Tag Archives: চন্ডিকা হাথুরুসিংহ

হাথুরুকে মহানামার অভিনন্দন

.

দুই বন্ধু রোশান মহানামা ও হাথুরুসিংহে। কাল কলম্বোয় l প্রথম আলোদুই বন্ধু রোশান মহানামা ও হাথুরুসিংহে। কাল কলম্বোয় l প্রথম আলোরাস্তার এ পাশে সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মানে এসএসসি বা শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সদর দপ্তর। ওপাশেই সিসিসি, কলম্বো ক্রিকেট ক্লাব। একটু দূরে ননডেসক্রিপ্ট ক্রিকেট ক্লাব, এনসিসি। ৫০০ মিটার পরিধির মধ্যেই শ্রীলঙ্কার বিখ্যাত তিনটি ক্রিকেট ক্লাব।
রোশান মহানামা কাল এলেন সিসিসিতে, তাঁর সাবেক ক্লাবে। যতটা না বাংলাদেশ দল ও শ্রীলঙ্কান বোর্ড সভাপতি একাদশের মধ্যকার প্রস্তুতি ম্যাচটি দেখতে, তার চেয়েও বেশি যেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহের টানে। একসঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন, সমান বয়সী। বোঝাই গেল দুজনের বন্ধুত্ব এখনো কী ভীষণ উষ্ণ। হাথুরুসিংহেকে বারবার বাংলাদেশের শততম টেস্টে লঙ্কাজয়ের জন্য অভিনন্দন জানালেন। ব্যাটিং পরামর্শক থিলান সামারাবীরা ও ম্যানেজার খালেদ মাহমুদকেও জানালেন অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। তারপর সিংহলিজ ভাষায় বন্ধু হাথুরুসিংহের সঙ্গে মেতে উঠলেন খোশগল্পে। কিছু ক্রিকেটীয় পরিভাষা কানে আসতে বোঝা গেল, শুধু অতীতের স্মৃতিই তাঁদের আলোচনার বিষয় ছিল না। বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটও অনেকটা জায়গাজুড়ে সেখানে ছিল।
পি সারা ওভালে কেমন দেখলেন বাংলাদেশের খেলা? মহানামার ভ্রু কুঁচকে গেল, ‘না, আমি তো খেলা দেখিনি।’ টিভিতেও দেখেননি? সোজা-সাপ্টা উত্তর, ‘না।’ এটুকু অন্তত বলুন, বাংলাদেশের এই জয়টাকে কীভাবে দেখছেন? ‘আমার বন্ধু দলটিকে নিয়ে অসাধারণ কাজ করেছে। ওকে অভিনন্দন জানিয়েছি।’ আর কোনো কথাই বলতে চাইলেন না শ্রীলঙ্কার সাবেক ক্রিকেট তারকা। কোনো সাক্ষাৎকার দেন না কাউকেই। বলে দিলেন, ‘সরি, আমি কোনো ইন্টারভিউ দিই না।’
ক্রিকেট ছেড়ে দিয়েছেন প্রায় ১৮ বছর হলো। এখনো চলনে-বলনে তারকা। পঞ্চাশ পেরিয়েছেন, নির্মেদ-চনমনে শরীরটা দেখলে মনে হয় এখনো মাঠে নেমে যেতে পারবেন। চিতার ক্ষিপ্রতায় সেই ফিল্ডিং করতে পারবেন কাভারে।
একেবারেই স্পিকটি নট হয়ে থাকার কারণ কী, ভেতরের দহন? বাংলাদেশও এখন শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে দেয়!
মহানামার ভেতরে দহন থাকুক আর না থাকুক, জয়াসুরিয়া-কালুভিতারানা ও ভাসের মধ্যে যে সেটি আছে বোঝাই যায়। সনাৎ জয়াসুরিয়া প্রধান নির্বাচক, রমেশ কালুভিতারানা সহ-নির্বাচক—ব্যাটিংয়ে সেই বিস্ফোরক ওপেনিং জুটির মতো জুটি বেঁধেছেন শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের দল নির্বাচনী কাজে। দুজনই কাল ক্লাব হাউসে বসে ম্যাচ দেখলেন। লাঞ্চের পর যদিও জয়াসুরিয়া চলে গেছেন এসএসসিতে, সেখানে টেস্টে হারের পর জরুরি সভায় বসেছিল এসএলসি। জয়াসুরিয়া ও কালুভিতারানাও মহানামার মতো বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি। অনেক পীড়াপীড়ির পরও তাঁদের মুখে কোনো কথা নেই।
চামিন্ডা ভাসের ব্যাপারটি আলাদা। অনূর্ধ্ব-১৯ শ্রীলঙ্কা দলের বোলিং কোচ তিনি। বোর্ডের অনুমতি নেই বলে তিনি কথা বলতে পারলেন না। তবে এর মধ্যেও একটা দুঃখ যেন উঠে এল তাঁর ভেতর থেকে। বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ হওয়ার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে ছিলেন, ভেবেছিলেন চাকরিটা হয়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ নিল কোর্টনি ওয়ালশকে। শ্রীলঙ্কার সাবেক পেসার জানালেন, ‘বিসিবির সিইও আমার সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলবেন জানিয়েও আর ফোন করলেন না!’

রিয়াদ, মমিনুলকে বাদ দেয়া জরুরি ছিল

ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশের উত্থানের নতুন অধ্যায় রচিত হলো কলম্বোয়। ওয়ানডেতে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের পর নিজেদের শততম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে চার উইকেটে হারিয়েছেন টাইগাররা। জয়টা যে ঐতিহাসিক, বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে বাংলাদেশের জয়ে দলে পরিবর্তনের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন কোচ হাথুরুসিংহ।

শততম টেস্টের আগে রিয়াদকে স্কোয়াডের বাইরে রাখা নিয়ে হাথুরুসিংহকে কঠোর সমালোচনার হয়।

এ রকম জয় পেয়ে নিজের শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত এলাকাতে অবয়বে ছিল রাজ্যের হাসি। যে হাসিতে ঝরে পড়ছিল যেন মণি-মুক্তা। শেষ বিকেলের সূর্যের তেজ হালকা হয়ে আলো কমে আসতে থাকলেও হাথুরুর হাসিতে যেন আলোর বিচ্ছুরণ ঘটছিল পি সারা ওভালে। দেখে বুঝার উপায় নেই এটি তারই দেশ।

পেশাদারিত্বের কাছে আবেগের কোনো জায়গা নেই হাথুরু যেন সেটিই আরেকবার প্রমাণ করে দিলেন। অথচ শততম টেস্টের আগে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে স্কোয়াডের বাইরে রাখা নিয়ে এক এলাহি কাণ্ড ঘটে গেল বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তদের মধ্যে। এ জন্য কোচ চল্ডিকা হাথুরুসিংহকে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়তে হলো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তরুণ ক্রিকেটপ্রেমিদের এমন অবস্থা যে পারলে তারা হাথুরুসিংহে শূলে চড়ায়!

শুধু মাহমুদউল্লাহ রিয়াদই নন। আরো বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আসে শততম টেস্টে। লিটন দাস ইনজুরিতে পড়েন। মুমিনুল হক অফ ফর্মে থাকায় তিনিও সেরা একাদশে সুযোগ পান না। তাসকিন আহমেদকেও নেওয়া হয় না। শততম টেস্টের সেরা একাদশে জায়গা করে নেন ইমরুল কায়েস, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও তাইজুল ইসলাম।

ইমরুল কায়েস প্রথম ইনিংসে ৩৪ রান করেন, সাব্বির ব্যাট হাতে দুই ইনিংসেই চল্লিশোর্ধ রান করেন। মোসাদ্দেক অভিষেকে নিজের জাত চেনান। খেলেন ৭৫ রানের নজরকাড়া ইনিংস। আর তাইজুল ইসলাম অবশ্য সুবিধা করতে পারেননি। দুই ইনিংসে নেন ২ উইকেট।

ক্রিকেটপ্রেমিরা পরিবর্তনের কড়া সমালোচনা করলেও দিনশেষে বাংলাদেশ দলের কোচ চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে জানিয়েছেন পরিবর্তন দরকার ছিল। তিনি বলেন, ‘ছেলেরা এমন একটি জয়ের দাবিদার। তার কঠোর পরিশ্রম করেছে। খুবই কঠোর। তাদের জন্য আজ আমি খুশি। আমরা জানতাম আসলে আমাদের কিছু পরিবর্তন দরকার। আসলে পরিবর্তনটা দরকার ছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘ম্যাচের তৃতীয় দিনেই লিড নেওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। গেল বছর থেকে তামিম ইকবাল সব ফরম্যাটেই ভালো করছে। সে একজন সিনিয়র ক্রিকেটার। সে সেটার প্রমাণ দিচ্ছে।’

ছেলেদের এ রকম ঐতিহাসিক অর্জনে দারুণ খুশি কোচ। তিনি বলেন, ‘গল টেস্টের পর এই জয় পেতে ক্রিকেটাররা খুবই পরিশ্রম করেছে। তারা সবাই মিলে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে। পরে বের হয়ে এসে বলে তারা এই টেস্টে কিছুটা একটা করে দেখাতে চায়। এই জয় তারই ফসল।’

জয়ের জন্য তিনি মোস্তাফিজের একটি স্পেলকেই টার্নিং পয়েন্ট বলে জানান। তিনি বলেন চতুর্থ দিন লাঞ্চের পর মোস্তাফিজের একটি স্পেলই ছিল টার্নিং পয়েন্ট। খুবই গরম ছিল। পেস বোলারদের জন্য কঠিন ছিল কন্ডিশন। সে সময় মোস্তাফিজ ৭ ওভারের স্পেলে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়। আমার কাছে এটি ছিল ম্যাচের খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

বাংলাদেশকে ‘৯৬ এর শ্রীলঙ্কা বানাতে চান চন্ডিকা

১৯৯৬ সালে সবাইকে চমকে দিয়ে বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে শ্রীলঙ্কা। ৯০’ এর দশকের মাঝের দিকেই ক্রিকেটে উত্থান ঘটেছিলো লঙ্কানদের। কিন্তু ১৯৯৬ সালের বিশ্বাকে তাদের পারফরম্যান্স সবাইকে অবাক করে দিয়েছিলো। বাংলাদেশকেও ‘৯৬ এর শ্রীলঙ্কার পর্যায় নিয়ে যেতে চান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে।

শ্রীলঙ্কান গণমাধ্যম ডিভাইনাকে  দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চন্ডিকা বলেন, “আমি বাংলাদেশকে সেখানে নিয়ে যেতে চাই যেখানে শ্রীলঙ্কা ১৯৯৬ সালে ছিল। এটিই আমার লক্ষ্য। “যেটাই ঘটুক, আমি বাংলাদেশের সাথে চিরকাল থাকবো না। আমি পদত্যাগও করবো না। দায়িত্ব ছাড়ার একমাত্র কারণ হতে পারে আমি যা করতে চাই তা করতে না দেওয়া। বর্তমানে সেই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।”

কোনোদিন শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট থেকে আমন্ত্রণ পেলে সানন্দে গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, “আমি এখন যে অবস্থায় আছি তার কারণ আমি শ্রীলঙ্কায় ক্রিকেট শিখেছি। শ্রীলঙ্কায় শেখার পর আমি অস্ট্রেলিয়া যাই। সেখানেও অনেক কিছু শিখি। কিন্তু যদি শ্রীলঙ্কা আমাকে আমন্ত্রণ দেয় আমি দেশের জন্য কিছু করার লক্ষ্যে সানন্দে আসবো।”

বিসিবির কাছে যা চেয়েছেন তাই পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বর্তমানে দলের নির্বাচক কমিটিতে রয়েছেন হাথুরুসিংহে। ২০১৯ সালে চন্ডিকা হাথুরুসিংহের সাথে বাংলাদেশের চুক্তি শেষ হবে। ২০১৪ সালে বাংলাদেশের কোচ হন এ লঙ্কান।

“টেস্টে বাংলাদেশের আরো সময় চাই”- হাথুরুসিংহে

শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ব্যাটিং কন্ডিশনে ৫ম দিনে খারাপ খেলে লজ্জাজনক পরাজয়ের জন্য নিজেদের অনভিজ্ঞতাকেই দুষলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধাণ কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে।

হাথুরু জানান, “পায়ের নিচে মাটি খোঁজা একটি টেস্ট দলের কাছে আমরা একটু বেশিই চেয়েছি। আমাদের বোলিং লাইনআপ অনেক অনভিজ্ঞ। আমাদের ২০ উইকেট তোলার সুযোগ করতে হবে। সাকিবকে বাদ দিলে বাকিদের ম্যাচের অভিজ্ঞতা মাত্র ১৫। সাকিবও ফর্মে নেই। যাই বলি না কেন আমাদের আরো সময় দিতে হবে।”

সাকিব ও মুশির আউট নিয়ে বলেন, “কেউই আসলে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসে নি। আসলে তারা বল বোঝার চেষ্টা করতেছিল। সান্দাকান খুব ভাল বল করছিল। ওই ছেলেটির (সান্দাকান) বোলিংয়ে ছিল অনেক বৈচিত্র, ‘রং আন’ ও চায়নম্যান করছিল। আমার মতে, আমাদের ছেলেরা পিচ করার পর বল পড়ার চেষ্টা করেছে, তাতে করে সাড়া দেয়ার সময় পেয়েছে কম। লেগ স্টাম্পের বলে রান করতে চাওয়া ব্যাটসম্যানদের সহজাত প্রবৃ্ত্তি।”

তিনি গেমপ্লেন সম্পর্কে আরও বলেন, ” “রক্ষণাত্মক ও আক্রমণত্মক খেলার কথা যখন হচ্ছে, মূল ব্যাপারটি হলো সিদ্ধান্ত নেওয়া। এই জায়গাটিতে আমাদের উন্নতি করতে হবে, কোন বলে আক্রমণ করব, কোনটি ঠেকাব। পথ যেটাই হোক, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আর সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে কন্ডিশন মাথায় রাখতে হবে, প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা বুঝতে হবে ও সচেতনতা থাকতে হবে। গিয়ে আক্রমণাত্মক খেললাম আর বললাম যে এটিই আমার খেলা, এভাবে কেউ বলতে পারবে না। ”

হাথুরুসিংহের আশা ৬০০ রান করবে বাংলাদেশ

২০১৩ সালে এই গলেই শ্রীলঙ্কার ৫৭০ রানের জবাবে ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসের দলীয় সর্বোচ্চ ৬৩৮ রান করেছিল বাংলাদেশ। এবার দীর্ঘ দিন পর আবারো গল টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে এমন স্বপ্ন দেখছেন টাইগারদের হেড কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহ।

গল ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কার ৪৯৪ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে সফরকারী বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেটের বিনিময়ে ১৩৩ রান। ম্যাচের দ্বিতীয় দিন শেষে কোচ নিজেই আসেন সংবাদ-সম্মেলনে। জানিয়েছেন নিজেদের লক্ষ্যের কথাও।

হাথুরুসিংহের মতে টাইগারদের সামর্থ্য আছে পাঁচশ রান করার। আর সম্ভব হলে আরও বেশি রান করার চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি। হাথুরু বলেন,‘আমি তো চাইবো যদি সম্ভব হয় ৬০০ রান। আমরা প্রথমে চাইবো ওদের রানের কাছাকাছি যেতে। সম্ভব হলে তার চেয়ে বেশি করতে। আমার মনে হয়, এখানে ৫০০ রান করার সামর্থ্য আমাদের রয়েছে। ’

ম্যাচ শুরুর আগে শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথ আশঙ্কা করেছিলেন শেষের দিকে স্পিনাররা সহায়তা পাওয়ায় প্রথম ইনিংস খুব গুরুত্বপূর্ণ হবে। তার সাথে সুর মিলিয়েছেন টাইগার কোচ হাথুরুসিংহেও।

‘আমরা যত রান করি, দিন শেষে সেটা খুব কাজে লাগবে। পঞ্চম দিনে ম্যাচ জিততে বা ড্র করতে আমাদের খুব সাহায্য করবে তৃতীয় দিনের রান। ’

দ্বিতীয় দিনে নিজেদের প্রথম ইনিংসে খেলতে নেমে সৌম্য সরকারের সাথে ১১৮ রানের এক দুর্দান্ত উদ্বোধনী জুটি গড়েছিলেন তামিম ইকবাল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অদ্ভুতভাবে রান আউটের শিকার হয়ে সম্ভাবনার মৃত্যু ঘটিয়েছেন যা ইতিমধ্যে জেনে গেছেন অনেকেই।

তামিমের পর দিনের শেষ ভাগে এসে আউট হয়ে ফিরে গেছেন মমিনুল হকও। তবে আশার কথা হলো ক্রিজে ১৩৩ বলে ৬৬ রানে এখনও অপরাজিত আছেন ওপেনার সৌম্য সরকার। পুরোদস্তুর টেস্ট মেজাজে খেলে যাচ্ছেন তিনি।

আর সৌম্যর এই দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন কোচ হাথুরু। তবে পাশাপাশি সংবাদ সম্মেলনে সৌম্যসহ অন্যান্য টাইগার ব্যাটসম্যানদের লঙ্কান স্পিনারদের সম্পর্কে সাবধান করতে ভোলেননি তিনি।

উইকেট এখন আস্তে আস্তে স্পিন বান্ধব হয়ে পড়ছে উল্লেখ করে টাইগারদের লঙ্কান কোচ বলেন, ‘ওদের স্পিনাররা ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ওরা রান রেট নামিয়ে এনেছে, এখানে এই কাজটা ওরা খুব ভালো করে। উইকেট মন্থর হয়ে পড়ছে। একটু স্পিন বান্ধব হয়ে যাচ্ছে। আমাদের সামনে এটাই চ্যালেঞ্জ। ’

আরও একটু পেতে চেয়েছিলেন হাথুরু

‘সন্তুষ্ট’ শব্দটা উচ্চারণ করলেন বেশ কবারই। তবু বোঝা গেল, পুরো সন্তুষ্ট তিনি নন। ‘প্রাপ্তির আছে অনেক কিছু’ বলেও বোঝালেন, আরও কিছু পেতে চেয়েছিলেন। সব মিলিয়ে নিউজিল্যান্ড সফরটা মিশ্র এক অনুভূতির সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে চন্ডিকা হাথুরুসিংহেকে। প্রথম পরীক্ষাতে ‘ফেল’ হলেও বাংলাদেশ কোচকে তাই তাকাতে হচ্ছে সামনের দিকে। সামনে যে আরও ব্যস্ত ক্রিকেট সূচি!
এ বছর বাংলাদেশ দল যেন ‘এসএসসি পরীক্ষার্থী’। এক পরীক্ষা শেষ হতে না হতেই দুয়ারে আরেকটি। এ বছর যে একের পর এক বিদেশ সফর আছে। বাংলাদেশ কী করে নিউজিল্যান্ড সফরে ভেঙে যাওয়া আত্মবিশ্বাস জোড়া লাগাবে? কোচ হিসেবে উপায় খোঁজার দায়িত্ব তাঁরই। তবে হাথুরুসিংহে প্রথমেই একটা শর্ত বেঁধে দিলেন—দলে বড় পরিবর্তন আনা যাবে না।
এবারের সফরে যাঁরা ব্যর্থ হয়েছেন, তাঁদের সবাইকেই ছাঁটাইয়ের পক্ষে নন হাথুরু, ‘আমি ওদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট। এটা চূড়ান্ত রকমের বাজে কিছু নয় যে যার থেকে উন্নতি করা সম্ভব না। সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অনেক ইতিবাচক দিকই আছে। যা হয়েছে, তার জন্য সোজা একেবারে ওদের বাদ করে দিতে পারেন না পরের বিদেশ সফরগুলোতে। এই সফরের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের ক্রিকেটকে সাহায্য করবে। এই খেলোয়াড়দের ভবিষ্যতে আরও ভালো করতেও সাহায্য করবে।’
বাংলাদেশ এই সফরের ভুলগুলো থেকে শিখে নিজেকে শুধরে নেওয়ার সময় পাচ্ছে খুব কমই। দেশে ফিরেই মাত্র দিন কয়েকের ছুটি। এরপর ভারতে যেতে হবে টেস্ট খেলতে। মার্চ-এপ্রিলেই শ্রীলঙ্কা সফর। এরপর চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রস্তুতি নিতে আয়ারল্যান্ড। ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। দক্ষিণ আফ্রিকায় কঠিন এক সফর আছে অক্টোবরে। এর মধ্যে আবার অস্ট্রেলিয়ারও দেশে আসার কথা আছে।
এত খেলা, দলে কিছু পরিবর্তন আসবেই। হাথুরুকে যে সব ভেবেই ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করতে হচ্ছে, ‘চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগ পর্যন্ত ওদের যথাসম্ভব বিশ্রাম দিয়ে রাখতে হবে। কোন খেলোয়াড়দের ওপর চাপ বেশি যাচ্ছে, কাদের বেশি বিশ্রাম দরকার, তাদের কিছু কিছু ম্যাচ থেকে আমরা সরিয়ে রাখব। আবার কারও কারও আরও বেশি ম্যাচ অনুশীলনের দরকার। তাদের বিসিএলে পাঠানো হবে।’
এই আন্তর্জাতিক ব্যস্ততার মধ্যেই আবার সামনে পিএসএল আর আইপিএল। পাকিস্তান ও ভারতের এই দুই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে খেলার কথা বাংলাদেশের মূল কজন তারকার। বিষয়টি আছে হাথুরুর ভাবনাতেও, ‘এটা শরীরের ওপর অনেক ধকল ফেলবে। এই চাপগুলো ওদের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে সামলাতে হবে। তবে এটা আমরা খেলোয়াড়দের ওপরই ছেড়ে দেব ও কীভাবে সব ঠিক রেখে সব ম্যাচের জন্য নিজেদের ফিট রাখতে পারে।’
কোচ মনে করেন, নিউজিল্যান্ড সফরে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি দায়িত্ব নিতে শেখা, ‘অধিনায়ক (তামিম ইকবাল) ওর পারফরম্যান্সের দায়ভার নিজের কাঁধে নিয়েছে। আমি মনে করি, এর মধ্য দিয়ে দায়িত্ব নেওয়ার একটি প্রক্রিয়া শুরু হলো। খেলোয়াড়দের কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করাটা অন্যায়। তবে কেবল দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে নিলেই চলবে না, ভুল সংশোধনের জন্য কাজ করে যেতে হবে।’
সেই ভুলগুলোর শীর্ষে আছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস। এই টেস্টের দুই ম্যাচে দ্বিতীয় ইনিংসের ভরাডুবি আরও ডুবিয়েছে। অতীতেও দেখা গেছে, দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ যেন গড়বড় করার জন্যই নামে। তাতে নষ্ট হয়ে যায় প্রথম ইনিংসের সব ভিত্তি। হাথুরুর নোটবইয়েও তা টোকা আছে, ‘কেবল ক্রাইস্টচার্চেই নয়, ওয়েলিংটনের দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটসম্যানরা খারাপ করেছে। এটার নানা কারণ হতে পারে। হতে পারে, ওরা এখনো মানসিকভাবে পুরোপুরি শক্ত নয়। হতে পারে, এটি তাদের শারীরিক ব্যাপার। হয়তো এমনও হতে পারে, পাঁচ দিন ধরে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলার পুরো সামর্থ্য ওদের নেই। আবার এটি মানসিক ও শারীরিক ব্যাপার না হয়ে অন্য কিছুও হতে পারে।’
সফরে অনেক সুযোগ পেলেও সেগুলো কাজে লাগাতে না পারার হতাশাও আছে কোচের, ‘একটি ম্যাচ বাদে আমরা প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই লড়াই করেছি, জয়ের সুযোগ তৈরি করেছি। সেই সুযোগ আমরা কাজে লাগাতে পারিনি। এটি খুবই হতাশার। তবে যে কন্ডিশনে খুব বেশি খেলার সুযোগ আমাদের হয় না, সেখানে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করাটাও ইতিবাচক।’
হাথুরুকে বেশি পোড়াচ্ছে নিজের সামর্থ্য খেলোয়াড়েরা পারফরম্যান্সে অনুবাদ করতে পারেননি বলে, ‘যদি তাদের ভালো করার সামর্থ্য ও প্রতিভা না থাকত, তাহলে হয়তো এতটা চিন্তিত হতাম না। কিন্তু খেলোয়াড়দের ভালো করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ভালো খেলতে না পারাটা সত্যিই খুব হতাশার।’
তাহলে কি ভালো করতে না পারার কারণটা পুরোপুরিই মানসিক? হাথুরু উড়িয়ে দেননি এই ধারণা, ‘মানসিক ব্যাপার একটা কারণ। তবে আমরা এ বিষয়টি নিয়ে সবার সঙ্গে বসতে চাই। দুর্বলতাগুলোকে খুঁজে বের করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই এখনকার লক্ষ্য।’

এবার হাথুরুর ওপর খেপেছেন বুলবুল

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের দল গঠন দেখে কোচ হাথুরুসিংহের ওপর চটেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তিনি বলছেন, ঘরোয়া ক্রিকেটে যারা ভালো করছেন কোচ তাদের না নিয়ে নেট প্রাকটিসের ওপর ভিত্তি করে দল গঠন করেন। যার খেসারত দিচ্ছে বাংলাদেশ।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ছয় বছর পর তাদের মাঠে খেলতে নেমে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে মাশরাফিরা। সামনে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। রয়েছে টেস্ট সিরিজও।

‘কঠিন কন্ডিশনে তিনজনকে অভিষেক করানো খুবই হাস্যকর ব্যাপার। নাসির, আল-আমিন ভালো খেলেও দলে ঢুকতে পারছেন না। অথচ নেটে তানবীরের ব্যাট থেকে তিনি মাঠে নামিয়ে দিয়েছেন।’ বলেন বুলবুল।

বুলবুল বলেন, ‘পত্রিকায় দেখলাম কোচ ইতিমধ্যেই ঘোষণা করে ফেলেছেন যে সৌম্যকে অনেক বেশি সুযোগ দেয়া হয়ে গেছে বা সৌম্যকে খেলানো উচিৎ না। এ ধরনের বিবৃতি সাধারণত কোচের কাছ থেকে আসা উচিৎ না। কোচের কাজ হচ্ছে দলকে কোচিং করানো। এ ধরনের সিদ্ধান্তগুলো সাধারণত নির্বাচক কমিটির প্রধান কিংবা অধিনায়কই নেন। দলটা হওয়া উচিৎ অধিনায়কের পছন্দের। আমরা কোচকে অতিরিক্ত প্রাধান্য দিয়ে আজ পর্যন্ত তাকে অনেকগুলো উইং দিয়ে দিয়েছি। যার কারণে সে তার মূল কোচিং থেকে দুরে সরে যাচ্ছে।’

হাথুরুর বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ করেন তিনি বলেন, ‘কোচ ঘরোয়া ক্রিকেটে ফলো করেন না। জাতীয় দলের খেলা না থাকলে ছুটিতে চলে যান। ঢাকায় ফিরে ওই নেট প্রাকটিস দেখে দল গড়েন!’

নাসিরের দলে না থাকার পিছনে আমি দায়ী নই

সিনিয়র ক্রিকেটাররা আরো দায়িত্বশীল হতে পারতেন হাথুরুসিংহে

টাইগারদের দ্বিতীয় সিরিজের প্রস্তুতি নিয়ে যা বললেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে