Tag Archives: ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফর ২০১৬

বাংলাদেশের বিপক্ষে আরও টেস্ট খেলতে আগ্রহী ইংল্যান্ড

মেহেদি হাসান মিরাজ ও সাকিব আল হাসানের স্পিন ঘূর্ণিতে ইংল্যান্ডের মতো দলকে তিনদিনেই দিশেহারা করে তুলে ১০৮ রানের বড় জয় তুলে নিয়ে দুই ম্যাচ সিরিজে ড্র করেছে মুশফিকবাহিনী। ১০৮ রানের এই জয় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সাদা পোশাকে বাংলাদেশের প্রথম সাফল্য, একই সঙ্গে ঐতিহাসিকও বটে।

মুশফিক-মিরাজ-সাকিব-তামিমদের এমন পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে আগামীতে বাংলাদেশের বিপক্ষে আরও বেশি দ্বিপাক্ষিক টেস্ট সিরিজ খেলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) চেয়ারম্যান কলিন গ্রেভস।

বললেন, ‘বাংলাদেশ অনেক উন্নতি করেছে এবং ঘরের মাঠে তারা খুবই শক্তিশালী দল। আমি আশাকরি তারা এই উন্নতির ধারাবাহিকতা ধরে রাখবে। আর এখানের দর্শকের উন্মাদনাও অসাধারণ। যদিও সামনে আমাদের ব্যস্ত সূচি তবে আমরা বাংলাদেশের বিপক্ষে আরও খেলার চেষ্টা করবো।’

এছাড়াও সফরকারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ইসিবি চেয়ারম্যান, ‘বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সত্যি অসাধারণ। এককথায় বাংলাদেশ ক্রিকেট খেলার জন্য নিরাপদ দেশ। শুধু তাই না। সার্বিক ব্যবস্থাপনা ছিলো দারুণ। এজন্য বাংলাদেশ সরকার ও বিসিবিকে ধন্যবাদ।’

নাসের হুসেইনের চোখে সেরা মিরাজ

বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড সিরিজে স্কাই স্পোর্টসের হয়ে ধারাভাষ্যের কাজে বাংলাদেশে এসেছিলেন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক নাসের হুসেইন। সিরিজ শেষে দু’দলের প্রতিটি ক্রিকেটারের পারফরম্যান্স আলাদাভাবে বিচার করে দিয়েছেন রেটিং পয়েন্ট। যেখানে সবার ওপরে এই সিরিজে অভিষিক্ত মেহেদি হাসান মিরাজ।

চট্টগ্রামে অভিষেক টেস্টে সাত উইকেট নেওয়ার পর বাংলাদেশের তরুণ এই স্পিনার ঢাকা টেস্টে তুলে নেন ১২ উইকেট। মোট ১৯ উইকেট নিয়ে এই সিরিজে সেরা বোলার মিরাজের এমন পারফরম্যান্সে তাকে ১০ এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৯.৫ দিয়েছেন জনপ্রিয় এই ধারাভাষ্যকার ও কলামিস্ট।

মিরাজের পরই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেটিং সিরিজে একমাত্র সেঞ্চুরি হাঁকানো তামিম ইকবালের। পুরো সিরিজের সর্বোচ্চ ২৩১ রান করা বাঁ-হাতি এই ওপেনার রেটিং পেয়েছেন আট। ১২ উইকেটের সঙ্গে ১০৬ রান করা সাকিব আল হাসান ও অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম পেয়েছেন সাত রেটিং পয়েন্ট।

এছাড়া বাংলাদেশের বাকি ক্রিকেটারদের মধ্যে ইমরুল কায়েস সাত, সাব্বির রহমান ছয়, তাইজুল ইসলাম ছয়, মুমিনুল হক সৌরভ ৫.৫, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ পাঁচ,  শুভাগত হোম তিন, কামরুল ইসলাম রাব্বি দুই ও শফিউল ইসলাম দুই রেটিং পেয়েছেন।

ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ রেটিং পয়েন্ট বেন স্টোকসের। ১১ উইকেটের সঙ্গে ১২৮ রান করা ইংলিশ এই অলরাউরাউন্ডারকে নাসের হুসেইন দিয়েছেন ৮.৫ রেটিং। পাশাপাশি তাকে এই সিরিজে সেরা ইংলিশ পারফর্মারও হিসেবে বিবেচিত করেন নাসের।

এছাড়াও ইংল্যান্ডের বাকি ক্রিকেটারদের রেটিং- অ্যালিস্টার কুক পাঁচ, বেন ডাকেট ছয়, জো রুট ছয়, গ্যারি ব্যালেন্স দুই, জনি বেয়ারস্টো সাত, মঈন আলী সাত, ক্রিস ওকস সাত, আদিল রশিদ সাত, জাফর ‍আনসারি সাত, স্টিভেন ফিন চার, স্টুয়ার্ট ব্রড ৬.৫ ও গ্যারেথ ব্যাটি ছয়।

তামিমের কোন দোষ ছিল না: মাশরাফি

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতায় রয়েছে বাংলাদেশ।ইংলিশদের বিপক্ষে মুখোমুখি হওয়ার আগে দ্বিতীয় ম্যাচের অনাকাঙ্খিত ঘটনা নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশি অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।

বেন স্টোকসের সঙ্গে বাংলাদেশি ওপেনার তামিম ইকবালের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের আগে তামিমের কোনো দোষ ছিল না বলে জানিয়েছেন মাশরাফি।

মঙ্গলবার সম্মেলনে এ প্রসঙ্গে মাশরাফি বলেন, ‘আমি তামিমের পাশেই ছিলাম। তাকে আমি কোনো দোষ করতে দেখিনি। স্বাভাবিকভাবেই সে ইংল্যান্ড খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। পরে ভিডিওতে আমি তা দেখিতে পেয়েছি। তবে এর জন্য আমি ইংল্যান্ড খেলোয়াড়দেরও দোষ দিতে চাই না।’

বাটলারকে আউটের পর নিজেদের উদযাপন নিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘বাটলারকে আউটের পর ওই অবস্থাটাতে বেশ উত্তেজনা কাজ করেছিল। শুধু এখানেই নয় এর আগে ইংল্যান্ডে তাদের বিপক্ষে জিতেও আমরা এমন উদযাপন করেছিলাম। চট্টগ্রামে তাদের বিপক্ষে আমরা মাঠে স্বাভাবিক খেলাটাই দিতে খেলব।’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩য় ওয়ানডে দল ঘোষণা, নেই মোশাররফ

আফগানিস্তান সিরিজের শেষ ম্যাচে সুযোগ পেয়ে আলো ছড়িয়েছিলেন মোশাররফ রুবেল। তাই ইংল্যান্ড সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচের দলে জায়গা হারিয়েছিলেন তাইজুল ইসলাম। সিরিজের শেষ ম্যাচের বাংলাদেশ দলে সেই মোশাররফের বদলেই ফিরলেন তাইজুল।

প্রথম দুই ম্যাচের দল থেকে শেষ ম্যাচের দলে পরিবর্তন এই একটিই। একাদশে জায়গা হারালেও স্কোয়াডে টিকে গেছেন সৌম্য সরকার। এই সিরিজ দিয়ে ফেরা আল আমিন হোসেন প্রথম দুই ম্যাচে না খেললেও জায়গা ধরে রেখেছেন স্কোয়াডে।

তৃতীয় ওয়ানডের বাংলাদেশ দল: মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান (সহ-অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মোসাদ্দেক হোসেন, মাহমুদউল্লাহ, নাসির হোসেন, মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান, শফিউল ইসলাম, তাইজুল ইসলাম, আল-আমিন হোসেন, তাসকিন আহমেদ।

ব্যাট হাতে মাশরাফির রেকর্ড

২৯ বল ক্রিজে থাকলেন। তাতে করলেন মূল্যবান ৪৪ টি রান। এর সাথে অষ্টম উইকেট জুটিতে নাসির হোসেনকে সাথে নিয়ে যোগ করেন ৬৯ রান। আর এরই মধ্য দিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে ছক্কার ‘হাফ সেঞ্চুরি’ করে ফেললেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।

মঈন আলীর করা ৪৩ ওভারের প্রথম বলে লং অফে মাশরাফির হাঁকানো ছক্কাটাই ওয়ানডে ক্রিকেটে তার ৫০ তম ছক্কা। ম্যাচে মোট তিনটি ছক্কা হাঁকানো মাশরাফির ছক্বার সংখ্যা এখন ৫২।

এর আগে বাংলাদেশের হয়ে ছক্কার হাফ সেঞ্চুরি করেছেন আরও দু’জন। তারা হলেন তামিম ইকবাল (৬৪) ও মুশফিকুর রহিম (৫৩)।

সব ধরণের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ছক্কার সেঞ্চুরি করার দিক থেকে মাশরাফি আর মাত্র তিনটি ছক্কা দূরে আছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে এর আগে মাত্র একজনই করেছেন ছক্কার সেঞ্চুরি।

তিনি হলেন ওপেনার তামিম। টেস্ট ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে তার ব্যাট থেকে এসেছে মোট ১১৯ টি ছক্কা। এর বাদে মুশফিকুর রহিম ৯২ টি ও সাকিব ৭৭ টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন।

মাশরাফির নজর কাড়া পারফরমেন্সে দুর্দান্ত জয়

মিরপুরে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৩৮ রান করেছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। মাহমুদুল্লাহ সর্বোচ্চ ৭৫ রান করেন। মাশরাফি করেন ২৯ বলে ৪৪ রান। এছাড়া মোসাদ্দেক ২৯, নাসির ২৭, মুশফিক ২১, তামিম ১৪, ইমরুল ১১ রান করেন।
২৩৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৪৪.৪ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২০৪ রান তুলতে সক্ষম হয় ইংল্যান্ড। ফলে এই ম্যাচে ৩৪ রানে জিতে ১-১ ব্যবধানে সমতায় ফিরেছে বাংলাদেশ।

শুরুটা করেছিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছিলেন ইনিংসের শেষ দিকে এসে। বল হাতে ঝড় তুললেন শুরুতেই। ২৩৮ রানের পুঁজি নিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াই করাটা বেশ দুরহ। এমন পরিস্থিতিতে মাশরাফি বিন মর্তুজার সামনে শুরুতেই চাপে পড়ে গেলো সফরকারী ইংল্যান্ড। মাশরাফি তোপে মাত্র ২৬ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে ইংল্যান্ড।

শেষ উইকেট জুটি বাংলাদেশকে বেশ ভালোই ভুগিয়েছে। আদিল রশিদ আর জ্যাক বাল মিলে ৪৫ রানে জুটি গড়ে বাংলাদেশের জয় বিলম্বিত করেন। অবশেষে মাশরাফির বলে নাসিরের হাতে জ্যাক বাল ক্যাচ দিলে শেষ উইকেটটির পতন হয় এবং দুর্দান্ত জয়টি এসে যায় বাংলাদেশের। মাশরাফি ৮.৪ ওভার বল করে ২৯ রানে ৪টি উইকেট নেন। বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন ৩টি, সাকিব ও নাসির ১টি করে উইকেট নেন।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।

বিসিবি সভাপতির প্রশ্ন, কার জায়গায় খেলবেন নাসির?

আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে প্রমাণিত হয়েছে, বাংলাদেশের শেষ দশ ওভারের ব্যাটিং খুব ভালো হচ্ছে না। তাই এখন ভালোভাবেই আলোচনায় এসেছে, ব্যাটিংয়ের নিচের সারিতে একজন ফিনিশারের খুবই ওভাব।

এই ফিনিশার হিসেবে যার নামটি আলোচনায় এসেছে বেশি আলোচনায় এসেছে, তিনি হচ্ছেন নাসির হোসেন। দলে থাকলেও এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডারের বেশ কিছুদিন হলো একাদশে জায়গা হচ্ছে না। তাই এখন প্রশ্ন উঠেছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচের দলে স্থান পাবেন তিনি?

শনিবার রাজধানীর এক হোটেলে নাসির প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, ‘কার জায়গায় খেলবেন নাসির? নাসিরকে খেলাতে হলে বাদ দিতে হবে মোশাররফ হোসেন রুবেলকে। একজন বাঁহাতি স্পিনারকে বাদ দিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা খুব একটা সহজ হবে না। যেখানে তাদের চারজন ডানহাতি হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান রয়েছেন।’

নাসির দলে থাকলেও বেশ কিছুদিন ধরেই একাদশের বাইরে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ৪৬ রানের দারুণ একটি ইনিংস খেলেও নির্বাচকদের আস্থা কুড়াতে পারেননি তিনি। তাই এখন প্রশ্ন উঠেছে, আর কত উপেক্ষিত থাকবেন তিনি।

শঙ্কা নেই ইমরুল কায়েসকে নিয়ে

ব্যক্তিগত ৮০ রানের পর দুইরান নিতে গিয়ে পড়ে যান ইমরুল কায়েস। তারপর থেকে পুরো ইনিংসটা খেলেছেন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। ৩১০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে বাঁ-হাতি এই ওপেনারের ১১২ রানের ইনিংসটি ছিলো সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তারপরও জেতেনি বাংলাদেশ।

তবে আপাতত শঙ্কা মুক্ত বাঁ-হাতি এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয়টিতেই দলে পাওয়া যাবে ইমরুলকে। এমনটাই জানিয়েছেন, বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন।

বললেন, ‘এখনও ২৪ ঘন্টার মতো সময় আছে। আশা করি সে ফিট হয়ে যাবে। এই গরমে লম্বা সময় ব্যাটিং করা খুবই কঠিন। এই গরমে ইমরুল অনেকক্ষন টানা ব্যাটিং করেছে, এছাড়াও সে অনেক বেশি অনুশীলনও করেছে। হয়তো এ কারণেই হতে পারে। ফিজিও-ট্রেনার যারা আছে লিকুউইড, ফ্রুট খাওয়ানো এগুলো নিয়ে কাজ হচ্ছে।’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে বাঁ-হাতি এই ওপেনার আউটও হয়েছেন ওই চোটের কারণেই। ৩১০ রানের বড় লক্ষ্যে নিয়ে তামিম ইকবালেরে সাথে ব্যাটিং করতে নামা ইমরুল এদিনও খেলছিলেন সাবলীল ভঙ্গিমায়। কিন্তু দুর্ভাগ্য দলীয় ২৮০ রানের সময় লেগস্পিনার আদিল রশিদের করা অনেকটা বাইরের বল এগিয়ে মারতে যাওয়া ইমরুলকে আর পেছনে ফিরতে দেয়নি হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট। স্টাম্পড হয়ে সাজঘরে ফেরেন।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৩৭ রানের ইনিংস খেললেও পরের দুই ম্যাচে আর সুযোগ হয়নি। কিন্তু ফিরলেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই। তারও আগে ফতুল্লায় ইংলিশদের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে করা সেঞ্চুরিই এই ম্যাচে তাকে সুযোগ করে দেয়। নিজেকে প্রমাণও করলেন তিনি। ১১২ রানের ইনিংস খেলে সবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন। কিন্তু দূর্ভাগ্য ইমরুলের, শেষপর্যন্ত প্রায় জেতা ম্যাচ হাত ফসকে বের হয়ে যায়।

নাসিরকে না খেলানোর পক্ষে সুজন

ক্রিকেট ভক্ত-সমর্থকদের বড় একটা অংশ নাসিরের পক্ষে। সামাজিক প্রচার মাধ্যমে রীতিমত নাসিরকে খেলানোর আন্দোলন চলছে! টিম ম্যানেজমেন্টের ভাবনায়ও বিষয়টি আছে। ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনের কথায় পরিষ্কার, আগামী কালকের ম্যাচে যদি দলে একটি রদ-বদল হয়, তাহলে সেটা হবে রুবেলের জায়গায় নাসির।

কিন্তু বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার মোশারাফ রুবেলকে খেলানোর পক্ষেই মত দিয়েছেন। নাসিরকে না খেলানো এবং মোশাররফ রুবেলকে খেলানোর কারণ জানতে চাওয়া হলে খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, ‘মুলতঃ টিম কম্বিনেশনের কথা মাথায় রেখেই নাসিরকে বাইরে রাখা হচ্ছে।’

ম্যানেজার খালেদ মাহমুদের যুক্তি, ‘আমাদের দলে তিনজন একই ক্যাটাগরির ক্রিকেটার আছে- মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও নাসির হোসেন। তিনজনই মিডল অর্ডার কাম অফস্পিনার। আমরা যদি তিনজনকে একসঙ্গে খেলাই, তাহলে দলে বৈচিত্র্য কমে যায়। গঠন শৈলিতে কোনরকম বৈচিত্র্য থাকে না। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ অটোমেটিক চয়েজ। মোসাদ্দেক সৈকতও সাম্প্রতিক সময় ফর্মের চুড়ায়। তাই আমরা রিয়াদের সঙ্গে সৈকতকে বেছে নিয়ে নাসিরকে বাইরে রেখেছি।’

নাসিরের মেধা ও যোগ্যতার ওপরও আস্থা রয়েছে ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনের। তিনি বলেন, ‘তার মানে এই নয় যে, নাসির খারাপ পারফরমার কিংবা তার প্রতি আমাদের কোন আস্থা নেই। আমরা জানি তার মেধা, প্রজ্ঞা ও সামর্থ্য কতটা; কিন্তু তারপরও নাসিরকে খেলানোর সুযোগ পাচ্ছি না।’

এদিকে মোসাদ্দেক সৈকতকে খেলানোর যুক্তি দিয়ে টিম ম্যানেজার বলেন, ‘মোসাদ্দেক সৈকত আফগানিস্তানের বিপক্ষে অভিষেকে বল ও ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করে প্রতিশ্রুতি ও সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে। তাকে কি করে এক ম্যাচ পর বাদ দেয়া যায়? তিন তিনজন মিডল অর্ডার কাম অফস্পিনার এক সঙ্গে খেলানোর যৌক্তিকতাও কম। ক্রিকেটীয় যুক্তিতে কেউ তা সমর্থনও করবেন না।’

তিনি বলেন, ‘এ কারণেই আমরা নাসিরকে বাইরে রেখে বাঁ-হাতি স্পিনার মোশাররফ রুবেলকে একাদশে রেখেছি। সে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভাল বল করে তিন উইকেটের পতনও ঘটিয়েছে। তাকে পরের ম্যাচে ড্রপ করা কঠিন ছিল।’

গো নিউজ ২৪

৩ রেটিং পয়েন্টও মুঠো গলে বেরিয়ে গেল বাংলাদেশের

প্রতিটা ম্যাচ শেষ হয়। বাংলাদেশের পাঁড় ক্রিকেট ভক্তরা ক্যালকুলেটর নিয়ে বসে যান। কত রেটিং পয়েন্ট মিলল, কতটা হারাল। কী সমীকরণ দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশের। সব ২০১৯ বিশ্বকাপটা সরাসরি খেলার তীব্র চাওয়া থেকেই।

কাল প্রায় নিশ্চিত জয়টাই শুধু হারায়নি বাংলাদেশ, জিতলে নামের পাশে যে দুটি রেটিং পয়েন্ট যোগ হতো, হারিয়েছে সেই সম্ভাবনাও। শুধু তা-ই নয়, এই ম্যাচ হেরে যাওয়ায় নিজেদের আগের রেটিং থেকে কমে গেছে এক পয়েন্ট। জিতলে বাংলাদেশের পয়েন্ট হতো ৯৭, এখন সেটি হয়ে গেছে ৯৪। শুধু পরাজয়ের কারণে বাংলাদেশ ১ পয়েন্ট হারিয়েছে বটে; কিন্তু কালকের ম্যাচের প্রত্যেক দর্শক সাক্ষী, বাংলাদেশ সব মিলিয়ে আসলে হারাল তিন পয়েন্টই!
বিসিবির এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা অবশ্য এই সিরিজ শুরুর আগেই একটা সুখবর দিয়ে জানিয়েছিলেন, ইংল্যান্ড সিরিজ তো বটেই, বর্তমান এফটিপি অনুযায়ী ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাকি সব সিরিজে হারলেও নাকি বাংলাদেশ দলের সরাসরি ২০১৯ বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত। আইসিসিই বিসিবিকে এমন আভাস দিয়েছে বলে দাবি করেছিলেন সেই কর্মকর্তা।
কিন্তু তাঁর এই কথায় পুরো আস্থা রাখাও যাচ্ছে না। অনেকেরই মনে থাকার কথা, গত বছর এপ্রিলে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের একটি কথায় র‍্যাঙ্কিংয়ে নিয়ে বিভ্রান্ত দেখা দিয়েছিল। তখন বাংলাদেশের বেশির ভাগ সংবাদমাধ্যম নাজমুলকে উদ্ধৃত করে সংবাদ দিয়েছিল, বাংলাদেশ র‍্যাঙ্কিংয়ের পাঁচে উঠে এসেছে। এই খবর দিয়েছিল প্রথম আলোও। কিন্তু পরের দিনই প্রথম আলো আরও অনুসন্ধান করে জানতে পারে, নাজমুল পুরো ব্যাপারটি পরিষ্কার করতে পারেননি বলে এক ধরনের বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।
প্রতি বছর একটা নির্দিষ্ট সময়ে আইসিসি র‍্যাঙ্কিং সংশোধন/হালনাগাদ করে। এ সময় পুরোনো ম্যাচগুলো বাদ দিয়ে শুধু মাত্র আগের তিন মৌসুমের ম্যাচের হিসাব ধরা হয়। এ কারণে দেখা যায়, কখনো কখনো অপ্রত্যাশিতভাবে কোনো দলের রেটিং পয়েন্ট হুট করে বেড়ে গেছে। কোনো দলের রেটিং পয়েন্ট কমে গেছে। গত বছরও যেমন র‍্যাঙ্কিং সংশোধন করায় নতুন কোনো ম্যাচ না খেলেও বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট বেড়ে গিয়েছিল।
আইসিসির বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিতব্য র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আট দল ২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলবে। সে সময় র‍্যাঙ্কিং সংশোধন/হালনাগাদ করতে আইসিসি বিবেচনায় নেবে ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬, ও ২০১৬-১৭ মৌসুমের ফলাফলগুলো। আশার কথা হলো, ২০১৪ সালের নভেম্বর থেকেই বাংলাদেশ ওয়ানডেতে দুর্দান্ত খেলছে। এখন পর্যন্ত একটিও দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হারেনি। এর মধ্যে ওয়ানডে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালেও উঠেছিল। র‍্যাঙ্কিংয়ের সংশোধনের সময় এই ম্যাচগুলোই বেশি গুরুত্ব পাবে।
এ কারণে পরের সবগুলো সিরিজ হারলে হয়তো বাংলাদেশের ক্ষতি হবে না। হিসাবও তা-ই বলছে। কিন্তু আসল চিত্রটা তো এখনো পরিষ্কার করেনি আইসিসি: কোন তারিখ থেকে কত তারিখের ম্যাচ ধরা হবে; কোন মৌসুমের কত শতাংশ রেটিং পয়েন্ট যোগ হবে; আর সেটি হলে পুরো চিত্রটা কী দাঁড়ায়। এ ধারণা বাংলাদেশের কাছে এখনো অস্বচ্ছ। তাই ‘সিরিজ হারলেও ক্ষতি নেই’ এই বার্তায় নির্ভার না থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
তা ছাড়া ওই দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সিরিজ হারার কথা বলেছেন, সবগুলো ম্যাচ হারার কথা বলেনি। এই দুই কথার মধ্যে পার্থক্য আছে। যেমন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১-এ সিরিজ হারলে সিরিজের আগে ও পরের রেটিং সমানই (৯৫) থাকবে। অর্থাৎ সিরিজ হার আসলে রেটিং পয়েন্ট কমাবে না। কিন্তু যদি বাংলাদেশ ৩-০তে হারে? রেটিং পয়েন্ট হয়ে যাবে ৯১। তাই বিসিবির ওই দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কথায় পুরোপুরি আস্থা না রাখাই ভালো।
এ কারণে রেটিং পয়েন্ট ধরে রাখার ব্যাপারে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্টের সতর্ক থাকাই উচিত। সবচেয়ে বড় কথা, রেটিং-র‍্যাঙ্কিংয়ের জটিল গাণিতিক হিসাব একপাশে সরিয়ে রাখলেও তো বাংলাদেশের উচিত, সবগুলো ম্যাচই জেতার চেষ্টা করা। র‍্যাঙ্কিং তার কাজ নিজের মতো করেই করে নেবে।