Tag Archives: ইমরুল কায়েস

বাংলাদেশের শততম টেস্ট কী খেলা হবে ইমরুলের?

শ্রীলঙ্কা সফরে শততম টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। অথচ এই সফরে দলের সাথে যেতে পারছেন না ইমরুল কায়েস। গত দুই বছরে বাংলাদেশের দলের সাদা জার্সিতে সেরা পারফর্মার হবার পরেও ইনজুরির কারণেই শ্রীলঙ্কা সফরের দলে নেই তিনি।

 

শুক্রবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমী মাঠে অনুশীলন শেষে তিনি বলেন, “আসলে শততম টেস্ট এটা নিয়ে আমার এখন কোনো চিন্তা নেই্। জাতীয় দলে প্রত্যেকটা টেস্ট ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ, প্রত্যেকটা খেলোয়াড়ের জন্য। সবাই চেষ্টা করে ভালো খেলার। আলাদা করে বললে, শততম টেস্টে যারা খেলবেন তারা ভাগ্যবান। শততম টেস্টে যদি আমি করতে পারতাম অবশ্যই আমিও ভাগ্যবান হতাম। দুর্ভাগ্য আমার জন্য।”

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দল ঘোষণার সময় প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু জানিয়েছিলেন ফিটনেস ফিরে পেলে শততম টেস্টের দলে নেওয়া হবে ইমরুল কায়েসকে। এই প্রসঙ্গে ইমরুল জানান, “ফিটনেসের দিক থেকে তো আর সমস্যা নেই। কারণ, শেষ দু্‌ইটা চার দিনের ম্যাচ খেলেছি। ফিল্ডিংয়ে কোনো সমস্যা নেই, ব্যাটিংয়েও কোনো সমস্যা নেই। একটা ম্যাচে দীর্ঘসময় ব্যাটিং করেছি। কোনো সমস্যা হয়নি এখন পর্যন্ত।”

বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) শেষ দু’টি রাউন্ড খেলেছেন, রবিবার হতে শুরু হতে যাওয়া ষষ্ঠ ও শেষ রাউন্ডেও খেলবেন তিনি। হাঁকিয়েছেন সেঞ্চুরিও। করেছেন ফিল্ডিং এবং ব্যাটিং দুটিই কোনোরকম সমস্যা ছাড়া। তিনি বলেন, “ইনজুরি থেকে রিকভারি করে আসছি। আমি জানি না নির্বাচকরা আমাকে কবে সিলেক্ট করবে। যদি করে অবশ্যেই চেষ্টা করবো সেরাটা দেয়ার। তবে আমার চিন্তা হলো দলে ফিরে আসা ও পারফরম্যান্স করা। আমি ওভাবেই কাজ করে যাচ্ছি। জিমে, নেট সেশনে কাজ করে চেষ্টা করছি ভালোভাবে ফিরে আসার।”

অবশেষে কাঙ্ক্ষিত ফিটনেস ফিরে পেয়েছে ইমরুল,ওপেনার এই ব্যাটসম্যান ডাক পান কিনা শ্রীলঙ্কা সফরে খেলার জন্য সেটাই এখন দেখার পালা।

উইকেট কিপার হিসাবে ইমরুল কায়েসের নতুন রেকর্ড

 

মুশফিকুর রহিমের জায়গায় দাঁড়িয়ে তারই রেকর্ড স্পর্শ করেন ইমরুল কায়েস। কিপিংয়ে টেস্টে এক ইনিংসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ডিসমিসাল এখন যৌথভাবে এই দুই জনের।

২০১০ সালে ভারতের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে আর ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বো টেস্টে ইনিংসে পাঁচটি করে ডিসমিসাল রয়েছে মুশফিকের। তার আঙুলের চোটে ওয়েলিংটন টেস্টে কিপিংয়ে দাঁড়ান বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ইমরুল।

কিপিংয়ে ইমরুলের পারফরম্যান্স চমকে দেওয়ার মতো। কোনো সুযোগ হাতছাড়া করেননি। কামরুল ইসলাম রাব্বির বলে নিল ওয়েগনারের ক্যাচ ধরে পাঁচ ডিসমিসালে মুশফিকের পাশে যান তিনি। ব্যাটিংয়ে নিউ জিল্যান্ডের দশম উইকেট জুটি। তাই অধিনায়ককে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ এখনও আছে তার।

এছাড়া ক্রিকেট বিশ্বে এখন পর্যন্ত কোন ভারপ্রাপ্ত উইকেট রক্ষকের তুলনায় বেশী। এদিন উইকেটের পেছনে জিত রাভাল, কেন উইলিয়ামসন, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম, বি জে ওয়াটলিং এবং নিল ওয়েগনারের ক্যাঁচ লুফে নিয়েছেন ইমরুল।

গ্লাভস হাতে ইমরুল কায়েসের বিশ্বরেকর্ড

বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার ইমরুল কায়েস নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চলতি প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে ১ রান করে ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে সাজঘরে ফিরে গেলেও প্রথম ইনিংসেই গড়েছেন বিশ্বরেকর্ড তাও আবার গ্লাভসহাতে উইকেটের পিছনে থেকে!

নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসের শুরুতে মুশফিকের বদলে গ্লাভস হাতে উইকেট রক্ষকের ভূমিকায় ইমরুল কায়েসকে দেখে অনেকের ভ্রু কুচকে উঠলেও উইকেটের পিছনে দারুণ দক্ষতার সাথে প্রহরীর মতো নিজেকে নিবেদিত করে বদলি উইকেটরক্ষক হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটের ১৪৩ বছরের ইতিহাসে এক ইনিংসে নিয়েছেন সবচেয়ে বেশী ক্যাচ।

কামরুলের বলে ওয়াগনারের ক্যাচ তালুবন্দী করার মাধ্যমে পুরনো রেকর্ড ভেঙ্গে প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিনে নতুন এ রেকর্ড গড়েন ইমরুল কায়েস। এর পূর্বে এ রেকর্ডের মালিক ছিল পাকিস্তানের মাজিদ খান। ১৯৭৭ সালে ওয়াসিম বারির বদলে কিপিং করতে গিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চার ব্যাটসম্যানের ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন মাজিদ। বদলি উইকেট রক্ষকের ভূমিকায় একাধিকবার তিনটি করে ক্যাচ নেওয়ার কীর্তি রয়েছে। লালা অমরনাথ, আমের মালিক, ব্রায়ান চারি ও কুশল মেন্ডিস ছাড়াও নিউজিল্যান্ডের ল্যাথাম গ্লাভস হাতে ইনিংসে তিনটি করে ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন।

গ্লাভস হাতে বিশ্বরেকর্ড গড়ার পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতেও আলো ছড়াচ্ছিলেন ইমরুল কায়েস। তামিম ইকবালের সাথে ৪৬ রানের জুটি গড়ার পথে তড়িৎ গতিতে এক রান নিতে গিয়ে নিজের উইকেট বাঁচাতে ডাইভ দিলে ইঞ্জুরিতে পড়েন বাঁ-হাতি এ ব্যাটসম্যান। এরপর ইনিংসে আর ব্যাট করতে পারেননি তিনি, মাঠ ছাড়তে হয় স্ট্রেচারে করে।

‘আমাদের জন্য এই সফরটা বিরাট একটা চ্যালেঞ্জ’:ইমরুল কায়েস

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) শেষ না হলেও আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ড সফর। তবে নিউজিল্যান্ডের আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়াতে। সেখানেই হবে বাংলাদেশের ১০ দিনের ক্যাম্প। বিপিএলের ফাইনালে ওঠা ঢাকা ডায়নামাইটস ও রাজশাহী কিংসের ক্রিকেটার ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় দলের বাকি সদস্যরা বৃহস্পতিবার রাতেই অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে বিমানে চড়বেন।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ১০ দিনের ক্যাম্প শেষে নিউজিল্যান্ডে যাবে বাংলাদেশ দল। ক্রাইস্টচার্চে ২৬ ডিসেম্বর প্রথম ওয়ানডে দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ড মিশন। দুটি টেস্ট, তিন ওয়ানডে ও তিন টি-টোয়েন্টির এই সিরিজটাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন বাংলাদেশ দলের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েস। তবে কিউইদের মাটিতে অনেক কিছু প্রমাণ করার আছে বলেও মনে করেন ইমরুল।

নিউজিল্যান্ড সফর নিয়ে বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান বলেন, ‘আমি শুরু থেকেই বলে আসছি আমাদের জন্য এই সফরটা বিরাট একটা চ্যালেঞ্জ। নিজেকে শো করার অনেক কিছু আছে। আমি মনে করি সকলেরই আলাদা আলাদা পরিকল্পনা আছে। ভাল কিছু করার প্রত্যয় নিয়ে যাচ্ছে সবাই। আমরা যদি সকলে নিজেদের পরিকল্পনায় সফল হতে পারি তাহলে দলীয়ভাবে ভালো কিছু হবে।’

গত দুই বছরে ঘরের মাঠে বাংলাদেশ অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠলেও দুটি বিশ্বকাপ ছাড়া বিদেশ সফর করা হয়নি। তাই বাইরের মাঠের বাংলাদেশকেও দেখা যায়নি। এ নিয়ে ইমরুল বলেন, ‘বাংলাদেশ ঘরের মাঠে ভালো খেলছে, বাইরে পারছে না। ফিরতি সফরে যাচ্ছি অনেক দিন পর। নিউজিল্যান্ডে সিমিং কন্ডিশনে খেলা হয়। বিশ্বের অনেক বড় দলও সেখানে গিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হয়। আশা করছি সমস্যা হবে না, ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারবো।’

২০১০ সালে নিউজিল্যান্ড সফরটা দারুণ কেটেছিলো ইমরুলের। বাংলাদেশ তিনটি ওয়ানডেতেই হার মানলেও ইমরুল করেছিলেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। ক্রাইস্টচার্চে খেলেছিলেন ১০১ রানের ঝলমলে এক ইনিংস।  সেই অভিজ্ঞতা কাজে দেবে কি না? ইমরুল বলছেন, ‘সেটা ৬ বছর আগের একটি স্মৃতি। ৬ বছরে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়ে গেছে। ওটা নিয়ে আমি ভাবছি না। ওটা নিয়ে ভাবতে গেলে হবে না। এখন নতুন করে শুরু করতে হবে।’

বিপিএল খুব একটা ভালো যায়নি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে খেলা ইমরুলের। ১২ ম্যাচে করেছেন ২৫৭ রান। নিউজিল্যান্ড সফর দিয়ে ছন্দে ফেরার লক্ষ্যই থাকবে তার। সফরে নিজের ব্যক্তিগত লক্ষ্য নিয়ে ইমরুল বলেন, ‘এটা আসলে নিজের কাছে। প্রতিটি সিরিজেই একজন ক্রিকেটার নিজের মতো করে লক্ষ্য স্থির করে নেন। কেউ সফল হন আবার কেউ হন না। সবাই কিন্তু চেষ্টা করেন ভালো করার। আমার চেষ্টা থাকবে দলের জন্য ভালো কিছু করার। দলের জন্য খেলতে পারলে নিজের জন্যও খেলা হয়ে যাবে।’