Tag Archives: খালেদ মাহমুদ সুজন

সুজনের বিশ্বাস, শ্রীলঙ্কায় জিতবে বাংলাদেশ

শ্রীলঙ্কা দলে এখন আর কুমার সাঙ্গাকারা- মাহেলা জয়াবর্ধনে নেই। তাই বলে লঙ্কানদের হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। তারুণ্য নির্ভর দলটিই ধারণ করতে পারে ভয়ঙ্কর রূপ। সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ভালো ক্রিকেট খেলেছে লঙ্কানরা। জিতেছে টি-টোয়েন্টি সিরিজও।

পক্ষান্তরে বাংলাদেশ দল এখন বেশ অভিজ্ঞ। সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহীম, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা রয়েছেন এই দলে। বিদেশের মাটিতেও টাইগারদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স আশা জাগিয়ানা। নিউজিল্যান্ড ও ভারতের কাছে হারলেও টেস্ট সিরিজে দারুণ লড়াই করেছে মুশফিক বাহিনী।

ওই দুই সিরিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশ দল জিতবে; বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনের এমন বিশ্বাস এমনই। শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে উড়াল দেয়ার আগে তিনি বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে টানা দুই সিরিজে খেলে আমরা বেশ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। যদি ওই অভিজ্ঞতা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারি, তাহলে শ্রীলঙ্কায় ভালো কিছুই পাওয়ার সুযোগ রয়েছে আমাদের।’

শ্রীলঙ্কার মাঠে জয়ের জন্যই খেলবে বাংলাদেশ। তার জন্য অবশ্য মুশফিক-সাকিবদের কাছ থেকে সেরা ক্রিকেটটাই চাইছেন সুজন, ‘একটাই লক্ষ্য- জয়। এই লক্ষ্যেই আমরা সেখানে যাচ্ছি। আমরা আশাবাদী, আমাদের সেই সক্ষমতা (শ্রীলঙ্কাকে হারানোর) রয়েছে। ইনশাল্লাহ, যদি আমরা বেটার ক্রিকেটার খেলতে পারি; আমার বিশ্বাস- শ্রীলঙ্কায় জিতবে বাংলাদেশ।’

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য শততম টেস্ট। মাইলফলকের ম্যাচটি স্মরণীয় করতে চাইছেন বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজনও, ‘গোটা বাংলাদেশ শততম টেস্ট নিয়ে রোমাঞ্চিত। যতটা সম্ভব এটা ভালোভাবেই শেষ করতে চাই। মূলত আমাদের সবারই চাওয়া- স্মরণীয় কিছু নিয়ে ফেরা।’

শ্রীলঙ্কা সিরিজে আমরা এগিয়ে : সুজন

ভারতের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ খেলে দেশে ফিরতেই দরজায় কড়া নাড়ছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের। দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানোডে এবং দুটি টি-টোয়েন্টি খেলবে এ মাসেই শ্রীলঙ্কা সফরে যাবে বাংলাদেশ দল।  বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচক কমিটির সদস্য খালেদ মাহমুদ সুজন মূলত অভিজ্ঞতার কারণে মাশরাফি বিন মুর্তজা-মুশফিকুর রহিমদের এগিয়ে রাখছেন।

বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের সাথে সুজন বলেন, ‘আমি মনে করে শ্রীলঙ্কার চেয়ে আমরা অভিজ্ঞতায় এগিয়ে থাকবো। আমার বিশ্বাস এই সিরিজটি জিততে আমরা যথেষ্ট সামর্থ্যবান। প্রতিটি ফরম্যাটে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলবো। সেই সামর্থ্যও আমাদের এই দলটার আছে বলে আমার মনে হয়।’

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এর আগের সফরটা বেশি ভালোই কাটিয়েছিল টাইগাররা। প্রথমবারের মত টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম পাশাপাশি আশরাফুল করেছিলেন ১৯০ রানের মত ইনিংস। তবে মাহেলা-সাঙ্গাকারার অবসরের পর বেশ সংগ্রাম করেই চলছে শ্রীলংকা। সে কারণেই পারফরম্যান্স আর অভিজ্ঞতার কারণে অনেকখানি এগিয়ে সাকিব-তামিমরা।

ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট হারলেও মূলত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ থেকে অনুপ্রেরণা নিতে বললেন সুজন। সেখানে বেশ ভালো কয়েকটি ইনিংস খেলেছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা পাশাপাশি বোলাররাও  ভালো করেছে। সুজন বলেন, ‘সামনের সিরিজ আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই মূহুর্তে আমরা দারুণ ক্রিকেট খেলছি। নিউজিল্যান্ড সিরিজেও বাংলাদেশ ভালো খেলেছে। ভারতেও ভালো খেলেছে। যদিও ফলাফল আমাদের দিকে আসেনি। তবে প্রসেসগুলো ঠিক ছিলো।’

টেস্টে দীর্ঘদিন পর খেলতে নেমেই হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে। এখানে দেরি করে টেস্ট খেলাকে দুষলেন সাবেক এই ক্রিকেটার। ‘গেল দুই সিরিজে (নিউজিল্যান্ড ও ভারত) আমাদের ছোটখাটো ভুল ছিলো। এটা হয়, কারণ আমরা অনেক গ্যাপে টেস্ট খেলি। তবে আমি মনে করে ছেলেদের নিজেদের খেলা দেখানোর সুযোগ ছিলো। সামনের সিরিজটি, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খুবই কঠিন সিরিজ। আমি বিশ্বাস করি, সেখানে খুব ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে।’

শ্রীলঙ্কা সফর দিয়ে ফের ম্যানেজার পদে ফিরছেন সুজন

ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে নিউজিল্যান্ড ও ভারত সফরে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ম্যানেজারের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও শ্রীলঙ্কা সফর দিয়ে আবারো পুরনো পদে ফিরতে যাচ্ছেন খালেদ মাহমুদ সুজন। শ্রীলঙ্কা সফরে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাথে স্বপদে ফেরার বিষয়টি গণমাধ্যমে নিজেই নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ‘যতটুকু জানি, শ্রীলঙ্কা সফরে আমি যাচ্ছি।’

শ্রীলঙ্কা সফর দিয়ে জাতীয় দলের ম্যানেজারের আসনে ফিরতে যাচ্ছে সাবেক এ ক্রিকেটার তা এক প্রকার নিশ্চিত। তবে এবার কি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তাকে দীর্ঘ মেয়াদে নিয়োগ দিতে যাচ্ছে নাকি আগের মতো সুনির্দিষ্ট সিরিজের জন্যই নিয়োগ পেয়েছেন জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রতি উত্তরে জানান, ‘বোর্ড থেকে আপাতত শ্রীলঙ্কা সফরের জন্যই বলা হয়েছে। এর বেশি কিছু জানি না।’

এ সম্পর্কে ব্যক্তিগত ইচ্ছার কথা সরাসরি না জানালেও জাতীয় দলের সাথে দীর্ঘ চুক্তিতে কাজ করলে ভালো হয় ইঙ্গিত করেঞ্জাতীয় দলের সাবেক এ ক্রিকেটার বলেন, ‘কিভাবে থাকবো, তা বিসিবির ব্যাপার। তবে আমি বাংলাদেশ দলকে সমর্থন করে যেতে চাই। যদি আমার থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়, তখন থাকবো। যে কোনো জায়গা থেকে যদি দলকে সাপোর্ট দিতে পারি, সেটা দীর্ঘমেয়াদী বা স্বল্পমেয়াদী হতে পারে। যদি দীর্ঘমেয়াদে হয়, সেক্ষেত্রে বড় পরিকল্পনা করতে সহজ হয়।’

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়া ভারত সিরিজ থেকেই অস্থায়ী মেয়াদে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করে আসছেন খালেদ মাহমুদ সুজন।

হাতুরুসিংহের সমালোচনায় নাখোশ সুজন

 

বাংলাদেশ দলের কোচ চান্দিকা হাতুরুসিংহকে নিয়ে চলমান বিতর্কে নাখোশ বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক ও ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন। তার মতে নিজের কাজ সম্পর্কে খুব ভালো করেই জানেন হাতুরুসিংহে।

বুধবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে লেগ স্পিনার তানভীর হায়দার ও অলরাউন্ডার শুভাগত হোমকে দলে রাখা ও নাসিরকে না রাখায় সাবেক ক্রিকেটার-সমর্থকদের মধ্যে সমালোচনার জন্ম হয়। আর এই সমালোচনার বেশিরভাগই কোচ হাতুরুসিংহকে নিয়ে।

তবে কোচকে নিয়ে সমালোচনার জবাবে বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক ও ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, ‘হাতুরুসিংহে কোয়ালিটি কোচ। তিনি নিজের কাজ ভালো করেই জানেন।’

সুজনের মতে, কাকে খেলানো হচ্ছে বা কাকে খেলানো হবে সেই ব্যাপারটা কোচের উপর ছেড়ে দেওয়াই ভালো।

মাহমুদ বলেন, ‘আমি মনে করি, চান্দিকা তার নিজের কাজটা খুব ভালো জানেন। এর আগেও সে বেশকিছু এক্সপেরিমেন্ট করেছে। এটা আসলে আমাদের জাতিগত স্বভাব যে যখন আমরা ভালো করি তখন অনেকেই মুখ লুকিয়ে ফেলি, কথা বলি না। যখন দল খারাপ করে, তখন মানুষ খুঁজে বের করে কীভাবে দলটাকে টেনে আরও নিচে নামানো যায়। আমাদের সাবেক কিছু ক্রিকেটারও কোচের দোষ খুঁজে বের করছেন। কিন্তু চান্দিকার কোয়ালিটি নিয়ে যদি তারা প্রশ্ন তোলেন, তাহলে বলতে হয় যে তারা নিজেরাই বোকার মতো কথা বলছেন।’

বাংলাদেশ দলের সাবেক এই ম্যানেজার আরও বলেন, ‘চান্দিকা দারুণ একজন কোয়ালিটি কোচ, এবং উনি কি করছেন সেটা উনি জানেন। উনার প্ল্যানিংগুলা খুব ভালো হয়। আর তানভীরকে কেন খেলানো হয়েছে, অমুককে খেন খেলানো হয়নি – আমার মনে হয় এটা কোচের উপরেই ছেড়ে দেয়া উচিত। টিম ম্যানেজমেন্ট আছে, এটা তাদের দায়িত্ব, সবার দায়িত্ব নয়। আমি যেহেতু দলের সাথে নেই, তাই আমারও কাকে খেলাবে বা কাকে খেলাবে না এই ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করা উচিত নয়।’

এছাড়াও এমন সমালোচনা খেলোয়াড়দের উপরও একটি বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে বলে মনে করেন সুজন।

তিনি বলেন, ‘সমালোচনাটা যৌক্তিক হলেই ভালো হয় বলে আমি মনে করি। কারণ এভাবে যদি ঢালাওভাবে কথা বলেন সবাই, তাহলে খেলোয়াড়দের উপর একটা বাড়তি চাপ এসে পড়ে। আমরা সচরাচর ভালো কোচ পাই না। নামকাওয়াস্তে অনেক বড় বড় কোচ এসে আমাদের এখানে ঘুরে গেছে, কিন্তু সেই কোচরা কিন্তু আমাদেরকে সাফল্য এনে দেননি। সাফল্য এনে দিয়েছেন চান্দ্রিকা, এটা আমাদের মনে রাখতে হবে। বাংলাদেশ দলকে পরিবর্তন করার পেছনে তার অবদান অপরিসীম। অবশ্যই খেলোয়াড়রা সবার আগে, তাদের পারফরম্যান্সের জন্যই বাংলাদেশ জেতে। কিন্তু একটা দল বানানো চাট্টিখানি কথা না। একটা সিরিজ হারাতেই এত প্রশ্ন ওঠার কিছু আছে বলে আমি মনে করি না।’

উল্লেখ্য, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে ছয় উইকেটে পরাজিত হয়েছে সফরকারী বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে মাশরাফিবাহিনী।