Tag Archives: আমিনুল ইসলাম বুলবুল

মুশফিক-সাকিব-তামিম বাংলাদেশের উত্থানের রূপকার: আমিনুল ইসলাম বুলবুল

ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম)  ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত যুব বিশ্বকাপে একসঙ্গে পথচলা শুরু হয় মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের। এরপর জাতীয় দলের জার্সিতেও মাঠ মাতাতে থাকেন তারা। দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে ১২টি বছর। এই একযুগে অনেক ঝড় ঝাপটাই সামলেছেন এই তিনজন। বাংলাদেশের সর্বশেষ আট টেস্ট জয় সহ নিজেদের শততম টেস্টেও জয় তুলে নিতে অবদান ছিল এই ত্রয়ীর।

তাই তো এই ত্রয়ীকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের উত্থানের রূপকার বলে আখ্যায়িত করেছেন দেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান আমিনুল ইসলাম বুলবুল। কলম্বোতে নিজেদের শততম টেস্ট জয়ের পর ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে একটি কলাম লিখেছেন আমিনুল। সেখানেই বাংলাদেশের ক্রিকেটে মুশফিক-সাকিব-তামিমের অবদানের কথা তুলে ধরেছেন।

শততম টেস্ট জয়ে সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব এই তিনজনকেই দেওয়া উচিত জানিয়ে আমিনুল লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের অবিস্মরণীয় এবং ঐতিহাসিক শততম টেস্টে জয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব দেওয়া উচিত তিন ধারাবাহিক পারফরমার- অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম, যিনি মেহেদী হাসান মিরাজ জয়সূচক রান নেওয়ার সময় অন্য প্রান্তে ছিলেন, সাকিব আল হাসান প্রথম ইনিংসে করেছিলেন অসাধারণ এক সেঞ্চুরি, যার ফলে প্রথম ইনিংসে ১২৯ রানের লিড পেয়েছিল বাংলাদেশ, আর তামিম ইকবাল, যিনি ৮২ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে চার উইকেটের জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন।’

বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পেছনে এই তিনজনের পথচলা সহজ ছিল না উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, ‘এই তিনজন ক্রিকেটে একসঙ্গে যাত্রা শুরু করেছিলেন ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কায় আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের মধ্য দিয়ে। এরপর থেকে এই তিনজন বাংলাদেশের উত্থানের রূপকারে পরিণত হয়েছেন। যদিও এই পথচলা খুব সহজ ছিল না। কারণ বছরের পর বছর বাংলাদেশের জয়ের তুলনায় হারের সংখ্যাই বেশি। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং দিন দিন উন্নতি করে বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে আসার জন্য প্রয়োজন ছিল সিংহ হৃদয়ের। কারণ ক্রমাগত পরাজয় এবং হতাশা খুব সহজেই যে কারও স্বপ্ন এবং আবেগকে নষ্ট করে দিতে পারে।’

২০১২ এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে দুই রানের হারের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। স্বপ্নভঙ্গের পর সাকিব-মুশফিকদের কান্নার সেই স্মৃতিও উঠে আসে আমিনুলের লেখায়, ‘আমি নিশ্চিত, আমার মতো বাংলাদেশের সব ক্রিকেট সমর্থকদের এখনো মনে আছে, ২০১২ এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে দুই রানে হারের পর মুশফিক কিভাবে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। ওই অশ্রুগুলো ছিল বড় ইভেন্টে কারও কারও সাফল্য তুলে নিয়ে আসতে না পারার করুণ অনুভূতি। এই পর্যায়ে আমি নিজেও খুব গর্বিত এবং খুশি যে মানুষ আবার বাংলাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গে থেকেছেন। সাহস ও উৎসাহ জুগিয়েছেন। তবে সবচেয়ে বেশি থেকেছেন যেন মুশফিকই।’

শততম টেস্টে জয় তুলে নেওয়ার পর অধিনায়ক মুশফিক। ছবি: সংগৃহীত

এই সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের রোল মডেল হিসেবে এই তিনজনকেই দেখেন বুলবুল, ‘আপনি যদি এই সময়ে বাংলাদেশের কোনো রোল মডেল খুঁজে বের করতে চান, তাহলে আপনি মুশফিক, সাকিব, তামিমকে এড়িয়ে যেতে পারেন না।’

আমিনুলের চোখে বাংলাদেশের টেস্ট পরিভ্রমণের দ্বিতীয়ভাগের মেরুদণ্ড মুশফিক-সাকিব-তামিম, ‘এই তিন ক্রিকেটার মিলে খেলেছে ১৫০টির মতো টেস্ট। এর মধ্যে মুশফিক একাই খেলেছেন ৫৪টি। যার ৩০টিতেই তিনি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সুতরাং চোখ বন্ধ করে বলে দেওয়া যায়, এই ত্রয়ী বাংলাদেশের টেস্ট পরিভ্রমণের দ্বিতীয়ভাগের মেরুদণ্ড। একবার ভাবুন তো, এই তিন চ্যাম্পিয়ন কয়টি টেস্ট জিতিয়েছে বাংলাদেশকে? সাতটি (হবে আটটি), এই সংখ্যাটা সহজেই দুই অঙ্কে চলে যেতে পারত, যদি দল আরো অভিজ্ঞ হতো, বিশেষ করে দ্বিতীয় ইনিংসে। কেউ যদি খুব গভীরভাবে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক টেস্ট পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করে দেখেন, তাহলে কলম্বো টেস্টের ফল দেখে অবাক হবেন না।’

দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শেষে এবার বাংলাদেশের সামনে ওয়ানডে মিশন। শততম টেস্টে জয়ের ধারাবাহিকতা ওয়ানডেতেও নিয়ে যেতে পারবে বলে বিশ্বাস বুলবুলের, ‘শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডেতেও বাংলাদেশের রেকর্ড খারাপ নয়। কলম্বো টেস্টে জয়ের ধারাবাহিকতা তারা ওয়ানডেতেও নিয়ে যেতে পারবে আমার বিশ্বাস। কারণ, দলের মূল ক্রিকেটাররা রয়েছেন দারুণ ছন্দে। শ্রীলঙ্কাতেই বিশ্বকাপ নিশ্চিত করার দারুণ সুযোগ বাংলাদেশের। একই সঙ্গে আগামী দুই বছরের পরিকল্পনা সাজিয়ে তোলারও সুবর্ণ সুযোগ বাংলাদেশের সামনে, যা তাদের নিয়ে যাবে লর্ডস পর্যন্ত।’

লঙ্কানদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে জয় পেলে ২০১৯ বিশ্বকাপে খেলার রাস্তা আরও সুগম হবে বলে মনে করেন আমিনুল, ‘ওয়ানডে সিরিজে জিততে পারলে বাংলাদেশ ২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার ক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই ২০১৭ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করে তাদের ভক্ত-সমর্থকদের গৌরাবান্বিত করে তুলেছে। যে সুযোগটা এলো প্রায় ১১ বছর পর। যদি স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজটা জিততে পারে, তাহলে ২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার পথে অনেক দূর এগিয়ে যাবে টিম বাংলাদেশ।’

সূত্র: আইসিসি

হায়দরাবাদ আমাদের লাকি ভেন্যু

যা কেউ স্বপ্নেও ভাবেনি, ২০০০ সালের ১১ নভেম্বর সেটাই করেছিলেন আমিনুল ইসলাম। বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টেই করেছিলেন সেঞ্চুরি। সেদিনের প্রতিপক্ষ ভারতের বিপক্ষে আজ প্রথমবার অ্যাওয়ে টেস্ট খেলতে নামছেন তাঁর উত্তরসূরিরা। সুদূর মেলবোর্ন থেকে গতকাল টেলিফোনে মাসুদ পারভেজকে আমিনুল জানিয়েছেন এ ম্যাচকে ঘিরে নিজের স্বপ্নের কথা…

প্রশ্ন : এই সময় না আপনার হায়দরাবাদেই থাকার কথা শুনেছিলাম?

আমিনুল ইসলাম : হ্যাঁ, হায়দরাবাদ যাওয়ার আমন্ত্রণ ছিল। অন্তত টেস্টের যেকোনো একদিন উপস্থিত থাকতে পারলেও ভালো লাগত। কিন্তু অন্তহীন ব্যস্ততায় যেতেই পারলাম না আর।

প্রশ্ন : কী নিয়ে এত ব্যস্ত এখন?

আমিনুল : আফগানিস্তানকে টেস্ট মর্যাদা দেওয়ার একটি আলোচনা শুনেছেন নিশ্চয়ই। তা আইসিসির ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হিসেবে ওদের প্রজেক্ট পেপার তৈরির সঙ্গেও যুক্ত আছি। এ ছাড়া আইসিসি সারা বিশ্বের ২৫টি দেশকে ‘সাপোর্ট প্যাকেজ’ অফার করবে। এর মধ্যে চীনসহ এশিয়ার ৯টি দেশ সরাসরি আমার তত্ত্বাবধানে আছে। তা ব্যস্ততা এদের ক্রিকেট নিয়েও আছে।

প্রশ্ন : তাই বলে হায়দরাবাদে ভালো কিছুর প্রত্যাশা করবেন না?

আমিনুল : আরে, কেন করব না! তা ছাড়া হায়দরাবাদ আমাদের লাকি ভেন্যু। সবাই ১৯৯৭ সালে প্রথম ওয়ানডে জয়ের কথাই বলেন। আমি বলব আরো আগের কথা। আমাদের প্রজন্মের ক্রিকেটারদের তৈরি হওয়ার ক্ষেত্রেও ওই জায়গাটার অবদান আছে। একসময় বিসিবি একাদশ নাম নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় দল হায়দরাবাদে মঈনুদ্দৌলা ট্রফি খেলতে যেত। দলে না থাকলেও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে সুখস্মৃতি আছে আমাদের মুস্তাফিজেরও। তবে সব কথার শেষ কথা হলো, ভারত ১৬ বছর পর আমাদের খেলতে নিয়েছে। আমি চাই ছেলেরা সেই জেদ থেকে আরো ভালো খেলুক। যাতে এখন থেকে খেলার আমন্ত্রণ আসে ঘন ঘন। ব্যক্তিগতভাবে আমি পাঁচটি দিনই তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করতে চাই। মুশফিকরা হারলেও যেন ছাপ রেখে আসে। যেন প্রমাণ করে আসতে পারে বাংলাদেশ যোগ্য দল।-কালের কন্ঠ

এবার হাথুরুর ওপর খেপেছেন বুলবুল

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের দল গঠন দেখে কোচ হাথুরুসিংহের ওপর চটেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তিনি বলছেন, ঘরোয়া ক্রিকেটে যারা ভালো করছেন কোচ তাদের না নিয়ে নেট প্রাকটিসের ওপর ভিত্তি করে দল গঠন করেন। যার খেসারত দিচ্ছে বাংলাদেশ।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ছয় বছর পর তাদের মাঠে খেলতে নেমে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে মাশরাফিরা। সামনে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। রয়েছে টেস্ট সিরিজও।

‘কঠিন কন্ডিশনে তিনজনকে অভিষেক করানো খুবই হাস্যকর ব্যাপার। নাসির, আল-আমিন ভালো খেলেও দলে ঢুকতে পারছেন না। অথচ নেটে তানবীরের ব্যাট থেকে তিনি মাঠে নামিয়ে দিয়েছেন।’ বলেন বুলবুল।

বুলবুল বলেন, ‘পত্রিকায় দেখলাম কোচ ইতিমধ্যেই ঘোষণা করে ফেলেছেন যে সৌম্যকে অনেক বেশি সুযোগ দেয়া হয়ে গেছে বা সৌম্যকে খেলানো উচিৎ না। এ ধরনের বিবৃতি সাধারণত কোচের কাছ থেকে আসা উচিৎ না। কোচের কাজ হচ্ছে দলকে কোচিং করানো। এ ধরনের সিদ্ধান্তগুলো সাধারণত নির্বাচক কমিটির প্রধান কিংবা অধিনায়কই নেন। দলটা হওয়া উচিৎ অধিনায়কের পছন্দের। আমরা কোচকে অতিরিক্ত প্রাধান্য দিয়ে আজ পর্যন্ত তাকে অনেকগুলো উইং দিয়ে দিয়েছি। যার কারণে সে তার মূল কোচিং থেকে দুরে সরে যাচ্ছে।’

হাথুরুর বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ করেন তিনি বলেন, ‘কোচ ঘরোয়া ক্রিকেটে ফলো করেন না। জাতীয় দলের খেলা না থাকলে ছুটিতে চলে যান। ঢাকায় ফিরে ওই নেট প্রাকটিস দেখে দল গড়েন!’

‘সাকিব–মিরাজরাই বাংলাদেশের শক্তি নিউজিল্যান্ডে’:আমিনুল

সাতানব্বইয়ে নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের প্রথম সফরটির কথা খুব মনে পড়ে আমিনুল ইসলামের। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক এর পরেও একবার ২০০১ সালে নিউজিল্যান্ড সফর করেছিলেন। দুই সফরের অভিজ্ঞতা খুব সুখকর না হলেও তাঁর ধারণা এবার সাকিব-তামিম-মোস্তাফিজ-মিরাজরা নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ভালোই করবেন। বাংলাদেশ দল নিয়ে তাঁর আত্মবিশ্বাসের মূল কারণ, দলের সমৃদ্ধ স্পিন বোলিং।

এবারের সফরে বাংলাদেশের স্পিনাররাই তুরুপের তাস হবেন—এমনটাই মনে করেন আমিনুল, ‘নিউজিল্যান্ড সফরে কন্ডিশন সম্পূর্ণ ভিন্ন হলেও আমাদের স্পিনার বিশেষ করে সাকিব আর মিরাজ যেকোনো পরিবেশেই নিজেদের সেরাটা দিতে পারে। তাদের প্রতি আমার একটাই পরামর্শ কন্ডিশনের কথা মাথায় না রেখে তারা যেন নিজেদের বোলিংটাই করে যায়। আমাদের স্পিনাররা জ্বলে উঠলে এই সফরে ভালো করা কোনো সমস্যাই না।’

নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে বাংলাদেশের স্পিনাররা কেন ভালো করবেন, সেটিরও ব্যাখ্যা দিলেন দেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান, ‘নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশের জন্য ফাস্ট বোলিং উপযোগী উইকেটই তৈরি করবে। সেখানে বাউন্স থাকবে, ঘাসের পরিমাণও সেখানে বেশি হবে। সাকিব কিংবা মিরাজ দুজনের বলেই বাউন্স থাকে। সবচেয়ে বড় কথা আমাদের স্পিনারদের হাতে অনেক অস্ত্র। বাঁ হাতি বোলার হওয়ার কারণে সাকিবের ব্যাটের আউটার এইজেই বেশি বল ফেলে। ইনার এইজে বল ফেলতেও তাঁর জুড়ি নেই। মিরাজের হাতে দুসরা আছে। গতির তারতম্য এনে ব্যাটসম্যানকে বিপদে ফেলতে তাঁর জুড়ি নেই, ওর বলে বাউন্সের ব্যাপারটাও মাথায় রাখুন। নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা কিন্তু স্পিন খেলতে খুব একটা অভ্যস্ত নয়। এ সবই আমাদের শক্তি। এই শক্তিগুলো ঠিকঠাক ব্যবহার করলে সাফল্য আসবেই।’

চোট কাটিয়ে মোস্তাফিজুর রহমানের ফেরার সঙ্গে সঙ্গে রুবেল হোসেন ও তাসকিন আহমেদের বোলিংকেও এই সফরে বাংলাদেশের বড় শক্তি হিসেবেই মনে করেন বিশ্বকাপে দেশের প্রথম অধিনায়ক। সেই সঙ্গে অধিনায়ক মাশরাফিও নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে নিজের সেরাটাই দিতে পারবেন বলে প্রত্যাশা আমিনুলের।

নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনটা বেশ কঠিন—এটা মানেন আমিনুল। রসিকতা করেই বললেন, ‘আমি যে দুটি সফরে গিয়েছি, সেই সফর দুটিতে কন্ডিশনই আমাদের সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছিল। ওখানকার কন্ডিশন কঠিন। কিন্তু সেই কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার মতো ক্রিকেটার আমাদের এবারের দলটিতে যথেষ্ট আছে। গত বিশ্বকাপেই তো হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটিতে শুরুর দিকে বলের সুইং আর মুভমেন্ট সামলে বাংলাদেশ দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছিল। মাহমুদউল্লাহ সেঞ্চুরি করেছিল। এই সফরে হয়তো উইকেট একটু ভিন্ন হবে। কিন্তু কন্ডিশন সামলে ওঠার প্রস্তুতি বাংলাদেশের থাকবে বলেই আমার বিশ্বাস। নিউজিল্যান্ডে পা রাখার আগে অস্ট্রেলিয়ায় প্রস্তুতি ম্যাচ দুটি দারুণ কাজে লাগবে।’
নিজের দুটি সফরের অভিজ্ঞতা থেকে নিউজিল্যান্ডে উইকেটগুলোকে বেশ অদ্ভুতই মনে হয়েছে তাঁর কাছে, ‘নিউজিল্যান্ডের উইকেট হচ্ছে ইংল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়ার উইকেটের সংমিশ্রণ। এতে ইংলিশ উইকেটের মতো সুইং আর মুভমেন্ট থাকবে, থাকবে অস্ট্রেলীয় উইকেটের মতো বাউন্স।’
চার কিউই পেসারকে তাদের মাঠে সামলানোটাকে বড় চ্যালেঞ্জ মনে করেন আমিনুল, ‘ওরা চারটা ফাস্ট বোলার খেলাবে। বিশেষ করে ট্রেন্ট বোল্ট আর টিম সাউদি ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। ওদেরকে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা কীভাবে সামলায়, সেটির ওপরই নির্ভর করছে অনেক কিছু।’

বাংলাদেশ বনাম ভারত টেস্টে আমন্ত্রণ পেনেন বুলবুল

ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির এশিয়ান অঞ্চলের গেম ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে আগামী বছর ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বহু প্রতীক্ষিত একমাত্র টেস্ট ম্যাচ মাঠে বসে দেখার জন্য বিশেষ আমন্ত্রণ পেয়েছেন।

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ২০০০ সালে টেস্ট ক্রিকেটে পদযাত্রা শুরু করা বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল, কটেস্ট স্ট্যাটাসের ১৬ বছর অতিক্রম হলেও এখনো পর্যন্ত ভারতের মাটিতে কোন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে পারেনি। দেরীতে হলেও এ আক্ষেপ ঘুচতে যাচ্ছা টাইগারদের যদিও পূর্ণাজ্ঞ কোন সিরিজ নয় ভারতের বিপক্ষে আসছে ফেব্রুয়ারিতে কেবলমাত্র একটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।

২০০০ সালে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশের হয়ে প্রথম ম্যাচের শতক হাঁকানোর কীর্তি গড়েন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল। সেই ম্যাচে ১৪৫ রানের কাব্যিক ইনিংস খেলেন এ কীর্তি ক্রিকেটার। দীর্ঘ ১৬ বছর পর ঐ ইনিংসের সুবাদেই ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বাংলাদেশ বনাম ভারতের ম্যাচ দেখার জন্য বিশেষ আমন্ত্রণ পেলেন বুলবুল।

অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগো নিউজকে খবরটি নিশ্চিত করে আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানান, “হায়দারাবাদ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান সভাপতি আরশাদ আইয়ুব ও হায়দারাবাদ রাজ্য ক্রিকেটের অন্যতম প্রাণপুরুষ মানসিং আমিনুলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, হায়দারাবাদ যাত্রার জন্য সৌজন্য বিমান টিকিটও দেয়া হচ্ছে তাকে।”

খেলার সর্বশেষ নিউজ পেতে সঙ্গে থাকেন……….

%d bloggers like this: