভারত-পাকিস্তান; তা করে দেখিয়েছে টিম বাংলাদেশ। নিজেদের শততম টেস্টে ৪ উইকেটের রোমাঞ্চকর এক জয় তুলে নিয়েছে মুশফিকুর রহীমের দল। ম্যাচ শেষে লঙ্কান অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথ বলেছেন, বাংলাদেশের কাছে এই হার তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে হারগুলোর মধ্যে একটি। শ্রীলঙ্কান ইংরেজি পত্রিকা দ্য আইল্যান্ড তো আজ তাদের ওয়েবসাইটে এই হারকে ‘মৃত্যুসম’ বলে নিজ দেশের ক্রিকেটের এক ‘এপিটাফ’ই প্রকাশ করেছে।

দ্য আইল্যান্ড মৃত্যুফলক বানিয়ে লিখেছে: ‘আন্তরিকতার সঙ্গে স্মরণ করছি শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটকে। মৃত্যু: ১৯ মার্চ, ২০১৭, স্থান: দ্য ওভাল ( পি সারা ওভাল)। এই মৃত্যুতে তার সকল শুভানুধ্যায়ী গভীরভাবে শোকাহত। আর.আই.পি (রেস্ট ইন পিস—আত্মা স্বর্গলাভ করুক)। পুনশ্চ: মৃতদেহ দাহ করা হবে এবং ছাই নিয়ে যাওয়া হবে বাংলাদেশ।’

এপিটাফটি ১৮৮২ সালে দ্য স্পোর্টিং টাইমসে লেখা রেজিন্যাল্ড ব্রুকসের সেই বিখ্যাত এপিটাফটির হুবহু মিলে গেছে। অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইংল্যান্ড ৭ রানে টেস্ট হেরে যাওয়ার পর ব্রুকস এটিকে প্রতীকী মৃত্যু হিসেবে দেখেছিলেন। এর পরপরই ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার এই আদি দ্বৈরথ ‘অ্যাশেজ’ সিরিজ নামে বিখ্যাত হয়ে যায়।

এটি যতটা না ক্রিকেটের মৃত্যু, তার চেয়ে বেশি ক্রিকেটীয় অহংবোধের মৃত্যুর প্রতীক। বাংলাদেশের কাছে নিজেদের মাঠে হেরে যাওয়াকে মেনে নিতে না পারাই শ্রীলঙ্কার অন্যতম পত্রিকাটি সেভাবেই দেখছে। পি সারা ওভালে শততম টেস্টে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয় লঙ্কান ক্রিকেটের ‘মৃত্যু’ হয়তো নয়; তবে এটি অবশ্যই বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে বৈকি।

রিয়াদ, মমিনুলকে বাদ দেয়া জরুরি ছিল

ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশের উত্থানের নতুন অধ্যায় রচিত হলো কলম্বোয়। ওয়ানডেতে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের পর নিজেদের শততম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে চার উইকেটে হারিয়েছেন টাইগাররা। জয়টা যে ঐতিহাসিক, বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে বাংলাদেশের জয়ে দলে পরিবর্তনের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন কোচ হাথুরুসিংহ।

শততম টেস্টের আগে রিয়াদকে স্কোয়াডের বাইরে রাখা নিয়ে হাথুরুসিংহকে কঠোর সমালোচনার হয়।

এ রকম জয় পেয়ে নিজের শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত এলাকাতে অবয়বে ছিল রাজ্যের হাসি। যে হাসিতে ঝরে পড়ছিল যেন মণি-মুক্তা। শেষ বিকেলের সূর্যের তেজ হালকা হয়ে আলো কমে আসতে থাকলেও হাথুরুর হাসিতে যেন আলোর বিচ্ছুরণ ঘটছিল পি সারা ওভালে। দেখে বুঝার উপায় নেই এটি তারই দেশ।

পেশাদারিত্বের কাছে আবেগের কোনো জায়গা নেই হাথুরু যেন সেটিই আরেকবার প্রমাণ করে দিলেন। অথচ শততম টেস্টের আগে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে স্কোয়াডের বাইরে রাখা নিয়ে এক এলাহি কাণ্ড ঘটে গেল বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তদের মধ্যে। এ জন্য কোচ চল্ডিকা হাথুরুসিংহকে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়তে হলো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তরুণ ক্রিকেটপ্রেমিদের এমন অবস্থা যে পারলে তারা হাথুরুসিংহে শূলে চড়ায়!

শুধু মাহমুদউল্লাহ রিয়াদই নন। আরো বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আসে শততম টেস্টে। লিটন দাস ইনজুরিতে পড়েন। মুমিনুল হক অফ ফর্মে থাকায় তিনিও সেরা একাদশে সুযোগ পান না। তাসকিন আহমেদকেও নেওয়া হয় না। শততম টেস্টের সেরা একাদশে জায়গা করে নেন ইমরুল কায়েস, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও তাইজুল ইসলাম।

ইমরুল কায়েস প্রথম ইনিংসে ৩৪ রান করেন, সাব্বির ব্যাট হাতে দুই ইনিংসেই চল্লিশোর্ধ রান করেন। মোসাদ্দেক অভিষেকে নিজের জাত চেনান। খেলেন ৭৫ রানের নজরকাড়া ইনিংস। আর তাইজুল ইসলাম অবশ্য সুবিধা করতে পারেননি। দুই ইনিংসে নেন ২ উইকেট।

ক্রিকেটপ্রেমিরা পরিবর্তনের কড়া সমালোচনা করলেও দিনশেষে বাংলাদেশ দলের কোচ চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে জানিয়েছেন পরিবর্তন দরকার ছিল। তিনি বলেন, ‘ছেলেরা এমন একটি জয়ের দাবিদার। তার কঠোর পরিশ্রম করেছে। খুবই কঠোর। তাদের জন্য আজ আমি খুশি। আমরা জানতাম আসলে আমাদের কিছু পরিবর্তন দরকার। আসলে পরিবর্তনটা দরকার ছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘ম্যাচের তৃতীয় দিনেই লিড নেওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। গেল বছর থেকে তামিম ইকবাল সব ফরম্যাটেই ভালো করছে। সে একজন সিনিয়র ক্রিকেটার। সে সেটার প্রমাণ দিচ্ছে।’

ছেলেদের এ রকম ঐতিহাসিক অর্জনে দারুণ খুশি কোচ। তিনি বলেন, ‘গল টেস্টের পর এই জয় পেতে ক্রিকেটাররা খুবই পরিশ্রম করেছে। তারা সবাই মিলে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে। পরে বের হয়ে এসে বলে তারা এই টেস্টে কিছুটা একটা করে দেখাতে চায়। এই জয় তারই ফসল।’

জয়ের জন্য তিনি মোস্তাফিজের একটি স্পেলকেই টার্নিং পয়েন্ট বলে জানান। তিনি বলেন চতুর্থ দিন লাঞ্চের পর মোস্তাফিজের একটি স্পেলই ছিল টার্নিং পয়েন্ট। খুবই গরম ছিল। পেস বোলারদের জন্য কঠিন ছিল কন্ডিশন। সে সময় মোস্তাফিজ ৭ ওভারের স্পেলে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়। আমার কাছে এটি ছিল ম্যাচের খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

ইমার্জিং কাপের দল ঘোষণা করলো বিসিবি

২৭ মার্চ থেকে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) আয়োজিত অনূর্ধ্ব-২৩ পর্যায়ে ইমার্জিং এশিয়া কাপ শুরু হতে যাচ্ছে। এশিয়ার টেস্ট খেলুড়ে চারটি দল- বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান এবং শ্রীলংকার অনুর্ধ্ব-২৩ এর পাশাপাশি এই আসরে অংশ নিবে আফগানিস্তান, আরব আমিরাত, নেপাল এবং হংকং এর জাতীয় দল। এদিকে এই আসরের জন্য আজ (মঙ্গলবার) বাংলাদেশ দল ঘোষণা করা হয়েছে।

ইমার্জিং এশিয়া কাপের নিয়মানুসারে, টেস্ট খেলুড়ে দল থেকে সর্বোচ্চ ৪ জন খেলোয়াড় জায়গা পাবে একাদশে। সেই অনুযায়ী বাংলাদেশের স্কোয়াডে রাখা হয়েছে জাতীয় দলের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ৪ ক্রিকেটারকে। এর হলেন- নাসির হোসেন, মুমিনুল হক, মোহাম্মদ মিঠুন এবং আবুল হাসান রাজু। দলের অধিনায়ক করা হয়েছে মুমিনুল হককে। অন্যদিকে সহ-অধিনায়ক নাসির হোসেন।

২৭-৩০ মার্চ পর্যন্ত দলগুলো দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে প্রথম পর্বের খেলায় অংশ নিবে। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে হবে ভারত, শ্রীলংকা, আফগানিস্তান, মালেশিয়ার ম্যাচগুলো। অন্যদিকে কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, হংকং মুখোমুখি হবে।
চট্টগ্রামে এমার্জিং কাপের উদ্ভোধনী ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে শ্রীলংকা। অন্যদিকে কক্সবাজারে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে হংকং। প্রথম পর্বে প্রতিটি দলের থাকবে ৩ টি করে ম্যাচ।

৩ এপ্রিলে ফাইনালের মাধ্যমে এবারের আসরের সমাপ্তি ঘটবে। ফাইনাল ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

ইমার্জিং কাপের জন্য বাংলাদেশ স্কোয়াডঃ মুমিনুল হক (অধিনায়ক), নাসির হোসেন (সহ-অধিনায়ক), মোহাম্মদ সাইফ হাসান, নাজমুল হাসান শান্ত, মোহাম্মদ মিথুন, ইয়াসির আলি চৌধুরী, মেহেদী হাসান মিরাজ, সাইফ উদ্দিন, আবুল হাসান রাজু, আবু হায়দার রনি, আজমির আহমেদ, রাহাতুল ফেরদৌস জাভেদ, আফিফ হোসেন, সালমান হোসেন ও নাসুম আহমেদ।

বাংলাদেশকে ‘৯৬ এর শ্রীলঙ্কা বানাতে চান চন্ডিকা

১৯৯৬ সালে সবাইকে চমকে দিয়ে বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে শ্রীলঙ্কা। ৯০’ এর দশকের মাঝের দিকেই ক্রিকেটে উত্থান ঘটেছিলো লঙ্কানদের। কিন্তু ১৯৯৬ সালের বিশ্বাকে তাদের পারফরম্যান্স সবাইকে অবাক করে দিয়েছিলো। বাংলাদেশকেও ‘৯৬ এর শ্রীলঙ্কার পর্যায় নিয়ে যেতে চান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে।

শ্রীলঙ্কান গণমাধ্যম ডিভাইনাকে  দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চন্ডিকা বলেন, “আমি বাংলাদেশকে সেখানে নিয়ে যেতে চাই যেখানে শ্রীলঙ্কা ১৯৯৬ সালে ছিল। এটিই আমার লক্ষ্য। “যেটাই ঘটুক, আমি বাংলাদেশের সাথে চিরকাল থাকবো না। আমি পদত্যাগও করবো না। দায়িত্ব ছাড়ার একমাত্র কারণ হতে পারে আমি যা করতে চাই তা করতে না দেওয়া। বর্তমানে সেই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।”

কোনোদিন শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট থেকে আমন্ত্রণ পেলে সানন্দে গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, “আমি এখন যে অবস্থায় আছি তার কারণ আমি শ্রীলঙ্কায় ক্রিকেট শিখেছি। শ্রীলঙ্কায় শেখার পর আমি অস্ট্রেলিয়া যাই। সেখানেও অনেক কিছু শিখি। কিন্তু যদি শ্রীলঙ্কা আমাকে আমন্ত্রণ দেয় আমি দেশের জন্য কিছু করার লক্ষ্যে সানন্দে আসবো।”

বিসিবির কাছে যা চেয়েছেন তাই পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বর্তমানে দলের নির্বাচক কমিটিতে রয়েছেন হাথুরুসিংহে। ২০১৯ সালে চন্ডিকা হাথুরুসিংহের সাথে বাংলাদেশের চুক্তি শেষ হবে। ২০১৪ সালে বাংলাদেশের কোচ হন এ লঙ্কান।

খেলার সর্বশেষ নিউজ পেতে সঙ্গে থাকেন……….

%d bloggers like this: