Tag Archives: অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা

ভাবনায় সিরিজ জয়

প্রথম ওয়ানডেতে ৯০ রানের বিশাল জয়ের পর শ্রীলঙ্কাকে ধবলধোলাই করার ভাবনাটা উঁকি দিচ্ছে অনেকের মনে। কিন্তু দারুণভাবে প্রথম ম্যাচ জিতলেও পা মাটিতেই রাখছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে হোয়াইটওয়াশ নিয়ে ভাবাটা একটু আগামই মনে হচ্ছে তাঁর কাছে। ৩-০ নয়, আপাতত সিরিজ জয়ের কথা ভাবছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
এই মুহূর্তে ডাম্বুলার রণগিরি স্টেডিয়ামে আগামীকালের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মনোযোগ মাশরাফির। সিরিজের ফল কী হবে, এটা নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট করতে চান না তিনি, ‘ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলা সবচেয়ে সুবিধাজনক। প্রথম ম্যাচে জিতেছি, দ্বিতীয় ম্যাচে মনোযোগী থাকতে হবে। সব সময় কথা হয় ৩-০ বা ৫-০’র। অন্য দলও কিন্তু খেলতে আসে। তারাও তাদের সেরা চেষ্টা তো করবে। আমরা যদি পরের ম্যাচে নিজেদের সেরা ক্রিকেটটা খেলি, যদি বের হয়ে যেতে পারি, তখন বোঝা যাবে সমীকরণটা কী হবে।’
প্রথম ম্যাচে তামিম ইকবালের ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপান্তর আর বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩২৪ হওয়াটা দারুণ তৃপ্তি দিয়েছে অধিনায়ককে। খেলার ধরনটা দেখে তাঁর মনে হয়েছে দল সঠিক প্রক্রিয়ার মধ্যই আছে, ‘ম্যাচটা আমাদের জন্য খুব ভালো শিক্ষা। আমাদের ব্যাটসম্যানদের শিখতে হবে ফিফটিকে কীভাবে এক শ রানে পরিণত করতে হয়। অন্য দলগুলো প্রায়ই তিন শ করে কীভাবে! যে ব্যাটসম্যান ৬০ রান করে তখন সে একশ করার লক্ষ্য নিয়ে খেলতে থাকে। আমাদের এটাই শিখতে হবে। আমার মনে হয় এটিই সঠিক প্রক্রিয়া।’
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সতীর্থদের কাছে কী চান মাশরাফি। এটা বলতে গিয়ে প্রথম ম্যাচকে উদাহরণ হিসেবে টেনে এনেছেন তিনি, ‘তামিম যদি ৫০-৬০ করে আউট হয়ে যেত তাহলে আমাদের সংগ্রহটা ২৭০ বা ২৮০ হতো। আমার মনে হয় এই জায়গাটাতেই দলগুলোর পার্থক্য হয়ে যায়। ওই ৩০-৪০ রানই পার্থক্য।’

ঘাসের উইকেটে ভয় পাচ্ছেন না মাশরাফি

হঠাৎই দুই পেসারকে দলে ডেকেছে শ্রীলঙ্কা। দুই ‘নুয়ান’—নুয়ান কুলাসেকেরা ও নুয়ান প্রদীপকে দলে ডাকার অর্থ কি লঙ্কানরা গতি দিয়ে বাংলাদেশকে ঘায়েল করতে চাচ্ছে! শ্রীলঙ্কা দলের ক্রিকেট ম্যানেজার অশাঙ্ক গুরুসিনহা অবশ্য বলেছেন, সুরঙ্গা লাকমালের চোটের কারণে সতর্কতার অংশ হিসেবেই এই দুই পেসারকে দলে ডাকা হয়েছে। মূলত বিকল্প বাড়াতেই কুলাসেকেরা ও প্রদীপকে নেওয়া।

দ্বিতীয় ওয়ানডের উইকেট যে কিছুটা পেস-বান্ধব হচ্ছে সেটি গুরুসিনহার কথা আঁচ করা গেলেও একটু রহস্যও রাখছেন তিনি, ‘উইকেটে ঘাস দেখে মনে হচ্ছে আমাদের একজন অতিরিক্ত পেস বোলার নেওয়া দরকার। তবে আমরা ভালো একজন অফ স্পিনারের প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করেছিল। এটিও আলাপ-আলোচনায় এসেছে।’
তবে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা এসব নিয়ে মাথা ঘামাতে চান না। উইকেটে ঘাস নিয়েও খুব একটা চিন্তিত নন তিনি, ‘ঘাস একটু থাকলেও থাকতে পারে। তবে আমি মনে করি উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো হবে। উপমহাদেশে আপনি যতই চেষ্টা করেন না ঘাসের উইকেট বানাতে হলে অনেক ঘাস রাখতে হবে। আমাদের মনে হচ্ছে, এটি ব্যাটিং-বান্ধব উইকেট। তারপরেও কালকে বোঝা যাবে কোন অবস্থায় ঘাস আছে। উইকেট কী অবস্থায় আছে, কতটুকু শক্ত-নরম, পানি কতটুকু দেওয়া হয়েছে সবই বোঝা যাবে কাল সকালে।’

‘গণক’ মাশরাফির ভবিষ্যতবাণীতেই তামিমের সেঞ্চুরি!

 মাশরাফি বিন মুর্তজা লিখে দিয়েছিলেন, ছয় মাসের আগে রঙিন পোশাকে সেঞ্চুরি পাবেন না তামিম ইকবাল। শেষ পর্যন্ত তাই হয়েছে। সর্বশেষ অক্টোবরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দেশের মাটিতে সেঞ্চুরি করেছিলেন ড্যাশিং ওপেনার। পরের সেঞ্চুরিটি পেলেন ছয় মাসের মাথায়, মার্চে।

এমন তথ্য নিজেই জানিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ১০ হাজার রান করা তামিম। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শনিবার তার করা ১২৭ রানের ঝড়ো ইনিংসে চড়ে ৩৫৪ রানের সংগ্রহ তোলে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত লঙ্কানদের বিপক্ষে ৯০ রানের জয়ও তুলে নেয়।

নিজের সেঞ্চুরি নিয়ে বলতে গিয়েই উঠে আসে সীমিত ওভারে মাশরাফির ভবিষ্যতবাণীর কথা। তামিম জানান, আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১১৮ রানের ওই ইনিংস খেলার পর ড্রেসিংরুমে মাশরাফি লিখে দিয়েছিলেন পরের সেঞ্চুরি পেতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগবে তামিমের। মূলত, তামিমকে মানসিকভাবে তাঁতিয়ে দিতেই এমনটা বলেছিলেন মাশরাফি।

শেষ পর্যন্ত তাই হলো। দুই সেঞ্চুরি মধ্যে তামিম খেলেছেন ছয়টি ওয়ানডে ম্যাচ। যার মধ্যে সর্বোচ্চ ইনিংস ৫৯ রানের, আরেকটি ৪৮ রানের। তামিম বলেন, ‘যখন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে ড্রেসিংরুমে গেলাম, তখন মাশরাফি ভাই বললেন আমার সেঞ্চুরিতে তিনি খুব খুশি হয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘তিনি (মাশরাফি) প্রায়ই আমাকে হুমকি দেন ভালো ইনিংস খেলার জন্য। আমি খুশি শেষ পর্যন্ত তার হুমকি চড়ে হলেও সেঞ্চুরি পেয়েছি। দলের প্রয়োজনে রান করতে পেরেছি।’

জানিয়ে রাখা ভালো, এটি ছিলো তার অষ্টম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয়। ২০১৩ সালে হাম্বানটোটায় ১১২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তামিম। 

সূত্র: ডেইলি স্টার

নেতৃত্বের জয়ে সাকিবকে ছাড়িয়ে ‘অধিনায়ক’ মাশরাফি

শনিবার ডাম্বুলার রানগিরি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে তামিম ইকবালের ১২৭, সাকিব আল হাসানের ৭২ ও সাব্বির রহমানের ৫৪ রানে ভর করে শ্রীলঙ্কাকে ৩২৫ রানের বড় লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় বাংলাদেশ। রানের পাহাড় তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশি বোলারদের দাপুটে বোলিংয়ে ২৩৪ রানেই গুটিয়ে যায় লঙ্কানরা। ফলে ৯০ রানের বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে মাশরাফিবাহিনী।

এটা ছিল সীমিত ওভারে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফির ২৪তম জয়। এর আগে অধিনায়ক হিসেবে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জয় পেয়েছিল ২৩টি ম্যাচে। তবে বাঁ-হাতি এই অলরাউন্ডার বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ৪৯ ম্যাচে। যেখানে জয়ের সংখ্যায় অধিনায়ক মাশরাফি তাকে ছাড়িয়ে গেলেন মাত্র ৩৮ ম্যাচেই।

আবেদন জানাচ্ছেন সীমিত ওভারে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি। ছবি: সংগৃহীত

৬৯ ওয়ানডেতে ২৯টি জয় নিয়ে বাংলাদেশের সফলতম ওয়ানডে অধিনায়ক হাবিবুল বাশার। এছাড়া মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বে ৩৭ ম্যাচে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ১১টি। ৩৮ ম্যাচে ২৪ জয় তুলে নিয়ে মাশরাফি এখন বাংলাদেশের দ্বিতীয় সফলতম ওয়ানডে অধিনায়ক।

তবে একটি জায়গায় অধিনায়ক মাশরাফি আর সবাইকে ছাড়িয়ে। সাফল্যের হারের দিক থেকে ৩৩ বছর বয়সী এই অধিনায়কের ধারে কাছে কেউ নেই। মাশরাফির সাফল্যের হার ৬৩.১৫ শতাংশ। ৪৬.৯৩ শতাংশ সাফল্য নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব।

সবার আগে দেশ, মুস্তাফিজ প্রসঙ্গে মাশরাফি

গত বছর আইপিএলে পুরো আসরেই খেলেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। তার  দৃঢ়তায় গত আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে সানরাইজার্স হায়দরাবার। কিন্তু আইপিএলের গত আসরের শেষের দিকে ইনজুরিতে পড়েন এই কাটার মাস্টার। পরবর্তীতে বেশ কিছুদিন বিশ্রামে থেকে উড়াল দেন ইংল্যান্ডে, কাউন্টি খেলতে। তবে পুরো না খেলা হলেও মাত্র দুই ম্যাচ খেলেই আবার ইনজুরিতে পড়েন মুস্তাফিজ যার কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয় এই কাটার মাস্টারকে।

ইনজুরি থেকে ফিরে এসেই নিউজিল্যান্ড সফরে দলের সঙ্গে যোগ দেন মুস্তাফিজ। সীমিত ওভারের ম্যাচ খেললেও খেলা হয়নি টেস্ট সিরিজ। ছিলেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২ ম্যাচ টেস্ট সিরিজেও। টেস্ট সিরিজ শেষে আগামীকাল থেকে শুরু হতে চলেছে ৩ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ।

শ্রীলঙ্কা সফর শেষেই আইপিএল খেলতে উড়াল দিতে হবে ভারতে। তার পরেই রয়েছে আয়ারল্যান্ড সিরিজ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের পূর্বে সংবাদ সম্মেলনে আসেন সীমিত ওভারের অধিনায়ক মাশরাফি মর্তুজা। সংবাদ সম্মেলনের শেষের দিকে এক ভারতীয় সাংবাদিক অধিনায়ককে প্রশ্ন করে বসেন মুস্তাফিজকে কি আরেকটু বিশ্রাম দেওয়া যায় না? সামনে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও আইপিএল?

ভারতীয় ঐই সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে অধিনায়ক মাশরাফি সাফ জানিয়েদেন, “মুস্তাফিজের ফিটনেসের জন্য ওর যদি বিশ্রাম লাগে, তবে সেটা ফিজিও ট্রেনাররা আলোচনা করবেন। আমি মনে করি, আইপিএল না খেলে যদি জাতীয় দলের হয়ে সব ম্যাচ খেলে, সেটাই ভালো। কারণ সবার আগে দেশ।”

র‍্যাংকিং নিয়ে মাথাব্যাথা নেই মাশরাফির

বাংলাদেশের রঙ্গিন পোশাকের কাপ্তান মাশরাফি বিন মুর্তজার মাথায় আপাতত র‍্যাংকিং নিয়ে নেই কোন ভাবনা। তিনি মনে করেন এটা খেলোয়াড়দের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। তিনি নিজেদের স্বাভাবিক খেলার দিকেই নজর দিতে ইচ্ছুক।

৯১ পয়েন্ট নিয়ে র‍্যাংকিং এর সাত নম্বরে আছে টাইগাররা। ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডে হওয়া বিশ্বকাপে সরাসরি খেলবে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তে র‍্যাংকিং এর প্রথমে থাকা আট দল।

৩-০ তে সিরিজ জিতলে বাংলাদেশ উঠে যাবে র‍্যাংকিং এর ছয় নম্বরে। তাদের পয়েন্ট হবে লংকানদের সাথে সমান ৯৬। অন্যদিকে ৩-০ তে হারলে নেমে যাবে পাকিস্তানের পিছনে। চলে যাবে আট নম্বরে।

মাশরাফি বলেন, “র‍্যাংকিং আসলে ভাবনায় থাকেই, কিন্তু শুধু র‍্যাংকিং নিয়ে ভাবলে খেলোয়াড়দের উপর অনেক চাপ হয়ে যাবে।”

তিনি যোগ করেন,”তারা এখন ক্রিকেট উপভোগ করছে। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সাতে উঠবার সময় র‍্যাংকিং নিয়ে ভাবিনি। এসব আসলে ম্যাচের সময় ভাবা কঠিন হয়ে যায়।”

আজ ডাম্বুলায় শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ  শ্রীলংকার মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ।

খেলা নিয়ে এবার মুখ খুললেন মাশরাফি

শ্রীলঙ্কা সফরে যাওয়ার আগে, ইমার্জিং কাপে প্রস্তুত ম্যাচ খেলবেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে আঙ্গুলে চোট পাওয়া বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক, এখন নিজেকে ফর্মে ফেরাতে ব্যস্ত।

লঙ্কানদের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে যাওয়ার আগে নিজেকে প্রস্তুত করছেন দেশ সেরা এই পেস বোলার। শ্রীলঙ্কা সফরের আগে এসিসি এমার্জিং কাপের দলের সাথে প্রস্তুতি নেয়ার পাশাপশি প্রস্তুতি মূলক ম্যাচে খেলবেন।
প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা প্রসঙ্গে মাশরাফি নিজে বলেন, ‘আমি নিজেও চাচ্ছি ম্যাচ খেলতে। কোথায় খেলবো বুঝতেছি না। শ্রীলঙ্কায় একটি প্রস্তুতি ম্যাচ আছে। তার আগে ঢাকায় একটি ম্যাচ খেলে যেতে পারলে ভালো হয়।’

গত সপ্তাহ খেকেই বোলিং প্রাকটিস শুরু করে দিয়েছেন মাশরাফি। ব্যথা ছাড়াই এখন ফুল রান আপে বোলিং করছেন তিনি। বিসিবি একাডেমির মাঠে নিজেকে ফিরে পাওয়ার জন্য কঠোর লড়াই করে যাচ্ছেন ম্যাশ।

ইমার্জিং কাপে মাশরাফির প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেন, ‘মাশরাফি অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সাথে অনুশীলন করবে এবং ম্যাচ খেলবে। দুই-এক দিনের মধ্যেই আপনারা সূচি পেয়ে যাবেন ‘

যথাযথ প্রস্তুতি সেরে আগামী ১৮ মার্চ শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়ে দলের সাথে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে মাশরাফির। ২৫ মার্চ থেকে লঙ্কানদের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে।

শ্রীলঙ্কায় ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দিবেন মাশরাফিই!

শ্রীলঙ্কায় ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দিবেন মাশ

জাতীয় দলের প্রসঙ্গটা উঠলে চলে আসে মাশরাফির নামও। ভারত সফরে ছিলেন না। শ্রীলঙ্কায় যেহেতু টেস্ট সিরিজ দিয়ে শুরু, তাই মাশরাফি প্রসঙ্গটা আপাতত নেই আলোচনাতে। ওয়ানডে সিরিজের আগেই আবার মাশরাফি উঠবেন সরব হয়ে!

আসলে ইনজুরির যে দীর্ঘ তালিকা, তাতে রয়েছে মাশরাফিরও নাম। নিউজিল্যান্ড সফরের শেষের দিকে ইনজুরিতে পড়েন বাংলাদেশের এ পেসার। ইনজুরি নিয়েই ফিরেছেন দেশে। আসন্ন শ্রীলঙ্কা সফরে ওয়ানডে ও টি-২০ স্কোয়াডে আছেন তিনি। অধিনায়কত্বও করবেন। কিন্তু মাশরাফি কি সুস্থ? আলোচনাটা উঠে আসে।

এ ব্যাপারে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু বলেন, ‘শ্রীলঙ্কায় ওয়ানডে সিরিজের আগেই মাশরাফিকে আমরা পাব। ইতোমধ্যে আমরা যে খোঁজ খবর নিয়েছি, তা সবই পজিটিভ। মাশরাফি নিয়মিত খেলবেন ওই সিরিজে।’

ইনজুরির সাথে লড়াইয়ের অভ্যাস দীর্ঘ ১৬ বছরের ক্যারিয়ারে ওতপ্রোতভাবেই জড়িয়ে। দুই হাঁটুতে অন্তত সাতবার অস্ত্রোপচার হয়েছে তার। টেস্ট ক্রিকেট থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে তার ইনজুরির কারণেই। একবার তো আশাই ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু অদম্য তিনি। ইনজুরির সাথে লড়াই করে আবার ফিরেছেন। মাশরাফির ব্যাপারে বিসিবির চিকিৎসক ডাক্তার দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, ‘গত পরশু স্ক্যান করানো হয়েছিল মাশরাফির। কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি। দ্রুত তার উন্নতি হচ্ছে। আশা করছি, ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগেই সে সেরে উঠবে।’

উল্লেখ্য, গত ৮ জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের শেষ টি-২০ ম্যাচে নিজের ফিরতি বল ঠেকাতে গিয়ে ডান হাতের বুড়ো আঙুলে চোট পান মাশরাফি। পরে জানা যায়, তার ডান কবজির হাড়েও চিড় ধরা পড়ে। সেটা রিকভারেই ব্যস্ত তিনি দেশে ফেরার পর থেকে। মার্চে শ্রীলঙ্কায় প্রথম ওয়ানডে ২৫ মার্চ (দিন-রাত), দ্বিতীয় ওয়ানডে ২৮ মার্চ (দিন-রাত) এবং তৃতীয় ওয়ানডে ১ এপ্রিল। আর দুইটি টি-২০ ম্যাচ হবে ৪ ও ৬ এপ্রিল।

ধীর গতিতে অবস্থার উন্নতি ঘটছে মাশরাফির

মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে গত আট জানুয়ারি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নিজের বলে কোরি অ্যান্ডারসনের শট ফেরাতে গিয়ে ডানহাতের আঙুলে আঘাত পান মাশরাফি বিন মুর্তজা। পরবর্তীতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানা যায়, তার আঙুলে চিড় ধরা পড়েছে। ফলে, পাঁচ-ছয় সপ্তাহ মাথের বাইরে থাকতে হবে বাংলাদেশের সীমিত ওভারের এই অধিনায়ককে।

এরই মধ্যে ছয় সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। মাশরাফির আঙুলের চোট উন্নতির পথে। কিন্তু উন্নতিটা ধীর গতিতে হওয়ায় আরও একটু সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে ৩৩ বছর বয়সী ডানহাতি এই পেসারকে। রুটিন ওয়ার্ক হিসেবে শনিবার দুপুরে মাশরাফির আঙুলে স্ক্যান করা হয়েছে। সেখানেও উন্নতির ছাপ বিদ্যমান। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) চিকিৎসক দেবাশিষ চৌধুরী জানালেন আগামী মাসের শুরুতেই বল হাতে দেখা যাবে মাশরাফিকে।

এ প্রসঙ্গে বিসিবির অভিজ্ঞ এই চিকিৎসক বলেন, ‘এটা একটা রুটিন স্ক্যান। এরই মধ্যে প্রায় ছয় সপ্তাহ শেষ হয়ে গেছে। তবে তার আঙুল উন্নতির দিকে। সাধারণত ৬-৭ সপ্তাহের মধ্যে ঠিক হয়। কিন্তু এখানে হয়তো আট সপ্তাহের মতো লেগে যাবে। তবে শ্রীলঙ্কা সিরিজে এটা কোনও প্রভাব ফেলবে না।’

আঙুলে আঘাত পাওয়ার পর মাঠেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছেন মাশরাফি। ছবি: সংগৃহীত

আগামী মার্চে বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা সফর। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ দিয়ে শুরু হবে এই সফর। এরপর ২৫ মার্চ থেকে শুরু হবে ওয়ানডে সিরিজ। নিউজিল্যান্ড সিরিজের পর সীমিত ওভারের আর কোন সিরিজ খেলেনি বাংলাদেশ। তাই কোন ম্যাচও মিস হয়নি মাশরাফির। বাংলাদেশ দল এই মুহূর্তে শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য ব্যাটিং-বোলিং অনুশীলন করলেও মাশরাফি ব্যাট কিংবা বল কোনটাই হাতে নিতে পারেননি।

তবে ফিরে আসার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। স্ক্যানের পর চোটের উন্নতি দেখে ওয়ানডে সিরিজের আগেই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে মাঠে নামার মত ফিট হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী মাশরাফি, ‘শনিবার স্ক্যান করানো হল। এখন সমস্যা নেই। আশা করি খুব দ্রুতই বল হাতে নেওয়ার সুযোগ পাব। শ্রীলঙ্কা সফর শুরু হলেও ওয়ানডে শুরু হতে এখনও বেশ দেরি আছে। আশা করি ২৫ মার্চের আগে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে মাঠে নামার মতো ফিট হতে পারব।’

মাশরাফির চোখে মুশফিকই সেরা টেস্ট অধিনায়ক

অধিনায়কত্ব নিয়ে মুশফিকের সমলোচনা নতুন কিছু নয়, প্রত্যেক টেস্ট ম্যাচেই নিজের অধিনায়কত্ব নিয়ে সমলোচিত হতে হয় মুশফিককে। কাপ্তান মুশফিকের পাশাপাশি মাঝে মাঝে সমলোচিত হন নিজের উইকেটকিপিং নিয়ে। স্ট্যাম্পের পেছনে কখনো ক্যাচ মিস কিংবা কখনো স্ট্যাম্পিং মিস তবে সব ছাপিয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকই।

ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট সিরিজে আবারো আলোচনায় এসেছে মুশফিকের অধিনায়কত্ব। ভবিষ্যতে মুশফিক টেস্ট ক্রিকেটে অধিনায়ক থাকবেন কিনা তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট দেখতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপন। তিনি মিডিয়াকে সাফ জানিয়েছেন টেস্ট ক্রিকেটে অধিনায়কত্ব হারাতে চলেছেন বর্তমান অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। হারাতে পারেন উইকেটরক্ষকের দায়িত্বও।

তবে বাংলাদেশ দলের সীমিত ওভারের অধিনায়ক মাশরাফি মর্তুজার চোখে মুশফিকই বাংলাদেশের সেরা টেস্ট অধিনায়ক। তিনি বলেন, মুশফিকের অধীনে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ একদিন অনেকদূর যাবে বাংলাদেশ।

সে দুর্দান্ত একজন ব্যাটসম্যান। মুশফিক অসাধারণ শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং পরিশ্রমী একটা ছেলে। আমি মনে করি, বাংলাদেশ ক্রিকেট অধিনায়ক হিসেবে তাঁর হাত ধরে অনেকদূর যাবে। ও দারুণ কাজ করছে। গত বছর ফলাফলগুলোই দেখুন! আমরা পাকিস্তানের বিপক্ষে ভালো করেছিলাম, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জেতার সম্ভাবনাও ছিল, তবে আমরা সে সুযোগ হারিয়েছি। নিউজিল্যান্ডে দারুণ লড়াকু ক্রিকেট খেলেছি। আমার মতে, এই মুহুর্তে অধিনায়ক হিসেবে ওই সেরা ওই সেরা।”

২০১১ সালে তিন ফরম্যাটেই অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পান মুশফিকুর রহিম। তাঁর অধীনে ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথমবারের মতন এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলার গৌরব অর্জন করে বাংলাদেশ দল। ২০১৪ সালে দলগত বাজে পারফরম্যান্সের কারণে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া মুশফিককে। এখন পর্যন্ত তাঁর অধীনে ২৭টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ, জয় এসেছে ৫ টি তে।