Tag Archives: নিউজিল্যান্ড

আবেদন ছাড়াই আউট দিলেন আম্পায়ার!

কোনো নিশ্চিত আউট ছাড়া অন্যান্য আউটের ক্ষেত্রে বোলার ও ফিল্ডাররা আবেদন করেন আম্পায়ারের কাছে। কখনো আবেদন নাকচ করে দেন আম্পায়ার, কখনো সাড়া দেন আঙুল তুলে। কিন্তু আউট নিয়ে সংশয় থাকলে ও আবেদন না করা হলে আউট দেওয়া হয় না। কিন্তু অকল্যান্ডে অস্ট্রেলিয়া বনাম নিউ জিল্যান্ডের ম্যাচে দেখা গিয়েছে অন্য দৃশ্য।

৩৫ ওভারের খেলা শেষে নিউ জিল্যান্ডের রান ছিলো ৫ উইকেটে ১৮৭। ব্যাট করছিলেন নেইল ব্রুম। ৩১ বলে ২২ রান করে অপরাজিত ছিলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার পেসার জশ হ্যাজলউডের করা ৩৬তম ওভারের প্রথম বলটি ছিলো শর্ট পিচ ডেলিভারি। লেগ স্টাম্পের বাইরের শর্ট পিচ ডেলিভারিটিকে হুক করতে চেয়েছিলেন ব্রুম। কিন্তু ব্যাটে বলে হয়নি। বলা জমা পড়ে উইকেটরক্ষকের গ্লাভসে।

আউটের জন্য কোনো আবেদন করেনি অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা। বল করে আম্পায়ারের দিকে তাকানোর পর চমকে যান হ্যাজলউড। দেখেন আঙুল তুলে ব্যাটসম্যানকে আউটের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন আম্পায়ার রুচিরা পাল্লিয়াগুরুগে। এমন অদ্ভুত দৃশ্য দেখে চমকে যায় সবাই। এরপর রিভিউয়ের আবেদন করেন ব্রুম। অ্যাকশন রিপ্লেতে দেখা যায় ব্যাট ও বলের কোনো সংযোগ ঘটেনি। গ্লাভসও স্পর্শ করেনি বল। সিদ্ধান্ত বদলান রুচিরা। উল্লেখ্য, ৩৭ টি আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ও ২৭ আন্তর্জাতিক টি-২০ ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে রুচিরার।

আরও একবার আশা ভঙ্গের গল্প

দিনটি শুরু হয়েছিল লিড নেওয়ার আশা আর জয়ের স্বপ্ন নিয়ে। শেষ হলো হারের হতাশায়। কিউই লেজের ঝাপটায় সকালেই জোর ধাক্কা। একটি দিন বৃষ্টির পেটে যাওয়ায় তবু ড্রয়ের সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ তো উপহার পেয়ে নয়, দিয়ে অভ্যস্ত। উদার হয়ে নিজেদের উইকেট বিলিয়ে এলেন ব্যাটসম্যানরা। একটু একটু করে খোঁড়া হল আশার কবর।

২২ ডিসেম্বর প্রস্তুতি ম্যাচে হার দিয়ে শুরু হয়েছিল যে সফর, সেটি শেষ হলো আন্তর্জাতিক ম্যাচও সবকটি হেরে। চার দিনেই ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট ৯ উইকেটে জিতে নিল নিউ জিল্যান্ড। আগের দিন খেলা হয়নি, কিউরা জিতল আসলে তিন দিনেই। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর টেস্টেও হোয়াইটওয়াশড বাংলাদেশ।

চতুর্থ দিন বিকেলে অবশ্য খানিকটা উত্তেজনা ছড়াল টেস্টে। টেস্টের ফল নিয়ে অবশ্যই নয়, দৈর্ঘ্য নিয়ে। ম্যাচ পঞ্চম দিনে যাবে কিনা! কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমকে তিনে নামিয়ে সেই লড়াইয়েও জিতেছে নিউ জিল্যান্ড।

৩ উইকেট হাতে নিয়ে ২৯ রানে পিছিয়ে থেকে শুরু হয়েছিল নিউ জিল্যান্ডের দিন। শেষ তিন জুটিতেই তারা তুলে নেয় ৯৮ রান, পায় ৬৫ রানের লিড। বড় লিড গোণার চেয়েও অস্বস্তিকর ছিল বাংলাদেশের শরীরী ভাষা। শঙ্কার ঘণ্টা বেজেছে ওখানেই। ব্যাটসম্যানরা একে একে এসে শুধু নাড়িয়ে গেছেন ঘণ্টা।

শুরু তামিম ইকবালকে দিয়ে। অধিনায়কের দায়িত্বও বের করে আনতে পারেনি বাঁহাতি ওপেনারের সেরাটা। সীমানায় ফিল্ডার রেখে শর্ট বলা করা হচ্ছিলো। উদ্দেশ্য না বোঝার কারণ নেই তামিমের। কিন্তু ক্যারিয়ারে আরও অনেকবারের মত পা দিয়েছেন ফাঁদে। পুল করে ক্যাচ।

অনেক বিদেশ সফরের বছরে বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যানের শুরুটা হলো বাজে। সফরের ১১ ইনিংসে অর্ধশতক মাত্র দুটি, সর্বোচ্চ ৫৯!

দ্বিতীয় ইনিংসে সৌম্য ও মাহমুদউল্লাহর জুটিতে তবু ছিল লড়াইয়ের ইঙ্গিত। বাইরের বল তাড়া করে সৌম্য বিদায় দিয়েই পতনের শুরু। অনেক বাইরের বল তাড়া করে ৪ রানে জীবন পেলেন সাকিব আল হাসান। খানিকপর আউট হলেন সেটিরই পুনরাবৃত্তি করে!

মাহমুদউল্লাহর কাছে একটা বড় ইনিংস পাওনা ছিল। কিন্তু টেস্ট ক্যারিয়ারটা তার এগিয়ে চলছে যেভাবে, এই ইনিংসও সেটির প্রতিচ্ছবি। বড় কিছুর সম্ভাবনা জাগিয়ে অল্পতে শেষ।

চা বিরতির আগে পরে টানা দুবলে নেই সাব্বির ও নুরুল। দুজনের কেউ সামলাতে পারেননি নিল ওয়াগনারের শর্ট বল। আর মিরাজের কাছে তো এখন ব্যাটিং মানে দুঃস্বপ্ন।

শেষের আগে তবু শেষ করতে চাইলেন না তাসকিন আহমেদ ও কামরুল ইসলাম রাব্বি। টেস্ট সিরিজ থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি সম্ভবত এই দুজনই। বোলিংয়ে আলো ছড়িয়েছেন, শেষ বেলায় ব্যাটিংয়েও দেখালেন ঝলক। ছিল নিবেদন, লড়াইয়ের মানসিকতা। এলোমেলো শট খেলেছেন কিছু, লোয়ার অর্ডারদের কাছে সেটি প্রত্যাশিতই। পাশাপাশি খেলেছেন দারুণ কিছু শটও। নবম উইকেটে দুজনের ৫১ রানের জুটিতে একটু বেড়েছে ম্যাচের দৈর্ঘ্য।

তাতেও অবশ্য ম্যাচ শেষ দিনে নেওয়া যায়নি। সন্ধ্যা সাতটায়ও চকচকে রোদ। বাড়তি আধঘণ্টা সময়ের সুযোগ কেন নেবে না নিউ জিল্যান্ড! ডি গ্র্যান্ডহোমের ব্যাট থেকে এলো চারটি ছক্কা। টম ল্যাথাম তো জীবনের সেরা ফর্মে।

ক্যাচ হাতছাড়া সফরে শেষ বেলায়ও ক্যাচ ছাড়লেন সাকিব। টানা দুই ছক্কায় সিরিজ শেষ করলেন ডি গ্র্যান্ডহোম। ঝলমলে রোদেও কী ভীষণ বিবর্ণ বাংলাদেশ!

অধিনায়কসহ নিয়মিত তিন ব্যাটসম্যানকে হারানোর পর এই হারকে ‘বেনিফিট অব ডাউট’ দেওয়াই যায়। তবে হারের একই ধারা, ব্যাটসম্যানদের আত্মঘাতী শটগুলো বারবার জানান দেবে, টেস্টের বাংলাদেশ সেই একইরকম!

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৮৯

নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৯২.৪ ওভারে ৩৫৪

বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ৫২.৫ ওভারে ১৭৩ (তামিম ৮, সৌম্য ৩৬, মাহমুদউল্লাহ ৩৮, সাকিব ৮, শান্ত ১২, সাব্বির ০, নুরুল ০, মিরাজ ৪, তাসকিন ৩৩, রাব্বি ২৫*, রুবেল ৭; বোল্ট ৩/৫২, সাউদি ৩/৪৮, ডি গ্র্যান্ডহোম ১/২৭, ওয়াগনার ৩/৪৪)।

নিউ জিল্যান্ড ২য় ইনিংস: ১৮.৪ ওভারে ১১১/১ (লক্ষ্য ১০৯) (রাভাল ৩৩, ল্যাথাম ৪১*, ডি গ্র্যান্ডহোম ৩৩*; তাসকিন ০/২১, মিরাজ ০/২৭, কামরুল ১/২১, সাকিব ০/২৮, শান্ত ০/১৩)

ফল: নিউ জিল্যান্ড ৯ উইকেটে জয়ী

সিরিজ: নিউ জিল্যান্ড ২-০তে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: টিম সাউদি

আধঘণ্টা আগে শুরু হবে চতুর্থ দিনের খেলা

ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলে ওভালে বাংলাদেশ-নিউ জিল্যান্ডের দ্বিতীয় টেস্টে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছে বৃষ্টি। দ্বিতীয় দিনের খেলা আগে শেষ হয়েছে বৃষ্টির কারণে। তৃতীয় দিনেও ছিলো বৃষ্টির শঙ্কা। আর সেই শঙ্কা বাস্তবেই রূপ নিয়েছে। তৃতীয় দিন পুরোটাই ভেসে গিয়েছে বৃষ্টিতে। মাঠে গড়ায়নি একটি বলও। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে চতুর্থ দিন শুরু হবে ৩০ মিনিট আগে।

রোববার সকাল থেকেই বৃষ্টি পড়তে থাকে। এক সময় খেলা হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। স্থানীয় সময় বিকাল চারটার ম্যাচ অফিসিয়ালরা তৃতীয় দিন পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন।

তৃতীয় দিনের খেলা ২৩ মিনিট আগে শুরু হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু বৃষ্টির কারণে তা হয়নি। তৃতীয় দিনের মতো চতুর্থ দিনের খেলাও এগিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ১১ টার পরিবর্তে সকাল সাড়ে দশটায় শুরু হবে চতুর্থ দিনের খেলা। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী চতুর্থ দিনের খেলা শুরু হবে রাত সাড়ে তিনটায়।

তৃতীয় দিন নিউ জিল্যান্ডের ব্যাট হাতে নামার কথা ছিলো। ৭ উইকেট হারিয়ে ২৬০ রান করে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে স্বাগতিকরা। প্রথম দিন ব্যাট করতে নেমে ২৮৯ রান করে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে প্রথম ইনিংসে ২৯ রানে পিছিয়ে রয়েছে ব্ল্যাক ক্যাপসরা।

প্রথম টেস্টেও বাগড়া দিয়েছিলো বৃষ্টি। দুই দলই প্রথম ইনিংসে ব্যাট করেছিলো লম্বা সময় ধরে। ফল এসেছিলো ম্যাচটিতেই। তাই এখনো ক্রাইস্টচার্চ টেস্টের পরিণতি বলা যাচ্ছে না। তবে ফলের জন্য যে নির্ভর করতে হবে ক্রাইস্টচার্চের আকাশের ওপর তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

বৃষ্টিতে ভেসে গেল প্রথম সেশন

বৃষ্টিতে ভেসে গেল প্রথম সেশন

দুই দলই তাকিয়ে ছিল তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনের দিকে। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে খেলাই শুরু হতে পারেনি। ভেসে গেছে তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনের খেলা। লাঞ্চ বিরতি নেওয়ার সময় আরও বাড়ে বৃষ্টির দাপট।

ক্রাইস্টচার্চে সকালে বৃষ্টির বাধা

বৃষ্টির বাধায় দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিন নির্ধারিত সময়ে খেলা শুরু হয়নি। রাত থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে ক্রাইস্টচার্চে। এর আগে দ্বিতীয় দিন বৃষ্টির জন্য আগেভাগেই শেষ হয় খেলা।

আগের দিন ১৯ ওভার খেলা কম হয়। ঘাটতি পুষিয়ে নিতে রোববার হ্যাগলি ওভালে নির্ধারিত সময়ের ২৩ মিনিট আগে খেলা শুরু হওয়ার কথা ছিল।

দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ২৬০/৭। এর আগে প্রথম ইনিংসে ২৮৯ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশেরও জয়ের সম্ভাবনা দেখেন ল্যাথাম

টেস্ট ক্রিকেটে শেষ কথাটা যায় না বলা আগেভাগেই। এটা মেনে নিয়েও বলা যায় ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট এখন যে জায়গায় দাঁড়িয়ে, তাতে জয়-পরাজয় আসছে। দ্বিতীয় দিন শেষে আলোচনা একটাই—জয়মাল্য পরবে কারা? নিউজিল্যান্ড, না বাংলাদেশ? দিন শেষের সংবাদ সম্মেলনেও প্রশ্নটা উঠেছে। স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড দলের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান টম ল্যাথামের উত্তর, এই ম্যাচে দুই দলেরই আছে জয়ের সম্ভাবনা।
দ্বিতীয় দিন শেষে টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসও শেষের প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ অলআউট হয়েছে ২৮৯ রানে। ৭ উইকেটে ২৬০ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে নিউজিল্যান্ড। ম্যাচ যে সাম্যাবস্থায় দাঁড়িয়ে তা স্কোর বোর্ডের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। ল্যাথামও সেটাই বললেন, ‘আমি মনে করি ম্যাচে দুই দলের সমান সম্ভাবনা আছে।’
বৃষ্টির কারণে আজ দ্বিতীয় দিনের খেলা একটু আগেভাগেই শেষ হয়েছে। এর আগে দ্রুত তিনটি উইকেট হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। ৪ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে ৪ উইকেটে ২৫২ থেকে ৭ উইকেটে ২৫৬ হয়ে যায় তারা। নিজের করা ৯ বলের মধ্যে এই তিন উইকেট তুলে নেন বাঁ হাতি স্পিনার সাকিব আল হাসান। ল্যাথামের দৃষ্টিতে এই তিন উইকেটই বাংলাদেশকে খুব ভালোভাবে ফিরিয়ে এনেছে ম্যাচে, ‘শেষ দিকের ওই তিন উইকেটেই ম্যাচটিকে বেশ সমান জায়গায় নিয়ে এসেছে। এতে তারা (বাংলাদেশ) একটু গতিই পেয়েছে।’
বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদের কাছে ক্রাইস্টচার্চের উইকেট ওয়েলিংটনের চেয়ে প্রাণবন্ত। আর এই কারণেই ম্যাচে বাংলাদেশ জিততে পারে বলে ভাবতে পারছেন তিনি। ল্যাথামও বলছেন, উইকেটে বোলারদের জন্য কিছু আছে। ওয়েলিংটনের চেয়ে বেশি মুভমেন্ট আর সুইং আছে এখানে। সব মিলিয়ে আগামীকাল সকালের সেশনটা দুই দলের জন্যই বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ল্যাথাম, ‘দুই দলের জন্যই আগামীকাল সকালের প্রথম ঘণ্টাটা গুরুত্বপূর্ণ। ৫০-এর বেশি রান নিয়ে উইকেটে হেনরি নিকোলস আছে। সে ভালো ব্যাটিংও করছে। যতটা সম্ভব আমরা যদি নিজেদের ভালো একটা অবস্থায় নিয়ে যেতে পারি তাহলে বোলিংয়ে তাদের চাপে ফেলতে পারব।’

তিন পেসার আর সাকিবের ঝলক

 

তিন পেসার আগুন ঝরালেন দিনভরই। বিবর্ণ প্রথম স্পেলের পর মেহেদী হাসানও মিরাজও উজ্জল। বোলাদের এমন দিনেই কিনা প্রায় উধাও হয়ে ছিলেন সাকিব আল হাসান। শেষ বিকেলে হয়তো ভাবলেন, এবার কিছু না করলেই নয়!

ক্রাইস্টচার্চের আকাশের কান্না যখন শুরু; সাকিবের হাত ধরেও এল ছোটখাটো উইকেট বৃষ্টি। ৯ বলের মধ্যে ৩ উইকেট নিয়ে এলোমেলো করে দিলেন কিউই ব্যাটিং। বিকেল পর্যন্ত সমতায় থাকা দিনটি হয়ে গেল শুধুই বাংলাদেশের।

বৃষ্টির বেগ বাড়ায় থামল বাংলাদেশের ছন্দ। নিউ জিল্যান্ড তখন ৭ উইকেটে ২৬০। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে পিছিয়ে ২৯ রান। ১৯ ওভার আগে শেষ হয়েছে দিনের খেলা।

দিনটি বাংলাদেশের, সাক্ষী স্কোরকার্ড। তবে স্কোর তো আর সবসময়ই বলতে পারে না পুরোটা! এদিনও যেমন স্কোরকার্ডে লেখা নেই, ভালো দিনটি হতে পারতো অসাধারণ, যদি না পড়তো একের পর এক ক্যাচ। যদি না ভুল করতেন আম্পায়ারও। কে জানে, হয়ত বেশ একটা লিড নিয়ে দ্বিতীয় দিনেই বাংলাদেশ শুরু করতে পারত দ্বিতীয় ইনিংস।

সাকিব ঝলকের আগে দিনজুড়ে আলো ছড়িয়েছেন বাংলাদেশের তিন পেসার। এখানেও বোলিং ফিগার বলছে না পুরোটা। বলছে না বাংলাদেশের তিন পেসারই কতটা ভুগিয়েছেন কিউই ব্যাটসম্যানদের।

অসাধারণ প্রথম স্পেলে দিনের সুরটা বেঁধে দিয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ। ৭ ওভারের প্রথম স্পেলে ২৫ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। কিন্তু ভাগ্যকে একটু পাশে পেলে পেতে পারতেন গোটা দুই-তিন উইকেট।

আরেকপাশে আবার শুরু মিরাজের স্পিনে এবং যথারীতি ক্যাচ মিস। জিত রাভাল ২ রানে বেঁচে যান স্লিপে মাহমুদউল্লাহর হাতে। ১২ রানে বেঁচে যান আরও দুবার। একবার হতে পারতেন রান আউট। পরে স্লিপে সহজ ক্যাচ হাতছাড়া সাব্বিরের।

তাসকিনের দারুণ বোলিং দেখেও আরেকপাশে মিরাজকে চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রশ্ন তোলা যায়। কামরুল ইসলাম রাব্বি এসেই সেটি পুষিয়ে দিয়েছেন বটে, আবার প্রশ্নটিও উচ্চকিত করেছেন।

তিন বার বেঁচে গিয়েও রাভাল ফিরেছেন ১৬ রানে। কামরুল আগের ম্যাচে নিজের প্রথম বলেই নিয়েছিলেন উইকেট। এবার দ্বিতীয় বলে। এক বল বেশি লাগল বলেই কিনা, পুষিয়ে দিলেন জোড়া শিকারে। দ্বিতীয়টি আবার সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত শিকার। অফ স্টাম্পে পিচ করে বেরিয়ে যাওয়া নিখুঁত আউট সুইঙ্গারে বিদায় কেন উইলিয়ামসন।

১ রানে রস টেইলরকেও ফেরাতে পারতেন কামরুল। ক্যাচ ছেড়েছেন সেই মাহমুদউল্লাহ। রুবেল উইকেট না পেলেও বল করছিলেন দারুণ। ততক্ষণে থিতু হওয়া টম ল্যাথামকে নাড়িয়ে দেন বাউন্সারে বল হেলমেটের গ্রিলে লাগিয়ে।

ল্যাথাম ও টেইলর মিলে তবু কাটিয়ে দেন প্রথম সেশনের বাকিটা। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে একটু যেন কমলো বোলিংয়ের ধার। তাতে আলগা কিউইদের ফাঁস। তৃতীয় উইকেটে ল্যাথাম ও টেইলরের ১০৬ রানে জুটি।

উইকেট নেওয়ার মত অসংখ্য সুযোগ সৃষ্টি করেও না পাওয়া তাসকিন শেষ পর্যন্ত পেলেন আপাত নিরীহ এক বলে। অফ স্টাস্পের বাইরে কাট করতে গিয়ে একটু বাড়তি লাফানো বলে ৬৮ রানে আউট ল্যাথাম।

শুরুতে জীবন পাওয়া টেইলর আবার ৭৫ রানে বেঁচে যান মিরাজের বলে কামরুলকে ক্যাচ দিয়ে। তৃতীয় কিউই ব্যাটসম্যান হিসেবে পূর্ণ করেন ৬ হজার টেস্ট রান। তবে মার্টিন ক্রোর ১৭ সেঞ্চুরি ছোঁয়া হয়নি এদিনও। সেই মিরাজই ফিরিয়েছেন তাকে ৭৭ রানে।

থিতু দুই ব্যাটসম্যানকে হারানোর ধাক্কাও কিউইরা সামলে উঠেছিল হেনরি নিকোলস ও মিচেল স্যান্টনারের জুটিতে। বেশ কবার আউট হতে হতেও বেঁচে গিয়ে দুজন গড়েন ৭৫ রানের জুটি। মনে হচ্ছিলো ভালোভাবেই লিড নিয়ে নেবে নিউ জিল্যান্ড। তখনই দৃশ্যপটে সাকিব। আর তিনি নায়কের ভূমিকায় মানে রাজত্বও বাংলাদেশের!

প্রথম স্পেলে ৪ ওভারে ২৪ রান দিয়ে উইকেটশূন্য। দিন শেষে ৩২ রানে ৩ উইকেট! চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটাররা বুঝি এমনই। গোটা দিনটা নিজের করে নিতে লাগে মাত্র কয়েকটি মুহূর্ত!

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৮৯

নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৭১ ওভারে ২৬০/৭ (রাভাল ১৬, লাথাম ৬৮, উইলিয়ামসন ২, টেইলর ৭৭, নিকোলস ৫৬*, স্যান্টনার ২৯, ওয়াটলিং ১, ডি গ্র্যান্ডহোম ০, সাউদি ৪*; তাসকিন ১/৬৪, মিরাজ ১/৫১, রুবেল ০/৫৪, কামরুল ২/৪৮, সাকিব ৩/৩২, সৌম্য ০/১০)

বাংলাদেশি পেসারদের এক সকাল

কত দিন এমন এক টেস্টের সকালের অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশ? পেসাররা দৌড়ে আসছেন, গতির ঝড় তুলছেন। বাউন্সার আর মুভমেন্ট দিয়ে কাঁপিয়ে দিচ্ছেন প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের। মাত্র ২ উইকেট পেলেও দুই ঘণ্টায় পেস বোলিংয়ের যে প্রদর্শনী মেলে ধরলেন তাসকিন, রুবেল ও কামরুল, তাতে অনেক দিন মনে থাকবে এ সেশন। মধ্যাহ্নবিরতিতে যাওয়ার আগে ২ উইকেটে নিউজিল্যান্ড করেছে ৭০ রান। বাংলাদেশ এখনো এগিয়ে ২১৯ রানে।

ওয়েলিংটন টেস্টে নিজের চতুর্থ বলেই ক্যারিয়ারে প্রথম উইকেটটি পেতে পারতেন তাসকিন আহমেদ। কিন্তু জিত রাভালের সে ক্যাচ স্লিপে ফেলে দেন সাব্বির রহমান। আজ প্রথম নয়, ক্যাচ উঠল তাসকিনের ষষ্ঠ ওভারে। ব্যাটসম্যান রাভাল, বোলার তাসকিন। ক্যাচটিও গেল সেই সাব্বিরের কাছে। সবকিছুই যখন মিলল, শেষ অংশেই বা কীভাবে অমিল থাকে? আবারও বল ফসকাল সাব্বিরের, জীবন ফিরে পেলেন রাভাল।
জীবন এর আগেই একবার পেয়েছেন রাভাল। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে দ্বিতীয় স্লিপে তাঁর দেওয়া সে কঠিন ক্যাচটি ধরতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। এ ছাড়া একটা এলবিডব্লুর সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন মিরাজ। কিন্তু আম্পায়ার সাড়া দেননি, ফিল্ডারদের যোগ্য সমর্থনও পাননি আবেদনে। পরে রিপ্লে তে দেখে গেছে, রিভিউ নিলে আউট হয়ে যেতেন ব্যাটসম্যান! দুই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে দারুণ বল করেছেন এই অফ স্পিনার। তবু প্রশ্ন উঠলই, টকটকে ‘লাল চেরি’টা কেন একজন স্পিনারের হাতে তুলে দিলেন অধিনায়ক!
প্রথম ওভারেই পেস ও বাউন্স দিয়ে তাসকিন দেখিয়ে দিয়েছেন এ উইকেটে এমন দিন পেসারদের জন্য। নিউজিল্যান্ডে পিচের আচরণ মেনে দ্বিতীয় দিনে প্রাণ ফিরে পেয়েছে ক্রাইস্টচার্চ। পরের ওভারগুলোতেও মাঝেমধ্যে দু–একটি বাজে বল করলেও তাসকিনের বোলিং ছিল উপভোগ্য। তবু রুবেল হোসেনকে ডেকে আনতে আনতে দ্বাদশ ওভার। রুবেল আক্রমণে আসতে আসতে অন্য প্রান্তে ক্লান্ত হয়ে পরলেন তাসকিন। ৭ ওভারের স্পেল শেষ হতে ডাক পড়ল কামরুল ইসলামের।
ভাগ্য যেভাবে অসহযোগিতা করেছিল তাসকিনের সঙ্গে সেটাই যেন পুষিয়ে নিলেন কামরুল। দ্বিতীয় বলেই বোল্ড করলেন রাভালকে। বলা উচিত বোল্ড হলেন, কারণ অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বলটা ওভাবে পুল করার চেষ্টা না করলে আউট হন না কিউই ওপেনারের। চতুর্থ বলেই আবারও আঘাত কামরুলের। এবার আর ভাগ্যের সাহায্য প্রয়োজন হয়নি বাংলাদেশি পেসারের। দুর্দান্ত এক আউট সুইঙ্গার, সে বল না খেলে উপায় ছিল না কেন উইলিয়ামসনের। অফ স্টাম্পের একটু বাইরে পিচ করে আরেকটু সরে এল বলটি। কিউই অধিনায়ক তাকিয়ে দেখলেন কীভাবে তাঁর ব্যাটের কানা ছুঁয়ে গেল বল। বাকি কাজটা সারলেন নুরুল হাসান, ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পরে টেস্টে নিজের প্রথম ডিসমিসাল আদায় করে নিলেন এই উইকেটকিপার।
এরপরই বাংলাদেশি পেসারদের সেরা মুহূর্তটা এল। গতি, সুইং, বাউন্স—কী ছিল না রুবেল ও কামরুলের এই স্পেলে! কামরুল তাঁর স্লিঙ্গিং অ্যাকশনকে ব্যবহার করে আদায় করলেন সিম মুভমেন্ট। আর নিয়মিত ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার গতির আশপাশে বল করলেন রুবেল। তাঁর এক বাউন্সার তো আঘাত হানল টম ল্যাথামের হেলমেটে। তবে এবার অন্তত হাসপাতাল থেকে ঘুরে আসতে হয়নি ব্যাটসম্যানকে।
তবে এসব সামলেই ১০ ওভারের বেশি পার করে দিয়েছে রস টেলর ও ল্যাথামের তৃতীয় উইকেট জুটি। ২৩ রান যোগ করেই বিরতিতে গেছেন এ দুজন।

দিনটি হতে পারত আরও ভালো

উল্টো ভাবনাও থাকতে পারে। নিয়মিত ব্যাটিং অর্ডারের প্রথম পাঁচজনের তিনজনই নেই। হ্যাগলি ওভালে টস হেরে ব্যাটিং। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় ২৮৯ রান খারাপ নয়। হতে পারত আরও খারাপ কিছুও।

তবু দিনের বাস্তবতায় তৃপ্তির চেয়ে আক্ষেপটাই থাকবে অনেক বেশি। প্রথম ঘণ্টার পর থেকে উইকেট ছিল অনেকটাই ব্যাটিং সহায়ক। ব্যাটসম্যান কজন জমেও গিয়েছিলেন উইকেটে। সৌম্য সরকারের ৮৬ রানের ইনিংসটি অনায়াসেই হতে পারত বড় সেঞ্চুরি। সাকিব আল হাসান কেন থামবেন ৫৯ রানে! তৃতীয় উইকেটে দুজনের ১২৭ রানের জুটি হতে পারত দ্বিগুণ। অভিষেক ইনিংস যদিও, তবু নুরুল হাসান পারতেন আরেকটু লড়াই করতে। প্রথম দিনেই তিনশর নিচে গুটিয়ে যাওয়া মানে ম্যাচ থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়া।

টিম সাউদি ও ট্রেন্ট বোল্ট দেখিয়েছেন কেন দুজন বিশ্বের অন্যতম সেরা পেস জুটি। উইকেট খুব ভয়ঙ্কর ছিল না। কিন্তু দারুণ বোলিংয়ে দনজুড়েই সুযোগ সৃষ্টি করেছেন দুজন। পেয়েছেন পুরস্কারও। ৯ উইকেট ভাগাভাগি করেছেন তারা দুজনই।

ম্যাচের আগের দিন তামিম বলেছিলেন সব বক্সে ‘টিক’ চিহ্ন দেওয়ার কথা। কিন্তু নিজের বক্সেই ‘টিক’ দিতে পারলেন না। লেগ স্টাম্পে থাকা টিম সাউদির শর্ট বলে গ্লাভস ছুঁইয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ।

মুমিনুল হকের অনুপস্থিতিতে ক্যারিয়ারে প্রথমবার তিনে নেমেছিলেন মাহমুদউল্লাহ। অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান দায়িত্বটা কাঁধে তুলে নেবেন কী, উল্টো গিয়ে পড়লেন যেন অথৈ সাগরে। আধ ঘণ্টার অস্বস্তিকর উপস্থিতির পর বাজে শটে ফিরে যেন বেঁচেছেন। প্রথম দিনে বাংলাদেশের সেরা সময়টুকু এসেছে এরপরই।

ক্যারিয়ারে প্রথমবার পাঁচ নম্বরের ওপরে ব্যাটিং করেছেন সাকিব। প্রথমবার ওপেনিংয়ে সৌম্য। পজিশন নতুন হলেও দুজনের ব্যাটিংয়ের ধরন ছিল পুরোনো, চেনা। দুজনই বেছে নিয়েছিলেন সহজাত ব্যাটিংয়ের পথ।

সৌম্যর ব্যাটিংয়ে ছিল আলো-ছায়ার খেলা। কখনও ভুগেছেন, পরমুহূর্তেই ভুগিয়েছেন। অনেকবার অল্পের জন্য ব্যাটের কানা নেয়নি বল। বেশ কয়েকবার কানা ছুঁয়েও পড়েছে নিরাপদে, ছুটেছে বাউন্ডারিতে। এসবের মাঝেই আবার খেলেছেন দারুণ সব স্ট্রেইট ও কাভার ড্রাইভ, পুল। চতুর্থ টেস্টে ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক ছুঁয়েছেন ৫৪ বলে।

বলকে চুম্বকের মতো টেনেছে সাকিবের ব্যাটের কানাও। তবে সৌম্যর তুলনায় সাকিবের অস্বস্তি ছিল কমই, কর্তৃত্ব ছিল বেশি। দুজনের ব্যাটে রান এসেছে ওয়ানডের গতিতে। দুই উইকেট হারানোর পরও প্রথম সেশন তাই ছিল বাংলাদেশের। রান যে ১২৮!

লাঞ্চের পরও অনেকটা সহজ হয়ে আসে উইকেট, সাকিব-সৌম্যকেও মনে হচ্ছিলো পুরোপুরি থিতু। অস্বস্তি প্রায় উধাও, জোয়ার রান প্রবাহে। হঠাৎ স্রোতের বিপরীতে ধাক্কা। থামল সৌম্য ভেলা।

বোল্টের বলটি পিচ করে যেন একটি থেমে এসেছিল। সৌম্য ড্রাইভ খেলতে গিয়েও একটি থামলেন। শর্ট কাভারে ক্যাচ। ম্যাচের আগে ১০৪ বলে ৮৬ বললে লুফে নিনেত সৌম্য। তবে দিনের বাস্তবতায় হতাশাটাই বেশি থাকবে আউট হওয়ায়। সেঞ্চুরিটা হতে পারত দারুণ স্মরণীয়!

তৃতীয় উইকেটে ১২৭ রানের জুটিতে রান এসেছে ওভারপ্রতি পাঁচ ছুঁইছুই।

কিউইরা যেন অপেক্ষা করছিল সুযোগটুকুরই। জুটি ভাঙার পর ভেঙে দিল তারা বাংলাদেশের মিডল অর্ডারের মেরুদণ্ড। দায় যথারীতি ব্যাটসম্যানদেরই বেশি। লেগ স্টাম্পের অনেক বাইরের বলে ব্যাট ছুঁয়েই অপমৃত্যু সাকিবের সম্ভাবনায় ইনিংসের। পাঁচে উন্নতি পেয়ে সুযোগটা নিতে পারেননি সাব্বির। ফিরেছেন শর্ট বলে। তিন ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে এলোমেলো দল।

টেস্ট পরিবারের নবীনতম দুই সদস্যের দায়িত্ব তখন ঘর গোছানোর। তরুণ কাঁধে প্রচেষ্টা ছিল চোখে পড়ার মতই। নাজমুল হোসেন শান্ত ছিলেন বেশ আঁটসাঁট। টেকনিক যথেষ্ট ভালো; মনে হয়েছে বেশ সময় পাচ্ছেন হাতে। নুরুল শুরুতে ছিলেন একটু অগোছালো। সময়ের সঙ্গে জমে গেছেন। দুই অভিষিক্তের জুটি ৫৩ রানের।

শান্ত শেষ পর্যন্ত শিকার অনভিজ্ঞতার। শর্ট বলে তার পরীক্ষা নিচ্ছিলেন সাউদি। দুবার আপার কাট করতে গিয়ে না পেরে তৃতীয়বার বাড়িয়ে দেন ব্যাট।

এরপর লোয়ার অর্ডারদের নিয়ে নুরুলের লড়াই। ৪ ও ৩৬ রানে জীবন পেয়েছেন। তবে পড়ে ছিলেন উইকেটে। নবম জুটিতে দারুণ সঙ্গ দেন কামরুল ইসলাম রাব্বি। শেষ পর্যন্ত নুরুলও শিকার শর্ট বলে। তিন রানে জন্য পাননি অভিষেকে অর্ধশতক।

শেষে নেমে রুবেল হোসেন খেলেছেন গোটা তিনেক দারুণ শট। হাতে বল লেগে ব্যথায় কাতরানোর পর আবার দাঁড়িয়েছেন ব্যাট হাতে। টিম সাউদির পঞ্চম শিকার রাব্বি। তবে ৬৩ বলে ২ রান করে দেখিয়েছন, চাইলেই এখানে টিকে থাকা যায়। প্রয়োজন হাল না ছাড়ার মানসিকতা।

আফসোসও সেখানে, টপ-মিডল অর্ডারের মাঝে যদি আরেকটু বেশি থাকত সেই মানসিকতা!

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৮৪.৩ ওভারে ২৮৯ (তামিম ৫, সৌম্য ৮৬, মাহমুদউল্লাহ ১৯, সাকিব ৫৯, সাব্বির ৭, শান্ত ১৮, নুরুল ৪৭, মিরাজ ১০, তাসকিন ৮, কামরুল ২, রুবেল ১৬*; বোল্ট ৪/৮৭, সাউদি ৫/৯৪, গ্র্যান্ডহোম ০/৫৮, ওয়েগনার ১/৪৪)।

সোহান-শান্তর প্রথম টেস্ট

অবশেষে ধরা দিল স্বপ্ন! সিনিয়র ক্রিকেটারদের ইনজুরি কারো কাম্য না হলেও এই ব্যাপারটাই মর্যাদার সাদা পোশাক গায়ে চাপানোর সুযোগ করে দিয়েছে নুরুল হাসান সোহান ও নাজমুল হোসেন শান্তকে। ক্রাইস্টচার্চে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের একাদশে ঢোকার সাথে সাথেই টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটেছে এই দুই ব্যাটসম্যানের।

সোহান মূলত সুযোগ পেয়েছেন উইকেটরক্ষক হিসেবে, সে হিসেবে তিনি নিয়মিত অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের বদলি। নিখাদ টেস্ট ব্যাটসম্যান মুমিনুল হকের ইনজুরি একই সুযোগ করে দিয়েছে শান্তকে। বাংলাদেশের পক্ষে ৮৪ ও ৮৫ নম্বর টেস্ট ক্যাপের অধিকারী এই দুজন।

গত নভেম্বরে ২৩ বছর পূর্ণ করা সোহান জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন ৯টি ওয়ানডে ও ২টি টি২০ ম্যাচ, সাথে আছে ৪৯টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতাও। অপরদিকে ১৮ বছর বয়সী শান্তর এটিই প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। তার ঝুলিতে আছে ১২টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা।

এই ম্যাচেই অবশ্য অভিষেক ঘটছে তামিম ইকবালের! তবে তা অধিনায়ক হিসেবে। মুশফিকের অনুপস্থিতিতে নিয়মিত সহ-অধিনায়ক তামিমই নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ দলকে।

লাইভ: বাংলাদেশ ব্যাট করতে প্রথম ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে নিউজিল্যান্ড বিরুদ্ধে

 

বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের মধ্যে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচ আজ থেকে শুরু করতে যাচ্ছে. বাংলাদেশ কেন উইলিয়ামসন যেমন নিউজিল্যান্ড এর এই সফর তাদের শেষ ম্যাচে প্রথমে ব্যাট প্রথম টস জিতে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ জিজ্ঞাসা করবে.

তামিম ইকবাল বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নেতৃত্ব দেবেন বাংলাদেশের সাদা পোষাক নিয়মিত অধিনায়ক আসন্ন তিন চার সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে কাটাতে হয়. যদিও বাংলাদেশ ইনজুরির কারণে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় দম্পতি মিস্ করতে যাচ্ছি. তামিম বিশ্বাস তার সহ ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে তাদের বিচক্ষণ ক্রিকেট খেলতে সক্ষম হবে. কেন উইলিয়ামসন পিচ আন্দোলনের জন্য খুঁজছেন হয়. তিনি আশাবাদী যে পেসারদের সকাল ফলে তিনি প্রথম বাটি চয়ন করতে বেছে নিয়েছেন মধ্যে পিচ থেকে কিছু সুবিধা পাবেন.

নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ চারটি পরিবর্তন করেছেন ওয়েলিংটন একই একাদশে সাথে খেলতে যাচ্ছি. নাজমুল হাসান শান্তা ও নুরুল হাসান সোহান তাদের টেস্ট অভিষেক হয়েছে. অপরপক্ষে, রুবেল হোসেন Subashis রায় সিরিজের প্রথম টেস্ট ম্যাচে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয় প্রতিস্থাপন. সৌম্য সরকার এছাড়াও দলে সুযোগ পায়, সে আহত ইমরুল কায়েস এর বদলে নেওয়া হয়.

বাংলাদেশ (একাদশ বাজানো): তামিম ইকবাল (গ), সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, নুরুল হাসান (উইকেটরক্ষক), সাব্বির রহমান, মেহেদী হাসান, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ ও কামরুল ইসলাম.

নিউজিল্যান্ড (একাদশে): Raval, টম ল্যাথাম, Kean উইলিয়ামসন (গ), রস টেলর, হেনরি নিকোলাস, কলিন, বিজে ওয়াটলিং (উইকেটরক্ষক), Santner, সাউদি, ট্রেন্ট বোল্ট এবং নেইল ওয়াগনারের দিকেই.