Tag Archives: পাকিস্তান সুপার লীগ

বিনা বেতনেই দেশে ফিরলেন বিজয়

ঐতিহাসিক ফাইনালে কোয়েটা গ্লাডিয়েটরসের হয়ে খেলেন এনামুল। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারনে ফাইনালে পুরোপুরি নতুন চার বিদেশি ক্রিকেটার নিয়ে খেলতে নামে কোয়েটা। বাংলাদেশের এনামুল হক বিজয়ের সঙ্গে কোয়েটার হয়ে খেলতে সম্মত হোন দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যান উইক, জিম্বাবুয়ের এরভাইন ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের এমরিট।

কিন্তু ফাইনালে ব্যাট হাতে প্রত্যাশিত প্রদর্শন দেখাতে সক্ষম হননি এই টাইগার ব্যাটসম্যান। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ৯ বল মোকাবেলা করে মাত্র তিন রান করেন বিজয়। এদিকে তার দলও টানা দ্বিতীয় বারের মতো ফাইনালে পরাজিত হল।

সম্প্রতি ফাইনাল খেলে দেশে ফিরেছেন এনামুল হক। তবে জানিয়েছেন আসর শেষ হলেও এখনও কোন সম্মানী পাননি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড কিংবা কোয়েটার কাছে থেকে।

তিনি বলেন, ‘আমি টাকা পাইনি এখনও। আমি সিলভার ক্যাটাগরিতে ছিলাম, যেখানে বেতন হচ্ছে ১০০০০ ডলার। তবে আমার ম্যানেজার জানিয়েছে শীঘ্রই সেটি পেয়ে যাওয়ার কথা। আমার মনে হয় আর কিছুদিন পাকিস্তানে থাকতে পারলে হয়তো নিয়েই ফিরতে পারতাম। তবে আশা করছি দ্রুতই পেয়ে যাবো টাকাটা। সম্পূর্ণটা না পেলেও অন্তত ৮০০০ ডলার পাওয়ার কথা আমার।’

এর আগে অনুমতির (অনাপত্তিপত্র) জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দারস্থ হন তিনি। এনামুলের অতি আগ্রহেই তাকে ফাইনাল খেলতে অনাপত্তিপত্র দিয়েছে বিসিবি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ড্যারেন স্যামি, ইংল্যান্ডের ক্রিস জর্ডান ফাইনাল খেলতে যাচ্ছেন পাকিস্তানে। বিসিবিও তাই আপত্তি জানায়নি। তবে পাকিস্তানে যাওয়ার জন্য তাকে অনাপত্তিপত্র দেয়ার আগে অনেক আলোচনা হয়েছে বোর্ডে। বোর্ড সভাপতি পর্যন্তও গড়িয়েছে ব্যাপারটা।

উল্লেখ্য, পিএসএলের সবগুলো ম্যাচ সংযুক্ত আরব আমিরাতে হলেও এবার ফাইনালটা লাহোরে আয়োজনের কঠিন এক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। জয়-পরাজয় ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছে পাকিস্তানে ক্রিকেট ফেরার খবরটিই।

লাহোরে ঘরের মাঠে ফাইনালটি দেখতে মাঠে উপস্থিত হয়েছিলেন প্রায় ২২ হাজার দর্শক। নিরাপত্তাব্যবস্থাও ছিল প্রশংসা করার মতো। সবমিলিয়ে পাকিস্তানে ক্রিকেটেরই জয় হয়েছে, মনে করছেন অনেকেই।

ফাইনালে ভালো করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বিজয়

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ফাইনাল খেলতে শনিবার দুপুরে ঢাকা ছেড়েছেন জাতীয় দলে ব্র্যাত্য হয়ে পড়া উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান এনামুল হক বিজয়। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় ওই ফাইনালে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটসের হয়ে খেলবেন তিনি।

এবারই প্রথম পাকিস্তানে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তাই ফাইনাল উপলক্ষে লাহোরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ ছাড়াও শহরে সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে। ফাইনাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব মার্কেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা শঙ্কা থাকা সত্ত্বেও এনামুল হক বিজয়সহ ১৬ জন ক্রিকেটার ফাইনাল খেলতে লাহোর গিয়েছেন।

দেশ ছাড়ার আগে এনামুল হক বিজয় নিরাপত্তা নিয়ে বলেন, ‘নিরাপত্তার বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার পরই পাকিস্তানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আশা করি কোনো সমস্যা হবে না সেখানে।’

ফাইনালে ভালো কিছু করার ব্যাপারে খুবই আত্মবিশ্বাসী বিজয়। তিনি বলেন, ‘সবাই দোয়া করবেন। সেখানে ভালো কিছু করতেই যাচ্ছি। ভালো করতে পারলে আমার জন্যই দারুণ হবে। লক্ষ্য আমার তেমনই।’

এর আগে অনুমতির (অনাপত্তিপত্র) জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দারস্থ হন তিনি। এনামুলের অতি আগ্রহেই তাকে ফাইনাল খেলতে অনাপত্তিপত্র দিয়েছে বিসিবি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ড্যারেন স্যামি, ইংল্যান্ডের ক্রিস জর্ডান ফাইনাল খেলতে যাচ্ছেন পাকিস্তানে। বিসিবিও তাই আপত্তি জানায়নি. ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খান জানিয়েছেন, এনামুলের ইচ্ছাটাকেই বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন তারা, ‘বিজয় খুবই আগ্রহী ফাইনাল খেলতে। আমরা ওর ইচ্ছাকেই বেশি প্রাধান্য দিয়েছি। নিরাপত্তার ব্যাপারটি নিয়ে সে নিজে নিশ্চিত, নিজ দায়িত্বেই যেতে চাইছে। আমরা তাই অনুমতি দিয়েছি।’

পিএসএল ফাইনালে বিজয়সহ আরও ১৫ বিদেশি ক্রিকেটারের তালিকা

শেষপর্যন্ত ১৬ জন বিদেশি ক্রিকেটার পেয়েছে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) কমিটি যারা লাহোরে ফাইনাল খেলতে রাজি। পাঁচ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য আলোচিত ওই ফাইনালে বাংলাদেশের এনামুল হক বিজয় ছাড়াও থাকছেন আরও ১৫ ক্রিকেটার।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাকি ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত করেছে পিএসএল কমিটি। দেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরাতে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচটি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে এখানে ফাইনাল খেলা থেকে সরিয়ে নেন বিদেশি ক্রিকেটাররা। শেষ পর্যন্ত ১৬ জন বিদেশি ক্রিকেটার লাহোরে ফাইনাল খেলতে আগ্রহ জানিয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশের এনামুল হক বিজয়ও রয়েছেন।

বাকি ১৫ ক্রিকেটাররা হলেন:

এল্টন চিগুম্বুরা (জিম্বাবুয়ে)

পিটার ট্রেগো (ইংল্যান্ড)

রায়াদ এমরিট (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

গ্রায়াম ক্রেমার (জিম্বাবুয়ে)

ক্রেইগ অরভিন (জিম্বাবুয়ে)

জেড উইন্সটন ডার্নব্যাচ (ইংল্যান্ড)

রায়ান ডেন ডেসকাটে (নেদারল্যান্ডস)

মর্নে ভ্যান উইক (দক্ষিণ আফ্রিকা)

রিচার্ড লেভি (দক্ষিণ আফ্রিকা)

আশহার জায়দি (ইংল্যান্ড)

জশুয়া কব (ইংল্যান্ড)

আজহারুল্লাহ (ইংল্যান্ড)

শন আরভিন (জিম্বাবুয়ে)

ক্রিশমার সান্তোকি (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

 

কেসরিক উইলিয়ামস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

 

সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

অনুমুতি পেয়ে খুশি, পাকিস্তানে আজই যাচ্ছেন এনামুল

আজ লাহোরের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন এই ডান-হাতি ব্যাটসম্যান। গতকালই বিসিবির কাছে থেকে পাকিস্তান সুপার লীগের (পিএসএল) ফাইনাল খেলার ছাড়পত্র পেয়েছেন এনামুল হক বিজয়।

এদিকে, এনামুল নিজের দায়িত্বে যাচ্ছেন, তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সঙ্গে কথা বলে নিরাপত্তার বিষয়টি জেনে নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড- বিসিবি।

২০০৯ সালের ৩ মার্চ লাহোরে শ্রীলংকা টিম বাসে হামলা করেছিল বন্দুকধারী সন্ত্রাসীরা। এরপর থেকেই পাকিস্তানের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রায় বন্ধ। ভয়াবহ সেই হামলার ৮ বছর পূর্তির দিনেই বিসিবি থেকে লাহোরে খেলার ছাড়পত্র পান এনামুল।

কাল সন্ধ্যায় বিসিবির অনুমতি পাওয়ার পর দারুণ খুশি তিনি। এনামুল জানান, ‘আলহামদুলিল্লাহ, এই মাত্র (কাল) হাতে পেলাম। এখন অবশ্যই ভালো লাগছে। সব ঠিক থাকলে আগামীকাল (আজ) পাকিস্তান যাব।’

আগামীকাল ফাইনালে কোয়েটা গ্লাডিয়েটরসের হয়ে খেলবেন এনামুল। কোয়েটার কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়ে বিসিবিকে জানান এনামুল। পাকিস্তানে যাওয়ার জন্য তাকে অনাপত্তিপত্র দেয়ার আগে অনেক আলোচনা হয়েছে বোর্ডে। বোর্ড সভাপতি পর্যন্তও গড়িয়েছে ব্যাপারটা।

বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বলেন, ‘পাকিস্তানে যাওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেয়াটা সহজ ছিল না। এটা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। বিসিবি প্রেসিডেন্ট সিদ্ধান্ত ছেড়ে দিয়েছিলেন বিজয়ের হাতেই। যদিও সে নিজ দায়িত্বে যাচ্ছে, তারপরও আমরা পিসিবি সঙ্গে কথা বলেছি। নিশ্চিত হয়েছি যে, সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা দেয়া হবে।’

পিসিবি ক্রমাগত চেষ্টা করে যাচ্ছে পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরিয়ে নেয়ার। পিএসএলের ফাইনাল লাহোরে আয়োজনের সিদ্ধান্ত সেই চেষ্টার পথেই একটি পদক্ষেপ। এর আগে বিদেশী কয়েকজন ক্রিকেটার জানিয়েছেন তারা পাকিস্তানে খেলতে যাবেন না।

বিসিবির দিকে তাকিয়ে বিজয়

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) দ্বিতীয় আসরের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পাকিস্তানের লাহোরে। নিরাপত্তা শঙ্কা থাকায় ইতোমধ্যে লাহোরে খেলতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে একাধিক বিদেশী ক্রিকেটাররা। কিন্তু পিসিবি নাছোড়বান্দা ফাইনাল ম্যাচ লাহোরে আয়োজন করতে বদ্ধপরিকর তারা। বিদেশী ক্রিকেটাররা যখন পিএসএলের ফাইনাল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন তখন আসরের এই ম্যাচটি খেলতে আমন্ত্রণ পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার এনামুল হক বিজয়

জাতীয় দলের সতীর্থ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে ফাইনালে অংশগ্রহণ করার জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছেন ডান হাতি ব্যাটসম্যান এনামুল।

তবে ফাইনাল ম্যাচটি খেলতে এনামুল আদৌ পাকিস্তান যাচ্ছেন কিনা এ নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এ বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা এনামুল হক বিজয়ের চোখ আপাতত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দিকে। বোর্ডের সিদ্ধান্ত জানতে বৃহস্পতিবার সকালে এনামুল হক দেখা করেন বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনের চেয়ারম্যান আকরাম খান ও সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরীর সাথে।

পিএসএলের ফাইনালে অংশগ্রহণ ও বিসিবিতে আসা প্রসঙ্গে এনামুল বিজয়ের কাছে জানতে চাওয়া হবে তিনি বলেন, ‘পিএসএল থেকে আমাকে আমন্ত্রন জানিয়েছে। আমি বিষয়টি আকরাম ভাইকে জানালে তিনি আমাকে সিইও স্যারে (নিজামউদ্দিন চৌধুরী) সাথে কথা বলতে বলেন। সুজন স্যার বলেছেন, কাগজপত্র নিয়ে অফিসে আসো, তারপর দেখা যাক। আমি এখন বিসিবিতে যাচ্ছি। ওনারাই তো আমাদের অভিভাবক। যা বলবেন, তাই করবো। আমি পাকিস্তানে খেলতে যাবো কি যাবো না তা নির্ভর করছে বিসিবির সিদ্ধান্তের উপর।’

সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানও সরে আসলো লাহোরের ফাইনাল থেকে

শত আলোচনা সমালোচনাকে সঙ্গী করে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ফাইনাল লাহোরেই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিএসএল। কিন্তু নিরাপত্তার আশঙ্কায় এখনো অনেক কিছুই অনিশ্চিত। এবার সে হাওয়ায় নতুন করে যুক্ত হলো প্রতিযোগিতাটির টেলিভিশন সম্প্রচারের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান সানসেট অ্যান্ড ভাইন।

যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ বেশ কয়েকজন ধারাভাষ্যকারও জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা লাহোরে যাবেন না। এই টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতার জন্য বিদেশি অনেক ধারাভাষ্যকার এসেছিলেন এখানে ধারাভাষ্য দিতে। তারাও পিএসএলের ফাইনাল লাহোরে হওয়াতে সেখানে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইতোমধ্যে ড্যানি মরিসনসহ অ্যালান উইলকিনস, মেল জোনস সবাই লাহোরে যাওয়ার জন্য অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সাবেক ক্যারিবীয় ফাস্ট ব্লার ইয়ান বিশপ আগেই জানিয়ে দিয়েছেন তিনি লাহোরে যাচ্ছেন না।

সানসেট অ্যান্ড ভাইনের সঙ্গে লিগ পর্যায়ের শেষ পর্যন্ত চুক্তি ছিল পিএসএলের। তাছাড়া সানসেট অ্যান্ড ভাইনের সহায়ক সংস্থাও লাহোরে যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। এটি মূলত হক আই প্রযুক্তি এবং স্পাইডার ক্যামেরা সরবারহ করে থাকে। এর ফলে ফাইনালে থাকছেনা ড্রোন ক্যামেরাও। সানসেট অ্যান্ড ভাইনের বদলে যে সংস্থাটির সঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) কথা বলছে তারা এসব ছাড়াই লাহোরের ফাইনাল সম্প্রচার করবে।

এর আগে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে পিএসএলের ফাইনাল অনুষ্ঠানের ব্যাপারে  সবুজ-সংকেত দিয়েছে পাঞ্জাবের প্রাদেশিক সরকার।

পিএসএলের ফাইনাল লাহোরে আয়োজনের পরিকল্পনাটা পাগলামি: ইমরান খান

 নিরাপত্তা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক থাকলেও পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) দ্বিতীয় আসরের শুরু থেকেই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিলো লাহোরে অনুষ্ঠিত হবে এর ফাইনাল ম্যাচটি। এ নিয়ে আলোচনায় বসে পিএসএলের আয়োজক কমিটি এবং ফ্রাঞ্চাইজি মালিকরা। সভা শেষে সিদ্ধান্ত হয়, বিদেশি ক্রিকেটাররা খেলুক আর না খেলুক, পিএসএলের দ্বিতীয় আসরের ফাইনালের ভেন্যু লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়াম।যদিও ব্যাপারটি দেশটির সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ঝুলে আছে এখনও। ক্রিস গেইল, কুমার সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়াবর্ধনের মত অনেক তারকা বিদেশি ক্রিকেটারই ফাইনাল খেলতে লাহোর যেতে অপারগতা জানিয়ে দিয়েছে। তবুও পিএসএলের আয়োজক কমিটি এবং পিসিবি চাইছে লাহোরেই হোক ফাইনাল। এরই মধ্যে বোমা ফাটালেন পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক অধিনায়ক ইমরান খান।

পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়কের মতে, লাহোরে পিএসএলের ফাইনাল আয়োজন করা স্রেফ পাগলামি! দেশটির এক টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন পাকিস্তানের এই কিংবদন্তি অলরাউন্ডার। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পিএসএলের ফাইনাল লাহোরে আয়োজনের পরিকল্পনাটা আমার কাছে পাগলামি মনে হচ্ছে।’

এছাড়া ফাইনাল লাহোরে হলে বেশিরভাগ বিদেশি খেলোয়াড়ের না খেলার সম্ভাবনা আছে। বিদেশি খেলোয়াড় ছাড়া ফাইনাল লাহোরে হলে সেটি পাকিস্তানের ক্রিকেটে কোনো কাজে আসবে না বলে মনে করেন ইমরান খান। আর ফাইনালের সময় যদি খারাপ কোনো ঘটনা ঘটে, তাহলে পাকিস্তানের ক্রিকেট দশ বছর পিছিয়ে যাবে বলেও মত ইমরানের, ‘সেখানে যদি খারাপ কোনো কিছু ঘটে তাহলে এটা পাকিস্তানের ক্রিকেটকে আরও দশ বছর পিছিয়ে নিয়ে যাবে।’

২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একরকম নিষিদ্ধ। মাঝে শুধু জিম্বাবুয়ে সীমিত ওভারের সিরিজ খেলে গেছে। নিজেদের আবারও নিরাপদ প্রমাণ করতেই পিসিএলের ফাইনাল লাহোরে করার ঘোষণা দেয় পিসিবি। চলতি মাসের শুরুর দিকে লাহোরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১৩ জন মানুষ নিহত হওয়ার পরও নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় দেশটির সর্বোচ্চ ক্রীড়া সংস্থাটি।

পাকিস্তানের রাজনৈতিক দল তেহরিক-ই-ইনসাফের প্রধান ইমরানের মতে, এমন আয়োজন কোন শুভবার্তা বয়ে আনবে না। এ প্রসঙ্গে ইমরান খান বলেন, ‘পিএসএল এর ফাইনাল পাকিস্তানে আয়োজনের পয়েন্টটা কি? এটা তো কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচও নয়। আমার মতে এটা ভয়ঙ্কর চিন্তা। এই ম্যাচ উপলক্ষে হয়তো আমারা আর্মি ডেকে এনে, রাস্তা অবরোধ করে খেলা আয়োজন করব। তাই এই প্রক্রিয়া কোন শুভবার্তা দিবে না। এই ধরনের পরিস্থিতির মধ্যে আমরা কী শান্তির বার্তা পাঠাব।’

পিসিএলের প্রথম আসরের পুরোটাই হয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতে। দ্বিতীয় আসরেরও ফাইনাল বাদে পুরোটা আরব আমিরাতেই হচ্ছে। আগামী পাঁচ মার্চ পিএসএলের দ্বিতীয় আসরের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।

সূত্রঃ এনডিটিভি

দুর্দান্ত বোলিংয়ের পরও সাকিব-তামিমের কাছে হারলো মাহমুদউল্লাহ

বোলিংয়ে এসেই দুর্দান্ত এক বলে তামিমকে বোকা বানলেন। তার পরের ওভারে এসে আবার দুই বলে দুই উইকেট তুলে নিল মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু তারপর ও শেষমেশ জয় ছিনিয়ে নিতে পারলো না তার দল কোয়েটা গ্লাডিয়েটরস।

একে ছোটো পুঁজি, তারওপর বলই হাতে নিতে পারলেন না উমর গুল। তারপরও মাহমুদউল্লাহ ও টাইমাল মিলসের দারুণ বোলিংয়ে লড়াই করলো কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স। কিন্তু দারুণ এক ইনিংসে দলটির জয় কেড়ে নিলেন শহিদ আফ্রিদি। রোমাঞ্চকর ম্যাচে সাকিব আল হাসান-তামিম ইকবালের পেশাওয়ার জালমি জিতেছে ২ উইকেটে।

দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শেষ বলে অলআউট হওয়ার আগে ১২৮ রান করে কোয়েটা। শেষের দিকে ব্যাটিংয়ে নেমে ২ বলে শূন্য রানে ফিরেন মাহমুদউল্লাহ। শুধু তিনি একাই নন, শেষ ছয় ব্যাটসম্যানের কেউই যেতে পারেননি দুই অঙ্কে।

৪ রানে দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে হারানো কোয়েটাকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন কেভিন পিটারসেন (৪৩ বলে ৪১) ও রাইলি রুশো (৩৪ বলে ৩৮)। এই দুই জনের বাইরে দুই অঙ্কে যান কেবল মোহাম্মদ নওয়াজ। মোহাম্মদ আসগর ৩৩ রানে নেন ৩ উইকেট। হাসান আলি ২ উইকেট নেন ২২ রানে। সাকিব ২৫ রানে নেন ১ উইকেট। তার বলে ড্যারেন স্যামির হাতে জীবন পাওয়া রুশো ৮৬ রানের জুটি গড়েন পিটারসেনের সঙ্গে।

জবাবে ১৯ ওভার ২ বলে ৮ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পেশাওয়ার। সপ্তম ওভারে তামিমকে (১৩ বলে ৭) ফিরিয়ে ৩৮ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন মাহমুদউল্লাহ। ১ বলে ১ রান করে রান আউট হন সাকিব। পরপর দুই বলে শোয়েব মাকসুদ ও ড্যারেন স্যামিকে ফিরিয়ে দলকে খুব ভালো অবস্থানে নিয়ে যান মাহমুদউল্লাহ। হ্যাটট্রিক প্রায় হয়েই যাচ্ছিল। অল্পের জন্য ফিল্ডারের হাতে যায়নি আফ্রিদির ক্যাচ।

শেষ পর্যন্ত এই অলরাউন্ডারের ৩টি করে ছক্কা-চারে গড়া ২৩ বল স্থায়ী ৪৫ রানের দারুণ ইনিংসে নাটকীয় জয় তুলে নেয় দলটি। টেলএন্ডারদের নিয়ে শেষ ৪ ওভারে ৪০ রানের সমীকরণ মেলান আফ্রিদি। কামরান আকমল ২৬ ও মোহাম্মদ হাফিজ ফিরেন ২২ রান করে। কোয়েটার টাইমাল মিলস (৩/২০) ও মাহমুদউল্লাহ (৩/৩১) তিনটি করে উইকেট নেন।

গেইল-সাঙ্গাকারাদের বিপক্ষে লড়াইয়ে মাহমুদউল্লাহরা

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) দ্বিতীয় আসরের ১৫তম ম্যাচে বৃহষ্পতিবার গেইল-সাঙ্গাকারাদের করাচি কিংসের বিপক্ষে মাঠে নামতে যাচ্ছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদদের কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দু’দলের মধ্যকার লড়াইটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী রাত ১০টায়।

পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের ক্রিকেটারদের ব্যাট ও বল হাতে ফর্মের তুঙ্গে থাকায় করাচির বিপক্ষে ম্যাচে তাদের এগিয়ে রাখছে। অন্যদিকে, পয়েন্ট টবিলের তলানিতে অবস্থান হলেও শীর্ষ দল কোয়েটাকে রুখে দিতে প্রস্তুত করাচি কিংস।

টুর্নামেন্টে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখার লক্ষ্য কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের। বিপরীতে কোয়েটার আধিপত্যর যাত্রার অবসান ঘটিয়ে ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিতে চায় করাচি কিংস। এ জন্য দলের তারকা ক্রিকেটারদের বড় ভূমিকা পালনের আহবান দলপতি কুমার সাঙ্গাকারার। উল্লেখ্য, ৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকায় সবার নিচে অবস্থান কোয়েটার আর ৫ ম্যাচ থেকে চার জয়সহ মোট ৭ পয়েন্ট নিয়ে চলতি আসরের পয়েন্ট তালিকায় সবার উপরে অবস্থান মাহমুদউল্লাহদের।

কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স (সম্ভাব্য একাদশ)- সাদ নাসিম, আহমেদ শেহজাদ, কেভিন পিটারসেন, রিলি রুশো, সরফরাজ আহমেদ, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোহাম্মদ নওয়াজ, থিসারা পেরেরা, আনোয়ার আলী, হাসান খান এবং উমর গুল।

করাচি কিংস (সম্ভাব্য একাদশ)- ক্রিস গেইল, বাবর আজম, কুমার সাঙ্গাকারা, শোয়েব মালিক, রবি বোপারা, কাইরন পোলার্ড, ইমাদ ওয়াসিম, সোহেল খান, মোহাম্মদ আমির, উসামা মীর এবং উসমান খান।

স্পট ফিক্সিং বিতর্কে আরও তিন পাকিস্তানি ক্রিকেটার

বিতর্ক যেন হাঁটু গেঁড়ে বসেছে পাকিস্তানের ক্রিকেটে। দেশটির ঘরোয়া লীগে ফিক্সিংয়ের দায়ে অভিযুক্ত ক্রিকেটারদের তালিকায় নতুন করে এবার আসতে পারে আরও তিনটি নাম!

পাকিস্তান সুপার লীগ- পিএসএলে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ তদন্তে পিসিবির দুর্নীতি দমন বিভাগ তিন ক্রিকেটার মোহাম্মদ ইরফান, জুলফিকার বাবর ও শাহ্‌জাইব হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। স্পট ফিক্সিংয়ে এই তিন ক্রিকেটারের সংশ্লিষ্টতাও থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে স্পট ফিক্সিংয়ে সার্জিল খান ও খালিদ লতিফের সংশ্লিষ্টতা পায় পিসিবির দুর্নীতি দমন কমিশন। শাস্তিস্বরূপ আইপিএল-বিপিএলের আদলে আয়োজিত টুর্নামেন্ট পিএসএলে তাদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

তবে নতুন করে সন্দেহ করা তিন ক্রিকেটার ইরফান, বাবর ও শাহ্‌জাইবের উপর এখনই কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি দেশটির ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সম্প্রতি একটি টুইট বার্তায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নাজাম শেঠি বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত পিএসএলে খেলতে পারবেন এই তিন ক্রিকেটার।

খেলার সর্বশেষ নিউজ পেতে সঙ্গে থাকেন……….

%d bloggers like this: