Tag Archives: আইসিসি

শীর্ষ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান

শততম টেস্টের জয় যেন একের পর এক সুখবর এনে দিচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে শীর্ষ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ টেস্টের পারফরম্যান্স দিয়ে সাদা পোশাকেও সেরা অলরাউন্ডারের স্থানটা দখল করেছেন।

অর্থাৎ, সেরার মুকুটে শেষ পালকটিও নিজ হাতে গুঁজে নিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই বিজ্ঞাপন। তিনিই একমাত্র ক্রিকেটার যিনি তিন ফরম্যাটেই অলরাউন্ডার হিসেবে শীর্ষস্থান দখলে রেখেছেন।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) প্রকাশিত সর্বশেষ র‍্যাংকিং অনুযায়ী ভারতীয় অলরাউন্ডার রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে পেছনে ফেলে টেস্টে সেরা অলরাউন্ডারের মুকুট পুনরুদ্ধার করেছেন সাকিব।। সাকিবের পয়েন্ট ৪৩১, অশ্বিনের ৪০৭। তিন নম্বরে রয়েছেন আরেক ভারতীয় রবীন্দ্র জাদেজা।

শুধু অলরাউন্ডারই নয়, বোলার ও ব্যাটসম্যানের র‌্যাংকিংয়েও উন্নতি হয়েছে সাকিবের। পি সারা ওভালে সেঞ্চুরি করা সাকিব পাঁচ ধাপ এগিয়ে ২১ নম্বরে উঠে এসেছেন। বোলিংয়ে ছিলেন ১৮ নম্বরে। নতুন অবস্থান ১৭ তে।

টেস্ট র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বড় পরিবর্তন

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ ১-০ তে জিতলে র‍্যাংকিংয়ের আটে উঠে আসতো বাংলাদেশ। কিন্তু ১-১ ব্যবধারনে ড্র হওয়ায় র‍্যাংকিংয়ে পরিবর্তন আসেনি। তবে উন্নতি হিসেবে যোগ হয়েছে পাঁচ রেটিং পয়েন্ট। শুধু দল নয়, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বদৌলতে বাংলাদেশের পাঁচজন ক্রিকেটারের র‍্যাংকিংয়ে পরিবর্তন এসেছে।

দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন সাকিব আল হাসান টেস্ট অলরাউন্ডারের শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছেন। ৪৩১ পয়েন্ট নিয়ে পিছনে ফেলেছেন ভারতের রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে। অর্থাৎ, আবারও ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই শীর্ষ অলরাউন্ডার হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন সাকিব।

উন্নতি হয়েছে ব্যাটসম্যান সাকিবেরও। পি সারা ওভালে সেঞ্চুরি করা সাকিব পাঁচ ধাপ এগিয়ে ২১ নম্বরে উঠে এসেছেন। বোলিংয়ে ছিলেন ১৮ নম্বরে। নতুন অবস্থান ১৭ তে। টেস্টে ৩৩তম ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল নতুন র‍্যাংকিংয়ে এগিয়েছেন ৯ ধাপ। তার নতুন অবস্থান ২৪। একধাপ এগিয়েছেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। ২৯তম স্থান থেকে জায়গা করে নিয়েছেন ২৮ এ।

বোলিংয়ে তাক লাগিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই টেস্টে মোট আট উইকেট নেওয়া বাঁ-হাতি এই পেসার এগিয়েছেন ২০ ধাপ। ‘কাটার মাস্টার’ খ্যাত মুস্তাফিজের নতুন অবস্থান ৪৭ নম্বরে। এছাড়া পি সারা ওভালে বাংলাদেশের শততম টেস্ট দিয়ে অভিষেক হওয়া মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত এক ম্যাচ খেলেই ৮৮ নম্বরে জায়গা করে নিয়েছেন।

দল হিসেবে টেস্টে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট বেড়েছে পাঁচ। অষ্টম অবস্থানে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের (৬৯) চেয়ে তিন পয়েন্ট কম পেয়ে অর্থাৎ, ৬৬ পয়েন্ট নিয়ে নয় নম্বরেই অবস্থান করছে বাংলাদেশ।

ক্রিকেটে যে ৭ টি কঠিন নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে আইসিসি

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা আইসিসি ক্রিকেট খেলায় আনছে নতুন কিছু নিয়ম। নতুন সেই নিয়মগুলো শিগগিরই চালু করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে ক্রিকেটের আইনপ্রণেতা সংস্থা মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)। এক নজরে দেখা নেওয়া যাক সেই নিয়মগুলো:

১, ব্যাটের আকার ছোট করা হবে। প্রয়োজনে ‘ব্যাট গজ’ দিয়ে মেপে দেখা হবে ব্যাট। এই নিয়ম অনুযায়ী ব্যাটের প্রস্থ ১০৮ মিলিমিটারের (৪.২৫ ইঞ্চি) বেশি হতে পারবে না। সর্বোচ্চ ৬৭ মিলিমিটার পুরু হতে পারবে কোনো ব্যাট। আর কিনারা হবে ৪০ মিলিমিটার।

২, অতিরিক্ত আবেদন আর আম্পায়ারর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলে সতর্ক করে দেওয়া হবে

খেলোয়াড়দের। একই অপরাধ দ্বিতীয়বার করলে পাঁচ রান করে জরিমানা করা হবে।

৩, প্রতিপক্ষ কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে ইচ্ছা করে ধাক্কা খেলে বা কারও দিকে বল ছুড়ে মারলেও পাঁচ রান করে জরিমানা করা হবে।

৪, আম্পায়ারকে হুমকি দেওয়া বা সহিংসতা দেখালে আম্পায়ার নির্দিষ্ট ওই খেলোয়াড়কে সাময়িক সময়ের জন্য বা চূড়ান্তভাবে মাঠ থেকে বের করে দিতে পারবেন।

৫, ‘মানকড় আউট’-এর ক্ষেত্রে বোলারদের সুবিধা আরও বাড়ছে। বোলার বোলিং করার সময় নন-স্ট্রাইকার ব্যাটসম্যান উইকেট থেকে বেরিয়ে এলে তাঁকে রানআউট করতে হলে বোলারকে আগে ক্রিজে ঢুকতে হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী ক্রিজে না ঢুকেই বোলার ওই ব্যাটসম্যানকে রানআউট করতে পারবেন।

৬, ক্রিকেটে মোট আউট দশ থেকে কমে নয়ে চলে আসছে। ‌‌‌বল ডেড হওয়ার আগে ব্যাটসম্যান হাত দিয়ে বল ধরলে ফিল্ডারদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ‌‘হ্যান্ডল দ্য বল’ আউট দেওয়া হতো। এই আউট থাকছে, তবে তা এখন ‌‘অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড’ আউটের আওতায় আনা হবে। হ্যান্ডল দ্য বল আউটটি তাই থাকছে না।

৭, ব্যাটসম্যান নিরাপদ সময়ে ক্রিজ পার হওয়ার পর আবারও যদি তাঁর ব্যাট বা শরীর শূন্যে ভেসে ওঠে, সে সময় উইকেট ভেঙে দিলেও নটআউট থাকবেন ওই ব্যাটসম্যান। একবার নিরাপদে ক্রিজে ঢুকে পড়াটাকেই গণ্য করা হবে। সূত্র: এমসিসি

নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলীয়া-শ্রীলংকাকে ছাড়িয়ে গেল বাংলাদেশ

বিশ্বের পঞ্চম ধনী ক্রিকেট বোর্ড হিসেবে উঠে এসেছে সাকিব-তামিম-মুশফিক-মাশরাফিদের বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া,  নিউজিল্যান্ড থেকেও এগিয়ে বিসিবি।

এক হাজার কোটি টাকারও বেশি আয়ের ভাগ কমছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই)। তারপরও বিশ্বের সর্বোচ্চ আয় করা এই বোর্ডটি ধনী বোর্ডের তালিকায় এক নম্বরে। আইপিএল এ উপার্জনের মূল কাণ্ডারি।

নতুন অর্থনৈতিক মডেলের চিত্রে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সম্ভাব্য আয়ের ভাগ ৭৫-৮০ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১১০-১১৫ মিলিয়ন ডলার হচ্ছে। বিসিবির সম্ভাব্য আয় বাড়ছে ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার। ২০২৩ সাল পর্যন্ত আইসিসি থেকে এই পরিমাণ টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা আছে বিসিবির।

 

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান সম্পত্তির পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪১০ কোটি টাকা। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার মাত্র ১৭৫ কোটি টাকার মতো। বছরে আয়ের দিক দিয়ে টিভি রাইটস, বিগব্যাশ, অন্যান্য স্পন্সর, আইসিসি থেকে প্রাপ্ত অর্থ বাবদ বছরে প্রায় ৭৫ কোটি টাকার মতো আয় করেছে অস্ট্রেলিয়া। বিসিবির আয় প্রায় ৭০ কোটি টাকার মতো। তবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ব্যয় তুলনামূলক বেশি হওয়ায় বছরে তাদের নিট আয় ২৫ কোটি টাকার মতো। অন্যদিকে বিসিবির নিট আয় ৪৫ কোটি টাকার বেশি।

ধনী ক্রিকেট বোর্ডের তালিকা:

১। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড-২৯৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার

২। ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা-৭৯ মিলিয়ন ইউএস ডলার

৩। ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড-৫৯ মিলিয়ন ইউএস ডলার

৪। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড-৫৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার

৫। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-৫১ মিলিয়ন ইউএস ডলার

৬। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ড-৩৮ মিলিয়ন ইউএস ডলার

৭। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া-২৪ মিলিয়ন ইউএস ডলার

৮। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড-২০ মিলিয়ন ইউএস ডলার

৯। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড-১৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার

১০। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড-৯ মিলিয়ন ইউএস ডলার

তথ্যসূত্রঃ বাংলানিউজ২

টেস্ট মর্যাদা ‘স্থায়ী’ কিছু নয়

আইসিসির স্থায়ী সদস্যপদ এখন থেকে প্রতি পাঁচ বছর পরপর মূল্যায়ন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো জানিয়েছে, সদস্য দেশগুলোর ক্রিকেট বোর্ডের কাছে পাঠানো এক ই-মেইলে আইসিসি টেস্ট মর্যাদা পুনর্মূল্যায়নের ব্যাপারটি ব্যাখ্যা করে বলেছে, পূর্ণ সদস্যপদ কোনো দেশের জন্যই স্থায়ী কিছু নয়। পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে একটি পূর্ণ সদস্য দেশ সহযোগী সদস্য দেশে পরিণত হতে পারে। ই-মেইলে আরও জানানো হয়েছে, এখন থেকে আইসিসিতে অনুমোদিত সদস্য বলে কিছু থাকছে না। টেস্ট মর্যাদা পাওয়া দেশগুলোর পূর্ণ সদস্যপদ প্রতি পাঁচ বছর আর সহযোগী সদস্য দেশগুলোকে প্রতি দুই বছর পরপর মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সম্প্রতি দুবাইয়ে আইসিসির নির্বাহী কমিটির সভায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে জবাবদিহি সৃষ্টির লক্ষ্যে এ ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়।
আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের মতো নতুন দেশগুলোকে টেস্ট খেলার সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যেই এমন সিদ্ধান্ত হচ্ছে। সেই সঙ্গে টেস্ট ক্রিকেটে সেভাবে নিজেদের মেলে ধরতে না পারা জিম্বাবুয়ে, এমনকি ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো সদস্যদের ওপর চাপও সৃষ্টি করাই আইসিসির এই প্রস্তাবের লক্ষ্য।
এ ব্যাপারে একটি মূল্যায়ন কমিটিও (মেম্বরশিপ কমিটি) গঠন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেই কমিটি পূর্ণ ও সহযোগী সদস্য দেশগুলোকে মূল্যায়ন করে নেবে সিদ্ধান্ত। এই কমিটিই আইসিসির সহযোগী সদস্যপদের আবেদন যাচাই-বাছাই করে নতুন দেশকে সদস্যপদ দেওয়া আর বাজে পারফরম্যান্সের কারণে যেকোনো পূর্ণ সদস্য দেশকে সহযোগী সদস্য দেশ হিসেবে অবনমিত করার সিদ্ধান্ত নেবে।

মার্চে ঢাকায় আসছে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি

আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির অষ্টম আসর শুরু হবে আগামী এক জুন। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ে থাকা আটটি দেশ অংশ নেবে এই টুর্নামেন্টে। টুর্নামেন্ট ক্ষণগণনার হিসেবে আর ১০০ দিন বাকী আছে। তবে আসল আসর শুরুর আগেই ট্রফির যাত্রা শুরু হয়ে যাবে।

মঙ্গলবার আইসিসির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে নিশান ট্রফির ভ্রমনের সময় ও তারিখ। ভ্রমণে প্রতিযোগিতা করতে যাওয়া আট দেশের মোট ১৯টি শহরে ঘুরে বেড়াবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ট্রফিটি।  ভ্রমণের সময়-সূচী অনুযায়ী ট্রফিটি বাংলাদেশে আসবে ১৮ মার্চ। বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তরা এই ট্রফি দেখার সুযোগ পাবেন পুরো চারদিন। ১৮ থেকে ২১ মার্চ ঢাকায় থাকবে এটি।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। ছবিঃ সংগৃহীত

দুই মার্চ ভারত থেকে শুরু হবে ট্রফির ভ্রমন। দুই থেকে ১৫ মার্চ ঘুরবে ভারতের মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও দিল্লি শহরে। এর পর ঢাকা থেকে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া হয়ে দুই মে ট্রফি পৌঁছাবে ইংল্যান্ডে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সরিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। ২০১৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত র‍্যাংকিংয়ের আটে থাকা দেশগুলোই কেবল অংশ নিতে পারবে এই টুর্নামেন্টে। আটটি দল দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে। ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের সাথে আছে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। ‘বি’ গ্রুপে আছে ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কা।

আইসিসির নতুন প্রস্তাবনায় খুশি বিসিবি

বিগ থ্রি তত্ত্ব বাদ দেয়ার প্রস্তাবে স্বস্তিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। আইসিসির দ্বি-স্তর টেস্ট কাঠামোর নতুন প্রস্তাবনা-কে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ। লিগ ভিত্তিক এই কাঠামোয় টাইগারদের টেস্টের সংখ্যা বাড়বে বলছেন বোর্ড কর্তারা। ক্রিকেটের বিশ্বায়নে নতুন এই প্রস্তাবনা কার্যকর হবে বলেও বিশ্বাস ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের।

২০১৬তে আইসিসির দ্বিস্তর টেস্ট কাঠামোর পরিকল্পনা নাড়িয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশকে। সে সময় বিসিবির শক্ত অবস্থান বিফলে যায়নি। এক বছর পর আবারো আইসিসির দ্বিস্তর টেস্ট প্রস্তাবনা। এবারে কোন হুমকি নেই বাংলাদেশের জন্য। নতুন এই কাঠামোয় বরং লাভবান হবে বিসিবি।

নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী টেস্ট র‍্যাংকিংয়ের নয় নম্বর দল বাংলাদেশ থাকছে প্রথম স্তরে। র‍্যাংকিংয়ের প্রথম নয় দেশ নিজেদের মধ্যে হোম এন্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে খেলবে। আর পরের সারির তিন দল খেলবে নিজেদের মধ্যে। শর্তসাপেক্ষে তারাও বড় দলগুলোর সাথেও নামতে পারবে। লিগ পদ্ধতিতে খেলা হওয়ায় পুরো লিগে আট প্রতিপক্ষের সঙ্গে ঘরের মাঠে আটটি আর প্রতিপক্ষের মাঠে আটটি সিরিজ খেলার সুযোগ পাবে দল।

তবে শংকাও থাকছে এই নিয়মে ব্যর্থতায় অবনমন হতে পারে দ্বিতীয় স্তরে। আফগানিস্তান-আয়ারল্যান্ডের টেস্ট স্ট্যাটাস ক্রিকেটের অগ্রগতির পক্ষেই থাকবে। বিসিবি ক্রিকেটের বিশ্বায়নের পক্ষে তবে নিজেদের ঘর গুছিয়ে রাখতে সবসময়-ই সচেষ্ট।

১৪ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলেছিলো বাংলাদেশ, ইংল্যান্ডে খেলেছে সাত বছর আগে। টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর এই প্রথম ভারতের মাটিতে টেস্ট খেলছে টাইগাররা। নতুন নিয়ম অনুমোমদন পেলে এসব দেশে নিয়মিত টেস্ট খেলার সুযোগ মিলবে।

দ্বিস্তরের ক্রিকেট—বাংলাদেশের জন্য কতটা ভালো?

বাংলাদেশ শেষবার কবে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে টেস্ট খেলেছিল? প্রশ্নের উত্তরটা খুঁজতে গিয়ে ধাক্কাই খেতে হবে সবাইকে। টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার তিন বছরের মাথায় ২০০৩ সালে ডারউইন ও কেয়ার্নসে গিয়ে দুটি টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। সে-ই শেষ। ২০০৮ সালে সেই ডারউইন ও কেয়ার্নসে গিয়ে ওয়ানডে সিরিজ খেলা হলেও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট আর খেলা হয়নি।

অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সর্বশেষ টেস্টই বাংলাদেশ খেলেছিল ১১ বছর আগে। ফতুল্লার সেই ‘প্রায় জিতে যাওয়া’ টেস্ট আর চট্টগ্রামে জেসন গিলেস্পির অপ্রত্যাশিত ডাবল সেঞ্চুরির দুটি টেস্টই দীর্ঘ পরিসরে বাংলাদেশের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সর্বশেষ সাক্ষাৎ। ২০১১ বিশ্বকাপের পর ঢাকায় তিনটি ওয়ানডে দুই দলের মধ্যে সর্বশেষ দ্বিপক্ষীয় সিরিজ। ২০১৫ সালে নিরাপত্তাজনিত হুমকির কারণ দেখিয়ে টেস্ট সিরিজটা তো বাতিলই হয়ে গেল।
বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার ব্যাপারে ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়ার মতো অতটা অনাগ্রহী নয়। ২০০৫ সালের পর ২০১০ সালে ইংল্যান্ডে গিয়ে টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার ডারউইন ও কেয়ার্নসের মতো অপ্রচলিত ভেন্যু নয়, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস কিংবা ওল্ড ট্রাফোর্ডের মতো বিখ্যাত ভেন্যুতে খেলার সুযোগ হয়েছে বাংলাদেশের। কিন্তু সেটিও তো সর্বশেষ ২০১০ সালে। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বাংলাদেশ সর্বশেষ গিয়েছিল ৮ বছর পেরিয়ে গেছে। ভারতের প্রসঙ্গ তো বলাই বাহুল্য। টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার ১৭ বছর পর এবারই প্রথম টেস্ট খেলতে ভারত গেছে বাংলাদেশ।
বিশ্ব ক্রিকেটের বড় দলগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে খেলতে চায় না—এটি পুরোনো ব্যাপার। ১৬ বছর ধরে বিষয়টি সমাধানের অনেক চেষ্টা বাংলাদেশ করেছে, কিন্তু সফল হয়নি। বাংলাদেশের মতো দলকে আতিথ্য দেওয়ার আর্থিক দিকটা যে অতটা লাভজনক নয় বড় দলগুলোর কাছে।
তবে এবার আইসিসির নির্বাহী কমিটির বৈঠকে ক্রিকেটের তিন সংস্করণের সূচিতে যে পরিবর্তনের প্রস্তাব উঠেছে, তাতে বাংলাদেশের জন্য বেশ কিছু ইতিবাচক খবর তো আছেই। এতে যে বড় দলগুলোর সঙ্গে বেশি করে খেলার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশের। একটি টেস্ট খেলার পর আরেকটি খেলতে যে দীর্ঘ বিরতির যন্ত্রণা বাংলাদেশকে সইতে হচ্ছে, সেটিরও সমাপ্তি ঘটবে নির্বাহী কমিটির নতুন এই প্রস্তাব পাস হলে।
নির্বাহী কমিটি টেস্ট ক্রিকেটকে দুই স্তরে ভাগ করার পরিকল্পনা করছে। টেস্ট ক্রিকেটের ‘দ্বিস্তর’ কথাটা যে ধরনের আতঙ্ক নিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে হাজির হয়, এবারের প্রস্তাবিত ‘দ্বিস্তর’ ঠিক তেমনটি নয়। ২০১৬ সালে যে দ্বিস্তর টেস্ট ক্রিকেটের প্রস্তাব উঠেছিল, তাতে বাংলাদেশের বড় দলগুলোর সঙ্গে দেখা হওয়ার সুযোগই শেষ হয়ে যেতে বসেছিল। সেটি পরে আর বাস্তবায়িত হয়নি। তবে এবারের যে দ্বিস্তরের প্রস্তাব এসেছে তাতে বাংলাদেশ টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে নয়ে থাকার সুবাদে আছে প্রথম স্তরেই।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী র‍্যাঙ্কিংয়ের প্রথম নয়টি দল থাকছে প্রথম স্তরে। ১০ নম্বর দলের সঙ্গে আরও দুটো সহযোগী সদস্য দেশকে শর্ত সাপেক্ষে টেস্ট খেলার সুযোগ দিয়ে তৈরি হচ্ছে দ্বিতীয় স্তর।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী প্রথম নয়টি দলকে প্রত্যেকেই প্রত্যেকের সঙ্গে লড়তে হবে—ঘরে ও প্রতিপক্ষের মাঠে। লিগ পদ্ধতিতে খেলা হবে বলে বাংলাদেশ পুরো লিগে আট প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ঘরের মাঠে আটটি ও প্রতিপক্ষের মাঠে আটটি সিরিজ খেলবে। বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়া এলে বাংলাদেশকে আতিথেয়তা দিতে বাধ্য অস্ট্রেলিয়াও। ভারত যেমন ১৭ বছর পর বাংলাদেশকে তাদের মাটিতে টেস্ট খেলতে ডাকল, তখন আর এটি থাকবে না। ২০১৯ সাল থেকে যদি দ্বিস্তরের টেস্ট চালু হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই বড় দলের বিপক্ষে টেস্টের সংখ্যা বাড়বে বাংলাদেশের।
একই কথা প্রযোজ্য নতুন প্রস্তাবিত ১৩ দলের ওয়ানডে লিগের ব্যাপারে। টেস্ট খেলুড়ে ১০টি দেশের সঙ্গে এই লিগে যুক্ত হবে আফগানিস্তান-আয়ারল্যান্ডের মতো উদীয়মান ক্রিকেট-শক্তি। আইসিসির সহযোগী সদস্য দেশগুলোকে নিয়ে আয়োজিত প্রতিযোগিতা ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট লিগের চ্যাম্পিয়নও থাকছে এই লিগে। তিন বছরব্যাপী এই চক্রে আইসিসির হিসেবেই সবচেয়ে কম ওয়ানডে খেলা দলও বছরে ১২টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে।
ওয়ানডে লিগের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই ওয়ানডে বিশ্বকাপের সরাসরি যোগ্যতা অর্জন যেহেতু নির্ভর করছে, তাই দলগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেক বেড়ে যাবে। এটি একটি ভালো ব্যাপার। অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড-ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলগুলোর কাছে জিম্বাবুয়েও এখন অনেক গুরুত্ব পাবে। বাংলাদেশ তো পাবেই। দর্শক আগ্রহেও এটা একটা বড় প্রভাব রাখবে।
রেটিং পয়েন্টের ব্যাপার থাকায় কোনো সমর্থকেরা অন্য দলের সিরিজগুলোর ওপরেও চোখ রাখবে। বার্সেলোনা ও রিয়ালের সমর্থকেরা যেমন নিজেদের ম্যাচ দেখার পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের ম্যাচগুলোর ওপরেও চোখ রাখে।
ধরা যাক লিগের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে ভারত হারলে অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট টেবিলের একে থাকা নিশ্চিত হবে। তখন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট সমর্থকেরাও বাংলাদেশের ম্যাচ মনোযোগ দিয়ে অনুসরণ করবে। এখন অনেক দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হয়, যেগুলো বাকি ক্রিকেট বিশ্বের কাছে তেমন আবেদন রাখে না, এই সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে। আবার আগেই মীমাংসা হয়ে গেছে এমন সিরিজের শেষ ম্যাচও আর ‘ডেড রাবার’ থাকবে না।
তবে এও সত্যি, বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জেরও হবে এই পদ্ধতি। কারণ লিগের শেষ দল হয়ে গেলে বাংলাদেশকে পরের ধাপে নেমে যেতে হতে পারে। তখন বড় দলগুলোর সঙ্গে খেলার সুযোগ একইভাবে কয়েক গুণ কমে যাবে।

ক্রিকেট কাঠামোতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

দুবাইয়ে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসির সভায় ক্রিকেট কাঠামোতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো না নেওয়া হলেও প্রস্তাবনা অনুযায়ী টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটে আসতে যাচ্ছে বড় ধরনের পরিবর্তন।

সেই সাথে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থার এ আলোচনা সভায় উঠে এসেছে সহযোগী দেশ আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডকে টেস্ট স্ট্যাটাস দেওয়ার প্রস্তাব।

শেষ পর্যন্ত ক্রিকেট বোর্ডগুলো যদি আইসিসির এ সভার প্রস্তাবগুলোতে সাড়া দেয় তবে ২০১৯ সাল থেকে শুরু হতে পারে দুই বছরের টেস্ট লিগ। যেখানে শীর্ষ নয়টি টেস্ট দল তাদের মধ্যে লড়বে এবং র‌্যাংকিংয়ে নিচের তিনে থাকা দলগুলোকেও মোকাবিলা করবে। টেস্ট লিগ আয়োজনের এ সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে সম্পূর্ণ আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার উপর।

অন্যদিকে ২০১৯ বিশ্বকাপে সহযোগী দেশগুলোকে অংশগ্রহণ করার সুযোগ করে দিতে ১৩ দলের ওয়ানডে লিগ আয়োজনের প্রস্তাবও পেশ করা হয়েছে সভায়। বিশ্ব টি-টোয়েন্টির জন্য আঞ্চলিক একটি টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা আয়োজনেরও কথা উঠেছে এ সভায়।

রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অষ্ঠম আসর মাঠে গড়াতে বাকি এখনো চার মাস। খেলা এখনো মাঠে না গড়ালেও এরই মধ্যে নতুন রেকর্ড তৈরীর পথে এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে আসন্ন এ টুর্নামেন্টটি।

ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের তত্ত্বাবধানে আসন্ন এ টুর্নামেন্টে রেকর্ড পরিমাণ স্বেচ্ছাসেবী কাজ করতে যাচ্ছে। যা আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ আসরকে নতুন রেকর্ডের কাছাকাছি নিয়ে গেছে।

আসছে এ টুর্নামেন্টে ১,৫০০ জন স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড। এই পদের বিপরীতে ইতোমধ্যে জমা পড়েছে ২৪০০ আবেদন। যাছাই-বাছাই করে আবেদনকারীদের মধ্যে থেকে কাঙ্ক্ষিত ও যোগ্য স্বেচ্ছাসেবীদের বেঁছে নিতে আগামী ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার কথা রয়েছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি)। এর আগে ২০০৯ সালের আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৫০০ জন স্বেচ্ছাসেবী ও ২০১৩ সালে দেশটিতে অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ৮০০ জন স্বেচ্ছাসেবী কাজ করলেও এবারই প্রথম হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবীকে নিয়োগ দিতে যাচ্ছে বোর্ডটি। শুধু চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি নয় চলতি বছর ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি মহিলা বিশ্বকাপেও কাজ করার সুযোগ পাবে এসকল স্বেচ্ছাসেবকরা।

ইসিবির এমন পদক্ষেপে উচ্ছ্বসিত আইসিসির হেড অব ইভেন্টস ক্রিস টেটলি বলেন, “স্বেচ্ছাসেবকরা আসন্ন দুটো টুর্নামেন্টেরই আসল হিরো। খেলাধুলার প্রতি তাদের যে কমিটমেন্ট সেটার জন্য আইসিসি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। এ বছর স্বেচ্ছাসেবকদের সংখ্যাটা বিস্মিত হওয়ার মতো। তারা ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলসে ক্রিকেটের জন্য নিবেদিত প্রাণ।”

উল্লেখ্য, আসন্ন এ টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডসহ মোট আটটি দল অংশগ্রহণ করবে। দু’গ্রুপে বিভক্ত হয়ে শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে আসছে জুনে মাঠে নামবে অংশগ্রহণকারী দলগুলো।