Tag Archives: তামিম ইকবাল

‘গণক’ মাশরাফির ভবিষ্যতবাণীতেই তামিমের সেঞ্চুরি!

 মাশরাফি বিন মুর্তজা লিখে দিয়েছিলেন, ছয় মাসের আগে রঙিন পোশাকে সেঞ্চুরি পাবেন না তামিম ইকবাল। শেষ পর্যন্ত তাই হয়েছে। সর্বশেষ অক্টোবরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দেশের মাটিতে সেঞ্চুরি করেছিলেন ড্যাশিং ওপেনার। পরের সেঞ্চুরিটি পেলেন ছয় মাসের মাথায়, মার্চে।

এমন তথ্য নিজেই জানিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ১০ হাজার রান করা তামিম। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শনিবার তার করা ১২৭ রানের ঝড়ো ইনিংসে চড়ে ৩৫৪ রানের সংগ্রহ তোলে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত লঙ্কানদের বিপক্ষে ৯০ রানের জয়ও তুলে নেয়।

নিজের সেঞ্চুরি নিয়ে বলতে গিয়েই উঠে আসে সীমিত ওভারে মাশরাফির ভবিষ্যতবাণীর কথা। তামিম জানান, আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১১৮ রানের ওই ইনিংস খেলার পর ড্রেসিংরুমে মাশরাফি লিখে দিয়েছিলেন পরের সেঞ্চুরি পেতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগবে তামিমের। মূলত, তামিমকে মানসিকভাবে তাঁতিয়ে দিতেই এমনটা বলেছিলেন মাশরাফি।

শেষ পর্যন্ত তাই হলো। দুই সেঞ্চুরি মধ্যে তামিম খেলেছেন ছয়টি ওয়ানডে ম্যাচ। যার মধ্যে সর্বোচ্চ ইনিংস ৫৯ রানের, আরেকটি ৪৮ রানের। তামিম বলেন, ‘যখন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে ড্রেসিংরুমে গেলাম, তখন মাশরাফি ভাই বললেন আমার সেঞ্চুরিতে তিনি খুব খুশি হয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘তিনি (মাশরাফি) প্রায়ই আমাকে হুমকি দেন ভালো ইনিংস খেলার জন্য। আমি খুশি শেষ পর্যন্ত তার হুমকি চড়ে হলেও সেঞ্চুরি পেয়েছি। দলের প্রয়োজনে রান করতে পেরেছি।’

জানিয়ে রাখা ভালো, এটি ছিলো তার অষ্টম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয়। ২০১৩ সালে হাম্বানটোটায় ১১২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তামিম। 

সূত্র: ডেইলি স্টার

দেখে একবারও মনে হয়নি মিরাজ প্রথম ওয়ানডে খেলছে: তামিম

ছবি: সংগৃহীত

 বাংলাদেশ দলের হয়ে সাতটি টেস্ট খেলে ফেললেও অপেক্ষা ছিলো রঙিন পোশাকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার। সেটাও হয়ে গেলো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে। ব্যাটিংয়ে না নামলেও বল হাতে সুযোগ পেয়েই জ্বলে উঠলেন ১৯ বছর বয়সী ডানহাতি এই অলরাউন্ডার। অভিষেক ম্যাচেই দুই উইকেট নিয়ে লঙ্কানদের বিপক্ষে ৯০ রানের বড় জয়ে অবদান রাখেন মিরাজ।

তাইতো ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবালের কণ্ঠেও শোনা গেল মিরাজ স্তুতি। ডানহাতি এই অফস্পিনারের বোলিং দারুণ মুগ্ধ করেছে দেশসেরা এই বাঁ-হাতি ওপেনারকে। শুধু তাই নয়, তামিম জানান মিরাজকে দেখে তার একবারও মনে হয়নি এদিন তার অভিষেক ঘটেছে।

এ প্রসঙ্গে তামিম বলেন, ‘মিরাজের বোলিং দেখে আমি যারপরনাই খুশি। আমি অবাক হয়ে দেখলাম, টেস্টের মত ওয়ানডে অভিষেকেও কী অসাধারণ বোলিং করলো মিরাজ। মাঠে তার চলাফেরা, সাহস, আর বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং দেখে মনেই হয়নি, এটা ছিল তার প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ। আমার কাছে মনে হয়েছে, সে খুবই আত্মবিশ্বাসী একটা ছেলে। আশা করি, ও এখান থেকে কেবল সামনের দিকেই এগিয়ে যাবে।’

লঙ্কানদের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের স্কোয়াডেই ছিলেন না মেহেদী হাসান মিরাজ। লঙ্কানদের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শেষে দেশে ফিরে আসেন মিরাজ। উদ্দেশ্য দেশে অনুষ্ঠিতব্য ইমার্জিং এশিয়া কাপ ও ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ। শেষ মুহূর্তে ডাম্বুলায় ম্যাচের দু’দিন আগে তাকে উড়িয়ে নিয়ে যায় টিম ম্যানেজমেন্ট।

ব্যাটিংয়ে না নামলেও বল হাতে সুযোগ পেয়েই জ্বলে উঠলেন ১৯ বছর বয়সী ডানহাতি এই অলরাউন্ডার। অভিষেক ম্যাচে তার প্রথম শিকারে পরিণত হন লঙ্কান ব্যাটসম্যান কুশল মেন্ডিস। আর দ্বিতীয় শিকার ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে দিনেশ চান্দিমাল।

ভিডিও ক্লিপঃ প্রথম ওয়ানডেতে তামিমের ১২৭ রানের অসাধারণ ইনিংসটি

দলের ইনিংস জুড়ে একটা প্রান্তে ভরসা হয়ে থাকা। দলকে টেনে নেওয়া। প্রায় অর্ধেক বল একাই খেলা। দারুণ সেঞ্চুরিতে দলের জয়ের ভিত গড়ে দেওয়া। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে তামিম ইকবালের ইনিংস ছিল বিশেষ কিছু। তবে তার নিজের কাছে নিজের সব সেঞ্চুরিই স্পেশাল!

প্রথম ওয়ানডেতে ১৪২ বলে ১২৭ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তামিম। ওয়ানডেতে এর চেয়ে বেশি বল আর খেলেননি তামিম। আউট হয়েছেন ১৩ বল আগে। এতটা লম্বা সময়ও উইকেটে কাটাননি আগে।

আরো শতক থাকা উচিত ছিলো : তামিম

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৬ টি শতক হাঁকিয়েছেন তামিম ইকবাল। টেস্টে আটটি, ওয়ানডেতে ৭ টি এবং টি-২০ তে একটি সেঞ্চুরি রয়েছে এ  বাঁহাতি ওপেনারের। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি শতকের মালিক তিনি।  তবে তামিম মনে করেন আরো থাকা উচিত ছিল। উইজডেন ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই বলেন এ ড্যাশিং ওপেনার।

তামিম বলেন, “আমি আরো ভালো অবস্থায় থাকতে পারতাম। অবশ্যই আমি বেশ কিছু সুযোগ হাতছাড়া করেছি। আপনি আমার ওয়ানডে রেকর্ড যদি দেখেন- ৩৪ টি অর্ধশতক কিন্তু শতক মাত্র ৭ টি। আমার আরো কমপক্ষে দশটি অর্ধশতককে শতকে পরিণত করা উচিত ছিল। এটা হতাশাজনক।”

সামনের সময়গুলোতে ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চান না তামিম। শতক নিয়ে আক্ষেপ আর সামনের দিনগুলোর লক্ষ্য নিয়ে বলেন, “আমি কাউকে দোষ দিচ্ছি না। আমি নিজেকেই দোষ দিচ্ছি।   আমি যদি আরো শতক হাঁকাতে পারতাম তাহলে অন্য একটা কাতারে থাকতাম। আমার বয়স এখন ২৮। এটা একটা ভাল দিক। আমার হাতে আরো কিছু বছর আছে। আমি একই ভুলগুলো যদি বারবার না করি, তাহলে আগের চেয়ে বেশি খুশি হবো।”

২০০৭ সালে অভিষেক হয়েছিল তামিমের। তখনকার খ্যাপাটে তামিম এখন অচেনা। বদলেছেন নিজের ব্যাটিং। আগের চেয়ে অনেক দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করতে জানেন এখন। ব্যাটিং করেন পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে।

ব্যাটিংয়ে এ পরিবর্তন নিয়ে বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টা হলো আমি যখন শুরু করেছিলাম তখন আমার কাছে কারো কোনো প্রত্যাশা ছিল না। আমি শুধু ব্যাটিংয়ের একটা উপায়ই জানতাম এবং সেটাই করতাম। আমার হাতে দুয়েকটা শট ছিল। আমি সেগুলো খেলতেই অভ্যস্ত ছিলাম। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আপনার উন্নতির প্রয়োজন হয়, বিকাশের প্রয়োজন হয় এবং প্রচুর শট খেলার প্রয়োজন হয়।”

“শুরুতে আমার ব্যাপারে কেউ জানতো না এবং যখন তারা আমার খেলার ধরণ ধরে ফেলতো তখন আমার অস্বস্তির জায়গাগুলোতে বল করা শুরু করতো। তাই আমি আমার সামর্থ্যে আরো শট যোগ করেছি। আমার দুর্বলতাগুলো নিয়ে আমাকে পরিশ্রম করতে হয়েছে। এদের মধ্যে কিছু ঠিক হয়েছে, কিছু হয়নি,” যোগ করেন তামিম।

তিনি আরো বলেন, “এখন মানুষ সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে আমার কাছ থেকে প্রত্যাশা করা শুরু করেছে। প্রত্যেক বলেই ব্যাট চালানো মজা দিতে পারে কিন্তু বড় স্কোর গড়তে হলে এবং ধারাবাহিক হতে হলে আপনাকে বদলাতেই হবে। মানুষ যখন আমার কাছ থেকে আরো বেশি কিছু চাওয়া শুরু করলো, আরো বেশি রান চাইতে লাগলো আমি তত স্মার্ট হতে লাগলাম।”

ওয়ানডেতে বাংলাদেশ দলের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে বলে মনে করেন তামিম।  টেস্টে পারফরম্যান্সের গ্রাফ উপরে তুলতে এ মৌসুমের মতো অন্য সময়ও বেশি বেশি ম্যাচ চান তিনি। তামিম মনে করেন টেস্টে উন্নতির জন্য টেস্ট বেশি খেলার বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, “টেস্ট ক্রিকেটে আপনি উন্নতি করতে পারবেন যদি আপনি বেশি বেশি খেলেন। ওয়ানডেতে আমাদের ফলাফলে পরিবর্তন এসেছে। আমরা ঘরের বাইরেও এখন ভালো খেলা শুরু করেছি। কিন্তু আমাদের আরো ভালো করা উচিত। আর সেটা হবে আমরা যদি বেশি বেশি খেলি।  এটা আসলে হয়ে থাকে অভিজ্ঞতার কারণে। আমরা ঘরের মাটিতে একটা শক্তিশালী ওয়ানডে দল। আমাদের এখন ঘরের মাটিতে টেস্টে শক্ত দল হতে হবে। তারপরের ধাপ হলো দেশের বাইরে ভাল খেলা।”

ওয়ানডে সিরিজের আগে ছুটিতে সাকিব-তামিম

নিজেদের শততম টেস্ট জিতে নিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ড্র করেছে বাংলাদেশ। আগামী ২৫ মার্চ থেকে শুরু হবে লঙ্কানদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ। সীমিত ওভারের এই লড়াইয়ে মাঠে নামার আগে ছুটিতে গেলেন সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল।

সাকিবের স্ত্রী শিশির আগে থেকেই শ্রীলঙ্কাতে আছেন। স্ত্রীকে নিয়ে শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতেই ছুটি নিয়েছেন সাকিব। অন্যদিকে নিজের জন্মদিনের আনন্দ পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নিতে ছুটি নিয়ে মুম্বাই উড়ে গেছেন তামিম।

সাকিব-তামিমের ছুটির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন।

ওয়ানডে সিরিজের আগে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে ২২ তারিখ মাঠে নামবে সফরকারীরা। তার আগেই দলের সঙ্গে যোগ দেবেন সাকিব-তামিম।

আগামী ২৫ মার্চ ডাম্বুলায় প্রথম ওয়ানডে দিয়ে মাঠে গড়াবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে। আগামী ১ এপ্রিল সিরিজের তৃতীয় এবং শেষ ওয়ানডেতে কলম্বোর পি সারা স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবেন সাকিব-তামিম-মুশফিকরা।

মুশফিক-তামিম ছাড়া কেউ ‘সিরিয়াস’ ছিলেন না

চতুর্থ দিন শেষে যখন বিনা উইকেটে ৬৭ রান তুলে ফেললো, মনে করেছিলাম এই টেস্ট ড্র করে ফেলবে বাংলাদেশ। এবং সেটাই হওয়া উচিৎ ছিল। চতুর্থ এবং পঞ্চম দিনে এমন ব্যাটিং উপযোগী পিচ খুব কমই হয়। শ্রীলঙ্কান বোলিংও আহামরি কিছু ছিল না। তিনটা সেশন কাটিয়ে দেওয়া খুব কঠিন কিছু ছিল বলে আমার মনে হয়নি। কিন্তু দুই সেশনে যেভাবে আমাদের ব্যাটসম্যান উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসলেন, দশ দশটি উইকেট হুড়মুড়িয়ে পড়ে গেল, তাতে আমি হতাশ এবং লজ্জিত। গলেতে এভাবে হেরে যাওয়াটা দু:খজনক। এভাবে হারলে আমাদের টেস্ট সামার্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, এটাই স্বাভাবিক।

আমার কাছে মুশফিক ও তামিমকে ছাড়া অন্য কাউকে সিরিয়াস মনে হয়নি। মুশফিক সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন। তামিমও যথাসম্ভব লড়াই করেছেন। কিন্তু বাকিরা হল্কা মেজাজে ব্যাট করেছেন। তাদের সিরিয়াসনেস,অ্যাপ্রোস ও অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে আমার প্রশ্ন আছে।

একাদশ নির্বাচন নিয়ে বাবারও কথা বলতে হচ্ছে আমার। এবারও ভুল একাদশ নিয়ে মাঠে নামলো বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কান একাদশে যখন তিন স্পিনার ও দুই পেসার বাংলাদেশ তখন তিন পেসার নিয়ে মাঠে নেমে পড়লো। তিন পেসারের ভাগ্যে জুঁটলো মাত্র ৬ উইকেট। এ তিনজন আবার একদমই ব্যাট ধরতে জানেন না।

ক্রিকেটে আসলে এখন আর সেই দিন নেই। এখন সবাইকে কিছু না কিছু রান করতে হয়। দুই পেসার নিয়ে স্পিনার তাইজুলকে একাদশে রাখা যেত। তাইজুল তো ব্যাটও করতে পারেন। মুশফিক তো প্রথম ইনিংসে আউট হলেন সঙ্গীর অভাবে।

গলেতে যা হয়েছে সেটা কলম্বোতেও হলে আমাদের জন্য সেটা হবে বিব্রতকর। ওটা আমাদের জন্য খুবই ভাইটাল টেস্ট। ওখাবে ভালো না করার সুযোগ নেই। যতদূর জানি, কলম্বোর উইকেট ব্যাটিং ও স্পিন সহায়ক। এই দিকটা চিন্তা করেই একাদশ ঠিক করতে হবে। একাদশ নির্বাচনে ভুল করলে আবারও পসতাতে হবে।

আপাতত জয়ের হিসেব কষে লাভ নেই। প্রাথমিক লক্ষ্য হবে ড্র। আর যেহেতু ওখানে ব্যাটিং ও স্পিন উইকেট, তাই তাইজুলকে অবশ্যই নিতে হবে। আর ব্যাটিং লাইন আরো দীর্ঘ করতে হবে। অনেক দিন ধরে ব্যাটে রান নেই মুমিনুল ও রিয়াদের। ওদের বিশ্রামে পাঠিয়ে ইমরুল ও সাব্বির কিংবা মোসাদ্দেককে একাদশে রাখতে হবে।

এরআগেও বাংলাদেশ এক পেসার নিয়ে টেস্ট খেলতে নেমেছে। কলম্বোর যা কন্ডিশন তাতে ওখানেও এক পেসার খেলানো যেতে পারে ।সেই এক পেসার কে? মোস্তাফিজের বোলিং নিয়ে আমি হতাশ। টেস্টে তেমন উপযোগী মনে হচ্ছে না তার বোলিং। আমার মনে হয় কলম্বোতে মোস্তাফিজকে বসিয়ে তাসকিনকে খেলানো ভালো হবে। তাসকিনের বলে অত্যন্ত তো গতি আছে।

এক পেসার মানে একাদশে একজন বাড়তি ব্যাটসম্যান। মানে সাব্বির ও মোসাদ্দেক। যদি দুই পেসার নেওয়া হয় তাহলে সাব্বিরের চেয়ে আমি মোসাদ্দেককে এগিয়ে রাখবো। মোসাদ্দেকের শট সিলেকশন সাব্বিরের চেয়ে ভালো। মোস্তাদ্দেক ভালো বোলিংও করতে পারে। আমার মনে হয় সৌম্য সরকারকে দিয়েও নিয়মিত বল করানো উচিৎ।

কলম্বোতে শততম টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। এই ম্যাচটা অনেক দিক দিয়েই গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয় নিচের একাদশটাই কলম্বোর কন্ডিশনে সবচেয়ে উপযুক্ত হবে।

তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন, সাব্বির রহমান, লিটন কুমার দাশ, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান/তাসকিন আহমেদ।

খন্দকার জামিল উদ্দিন : সাবেক বিসিবি পরিচালক ও ক্রিকেট বিশ্লেষক সূত্রঃ ঢাকা টাইমস

একমাত্র বাংলাদেশি হিসাবে দশ হাজার রানের মাইলফলকের সামনে তামিম

বাংলাদেশ দলের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল সম্বন্ধে পাঁচ শব্দে যদি একটি বাক্য বলতে বলা হয় আপনি কী বলবেন? কী ভেবে পাচ্ছেন না, তবে এভাবেই শুরু করুন- বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সেরা ব্যাটসম্যান।

কেননা বাংলাদেশের একমাত্র ক্রিকেটার দেশের হয়ে ব্যাট হাতে প্রায় সকল রেকর্ড নিজের নামের পাশে যোগ করেছেন তামিম ইকবাল। বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে (৩ হাজার ৪৭০ রান), ওয়ানডে (৫ হাজার ১২০ রান) এমনকি টি-টোয়েন্টিতে (১ হাজার ২০২ রান) সর্বাধিক রানের কারিগর তিনি। ফলে এককভাবে তিন ফরম্যাটে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তামিম ইকবাল।

পাশাপাশি ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটে সর্বোচ্চ ১৬টি (টেস্টে ৮টি, ওয়ানডেতে ৭টি ও ১টি টি-টোয়েন্টিতে) সেঞ্চুরির রেকর্ড তার-ই দখলে। বলাবাহুল্য টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র সেঞ্চুরি করার সৌভাগ্য হয়েছে শুধু তারই। পাশাপাশি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে (৫ হাজার ৭৮০) রান করেছেন দেশসেরা ব্যাটসম্যান। এমনকি লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে প্রায় সাত হাজার (৬ হাজার ৯৪৮) রানের মাইলফলকের দ্বারপ্রান্তেও দাঁড়িয়ে তামিম ইকবাল। আর মাত্র ৫২ রান করতে পারলে লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারে ৭ হাজার রান করার গৌরব অর্জন করবেন তামিম।

তবে শ্রীলঙ্কা সফরে তামিম ইকবাল দাঁড়িয়ে অনন্য মাইলফলকের সামনে। তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটে প্রথম কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে ১০ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছেন তিনি। বর্তমানে তামিম ইকবালের তিন ফরম্যাটের রান সংখ্যা ৯ হাজার ৭৯২। শ্রীলঙ্কা সিরিজে তামিম মোট ৭ ম্যাচে ২০৮ রান যোগ করতে পারলেই প্রথম টাইগার ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটে ১০ হাজার রান করার গৌরব অর্জন করবেন। তামিম ইকবাল এই অনন্য মাইলফলক এই সফরেই স্পর্শ করবেন এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। কেননা, শ্রীলঙ্কা বোর্ড প্রেসিডেন্ট একাদশের বিপক্ষে দু’দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়েছেন তামিম। সফরকারী বাংলাদেশ দলের পক্ষে ১৮২ বলে ৯টি চার ও ৭টি ছক্কায় সর্বোচ্চ অপরাজিত ১৩৬ রান করেন।

এদিকে আগামীকাল গল টেস্ট দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা দ্বিপাক্ষিক সিরিজ। যেখানে স্বাগতিকদের বিপক্ষে দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে এবং দুইটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল। তামিমের সঙ্গে তার ভক্তদেরও চাওয়া থাকবে এই সিরিজেই যেন তিনি ১০ হাজার রান করার গৌরব অর্জন করেন।

রান নয়, বলই তামিমের তৃপ্তি

শুরুটা করেছিলেন খুব ধীরে। ৯০ বল খেলে ফেলেছেন, অথচ চার মাত্র চারটি! তাঁর মতো খেলোয়াড়দের জন্য বল মারা চেয়ে না মারাটাই বেশি কঠিন। আর এই কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন তামিম ইকবাল। নিজেকে শাসনের খোলসে বেঁধে ফেলার কাজটি করতে পেরেছেন বলেই বেশি তৃপ্তি তাঁর। প্রস্তুতি ম্যাচে ১৩৬ রানের ইনিংসটার চেয়েও তামিম বেশি খুশি উইকেটে প্রায় ৬০ ওভারের মতো কাটিয়ে ফিরেছেন। কেউ আউট করতে পারেনি, নিজেই স্বেচ্ছায় ব্যাটিং ছেড়েছেন সতীর্থদের অনুশীলনের সুযোগ করে দিতে।

দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচটা তাই তামিমের জন্য হয়ে এল আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে স্মরণীয় সিরিজে বড় ভূমিকা ছিল তাঁর। যদিও নিউজিল্যান্ড সফরে চার ইনিংসে করেছিলেন মাত্র ৯৪ রান। এরপর হায়দরাবাদ টেস্টেও ২৪ ও ৩ করে আউট হয়ে ফিরেছেন। তামিমের জিদ ছিল, আগে উইকেটে গিয়ে ঘাম ঝরাবেন। অন্য প্রান্তে মুমিনুল যখন সাবলীল ব্যাটিং করে রান তুলে যাচ্ছিলেন, তামিমের স্ট্রাইক রেট তখনো ৩০-এর কিছু ওপরে। সবুরের মেওয়া অবশ্য শেষ পর্যন্ত ঠিকই পেয়েছেন। দিন শেষে তাই ১৮২ বলে ১৩৬ রান ছিল নামের পাশে। ৯টি চারের পাশাপাশি ৭ ছক্কা বলে দিচ্ছে, পরে ঠিকই স্বরূপে দেখা দিয়েছিলেন।
কাল দিন শেষে তামিম বলেছেন, রান নয়, সেঞ্চুরি নয়; তাঁকে তৃপ্তি দিচ্ছে প্রায় দুই সেশন ব্যাটিং করে আসতে পেরেছেন বলে, ‘দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু আগে আমার জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা সেঞ্চুরি ছিল। নতুন কোনো সিরিজের আগে কিছু রান করা সব সময়ই ভালো। আমার লক্ষ্য ছিল উইকেটে যত বেশি সময় কাটানো যায়। আমি সেটা করতে পেরেছি। আমার তৃপ্তিটা হলো ৫০-৬০ ওভার পর্যন্ত ব্যাটিং করতে পেরেছি। কিছু রান করার চেষ্টা করেছি, তাতে সফলতা এসেছে, এ-ই তো।’
কিন্তু শুরুর দিকে তামিমকে মনে হচ্ছিল, ঠিক যেন ছন্দে নেই। একটু যেন যুঝতে হচ্ছে। বাঁ হাতি এই ওপেনার বলেছেন, ‘শুরুর দিকে একটু সমস্যা হচ্ছিল। কিন্তু আমি পুরো ব্যাটিংটাই উপভোগ করেছি। উইকেটও ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো ছিল। আসলে অনুশীলনে ব্যাটিং করার চেয়ে কোনো ম্যাচে রান করা সব সময়ই ভালো, সেটা যেকোনো প্রতিপক্ষ বা কন্ডিশনেই হোক না কেন।’
৭ উইকেটে ৩৯১ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। তামিমের পাশাপাশি রান পেয়েছেন মুমিনুল (৭৩ করে স্বেচ্ছা আউট), লিটন দাস (৫৭*), মাহমুদউল্লাহ (৪৩), সাকিব (৩০)। মুশফিকেরও আছে ২১ রানের ইনিংস। এটাও বাড়তি তৃপ্তি দিচ্ছে তামিমকে, ‘সবাই-ই কিছু না কিছু রান পেয়েছে সিরিজ শুরুর আগে। আমাদের অনুশীলন বেশ ভালো হচ্ছে।’

সাকিব-রিয়াদ নেই, তবে রাতে জালমির হয়ে খেলছেন তামিম

পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে গতকাল শ্রীলঙ্কা পৌঁছেছেন মুশফিকরা। শ্রীলঙ্কা গেছেন সাকিব– মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও।দেশে ফিরে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে শ্রীলঙ্কা গেছেন তারা। যে কারণে শারজাতে আজ রাতের প্রথম কোয়ালিফায়ারে দেখা যাবে না সাকিব ও রিয়াদকে। বাংলাদেশ সময় রাত দশটায় সাকিব-তামিমের পেশোয়ার জালমির মুখোমুখি হবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স।

সাকিব- রিয়াদ না খেললেও কোয়ালিফায়ারে খেলছেন তামিম ইকবাল। রোববার আসরের প্রথম পর্বের শেষ ম্যাচে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের বিপক্ষে জয় পায় করাচি কিংস। এতে তালিকার শীর্ষ দুই স্থান নিশ্চিত হয় পেশোয়ার-কোয়েটার। তালিকার শীর্ষ দুই স্থানে পেশোয়ার-কোয়েটার সংগ্রহ সমান ৯ পয়েন্ট। তবে রান রেটে এগিয়ে তামিম-সাকিবের পেশোয়ার। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে সমান ৮ পয়েন্ট সংগ্রহ শিরোপাধারী ইসলামাবাদ ইউনাইটেড ও করাচি কিংসের। পাঁচ দলের আসরের প্রথম পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে লাহোর কালান্দারস।

আজ রাতের বিজয়ী দল পৌঁছে যাবে ফাইনালে। তবে আরেকটি সুযোগ থাকবে বিজিত দলের। আসরের এলিমিনেটর ম্যাচে ইসলামাবাদ-করাচির লড়াইয়ের বিজয়ী দলের সঙ্গে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে খেলবে তারা। এবারের পিএসএলে একবার করে ম্যাচসেরা নৈপুণ্য দেখিয়েছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও সাকিব আল হাসান।

করাচি কিংসের বিপক্ষে কোয়েটার বল হাতে ৪ ওবারের স্পেলে ২১ রানে তিন উইকেট নেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। পরে ৪ বলে ৮ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন ম্যাচসেরা খেলোয়াড় মাহমুদুল্লাহ। আর সাকিব আল হাসান ব্যাটে-বলে চৌকস নৈপুণ্য দেখান লাহোর কালান্দারের বিপক্ষে। ব্যাট হাতে ২৪ বলে ৩০ রানের ইনিংস খেলার পর বাঁ-হাতি স্পিনার সাকিব দুই ওভারের স্পেলে ১৪ রানে নেন দুই উইকেট। পেশোয়ার জালমির জার্সি গায়ে ৫ ম্যাচের চার ইনিংসে সাকিবের সংগ্রহ ৫৪ রান ও ৫ উইকেট। আর পেশোয়ার জালমির বাংলাদেশি ওপেনার তামিম ইকবালের সংগ্রহ ৫ ম্যাচে ৯৪ রান। সর্বোচ্চ ৬২*। কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্স দলের ৭ উইকেট নেন মাহমুদুল্লাহ। ৬ ম্যাচে তিনবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ নিয়ে মাহমুদুল্লাহর সংগ্রহ ৩৭ রান।

বর্ষসেরা নির্বাচিত হয়ে দুবাই থেকে ভিডিও বার্তায় যা বললেন তামিম ইকবাল

বর্ষসেরার আনন্দ উপভোগ করছেন টাইগার তামিম। না থেকেও ছিলেন তামিম ইকবাল! পিএসএল খেলতে তিনি এখন আরব আমিরাতে। পিএসএল খেলতে তিনি এখন আরব আমিরাতে। বর্ষসেরা হওয়ার আনন্দ তাই জানালেন ভিডিও বার্তায়।কখনো হতাশ হয়ে ফিরেছেন। কখনো হয়েছেন অভিমানী। মনের মধ্যে লুকিয়ে রাখা স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেছে আলোকিত সন্ধ্যায়। ২০১৬ সাল পর্যন্ত মোট তিনবার প্রথম আলোর বর্ষসেরা পুরস্কার অনুষ্ঠান থেকে রানারআপ হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে তামিম ইকবালকে।

কাল সোনারগাঁও হোটেলে দূর হয়ে গেল তাঁর সব যন্ত্রণা। জুরিদের নির্বাচনে রূপচাঁদা-প্রথম আলো ক্রীড়া পুরস্কার ২০১৬-এর বর্ষসেরা খেলোয়াড় হয়েছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের বাঁহাতি ওপেনার তামিম ইকবাল। বর্ষসেরার পুরস্কার এই প্রথম যৌথভাবে দেওয়া হলেও পাঠকের ভোটে বর্ষসেরা নির্বাচিত হয়েছেন তামিম একাই। এই পুরস্কারে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তাঁর আরও চার সতীর্থ মাশরাফি বিন মুর্তজা, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান ও সাকিব আল হাসান।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে পিএসএল খেলতে যাওয়া তামিমের হয়ে বর্ষসেরার পুরস্কার নিয়েছেন তাঁর বোন উরুসা খান। পুরস্কারতুলে দিয়েছেন সব্যসাচী ক্রীড়াবিদ বশীর আহমেদ। প্রবীণ ক্রীড়া সাংবাদিক ও সাবেক ক্রিকেটার কামরুজ্জামান পাঠকের ভোটে বর্ষসেরার পুরস্কার তুলে দিয়েছেন তামিমের চাচা জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবি পরিচালক আকরাম খানের হাতে।

২০০৯, ২০১০ ও ২০১৫ সালে বর্ষসেরা রানারআপ হয়েছিলেন তামিম। কিন্তু ২০১৬ সালটা তিনি শেষ করেছেন বর্ষসেরা হওয়ার দাবি নিয়েই। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২ টেস্টের চারটি ইনিংস—৭৮, ৯, ১০৪, ৪০। ৫৭.৭৫ গড়ে মোট ২৩১ রান। গত বছর বাংলাদেশের পক্ষে যা টেস্টে সর্বোচ্চ রান। সেঞ্চুরিটির বড় অবদান ছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১০৮ রানের স্মরণীয় টেস্ট জয়ে।

গত বছর ওয়ানডেতেও বাংলাদেশ দলের সর্বোচ্চ (৪০৭) রান তামিমের, গড় ৪৫.২। ৯ ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি একটি ও ফিফটি দুটি। টি-টোয়েন্টিতে ১১ ম্যাচ খেলে ৪০.৮৮ গড়ে করেছেন দলের হয়ে বছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৬৮ রান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওমানের বিপক্ষে করা তামিমের অপরাজিত ১০৩ রান এই সংস্করণের ক্রিকেটে বাংলাদেশের একমাত্র সেঞ্চুরির ইনিংস। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি রানও ছিল তাঁর।

অনুষ্ঠানে সশরীরে না থাকলেও ছিল তামিমের ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতি। আরব আমিরাত থেকে ভাইবারে পাঠানো ভিডিও বার্তায় প্রথম বর্ষসেরার পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে একটু আবেগাপ্লুতই মনে হলো টেস্ট দলের সহ-অধিনায়ককে, ‘এই পুরস্কারটিকে আমি অনেক গুরুত্ব দিই। সত্যি বলি, আগে বেশ কয়েকবার আমার প্রত্যাশা ছিল, আমি বর্ষসেরার পুরস্কার পাব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রানারআপ হতে হয়েছিল। এবার পেয়ে তাই খুব খুশি। সামনে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচি আছে। এই পুরস্কার আমাকে অনুপ্রাণিত করবে। আশা করব, এ বছরও ভালো ক্রিকেট খেলতে পারব।’

তামিমের মতো আশা আকরাম খানেরও। ভ্রাতুষ্পুত্রের মধ্যে ছোটবেলায়ই ক্রিকেট প্রতিভার দেখা পেয়েছিলেন তিনি। সেই তামিম আজ বাংলাদেশের ক্রিকেটের অবিচ্ছেদ্য অংশ, বাংলাদেশ দলের বহু সাফল্য তাঁর ব্যাটের তুলিতেই আঁকা। তামিমের ট্রফি হাতে গর্বিত চাচা আকরাম খান বলছিলেন, ‘আশা করি, ও ভবিষ্যতে আরও ভালো খেলবে। আরও বড় সাফল্য পাবে।’
তিনবার বর্ষসেরা রানারআপ হয়েছেন। এবার হলেন বর্ষসেরা। যার অর্থ, কমপক্ষে চারবার বর্ষসেরার বিবেচনায় ছিলেন তিনি। বড় কৃতিত্বই বলতেই হবে!-প্রথম আলো

খেলার সর্বশেষ নিউজ পেতে সঙ্গে থাকেন……….

%d bloggers like this: