Category Archives: Cricket

পারফরমার মুমিনুলকে চান মিনহাজুল

যার গায়ে সেঁটে গেছে ‘টেস্ট ব্যাটসম্যান’ তকমা, শেষ আন্তর্জাতিক ওয়ানডেটি যিনি খেলেছেন ২০১৫ বিশ্বকাপে, সেই মুমিনুল হক এবার বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইমার্জিং টিমস এশিয়া কাপে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের চার বছর পরও তিন সংস্করণের ব্যাটসম্যান হিসেবে স্বীকৃতি না মেলা মুমিনুলের কাঁধে কেন ৫০ ওভার ক্রিকেটের এই টুর্নামেন্টে নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হলো, আজ সেটির একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিসিবির প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন, ‌ ‘ওয়ানডেতে একটা সময় নিয়মিত ছিল সে। মাঝখানে বাদ পড়েছে। এখানে ভালো খেলে যাতে মুমিনুল ফিরে আসতে পারে সে কারণেই এই টুর্নামেন্টে তাকে খেলানো।’
কক্সবাজারে ম্যাচ দেখতে আসা মিনহাজুল অবশ্য অধিনায়ক মুমিনুল নন, ব্যাটসম্যান মুমিনুলকেই বেশি করে দেখতে চান, ‘এখানে তার অধিনায়কত্ব নয়, আমরা চাই পারফরমার মুমিনুলকে।’
মুমিনুলের ডেপুটি হয়ে টুর্নামেন্টে খেলছেন নাসির হোসেন। জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই অলরাউন্ডারও আশাবাদী হতে পারেন প্রধান নির্বাচকের কথায়, ‘আমরা এখন টানা সিরিজ খেলছি। কেউ হঠাৎ চোটে পড়ে গেলে তাদের বদলি খেলোয়াড় রাখা জরুরি। নাসিরও একটা সময় জাতীয় দলে নিয়মিত ছিল। কিন্তু খারাপ খেলায় বাদ পড়েছে। আশা করব এ ধরনের টুর্নামেন্টে ভালো খেলে সেও ফিরে আসেব।’

ভাবনায় সিরিজ জয়

প্রথম ওয়ানডেতে ৯০ রানের বিশাল জয়ের পর শ্রীলঙ্কাকে ধবলধোলাই করার ভাবনাটা উঁকি দিচ্ছে অনেকের মনে। কিন্তু দারুণভাবে প্রথম ম্যাচ জিতলেও পা মাটিতেই রাখছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে হোয়াইটওয়াশ নিয়ে ভাবাটা একটু আগামই মনে হচ্ছে তাঁর কাছে। ৩-০ নয়, আপাতত সিরিজ জয়ের কথা ভাবছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
এই মুহূর্তে ডাম্বুলার রণগিরি স্টেডিয়ামে আগামীকালের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মনোযোগ মাশরাফির। সিরিজের ফল কী হবে, এটা নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট করতে চান না তিনি, ‘ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলা সবচেয়ে সুবিধাজনক। প্রথম ম্যাচে জিতেছি, দ্বিতীয় ম্যাচে মনোযোগী থাকতে হবে। সব সময় কথা হয় ৩-০ বা ৫-০’র। অন্য দলও কিন্তু খেলতে আসে। তারাও তাদের সেরা চেষ্টা তো করবে। আমরা যদি পরের ম্যাচে নিজেদের সেরা ক্রিকেটটা খেলি, যদি বের হয়ে যেতে পারি, তখন বোঝা যাবে সমীকরণটা কী হবে।’
প্রথম ম্যাচে তামিম ইকবালের ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপান্তর আর বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩২৪ হওয়াটা দারুণ তৃপ্তি দিয়েছে অধিনায়ককে। খেলার ধরনটা দেখে তাঁর মনে হয়েছে দল সঠিক প্রক্রিয়ার মধ্যই আছে, ‘ম্যাচটা আমাদের জন্য খুব ভালো শিক্ষা। আমাদের ব্যাটসম্যানদের শিখতে হবে ফিফটিকে কীভাবে এক শ রানে পরিণত করতে হয়। অন্য দলগুলো প্রায়ই তিন শ করে কীভাবে! যে ব্যাটসম্যান ৬০ রান করে তখন সে একশ করার লক্ষ্য নিয়ে খেলতে থাকে। আমাদের এটাই শিখতে হবে। আমার মনে হয় এটিই সঠিক প্রক্রিয়া।’
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সতীর্থদের কাছে কী চান মাশরাফি। এটা বলতে গিয়ে প্রথম ম্যাচকে উদাহরণ হিসেবে টেনে এনেছেন তিনি, ‘তামিম যদি ৫০-৬০ করে আউট হয়ে যেত তাহলে আমাদের সংগ্রহটা ২৭০ বা ২৮০ হতো। আমার মনে হয় এই জায়গাটাতেই দলগুলোর পার্থক্য হয়ে যায়। ওই ৩০-৪০ রানই পার্থক্য।’

ঘাসের উইকেটে ভয় পাচ্ছেন না মাশরাফি

হঠাৎই দুই পেসারকে দলে ডেকেছে শ্রীলঙ্কা। দুই ‘নুয়ান’—নুয়ান কুলাসেকেরা ও নুয়ান প্রদীপকে দলে ডাকার অর্থ কি লঙ্কানরা গতি দিয়ে বাংলাদেশকে ঘায়েল করতে চাচ্ছে! শ্রীলঙ্কা দলের ক্রিকেট ম্যানেজার অশাঙ্ক গুরুসিনহা অবশ্য বলেছেন, সুরঙ্গা লাকমালের চোটের কারণে সতর্কতার অংশ হিসেবেই এই দুই পেসারকে দলে ডাকা হয়েছে। মূলত বিকল্প বাড়াতেই কুলাসেকেরা ও প্রদীপকে নেওয়া।

দ্বিতীয় ওয়ানডের উইকেট যে কিছুটা পেস-বান্ধব হচ্ছে সেটি গুরুসিনহার কথা আঁচ করা গেলেও একটু রহস্যও রাখছেন তিনি, ‘উইকেটে ঘাস দেখে মনে হচ্ছে আমাদের একজন অতিরিক্ত পেস বোলার নেওয়া দরকার। তবে আমরা ভালো একজন অফ স্পিনারের প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করেছিল। এটিও আলাপ-আলোচনায় এসেছে।’
তবে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা এসব নিয়ে মাথা ঘামাতে চান না। উইকেটে ঘাস নিয়েও খুব একটা চিন্তিত নন তিনি, ‘ঘাস একটু থাকলেও থাকতে পারে। তবে আমি মনে করি উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো হবে। উপমহাদেশে আপনি যতই চেষ্টা করেন না ঘাসের উইকেট বানাতে হলে অনেক ঘাস রাখতে হবে। আমাদের মনে হচ্ছে, এটি ব্যাটিং-বান্ধব উইকেট। তারপরেও কালকে বোঝা যাবে কোন অবস্থায় ঘাস আছে। উইকেট কী অবস্থায় আছে, কতটুকু শক্ত-নরম, পানি কতটুকু দেওয়া হয়েছে সবই বোঝা যাবে কাল সকালে।’

বাংলাদেশের অভিজ্ঞতায় শ্রদ্ধা গুরুসিনহার

১৯৯০ সালের এশিয়া কাপে কলকাতায় বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলেছিলেন অশাঙ্ক গুরুসিনহা। খেলেছিলেন ১৯৯৫ সালে শারজা এশিয়া কাপেও। খেলোয়াড়ি জীবনে দেখেছেন অনভিজ্ঞ ও দুর্বল এক বাংলাদেশকে। সেই সময়ে যারা পাঠ নিচ্ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের। আজ এত বছর পর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট দলের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে বসে দেখছেন বদলে যাওয়া এক বাংলাদেশ দলকেই। উন্নতি করা এক বাংলাদেশকে, নিজেদের অন্য উচ্চতায় তুলে দেওয়া এক বাংলাদেশকে। ডাম্বুলায় দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে সংবাদ সম্মেলনে সেটিই তুলে ধরলেন বিশ্বকাপজয়ী সাবেক এই লঙ্কান তারকা। বললেন,‘এই বাংলাদেশ অনেক অভিজ্ঞ দল। ক্রিকেটে উন্নতিটাও তারা করেছে দারুণ।’
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ৯০ রানে হারটাকে গুরুসিনহা কীভাবে দেখছেন? এটি কি শ্রীলঙ্কার ব্যর্থতা, নাকি বাংলাদেশের দুর্দান্ত খেলার ফল। সংবাদ সম্মেলনে তাঁর দিকে ছুটে গিয়েছিল এমন এক প্রশ্ন। শ্রীলঙ্কার সাবেক এই ক্রিকেটার অবশ্য বাংলাদেশের আধিপত্যকে স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন, ‘বাংলাদেশ অবশ্যই কৃতিত্ব পাবে। তারা খুবই অভিজ্ঞ দল। তারা প্রচুর ওয়ানডে খেলে। এক সঙ্গে খেলছে তারা অনেকদিন ধরেই। নির্দিষ্ট করে বললে গত ৭-৮ বছরে তারা অনেক ওয়ানডে খেলেছে। এটা তাদের ভালো একটা দল হয়ে উঠতে দারুণ সাহায্য করেছে। দল হিসেবেও তারা ভালো করছে, উন্নতি করেছে।’
শ্রীলঙ্কা দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে গুরুসিনহা এই পুনর্গঠন শব্দটি আর ব্যবহার করতে চান না, ‘আমার মনে হয়, এই শব্দটি গত তিন বছর ধরে ব্যবহার করতে করতে পুরোনো হয়ে গেছে। আমরা এই শব্দটি আর ব্যবহার করতে চাই না। সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেললে ভালো করতে হবে। পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অজুহাত দেওয়ার সুযোগ এখানে সীমিত।’
লঙ্কান দলের ফিল্ডিং নিয়ে চিন্তিত গুরুসিনহা। প্রথম ওয়ানডেতে ফিল্ডিং দুর্বলতাটা খুব চোখে লেগেছে তাঁর। আপাতত ফিল্ডিংয়ে ছোট ছোট জায়গায় উন্নতির তাগিদ তাঁর, ‘আমাদের ফিল্ডিং ভালো—এটা বললে মিথ্যে বলা হবে। ফিল্ডিং আমাদের সমস্যা অনেক দিন ধরেই। আমরা কিছু জায়গায় উন্নতি করতে চাচ্ছি। রাতারাতি উন্নতি হয়তো সম্ভব নয়। তবে আমাদের এমন কিছু করা উচিত, যা স্বল্প মেয়াদে আমাদের ফিল্ডিংয়ের উন্নতিতে সাহায্য করবে। শেষ ম্যাচে আমরা অনেক ভুল করেছি। ওয়ানডে ক্রিকেটে এই ভুলগুলো করা যাবে না। এই পর্যায়ে ফিল্ডিং হতে হবে দুর্দান্ত।’

মুহূর্তে ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়া-ভারতের চেয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ

ওয়ানডে ফরম্যাটে গত ক’বছরে বেশ উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ জায়গা করে নিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ের সাত নম্বর অবস্থানে। মজার ব্যাপার হলো, সাতে থাকলেও পরিসংখ্যান বলছে এই মুহূর্তে ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়া-ভারতের চেয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।

আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের ২০১৫ সালের আসরের পর, ওয়ানডে ক্রিকেটে জয় পরাজয়ের অনুপাত হিসেব করে বাংলাদেশ এখন তৃতীয় সেরা দল। ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর যে দলগুলো কমপক্ষে ২০টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে , সে দল গুলোর খেলা ম্যাচের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে।

এই জয়-পরাজয়ের পরিসংখ্যানে বাংলাদেশ পিছনে ফেলেছে ভারত ,পাকিস্তান এমনকি অস্ট্রেলিয়াকেও। বিশ্বকাপের পর থেকে এই পর্যন্ত ২২টি ওয়ানডে খেলে ১৪টিতেই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। হেরেছে আটটি ম্যাচে। জয়-পরাজয়ের অনুপাত ১.৭৫০ নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছে বাংলাদেশ।

৩৮ টি ওয়ানডে খেলে ২৫টিতে জয় ও ১২টিতে পরাজয় নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রোটিয়াদের জয়-পরাজয়ের অনুপাত ২.০৮৩। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ইংল্যান্ডের জয়-পরাজয়ের অনুপাত ১.৭৬৯।

২০১৫ বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশ দলের চেহারাটাই যেন বদলে গিয়েছে। বিশেষ করে ওয়ানডে ফরম্যাটে। বিশ্বকাপ মিশন শেষ করে এসে ঘরের মাঠে টানা পাঁচটি ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। সিরিজ জিতেছে পাকিস্তান,ভারত ,দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। বিশ্বকাপের পর থেকে এই পর্যন্ত খেলা সাতটি সিরিজের মধ্যে কেবল দুটিতে হেরেছে বাংলাদেশ।

গেল শনিবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৯০ রানের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজের পরের দুটি ম্যাচ জিততে পারলে ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ের ষষ্ঠ অবস্থানে উঠে আসবে বাংলাদেশ।

২০১৫ বিশ্বকাপের পর ওয়ানডে ফরম্যাটে জয়-পরাজয়ের অনুপাত (কমপক্ষে ২০টি ওয়ানডে খেলা দল)

দল              ম্যাচ      জয়   পরাজয়    টাই     ফল হয়নি   জয়-পরাজয়ের অনুপাত

 

দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৮      ২৫      ১২         ০          ১                 ২.০৮৩

ইংল্যান্ড           ৩৯       ২৩      ১৩         ১           ২                  ১.৭৬৯

বাংলাদেশ        ২২        ১৪        ৮         ০          ০                     ১.৭৫০

অস্ট্রেলিয়া       ৪২        ২৫       ১৬        ০           ১                   ১.৫৬২

আফগানিস্তান  ২৯        ১৬       ১২        ০           ১                   ১.৩৩৩

ভারত              ২৭        ১৫        ১২        ০           ০                   ১.২৫০

নিউজিল্যান্ড    ৩৯       ২১         ১৭        ০           ১                    ১.২৩৫

পাকিস্তান        ৩৪        ১৪         ১৯       ০           ১                    ০.৭৩৬

শ্রীলঙ্কা           ৩৬       ১২         ২০        ১          ৩                     ০.৬০০

আয়ারল্যান্ড     ২১       ৭           ১৩        ০           ১                      ০.৫৩৮

জিম্বাবুয়ে         ৪১       ১১          ২৭         ১          ২                     ০.৪০৭

 

ওয়েস্ট ইন্ডিজ   ২০       ৪          ১৫         ১          ০                     ০.২৬৬

সূত্রঃ ক্রিকইনফো

‘গণক’ মাশরাফির ভবিষ্যতবাণীতেই তামিমের সেঞ্চুরি!

 মাশরাফি বিন মুর্তজা লিখে দিয়েছিলেন, ছয় মাসের আগে রঙিন পোশাকে সেঞ্চুরি পাবেন না তামিম ইকবাল। শেষ পর্যন্ত তাই হয়েছে। সর্বশেষ অক্টোবরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দেশের মাটিতে সেঞ্চুরি করেছিলেন ড্যাশিং ওপেনার। পরের সেঞ্চুরিটি পেলেন ছয় মাসের মাথায়, মার্চে।

এমন তথ্য নিজেই জানিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ১০ হাজার রান করা তামিম। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শনিবার তার করা ১২৭ রানের ঝড়ো ইনিংসে চড়ে ৩৫৪ রানের সংগ্রহ তোলে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত লঙ্কানদের বিপক্ষে ৯০ রানের জয়ও তুলে নেয়।

নিজের সেঞ্চুরি নিয়ে বলতে গিয়েই উঠে আসে সীমিত ওভারে মাশরাফির ভবিষ্যতবাণীর কথা। তামিম জানান, আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১১৮ রানের ওই ইনিংস খেলার পর ড্রেসিংরুমে মাশরাফি লিখে দিয়েছিলেন পরের সেঞ্চুরি পেতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগবে তামিমের। মূলত, তামিমকে মানসিকভাবে তাঁতিয়ে দিতেই এমনটা বলেছিলেন মাশরাফি।

শেষ পর্যন্ত তাই হলো। দুই সেঞ্চুরি মধ্যে তামিম খেলেছেন ছয়টি ওয়ানডে ম্যাচ। যার মধ্যে সর্বোচ্চ ইনিংস ৫৯ রানের, আরেকটি ৪৮ রানের। তামিম বলেন, ‘যখন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে ড্রেসিংরুমে গেলাম, তখন মাশরাফি ভাই বললেন আমার সেঞ্চুরিতে তিনি খুব খুশি হয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘তিনি (মাশরাফি) প্রায়ই আমাকে হুমকি দেন ভালো ইনিংস খেলার জন্য। আমি খুশি শেষ পর্যন্ত তার হুমকি চড়ে হলেও সেঞ্চুরি পেয়েছি। দলের প্রয়োজনে রান করতে পেরেছি।’

জানিয়ে রাখা ভালো, এটি ছিলো তার অষ্টম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয়। ২০১৩ সালে হাম্বানটোটায় ১১২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তামিম। 

সূত্র: ডেইলি স্টার

মুমিনুল, নাসিরে উড়ে গেল হংকং

ইমার্জিং টিমস এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে হংকংকে আট উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে শুভসূচনা করেছে বাংলাদেশ দল। কক্সবাজাদের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ম্যাচে হংকংয়ের দেওয়া লক্ষ্য ১৬.১ ওভারেই জিতে নিয়েছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

নির্ধারিত ৫০ ওভারের ম্যাচে হংকংয়ের দেওয়া ১২৬ রানের লক্ষ্য খেলতে নেমে দুই উইকেট হারিয়েই এই রান তুলে নেয় হংকং। নাজমুল হাসান শান্ত ও সাইফউদ্দিনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে চড়ে সহজেই এই রান তুলে নেয় বাংলাদেশ।

৪৭ বলে ৫৭ রান করে সাইফউদ্দিন এবং শান্ত ২৩ বলে ২৪ রান করে অপরাজিত ছিলেন। এছাড়া অধিনায়ক মুমিনুল হক ১৪ বলে ২১ রানের ইনিংস খেলেন।

 

এর আগে টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নামা হংকং দুই সিনিয়র ক্রিকেটার মুমিনুল ও নাসিরের বোলিং তোপে বিপাকে পড়ে। দুজনেই তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন। নাসির ১০ ওভার বল করে তিন উইকেট নিতে গিয়ে খরচ করেছেন মাত্র ১৮ রান। চার ওভার বল করে ১১ রান দিয়ে তিন উইকেট নিয়েছেন মুমিনুল। একটি মেইডেনও নিয়েছেন। 

এক নম্বরের কৃতিত্বে ফেদেরারকেও ছাপিয়ে সাকিব

আবারও তিন ধরনের ক্রিকেটে এক নম্বরে সাকিব আল হাসান। এ কত বড় এক অর্জন নিচের পরিসংখ্যান ও তথ্যে মিলবে প্রমাণ—

* তিন ধরনের ক্রিকেটে একই সময়ে এক নম্বরে ওঠা একমাত্র অলরাউন্ডার। সাকিব এটি করে দেখিয়েছেন তিনবার।
* তিন ধরনের ক্রিকেটে একই সময়ে এক নম্বরে ছিলেন মোট ৩৮ সপ্তাহ। ওয়ানডে অলরাউন্ডার র‍্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরে ছিলেন ৩২৪ সপ্তাহ। টেস্টে ১৬৪ সপ্তাহ। টি-টোয়েন্টিতে ১০৫ সপ্তাহ।
* ওয়ানডে অলরাউন্ডার র‍্যাঙ্কিংয়ে সাকিবের ৩২৪ সপ্তাহ থাকার কৃতিত্ব বোঝা যাবে এই তথ্যে—জ্যাক ক্যালিস একে ছিলেন ২০৩ সপ্তাহ, শন পোলক ১৩৮ সপ্তাহ, অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ ১১৩ সপ্তাহ।
* রজার ফেদেরার একে ছিলেন ২৩৭ সপ্তাহ, সেরেনা উইলিয়ামস এক নম্বরে ছিলেন ৩১৬ সপ্তাহ।
* টেস্ট অলরাউন্ডার হিসেবে ১৬৪ সপ্তাহ এক নম্বরে থাকা সাকিবের পেছনে আছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন (১০২ সপ্তাহ), ওয়াসিম আকরাম (১৫ সপ্তাহ) ও ফ্লিনটফ (৭ সপ্তাহ)।
* অবশ্য এই টেস্ট অলরাউন্ডার হিসেবে এক নম্বরে থাকার কৃতিত্বে সাকিবের আগে আছেন ইমরান খান (১৯৭ সপ্তাহ), ইয়ান বোথাম (২৩৭ সপ্তাহ) ও রিচার্ড হ্যাডলি (৩০৮ সপ্তাহ)।
সূত্র: ক্রিকইনফো।

‌‘বাংলাদেশ অন্য বাংলাদেশ’:দিনেশ চান্ডিমাল

এই শ্রীলঙ্কা আর আগের শ্রীলঙ্কা নেই। বড় তারকা নেই। দলে একগাদা তরুণ খেলোয়াড়। সাঙ্গা-জয়াবর্ধনে, ভাস-মুরালিদের রেখে যাওয়া শূন্যতা পূরণে এখনো খাবি খাচ্ছে ’৯৬-এর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু বাংলাদেশের কাছে এভাবে আত্মসমর্পণ করার পেছনে শ্রীলঙ্কার অনভিজ্ঞতাকে আর অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে চান না খোদ দিনেশ চান্ডিমাল।
কাল বাংলাদেশের কাছে ৯০ রানে হেরে যাওয়া শ্রীলঙ্কা ওয়ানডেতে টানা ছয়টি ম্যাচ হারল। গত প্রায় এক বছরে ১৮ ওয়ানডের ১৪টি হেরেছে তারা, জিতেছে চারটি। তবে ম্যাচ শেষে চান্ডিমাল বললেন, ‌‘দেখুন, প্রতিবার হারের পর আপনি বলতে পারেন না—আমাদের ক্রিকেটে পালাবদল চলছে। আমাদের যার যার জায়গা থেকে দায়িত্ব নিয়ে ফল এনে দিতে হবে। সব খেলোয়াড়কে দায়িত্ব নিতে হবে, যে সুযোগ তারা পাচ্ছে, তার পূর্ণ ব্যবহার যেন অন্তত হয়। সব খেলোয়াড় কঠোর পরিশ্রম করছে। আশা করি, আমরা শিগগিরই এর ফলও দেখতে পাব।’
দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে কদিন আগে এই দলটা ওয়ানডেতে ধবলধোলাই হয়েছে। তখনো এমন শোরগোল ওঠেনি। প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কায় এসে এভাবে ছড়ি ঘোরাবে, দেশটির অনেকে যেন মেনে নিতে পারছে না। তবে চান্ডিমাল বলছেন, বাংলাদেশ যে এখন ভালো দল, এই বাস্তবতা মেনে নিতে হবে সবাইকে, ‘আমি নিজে যখন শ্রীলঙ্কা দলের হয়ে খেলতে শুরু করলাম, তখনো ওদের খুব সহজে হারিয়েছি। কিন্তু এই বাংলাদেশ অন্য বাংলাদেশ। ওদের দলে সাত কি আটজন খেলোয়াড় আছে, যারা অনেক দিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছে। এরা সবাই দলের হয়ে খেলছে বলে অভিজ্ঞতাতেও ওরা অনেক এগিয়ে আছে।’

কালকের পরাজয়ের জন্য চান্ডিমাল মূলত দায়ী করেছেন দলের বাজে ফিল্ডিংকে, ‘ওদের ২৮০-র মধ্যে আটকে ফেলতে পারলেও আমাদের ব্যাটে কিছু করার সুযোগ ছিল। কিন্তু আমরা খুবই বাজে ফিল্ডিং করেছি। আমরা ফিল্ডিং অনুশীলন করছি অনেক, কিন্তু ম্যাচের মধ্যে চাপে পড়ে যাচ্ছি। দলে অনেক তরুণ খেলোয়াড়, ফলে ভুল হতে পারে। তবে আমাদের চেষ্টাটা আছে। আশা করি, পরের দুই ম্যাচে আমাদের ফিল্ডিং ভালো হবে।’
শ্রীলঙ্কা ব্যাটিং আসলেই ভালো করছিল। বাংলাদেশের চাপিয়ে দেওয়া এত বড় রানের বোঝা সামলাতে পারেনি। তবে কি প্রথমে ব্যাটিং করলেই ভালো করত শ্রীলঙ্কা? চান্ডিমাল মনে করেন, তাতে হিতে বিপরীত হতে পারত, ‘টসে জিতে ব্যাটিং করতে নামলে সেটা উল্টো আমাদের বিপদেও ফেলে দিতে পারত। টসে জিতলে পরে ব্যাটিং করব এটা আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত ছিল। গত দুই দিনে এখানে আমরা রাতে শিশির পড়তে দেখেছি। আমরা এর ফায়দা নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আজ (গতকাল) সেভাবে শিশির পড়েনি, সবকিছু আমাদের পক্ষে যায়নি।’

দেখে একবারও মনে হয়নি মিরাজ প্রথম ওয়ানডে খেলছে: তামিম

ছবি: সংগৃহীত

 বাংলাদেশ দলের হয়ে সাতটি টেস্ট খেলে ফেললেও অপেক্ষা ছিলো রঙিন পোশাকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার। সেটাও হয়ে গেলো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে। ব্যাটিংয়ে না নামলেও বল হাতে সুযোগ পেয়েই জ্বলে উঠলেন ১৯ বছর বয়সী ডানহাতি এই অলরাউন্ডার। অভিষেক ম্যাচেই দুই উইকেট নিয়ে লঙ্কানদের বিপক্ষে ৯০ রানের বড় জয়ে অবদান রাখেন মিরাজ।

তাইতো ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবালের কণ্ঠেও শোনা গেল মিরাজ স্তুতি। ডানহাতি এই অফস্পিনারের বোলিং দারুণ মুগ্ধ করেছে দেশসেরা এই বাঁ-হাতি ওপেনারকে। শুধু তাই নয়, তামিম জানান মিরাজকে দেখে তার একবারও মনে হয়নি এদিন তার অভিষেক ঘটেছে।

এ প্রসঙ্গে তামিম বলেন, ‘মিরাজের বোলিং দেখে আমি যারপরনাই খুশি। আমি অবাক হয়ে দেখলাম, টেস্টের মত ওয়ানডে অভিষেকেও কী অসাধারণ বোলিং করলো মিরাজ। মাঠে তার চলাফেরা, সাহস, আর বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং দেখে মনেই হয়নি, এটা ছিল তার প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ। আমার কাছে মনে হয়েছে, সে খুবই আত্মবিশ্বাসী একটা ছেলে। আশা করি, ও এখান থেকে কেবল সামনের দিকেই এগিয়ে যাবে।’

লঙ্কানদের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের স্কোয়াডেই ছিলেন না মেহেদী হাসান মিরাজ। লঙ্কানদের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শেষে দেশে ফিরে আসেন মিরাজ। উদ্দেশ্য দেশে অনুষ্ঠিতব্য ইমার্জিং এশিয়া কাপ ও ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ। শেষ মুহূর্তে ডাম্বুলায় ম্যাচের দু’দিন আগে তাকে উড়িয়ে নিয়ে যায় টিম ম্যানেজমেন্ট।

ব্যাটিংয়ে না নামলেও বল হাতে সুযোগ পেয়েই জ্বলে উঠলেন ১৯ বছর বয়সী ডানহাতি এই অলরাউন্ডার। অভিষেক ম্যাচে তার প্রথম শিকারে পরিণত হন লঙ্কান ব্যাটসম্যান কুশল মেন্ডিস। আর দ্বিতীয় শিকার ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে দিনেশ চান্দিমাল।

খেলার সর্বশেষ নিউজ পেতে সঙ্গে থাকেন……….

%d bloggers like this: