Tag Archives: অস্ট্রেলিয়া

মুহূর্তে ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়া-ভারতের চেয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ

ওয়ানডে ফরম্যাটে গত ক’বছরে বেশ উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ জায়গা করে নিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ের সাত নম্বর অবস্থানে। মজার ব্যাপার হলো, সাতে থাকলেও পরিসংখ্যান বলছে এই মুহূর্তে ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়া-ভারতের চেয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।

আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের ২০১৫ সালের আসরের পর, ওয়ানডে ক্রিকেটে জয় পরাজয়ের অনুপাত হিসেব করে বাংলাদেশ এখন তৃতীয় সেরা দল। ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর যে দলগুলো কমপক্ষে ২০টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে , সে দল গুলোর খেলা ম্যাচের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে।

এই জয়-পরাজয়ের পরিসংখ্যানে বাংলাদেশ পিছনে ফেলেছে ভারত ,পাকিস্তান এমনকি অস্ট্রেলিয়াকেও। বিশ্বকাপের পর থেকে এই পর্যন্ত ২২টি ওয়ানডে খেলে ১৪টিতেই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। হেরেছে আটটি ম্যাচে। জয়-পরাজয়ের অনুপাত ১.৭৫০ নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছে বাংলাদেশ।

৩৮ টি ওয়ানডে খেলে ২৫টিতে জয় ও ১২টিতে পরাজয় নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রোটিয়াদের জয়-পরাজয়ের অনুপাত ২.০৮৩। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ইংল্যান্ডের জয়-পরাজয়ের অনুপাত ১.৭৬৯।

২০১৫ বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশ দলের চেহারাটাই যেন বদলে গিয়েছে। বিশেষ করে ওয়ানডে ফরম্যাটে। বিশ্বকাপ মিশন শেষ করে এসে ঘরের মাঠে টানা পাঁচটি ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। সিরিজ জিতেছে পাকিস্তান,ভারত ,দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। বিশ্বকাপের পর থেকে এই পর্যন্ত খেলা সাতটি সিরিজের মধ্যে কেবল দুটিতে হেরেছে বাংলাদেশ।

গেল শনিবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৯০ রানের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজের পরের দুটি ম্যাচ জিততে পারলে ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ের ষষ্ঠ অবস্থানে উঠে আসবে বাংলাদেশ।

২০১৫ বিশ্বকাপের পর ওয়ানডে ফরম্যাটে জয়-পরাজয়ের অনুপাত (কমপক্ষে ২০টি ওয়ানডে খেলা দল)

দল              ম্যাচ      জয়   পরাজয়    টাই     ফল হয়নি   জয়-পরাজয়ের অনুপাত

 

দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৮      ২৫      ১২         ০          ১                 ২.০৮৩

ইংল্যান্ড           ৩৯       ২৩      ১৩         ১           ২                  ১.৭৬৯

বাংলাদেশ        ২২        ১৪        ৮         ০          ০                     ১.৭৫০

অস্ট্রেলিয়া       ৪২        ২৫       ১৬        ০           ১                   ১.৫৬২

আফগানিস্তান  ২৯        ১৬       ১২        ০           ১                   ১.৩৩৩

ভারত              ২৭        ১৫        ১২        ০           ০                   ১.২৫০

নিউজিল্যান্ড    ৩৯       ২১         ১৭        ০           ১                    ১.২৩৫

পাকিস্তান        ৩৪        ১৪         ১৯       ০           ১                    ০.৭৩৬

শ্রীলঙ্কা           ৩৬       ১২         ২০        ১          ৩                     ০.৬০০

আয়ারল্যান্ড     ২১       ৭           ১৩        ০           ১                      ০.৫৩৮

জিম্বাবুয়ে         ৪১       ১১          ২৭         ১          ২                     ০.৪০৭

 

ওয়েস্ট ইন্ডিজ   ২০       ৪          ১৫         ১          ০                     ০.২৬৬

সূত্রঃ ক্রিকইনফো

‘কোহলির প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলছি’ইয়ান হিলি

মাঠে কোহলির আগ্রাসী মনোভাবটা ভালো লাগছে না অনেকেরই। ছবি: এএফপিমাঠে কোহলির আগ্রাসী মনোভাবটা ভালো লাগছে না অনেকেরই। কদিন আগেও বিরাট কোহলি ছিলেন সপ্তম স্বর্গে। হঠাৎই যেন নেমে এসেছেন মাটিতে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চলতি সিরিজে তিন ইনিংসে ভারতীয় অধিনায়কের রান ২৫। ইনিংস লম্বা হচ্ছে না। তার চেয়ে বেশি চোখে লাগছে কোহলির আউটের ধরন। ভারতের সমর্থকদের প্রার্থনা, দ্রুত স্বরূপে ফিরবেন কোহলি। তবে মাঠে কোহলি আছেন সেই চিরচেনা আগ্রাসী চেহারাতেই। ভারতীয় অধিনায়কের এই রূপ নিয়ে বিরক্ত অস্ট্রেলিয়ার সাবেক খেলোয়াড়দের অনেকেই।কোহলির ব্যাটিংয়ের কারণে তাঁর অন্য রকম একটা শ্রদ্ধাবোধ আছে। তবে মাঠে আচরণের কারণে কোহলির প্রতি অস্ট্রেলিয়ার সাবেক উইকেটকিপার ইয়ান হিলির সেই শ্রদ্ধা নাকি কমতে শুরু করেছে। বেঙ্গালুরুতে ব্যাট-বলের লড়াইয়ের সঙ্গে জমে উঠেছে কথার লড়াইও। দ্বিতীয় দিন সকালের সেশনে স্মিথকে ভেংচি কেটেছিলেন ভারতের পেসার ইশান্ত শর্মা। এ নিয়ে স্মিথের আর কোহলির বাতচিতও হয়েছে। কোহলি পরেও কয়েকবারই মুখোমুখি হয়েছেন দুজন। স্মিথের সঙ্গে কথা বলার সময় কোহলির আগ্রাসী ভাবটা ভালোভাবে নেননি হিলি। ১১৯ টেস্ট খেলা সাবেক এই অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার মনে হয়েছে এতে প্রতিপক্ষকে অসম্মান করা হয়, ‘তার (কোহলি) প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলছি। সে শুধু অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড় ও আম্পায়ারকে অসম্মান করছে না, নিজের সতীর্থদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। আগেও বলেছি, আমার দেখা সেরা ব্যাটসম্যান সে। তার আগ্রাসী মানসিকতাও দারুণ, বিশেষ করে সে যখন অধিনায়ক ছিল না।’
গত দুই বছরে ঘরের মাঠে ভারতের টানা সাফল্যে প্রশংসিত হয়েছে কোহলির আগ্রাসন। তবে হিলি মনে করেন, ভারতীয় অধিনায়কের এই মনোভাব এখন আর কাজে দিচ্ছে না, ‘কোহলির আক্রমণাত্মক মনোভাব তাদের (ভারতীয় দল) জন্য ভালো ছিল। আমি মনে করি, এখন আর এটি কাজে লাগছে না। এটা বরং সতীর্থদের চাপে ফেলে দিচ্ছে। এই চাপটা আপনি অশ্বিনের মুখেও দেখে থাকবেন। স্টিভ স্মিথের সঙ্গে সে যা করেছে সেটা গ্রহণযোগ্য নয়।’
তবে হিলির সঙ্গে একমত নন অস্ট্রেলিয়ার আরেক সাবেক ক্রিকেটার সাইমন ক্যাটিচ। ৫২ টেস্ট খেলা সাবেক এই অস্ট্রেলীয় বাঁহাতি ওপেনার বরং এটাকে ইতিবাচকই মনে করছেন, ‘তারা দুজন (স্মিথ-কোহলি) দারুণভাবে সব সামলাচ্ছে। মেজাজ হারানোর মতো অনেক কিছুই হয়েছে মাঠে। ভারত উইকেটের জন্য মরিয়া ছিল। তারা জানে, স্মিথের উইকেটটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। স্মিথও বিষয়টা সামলেছে ভালোভাবেই। আম্পায়ারও ভালোভাবে সামলেছে। দুই অধিনায়কও কৃতিত্ব পাবে। ঘটনাটা দ্রুতই নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যেতে পারত।’ সূত্র: ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।

টাইগারদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলতা চায় অস্ট্রেলিয়া!

বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে অনেক দিন ধরেই। তবে এ আলোচনা শেষেই মাঠের লড়াইয়ে নেমে পড়বে দুই দেশ। এবার বাংলাদেশ সফরে এসে ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে চায় অস্ট্রেলিয়া।
দীর্ঘ ৯ বছর পর দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা থাকলেও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির বিষয়টি উল্লেখ করে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর স্থগিত করে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড।

তবে ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফরের পর জানা যায় ১৮ আগস্ট দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে ঢাকাতে পা রাখবে স্মিথ বাহিনী। তবে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সফরে
টেস্টের পরিবর্তে ওয়ানডেতে খেলতে আগ্রহী অস্ট্রেলিয়া।

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী চট্টগ্রামে প্রথম টেস্ট শুরু ২৭ আগস্ট থেকে। এরপর ঈদুল আজহার বিরতির পর মিরপুরে দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর। তবে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ২৩ অক্টোবর পাঁচ ওয়ানডে ও এক টি-টোয়েন্টির সিরিজ খেলতে ভারতে আসবে অস্ট্রেলিয়া দল। আর ভারতে যেহেতু তখন শুধুই ওয়ানডে খেলবে, তাই বাংলাদেশকে দিয়েই প্রস্তুতিটা সেরে ফেলতে চাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া।

এদিকে টেস্টের পরিবর্তে ওয়ানডে খেলার প্রস্তাব ক্রিকেট অস্টেলিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে না দিলেও আকারে-ইঙ্গিতে তাদের ইচ্ছার কথা জানিয়েছে বিসিবিকে। তবে প্রতিশ্রুত টেস্ট সিরিজটি বাদ দিয়ে অন্য কিছু খেলতে রাজি নয় বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশে তিনটি ওয়ানডে খেললেও সিরিজের টেস্ট দুটি পরে কোনো একসময় খেলতে আসার কথা ছিল অস্ট্রেলিয়া দলের। দুই বোর্ডের আলোচনায় ঠিক হয়েছিল, দুই টেস্টের সিরিজটি হবে ২০১৫-এর অক্টোবরে। কিন্তু নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অস্ট্রেলিয়া দলের বাংলাদেশে আসার ঠিক আগের দিন সিরিজ স্থগিত করে দেয় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।

ভারতকে শোচনীয়ভাবে হারালো অস্ট্রেলিয়া

পুনে টেস্টের তৃতীয় দিনেই টেস্ট র‍্যাঙ্কিং এর এক নম্বর দল ভারতকে শোচনীয়ভাবে হারালো দুই নম্বরে থাকা অস্ট্রেলিয়া। ৩৩৩ রানের বিশাল ব্যবধানে স্বাগতিকদের হারিয়েছে তারা। জয়ের জন্য ভারতকে ৪৪১ রানের টার্গেট দিয়েছিলো অস্ট্রেলিয়া। তবে ১০৭ রান করেই হুড়মুড় করে ভেঙ্গে পড়ে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন।

প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসের শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে ভারত। অজি স্পিনার ও’কেইফি ও নাথান লায়ানের আক্রমনে দিশেহারা হন রাহুল, কোহলি, রাহানেরা। কেবল পুজারা ৩১ রানের ইনিংস খেলেন। এছাড়া আর কেউ ২০ রান ছুতে না পারায় ১০৭ রানে ইনিংস শেষ হয় ভারতের। ও’কেইফি একাই তুলে নেন ৬ উইকেট। বাকী ৪ উইকেট নেন লায়ন।

স্কোর: অস্ট্রেলিয়া ২৬০ ও ২৮৫
ভারত ১০৫ ও ১০৭

আগের দিনে ৪ উইকেটে ১৪১ রান নিয়ে দিন শুরু করেন দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান স্টিভ স্মিথ ও মিচেল মার্শ। মার্শ বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। জাদেজার বলে ফিরেছেন ৩১ রানে। দ্রুত ফিরেছেন মাথিউ ওয়েড-ও। তবে ক্যারিয়ারের ১৮তম সেঞ্চুরি তুলে নেন স্মিথ। জাদেজার বলে আউট হন ১০৯ করে। এরপর দ্রুত বাকি তিন উইকেট হারায় অজিরা। ফলে ২৮৫ রানে অল আউট হয় তারা।

ভারতের রবিচন্দন অশ্বিন নিয়েছেন চার উইকেট। এরআগে ও’কেইফির বোলিং ঘুর্ণিতে মাত্র ১০৫ রানে প্রথম ইনিংসে অল-আউট হয় ভারত। অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে করে ২৬০ রান।

ও’কিফের বাঁ আর হ্যান্ডসকম্বের ডান হাতে ভারত ধ্বংসস্তূপ!

সিরিজ শুরুর আগে অনেক পরিকল্পনাই করেছে ভারত। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং-বোলিং দেখা হয়েছে আতশকাচের নিচে। কিন্তু এতেও কোনো লাভ হলো না। শত শত সমীকরণেও যে পিটার হ্যান্ডসকম্বের ডান হাতের হিসাবটা ছিল না! হ্যান্ডসকম্বের হাতেই লেখা হলো ভারতের সর্বনাশ, ৮ বলে ৪ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপ সময়ের সেরা ব্যাটিং লাইনআপ। আর স্টিভ ও’কিফের ৬ উইকেটে ১০৫ রানেই অলআউট ভারত!

বিভ্রান্ত হবেন না। পিটার হ্যান্ডসকম্ব বোলিং করেননি। রাজ্যদলে উইকেটকিপিং করা এই ব্যাটসম্যান সব ধরনের ক্রিকেট মিলেই শখ করে ১২ বল করেছেন। কিন্তু তাতে কী? অবিশ্বাস্য একটা ডান হাত তো আছে তাঁর! কী সব দুর্দান্ত ক্যাচ ধরলেন! উইকেটগুলো তো তাঁরই!
স্টিভ ও’কিফের একটি ঘূর্ণি অজিঙ্কা রাহানের ব্যাট ছুঁয়ে গেল স্লিপে। সেটা অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় হ্যান্ডসকম্ব পুড়ে নিলেন মুঠোয়। সে ক্যাচটা এতটাই দুর্দান্তভাবে ধরেছেন, ডানদিকে ঝাঁপ দেওয়ার পরও হাতের ওপরের অংশটা মাটির ছোঁয়া পেল না!
একটু পরে নাথান লায়নের বলে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের রক্ষণাত্মক শটটা জুতোয় পড়ে আস্তে করে আবারও নেমে আসছিল উইকেটে। সিলি মিডঅনে দাঁড়ানো হ্যান্ডসকম্বের জন্য ওটুকুই যথেষ্ট। আবার ঝাঁপিয়ে পড়লেন, ছোবল দিয়ে উঠল তাঁর ডান হাত। আবারও টিভি আম্পায়ারের শরণ নিয়েও বিরস মুখে মাঠ ছাড়লেন ভারতীয় ব্যাটসম্যান।
অবশ্য ভারতের পতনের সূচনাটা করেছেন লোকেশ রাহুল। দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলছিলেন, অসাধারণ স্ট্রোক-প্লেতে মুগ্ধ করে দিচ্ছিলেন। হঠাৎই কী মনে হলো, ৩৩ ওভারের দ্বিতীয় বলে লং অফ দিয়ে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে মাঠের অর্ধেকটা পার করতে পারলেন। সে শট খেলে উল্টো যেভাবে কাঁধ চাপড়ে ধরলেন তাতে পরের ইনিংসেও ব্যাট করতে পারবেন বলে মনে হচ্ছে না।
এক বল পরেই রাহুলের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ৫০ রানের জুটি গড়া রাহানে ফিরেছেন, হ্যান্ডসকম্বের সে ক্যাচে। ওভারের শেষ বলে ঋদ্ধিমান সাহাও গেলেন! পুরো সকাল ধরে বাজে বোলিং করা ও’কিফ এক ওভারেই নিলেন ৩ উইকেট!
পরের ওভারেই আবারও হ্যান্ডসকম্বের হাত ধরে ফিরেছেন অশ্বিন। ৩ উইকেটে ৯৪ রান থেকে ভারতের স্কোর ৯৫/৭! সেটা ও’কিফের বাঁহাতি স্পিনে ১০৫ রানে অলআউট লিখতে সময় লাগল না। গত এক যুগে দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এত কম রানে ভারত অলআউট হয়নি। ২০০৪ সালে মুম্বাইয়ের ভয়ংকর পিচে ১০৪ রানে অলআউট হয়েছিল। সে টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসেই ৯ রানে ৬ উইকেট পেয়েছিলেন মাইকেল ক্লার্ক। আর আজ ও’কিফ ৬ উইকেট পেলেন ৩৫ রানে। শেষ ৫ রান ও ২৪ বলেই এসেছে সে ৬ উইকেট!
টানা তিন টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৬০০ পেরোনো ভারত আজ শেষ হয়ে গেল ১০৫ রানেই! নিজেদের মাঠে এর কম রানে মাত্র ১০বার অলআউট হয়েছে তারা!
অস্ট্রেলিয়াও অবশ্য দ্বিতীয় ইনিংসের প্রথম ওভারেই হারিয়েছে ডেভিড ওয়ার্নারকে। তখন তাদের রান ছিল ১০।

অভিষেকের সাত বছর পর প্রথম আউট!

২০১০ সালে ওয়ানডে অভিষেক। কিন্তু আউট হলেন ২০১৭ সালে এসে। জশ হ্যাজলউডের আউটটা এমনিতেও মনে থাকত। আরও থাকবে ম্যাচের কারণে। কাল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অবিশ্বাস্যভাবে জিততে জিততে যে ৬ রানে হেরে গেল অস্ট্রেলিয়া।

তবে এই ম্যাচ দিয়ে তিন-তিনটি রেকর্ড করেছেন হ্যাজলউড! প্রথমটা তো অবশ্যই অভিষেকের পর সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলে আউট হওয়ার। নিজের ৩৪তম ম্যাচে এসে আউট হলেন হ্যাজলউড।
এর মধ্যে অবশ্য ব্যাট করেছেন ৭ ইনিংসে। সেই প্রথম আউট হওয়া ইনিংসে ২৬ মিনিট ব্যাটিং করেছেন। একটি বলও খেলেননি। ওয়ানডে ইনিংসে আর কোনো ডায়মন্ড ডাক পাওয়া ব্যাটসম্যান ২৬ মিনিট ব্যাটিং করতে পারেননি। করা কঠিনই। এতক্ষণ উইকেটে থেকে কোনো বল না খেলা তো আসলেই কঠিন!
এর আগে সর্বোচ্চ ৭ মিনিটের ডায়মন্ড ডাকের এক ইনিংস খেলেছিলেন অ্যালান ডোনাল্ড। একবারও স্ট্রাইকিং প্রান্তে হ্যাজলউডকে যে যেতে হয়নি, এর পুরো কৃতিত্ব মার্কাস স্টয়নিসের। এক প্রান্ত আগলে রেখে শেষ উইকেটে ৫৪ রানের জুটি গড়েছিলেন। এটিও একটি রেকর্ড। ওয়ানডে আর মাত্র দুটি ৫০ রানের জুটি আছে, যেখানে এক সঙ্গী কোনো রানই করেনি। ২০১৩ সালে ভারতের বিপক্ষে ড্যারেন স্যামির সঙ্গে ৫১ রানের জুটিতে কেমার রোচ করেছিলেন ০। ১৯৯৬ সালের সিঙ্গার কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার কালুভিতারানা ০ রানে আউট হন। এটি অবশ্য ছিল ওপেনিং জুটি। একদিকে সনাৎ জয়াসুরিয়া যে ছিলেন!

আবেদন ছাড়াই আউট দিলেন আম্পায়ার!

কোনো নিশ্চিত আউট ছাড়া অন্যান্য আউটের ক্ষেত্রে বোলার ও ফিল্ডাররা আবেদন করেন আম্পায়ারের কাছে। কখনো আবেদন নাকচ করে দেন আম্পায়ার, কখনো সাড়া দেন আঙুল তুলে। কিন্তু আউট নিয়ে সংশয় থাকলে ও আবেদন না করা হলে আউট দেওয়া হয় না। কিন্তু অকল্যান্ডে অস্ট্রেলিয়া বনাম নিউ জিল্যান্ডের ম্যাচে দেখা গিয়েছে অন্য দৃশ্য।

৩৫ ওভারের খেলা শেষে নিউ জিল্যান্ডের রান ছিলো ৫ উইকেটে ১৮৭। ব্যাট করছিলেন নেইল ব্রুম। ৩১ বলে ২২ রান করে অপরাজিত ছিলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার পেসার জশ হ্যাজলউডের করা ৩৬তম ওভারের প্রথম বলটি ছিলো শর্ট পিচ ডেলিভারি। লেগ স্টাম্পের বাইরের শর্ট পিচ ডেলিভারিটিকে হুক করতে চেয়েছিলেন ব্রুম। কিন্তু ব্যাটে বলে হয়নি। বলা জমা পড়ে উইকেটরক্ষকের গ্লাভসে।

আউটের জন্য কোনো আবেদন করেনি অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা। বল করে আম্পায়ারের দিকে তাকানোর পর চমকে যান হ্যাজলউড। দেখেন আঙুল তুলে ব্যাটসম্যানকে আউটের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন আম্পায়ার রুচিরা পাল্লিয়াগুরুগে। এমন অদ্ভুত দৃশ্য দেখে চমকে যায় সবাই। এরপর রিভিউয়ের আবেদন করেন ব্রুম। অ্যাকশন রিপ্লেতে দেখা যায় ব্যাট ও বলের কোনো সংযোগ ঘটেনি। গ্লাভসও স্পর্শ করেনি বল। সিদ্ধান্ত বদলান রুচিরা। উল্লেখ্য, ৩৭ টি আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ও ২৭ আন্তর্জাতিক টি-২০ ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে রুচিরার।

অবশেষে বাংলাদেশে আসছে অস্ট্রেলিয়া!

 

অবশেষে বাংলাদেশ সফরে আসতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। এই বছরের শেষ দিকেই দুটি টেস্ট খেলতে বাতিল করা সফরটি হবে বলে জানিয়েছে ক্রিকইনফো। যদিও নিরাপত্তা ইস্যুটি ফের নিয়ে এসেছে তারা শর্ত হিসেবে।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ড সরাসরি সফরের কথাটি না বললেও বলেছেন, ‘আমার মনে হয় সফরের সম্ভাবনা বেশি। আমরা দেখেছি যে গত বছর ইংল্যান্ড সফর করেছে।’

ইংল্যান্ড সফর করলেও তাদের প্রতি যে কড়া নিরাপত্তা বলয় ছিল সেটি চোখ এড়ায়নি সাদারল্যান্ডের, ‘আমরা দেখেছি তাদের জন্য কী পরিমাণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল।’

বাতিল হওয়া সফরটি নিয়ে আগেও বেশ কয়েকবার সম্ভাবনার কথা বলেছিল অস্ট্রেলিয়া। যদিও সেভাবে সময় নির্ধারণ ও সম্ভাবনার মাত্রা ছিল নিচু স্বরে। কিন্তু এবার সাদারল্যান্ড বেশ জোর দিয়েই সম্ভাব্য সময় বেঁধে দিয়েছেন সফরের, ‘সফরের সব কিছু এখনও চূড়ান্ত হয়নি। কিন্তু আশা করছি আগস্ট অথবা সেপ্টেম্বরে সফরটি হবে।’

উল্লেখ্য, নিরাপত্তা ইস্যুতে ২০১৫ সালের অক্টোবরে নির্ধারিত সফরটি বাতিল করেছিল অস্ট্রেলিয়া।