Tag Archives: আফিফ হোসেন ধ্রুব

কে এই আফিফ হোসেন ধ্রুব?

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলতি আসরের শুরুতে নামও ছিল না তার। কিন্তু যুব দলের হয়ে অনুশীলন আর অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রস্তুতি ম্যাচের মারকুটে ব্যাটিংই ধ্রুবকে সুযোগ পাইয়ে দেয় বিপিএলে। আর রাজশাহী কিংসের জার্সি গায়ে স্বপ্নের মতই এক অভিষেক ঘটলো ১৭ বছর বয়সী এই তরুণের।

বিপিএলের নিজের অভিষেক ম্যাচেই তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এই তরুণ তুর্কী। বল হাতে মাত্র ২১ রান খরচায় পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে তিনি একাই ধসিয়ে দিয়েছেন চিটাগং ভাইকিংসের ব্যাটিং লাইন আপ। সেই সঙ্গে টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে কম বয়সে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তিও গড়েন ডানহাতি এই অফস্পিনার। আগের রেকর্ডটি ছিল পাকিস্তানের লাহোর লায়ন্সের বাঁ-হাতি পেসার জিয়া উল হকের।

তবে, ধ্রুবর মূল পরিচয় কিন্তু বোলার নয়।

আফিফ হোসেন ধ্রুব এর চিত্র ফলাফল

তিনি মূলত ব্যাটসম্যান, ব্যাট করে থাকেন টপ অর্ডারে। চলতি মাসেই শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য যুব এশিয়া কাপে অংশ নেওয়ার জন্য বিকেএসপিতে দুই সপ্তাহের ক্যাম্পে তিনটি অনুশীলন ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ দল। সেখানে ধ্রুব প্রথম ম্যাচে দেড়শ রানের ইনিংস খেলেন। পরের ম্যাচেও দেখা পান সেঞ্চুরির। আর তৃতীয় ম্যাচে খেলেন সত্তরোর্ধ্ব ইনিংস।

বাঁ-হাতি এই ওপেনারের মারকুটে ব্যাটিং দেখেই তাকে দলে নেয় রাজশাহী কিংস। নিজেদের টপ অর্ডারে একজন ইনফর্ম ব্যাটসম্যানের অভাব বোধ করছিল রাজশাহী। তাই তো তাকে দলে নিতে বিলম্ব করেনি দলটি। তবে দলে ডাক পেলেও সুযোগ মিলছিল না একাদশে। রনি তালুকদার ইনজুরিতে পড়ার পর অভিজ্ঞ বাঁহাতি ওপেনার জুনায়েদ সিদ্দিককে খেলানোয় রাজশাহীর ডাগ আউটে কাটছিল ধ্রুবর সময়।

অবশেষে শনিবার তার অপেক্ষার প্রহর ফুরায়। চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে একাদশে জায়গা পান আফিফ। আর অভিষেকেই কি অভাবনীয় পারফর্মই না করলেন তিনি!

ইনিংসের পঞ্চম ওভারে আক্রমণে আসেন আফিফ। তার বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন জহুরুল হক। নিজের দ্বিতীয় ওভারে আফিফের শিকারে পরিণত হন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ফেরিওয়ালা ক্রিস গেইল।

ব্যক্তিগত তৃতীয় ওভারেও সাফল্য পান ধ্রুব। ফিরিয়ে দেন জাকির হাসানকে। ব্যক্তিগত শেষ ওভারে আরও বিধ্বংসী রুপে আবির্ভূত হন আফিফ। প্রথম বলে সাকলাইন সজীবকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন ডানহাতি এই অফ স্পিনার। ওভারের শেষ বলে ইমরান খানকে সাজঘরে। সেই সঙ্গে বিপিএলের অভিষেক ম্যাচেই পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন ধ্রুব।

শেষ ওভারটা ছিল ডাবল উইকেট-মেইডেন। মোট চার ওভারে রান দিলেন মাত্র ২১ টি। বোলিং ফিগারটা দিন শেষে দারুণ দেখাচ্ছে: ৪-১-২১-৫!

মজার ব্যাপার হল, তিন মাস আগেও ধ্রুবর বোলিং অ্যাকশন ছিল অবৈধ। এরপর বোলিং অ্যাকশন নিয়ে কাজ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরীক্ষায় উৎরে তবেই পান বোলিং করার অনুমতি। অ্যাকশন শুধরে নেওয়ার পর তার বোলিং হয়েছে আরও ক্ষুরধার। তার প্রমাণ বিপিএলের অভিষেক ম্যাচেই দিলেন তরুণ এই ক্রিকেটার।

১৯৯৯ সালের সেপ্টেম্বরে খুলনায় জন্ম নেওয়া ধ্রুব বিকেএসপির শিক্ষার্থী। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে গেল মৌসুমে সাত ম্যাচ খেলা ধ্রুবর ঝুলিতে জমা হয়েছিল সাত উইকেট। বিপিএল শেষে ধ্রুব আবারও ফিরে যাবেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অনুশীলনে। সামনেই তো যুব এশিয়া কাপ। এবার সেখানে নিজেকে প্রমানের পালা!