Category Archives: স্পোর্টস রেকর্ড এবং ইতিহাস

সাদাকালো ক্রিকেটের যুগে রঙিন নারীদের গল্প

ক্রিকেটের আধুনিকায়নে নারীদের ভূমিকা কম নয়। ক্রিকেটের শেকড়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু মাইলফলক দাড় করিয়ে গেছেন তারা। কখনও ক্রিকেটার হয়ে, কখনও বা ক্রিকেটারের মা হয়ে। সেই সাদাকালোর যুগ থেকে শুরু করে আজকের রঙিন ক্রিকেট; যাদের হাত ধরে ক্রিকেট পেয়েছে আরো জৌলুশ, তেমন কিছু নারীদের নিয়েই নারী দিবসের এই বিশেষ আয়োজন।

ক্রিশ্চিন উইলস। ছবিঃ সংগৃহীত

১/ক্রিশ্চিন উইলস:

এ যুগে ক্রিকেটে যেটাকে আর্ম বল বলা হয়, তার শুরুটা কবে বা কার হাতে? বলতে পারেন? জেনে অবাক হবেন, এই আর্ম বলের উদ্ভাবক একজন নারী ক্রিকেটার। নাম ক্রিশ্চিন উইলস, দেশ অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু সময়টা এতই আগে ছিল যে সেটাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি ক্রিকেটে। ক্রিশ্চিনার ভাই জন যিনি কেন্টের হয়ে  ক্রিকেট খেলতেন তিনি দায়িত্ব নিলেন এবং ওভার আর্ম ডেলিভারী আরো বড় মঞ্চে তুলে ধরলেন। জনের ওভার আর্ম বোলিং স্টাইল এতোই জনপ্রিয় এবং বিধ্বংসী ছিলো যে ১৮১৬ সালে এই বোলিং স্টাইল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
১৮৬৪ সালে ওভার আর্ম বোলিং বৈধ ঘোষণা করা হয়। অনেকের মতে, ওই দিনটিই ছিলো আধুনিক  ক্রিকেটের নতুন দিনে সূচনার।

২/ জেন স্পেইট:

জেন স্পেইট নামটি একদমই পরিচিত না কারণ তিনি কখনই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেননি। তাকে প্রথম পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি সাবেক ক্রিকেটার জিওফ্রে বয়কট। তার লেখা একটি  বইয়ে জেনকে বর্নণা করতে গিয়ে লিখেছিলেন, ‘জেন স্পেইট একটা টুথব্রাশ হাতে নিয়েও তৎকালীন অনেক ক্রিকেটারের চাইতে ভালো খেলতে পারতেন’। বয়কটের বইয়ের সুবাদেই  ’৯০ এর দশকে মরণোত্তর খ্যাতি অর্জন করেন জেন।


ফ্রান্সেস এডমন্ড। ছবিঃ সংগৃহীত

৩/ ফ্রান্সেস অ্যাডমন্ডস:

ফ্রান্সেস অ্যাডমন্ডস চাইলেই ১৯৮৫-৮৬ সালের ইংল্যান্ড নারী ক্রিকেট দলের একজন সদস্য হতে পারতেন। হয়তো ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ভরাডুবি থেকেও দলকে বাঁচাতে পারতেন। কিন্তু তিনি সুযোগ পাননি। তবে ফ্রান্সেস ‘Another Bloody Tour’ নামের একটি বই লিখেছিলেন। যেখানে ইংল্যান্ড দলের ব্যার্থতার পাশাপাশি কিছু আবেগি কথাও ছিল। যা পরবর্তীতে ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে পবিত্র বাক্যের মতো মেনে চলা হত।

৪/ আমির বাই:

ভারতের স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে আমির বাই একজন জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়ন ছিলেন। পাশাপাশি ছিলেন একজন মা। তবে সাধারণ মা নয়। তার পাঁচ ছেলের, প্রত্যেকেই ছিলেন ক্রিকেটার। দেশভাগের পরে তার পরিবার পাকিস্তানে চলে গেলে তার ছেলেরা ক্রিকেটের  সাথে এতটাই সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন, যে তাকে এক নামে সবাই ক্রিকেটমাতা হিসেবে চিনতো।

তার তৃতীয় ছেলে হানিফ মোহাম্মদ পাকিস্তানের হয়ে প্রথমবারের মতো টেস্ট ক্রিকেট খেলতে নামে ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট ম্যাচে। বড় ছেলে ওয়াজিরও একই সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে অভিষেক হয়েছিল। দ্বিতীয় ছেলে রাইইস একজন অলরাউন্ডার ছিলেন যিনি পাকিস্তানের প্রথম হোম ম্যাচে দ্বাদশ ব্যক্তি হিসেবে দলে ছিলেন। চতুর্থ ছেলে মুশ্তাক ছিলেন এই খেলার একজন আন্ডাররেটেড চ্যাম্পিয়ন এবং সবচাইতে ছোটজন সাদিক ছিলেন একজন দারুণ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান।

এই পরিবারের ক্রিকেট সুত্র এখানেই শেষ হয় নি। হানিফের ছেলে শোয়েব একজন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ছিলেন, একইসাথে ওয়াজিরের ছেলে ওয়াকার ওয়ারউইকশায়ার অনুর্ধ-১৯ দলের হয়ে খেলতে গিয়েছিলেন।

এই মোহাম্মদ পরিবারের ক্রিকেট ধারা আরো এক প্রজন্ম এগিয়ে যায় যখন শোয়েবের ছেলে শেহজাদ ২০০৯ সালে প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেট খেলতে নামেন।

অপ্রত্যাশিত রেকর্ড বইয়ে সাকিব!

ছবি: এএফপি

তৃতীয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে কেবল ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেই থামেননি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান, ছাড়িয়ে গেছেন জাতীয় দলের সতীর্থ তামিম ইকবালকেও। হয়েছেন বাংলাদেশের হয়ে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক (২১৭)। এবার নাম লিখেয়েছেন স্যার ভিভ রিচার্ডস, রিকি পন্টিংদের পাশে।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসের পঞ্চম উইকেট জুটিতে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের সাথে ৩৫৯ রানের রেকর্ড জুটি গড়ে ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নেন সাকিব। ব্যাট হাতে করেন ২১৭ রান। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে পুরোপুরি ব্যর্থ!

রানের খাতা খোলার আগেই উইকেট হারান বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। তাতেই অপ্রত্যাশিত এক রেকর্ড বইয়ে উঠেছে সাকিবের নাম। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রথম ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় ইনিংসে শূণ্য রানে আউট হলেন সাকিব। তার আগে আরও পাঁচ ব্যাটসম্যান অপ্রত্যাশিত এ রেকর্ড বইয়ে নিজেদের নাম লিখিয়েছেন।

এ তালিকায় নিজেদের নাম লিখানো অন্যান্য ক্রিকেটাররা হচ্ছেন: পাকিস্তানের ইমতিয়াজ আহমেদ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেইমর নার্স, ক্যারিবিয় কিংবদন্তি স্যার ভিভ রিচার্ডস, অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং ও পাকিস্তানের শোয়েব মালিক।

সূত্র: ক্রিকইনফো

১৪০ বছরে এমন হার এবারই প্রথম

পঞ্চম উইকেটে সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম গড়েছিলেন ৩৫৯ রানের রেকর্ড জুটি। প্রথম ইনিংসে ৫৯৫ রানের দলীয় সংগ্রহটাও নেহাত মন্দ ছিল না। তবুও প্রথম টেস্টে সাত উইকেটের পরাজয়! এ হার দিয়ে ১৪০ বছরের টেস্ট ইতিহাস ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়েছে সাকিব-মুশফিকরা।

সাকিব-মুশফিকের ৩৫৯ রানের জুটি শুধু বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসেই নয়, ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি। ম্যাচের শেষ দিন একই মাঠে ফের রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ, তবে সেটা ব্যর্থতার।

প্রথম ইনিংসে ৫৯৫ রানের বড় সংগ্রহ নিয়ে এর আগে কখনো কোনো দল হারেনি। ১৪০ বছরের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ৫৯৫ রানের দলীয় সংগ্রহ পেয়েও হারের স্বাদ পাওয়া প্রথম দল বাংলাদেশ। এর আগে প্রথম ইনিংসে সর্বোচ্চ রান (৫৮৬ রান) করে হারের রেকর্ড ছিল কেবল অস্ট্রেলিয়ার। ১৮৯৪ সালে সিডনিতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে ৫৮৬ রানের সংগ্রহ পেলেও শেষ পর্যন্ত পরাজয় নিয়ে মাঠান ছাড়ে স্বাগতিকরা।

জানিয়ে রাখা ভালো, প্রথম ইনিংসে রানের পাহাড় গড়ে হারের স্বাদ পাওয়া দলগুলোর মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানেও রয়েছে অজিরা। ২০০৩ সালে নিজেদের ঘরের মাঠেই ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে ৫৫৬ রানের দলীয় সংগ্রহ পেলেও ম্যাচ জিততে পারেনি তারা।

সূত্র: ক্রিকইনফো

গ্লাভস হাতে ইমরুল কায়েসের বিশ্বরেকর্ড

বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার ইমরুল কায়েস নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চলতি প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে ১ রান করে ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে সাজঘরে ফিরে গেলেও প্রথম ইনিংসেই গড়েছেন বিশ্বরেকর্ড তাও আবার গ্লাভসহাতে উইকেটের পিছনে থেকে!

নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসের শুরুতে মুশফিকের বদলে গ্লাভস হাতে উইকেট রক্ষকের ভূমিকায় ইমরুল কায়েসকে দেখে অনেকের ভ্রু কুচকে উঠলেও উইকেটের পিছনে দারুণ দক্ষতার সাথে প্রহরীর মতো নিজেকে নিবেদিত করে বদলি উইকেটরক্ষক হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটের ১৪৩ বছরের ইতিহাসে এক ইনিংসে নিয়েছেন সবচেয়ে বেশী ক্যাচ।

কামরুলের বলে ওয়াগনারের ক্যাচ তালুবন্দী করার মাধ্যমে পুরনো রেকর্ড ভেঙ্গে প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিনে নতুন এ রেকর্ড গড়েন ইমরুল কায়েস। এর পূর্বে এ রেকর্ডের মালিক ছিল পাকিস্তানের মাজিদ খান। ১৯৭৭ সালে ওয়াসিম বারির বদলে কিপিং করতে গিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চার ব্যাটসম্যানের ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন মাজিদ। বদলি উইকেট রক্ষকের ভূমিকায় একাধিকবার তিনটি করে ক্যাচ নেওয়ার কীর্তি রয়েছে। লালা অমরনাথ, আমের মালিক, ব্রায়ান চারি ও কুশল মেন্ডিস ছাড়াও নিউজিল্যান্ডের ল্যাথাম গ্লাভস হাতে ইনিংসে তিনটি করে ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন।

গ্লাভস হাতে বিশ্বরেকর্ড গড়ার পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতেও আলো ছড়াচ্ছিলেন ইমরুল কায়েস। তামিম ইকবালের সাথে ৪৬ রানের জুটি গড়ার পথে তড়িৎ গতিতে এক রান নিতে গিয়ে নিজের উইকেট বাঁচাতে ডাইভ দিলে ইঞ্জুরিতে পড়েন বাঁ-হাতি এ ব্যাটসম্যান। এরপর ইনিংসে আর ব্যাট করতে পারেননি তিনি, মাঠ ছাড়তে হয় স্ট্রেচারে করে।

যত ম্যাচ খেলেছেন, রান করেছেন তারও কম!

২৫০টি ওয়ানডে খেলেছেন। ওয়ানডেতে মোট রান ১১৫! যত ম্যাচ খেলেছেন, রান করেছেন অর্ধেকেও কম! এই রেকর্ড আছে গ্লেন ম্যাকগ্রার। ১৯৯৩ সালের ৯ ডিসেম্বর এই অস্ট্রেলীয় পেসারের ওয়ানডে অভিষেক হয়েছিল।

টেল এন্ডারদের ব্যাটিং দেখার মধ্যে এক ধরনের মজা ছিল। কিন্তু আধুনিক ক্রিকেট এই ‘ম্যাকগ্রা’দের ধ্বংস করে দিয়েছে। এখন তো ইংল্যান্ড এমন টেস্ট দলও সাজায়, তাদের ১০ নম্বর ব্যাটসম্যানেরও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আছে সেঞ্চুরি! ম্যাকগ্রাদের দেখা আর কোথায় মিলবে!
ওয়ানডে ইতিহাসে আর একজন ব্যাটসম্যানই আছেন, এক শর বেশি ম্যাচ খেলে যাঁর রান এক শর কম। তিনিও আরেক কিংবদন্তি পেসার। অ্যালান ডোনাল্ড। সাবেক প্রোটিয়া তারকা ১৬৪ ম্যাচ খেলে করেছেন ৯৬ রান। তবে এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, সব ম্যাচেই এঁরা ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাননি। ম্যাকগ্রা যেমন ২৫০ ম্যাচে ব্যাট হাতে নেমেছেন মাত্র ৬৮ বার। তবে যে কয়বার ব্যাটিং করেছেন, তাতেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, সবগুলো ম্যাচে খেললেও রানের সংখ্যাটায় বিশেষ হেরফের হতো না!
রান তো দূরের কথা, দৌড়টাও ঠিকমতো দিতে পারলে তো হতো! ১৯৯৯ বিশ্বকাপে ডোনাল্ড। ফাইল ছবিযত ম্যাচ খেলেছেন, তার চেয়েও কম রান করেছেন এমন ব্যাটসম্যানদের তালিকাটা দীর্ঘ করা যায়। তবে কমপক্ষে ৫০ ম্যাচ খেলে ম্যাচের চেয়ে রান করেছেন কম এমন ব্যাটসম্যানদের তালিকা করলে সেখানে আর খুব বেশি জনকে পাওয়া যাবে না।
অস্ট্রেলিয়ার টেরি অ্যালডারম্যান ৬৫ ওয়ানডে খেলে করেছিলেন ৩২ রান। ভারতের ভেংকটপতি রাজু ৫৩ ম্যাচে ৩২। কার্ল র‍্যাকারমান (৫২ ম্যাচে ৩৪), ক্রিস্টোফার পোফু (৭১ ম্যাচে ৪২), প্যাট্রিক প্যাটারসন (৫৯ ম্যাচে ৪৪), শ্রীশান্ত (৫৩ ম্যাচে ৪৪), মোহাম্মদ ইরফান (৬০ ম্যাচে ৪৮), সুরঙ্গা লাকমল (৫৪ ম্যাচে ৪৯), মনিন্দর সিং (৫৯ ম্যাচে ৪৯), ব্রুস রিড (৬১ ম্যাচে ৪৯ রান), লনওয়াবো সোতসোবে (৬১ ম্যাচে ৫৬), ইশান্ত শর্মা (৮০ ম্যাচে ৭২) দিয়ে শেষ হয়েছে এই তালিকা। চার্ল ল্যাঙ্গেভেল্টে একটুর জন্য এই তালিকায় জায়গা পাননি। ৭২ ম্যাচে করেছেন ৭৩ রান!
তাসকিন, ২০ ওয়ানডে খেলে করেছেন ৬ রান! ফাইল ছবিএই তালিকায় না থাকলেও বেশ উল্লেখযোগ্য ওয়ানডে খেলে উল্লেখ করার মতো রানই করতে পারেননি এমন ব্যাটসম্যানদের মধ্যে আছেন বাংলাদেশের শাহাদাত হোসেন। ৫১ ওয়ানডেতে করেছেন ৭৯ রান। আরেক পেসার রুবেল হোসেন রানের সেঞ্চুরি করেছেন, কিন্তু সেটি করতে খেলতে হয়েছে ৬৯টি ওয়ানডে। ভবিষ্যতে যে তালিকায় ঢুকে যেতে পারেন বাংলাদেশের তাসকিন (২০ ওয়ানডেতে ৬ রান) বা আল আমিনরা (১৪ ম্যাচে ৪ রান‍)। আর ভারতের জসপ্রীত বুমরার রেকর্ড তো আরও অপ্রীতিকর। ৮টি ওয়ানডে খেলে এখনো রানের খাতা খোলার সৌভাগ্যই হয়নি!

বিপিএলে সাকিবের রেকর্ড

শুক্রবারের ফাইনাল ম্যাচে সাকিব আল হাসান রাজশাহীর ওপেনার মুমিনুল হক সৌরভকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন। আর রাজশাহীর অধিনায়ক ড্যারেন স্যামিকে করেন বোল্ড। এই দুটি উইকেটই দরকার ছিল তার। সেটা তিনি পেয়েও গেলেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি হয়ে গেলেন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারি বোলার।

এর আগে ৬০টি উইকেট নিয়ে বিপিএলের বোলারদের মধ্যে সবার ওপরে ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কেভন কুপার। সাকিব এবার ছাড়িয়ে গেলেন তাকে। বিপিএলের এবারের আসরে ১৪ ম্যাচ খেলে সাকিব নিলেন ১৩ উইকেট।

চ্যাম্পিয়নের ট্রফিও উঠল সাকিবের হাতে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক এই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের চতুর্থ আসরের সমাপ্তি ঘটল মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। ফাইনালে রাজশাহী কিংসকে ৫৩ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা জিতে নিল সাকিবের ঢাকা ডায়নামাইটস।

বিপিএলের সেরা পাঁচ ব্যাটসম্যান ও বোলার

শেষ হল বিপিএলের চতুর্থ আসর। রাজশাহী কিংসকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ঢাকা ডায়নামাইটস। টান টান উত্তেজনাপূর্ণ এই টি-২০ টুর্নামেন্টে কে হয়েছেন সেরা ব্যাটসম্যান ও বোলার। দেখে নিন একনজরে-

সেরা পাঁচ ব্যাটসম্যান:

ক্রম খেলয়ার দল ম্যাচ ইনিংস নট আউট রান সর্বোচ্চ রান
তামিম ইকবাল চিটাগাং ১৩ ১৩ ৪৭৬ ৭৫
মাহমুদুল্লাহ খুলনা ১৪ ১৪ ৩৯৬ ৬২
সাব্বির রহমান রাজশাহী ১৫ ১৫ ৩৭৭ ১২২
কুমার সাঙ্গাকারা ঢাকা ১৩ ১৩ ৩৭০ ৬৬
মোহাম্মদ শেহজাদ রংপুর ১১ ১১ ৩৫০ ৮০*

 

সেরা পাঁচ বোলার: 

ক্রম খেলোয়াড় দল ম্যাচ ইনিংস রান উইকেট সেরা বোলিং
ডি.জে. ব্রাভো ঢাকা ১৩ ১৩ ৩৩৫ ২১ ৩/২৭
জুনায়েদ খান খুলনা ১৪ ১৪ ৩২১ ২০ ৪/২৩
মোহাম্মাদ নবী চিটাগাং ১৩ ১৩ ২৮৫ ১৯ ৪/২৪
শফিউল ইসলাম খুলনা ১৩ ১২ ৩৩১ ১৮ ৪/১৭
শহীদ আফ্রিদি রংপুর ১১ ১১ ২৫৪ ১৭ ৪/১২

কেমন করলেন জাতীয় দলের তারকারা?

কোনো ঘরোয়া টুর্নামেন্ট মানেই অচেনা খেলোয়াড়দের নিজেকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া, চেনা তারকার নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়া। আর মঞ্চ যখন বিপিএল, তখন তো সেটা তারকার মিলনমেলা। সেখানে আলো ছড়াবেন তারারাই। এই তারাদের মধ্যেও আগ্রহটা ছিল নিজেদের চেনা তারাদের নিয়ে।

দুয়ারে নিউজিল্যান্ড সফর। নিউজিল্যান্ডের পেস–বান্ধব কন্ডিশনে বাংলাদেশের সাফল্য–ব্যর্থতার অনেকটাই নির্ভর করছে পেসারদের ওপর। প্রথমেই তাই বাংলাদেশের পেসারদের খতিয়ানটা নিয়ে নেওয়া যাক।
পেস বোলারদের প্রসঙ্গে প্রথমেই আক্ষেপের গল্প শোনাতে হচ্ছে। না, পেসাররা খারাপ করেননি, কিন্তু যে দুজন ছিলেন সবচেয়ে উজ্জ্বল, তাঁদেরই পাওয়া যাবে না এ সফরে। ৮ ম্যাচে ১৫ উইকেট পেয়ে নিজের নামের পাশ থেকে ‘টেস্ট বোলার’ খেতাবটা মাত্রই মুছে ফেলছিলেন মোহাম্মদ শহীদ। এরপরই চোটের ধাক্কা, সফর থেকেই ছিটকে গেলেন বিপিএলের আগেই চোট কাটিয়ে ফেরা শহীদ। আর একদম শেষ দিকে এসে দলের বাইরে চলে গেলেন শফিউলও। ১৩ ম্যাচে ১৮ উইকেট পেয়ে শফিউলই খুলনার বোলিংয়ের নেতৃত্ব দিয়েছেন পুরো বিপিএলে। এ ছাড়া মাশরাফি বিন মুর্তজা পেয়েছেন ১৩ উইকেট, তবে ৬.৪৩ রান রেটটাই সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক জাতীয় দলের জন্য।
তাসকিন আহমেদ ও রুবেল হোসেন নিয়েছেন ১৫ উইকেট, তবে দুজনই ছিলেন বেশ খরুচে। আল আমিন হোসেন তো সুযোগই পেলেন না, ৫ ম্যাচ খেলে পেয়েছেন ৫ উইকেট। তিনি অবশ্য নেই নিউজিল্যান্ড সফরের দলে। তবে দলে থাকা কামরুল ইসলাম ও শুভাশিস রায় হতাশ করেছেন, দুজনই নিয়েছেন মাত্র ৭ উইকেট।
নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন পেস-বান্ধব হলেও বাংলাদেশের স্পিননির্ভরতা তো আড়াল হয়ে যাবে না। জাতীয় দলের স্পিনাররা বিপিএলে যে দুর্দান্ত ছিলেন, তা–ও নয়। আরাফাত সানি পেয়েছেন ১৩ উইকেট, মাত্র ৬.২৯ রান রেটে। তবে তাঁর বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আবারও উঠেছে প্রশ্ন। সাকিব আল হাসানের শিকার ফাইনালের আগে ১১টি। মেহেদী হাসান মিরাজও পেয়েছেন ১১ উইকেট, আর বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম পেয়েছেন ১০টি।
১০ উইকেট পেয়েছেন মাহমুদউল্লাহও, উইকেট–সংখ্যার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ—যে সময়ে বল করেছেন। ম্যাচের শেষ ওভারে বল করে খুলনা টাইটানসকে দুটি ম্যাচ জিতিয়েছেন। তবে যে লাইন লেংথে উইকেট পেয়েছেন, সেটি খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। আর চমক দিয়ে নিউজিল্যান্ড সফরের দলে ঢুকে পড়া লেগ স্পিনার তানভীর হায়দার খেলেছেনই মাত্র এক ম্যাচ। ১ উইকেট পেয়েছেন, বোলিংও দেখে মন ভরেনি সেদিন।
সে তুলনায় ব্যাটসম্যানদের অনেকেই পেরেছেন প্রত্যাশা পূরণ করতে। ফাইনালের আগ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৪৭৬ রান তামিম ইকবালের। ১৩ ম্যাচে ৬টি ফিফটি দেশসেরা ওপেনারের, তাতে ৫৩ চার, ১১ ছক্কা। এক বিপিএলে সবচেয়ে বেশি ফিফটির রেকর্ড গড়েছেন তামিম। শুধু স্ট্রাইক রেটটা অবশ্য (১১৫) আরও ভালো হতে পারত। সে তুলনায় মুশফিকুর রহিম অনেকটাই এগিয়ে, ১৩৫ স্ট্রাইকরেট তাঁর। রানটাও খারাপ করেননি, ৩৪১। সর্বোচ্চ ৮১ রানের ইনিংসটিসহ ২টি ফিফটি।
মাহমুদউল্লাহও আছেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের মধ্যে। ১৪ ম্যাচে ৩৯৬ রান তাঁর, সঙ্গে ১১৮ স্ট্রাইকরেটটাই টুর্নামেন্টজুড়ে খুলনা দলকে এনে দিয়েছে ভালো সংগ্রহ। সাব্বির রহমানও ভালো করেছেন, ১২২ রানের এক ইনিংসসহ ৩৫১ রান তাঁর। তবে স্ট্রাইক রেটটা (১১৭) তাঁর নামের সঙ্গে যায় না।
ভালো করেছেন মোসাদ্দেক হোসেন (২৯৯) ও ইমরুল কায়েসও (২৫৭)। এ দুজনই ১২০–এর বেশি স্ট্রাইক রেটে রান করেছেন। তবে চমক হয়ে এসেছেন মুমিনুল হক। রাজশাহী কিংসের হয়ে ইনিংস উদ্বোধন করতে নেমে ৩০৪ রান তাঁর, তাতে ৩টি ফিফটি। সে তুলনায় অনুজ্জ্বল সাকিব, ১৩ ম্যাচে ১২৪ স্ট্রাইকরেটে ২১৪ রান করলেও কোনো ফিফটি পাননি। নিউজিল্যান্ড সফরের প্রাথমিক দলে না থাকা নাসির হোসেনও ব্যর্থ, ১১৭ স্ট্রাইকরেটে করেছেন ১৯০ রান।
তবে দলে যাঁরা আছেন, সেই নাজমুল হোসেন, সৌম্য সরকার ও শুভাগত হোমের পারফরম্যান্স হতাশাজনক। নাজমুল তবু প্রথমবারের মতো বিপিএল খেলতে নেমে ১টি ফিফটিসহ ১৮০ রান করেছেন ১০৯ স্ট্রাইকরেটে। সৌম্য কিংবা শুভাগতর সেই অজুহাতও নেই। ১২ ম্যাচে ১৩৫ রান সৌম্যের। পুরো টুর্নামেন্টে ৯ চার ও ৬ ছক্কা! স্ট্রাইকরেট ৯১.২১। স্ট্রাইকরেটে শুভাগত একটু ভালো, ঠিক ১০০। কিন্তু রানটা তিনি করেছেন সৌম্যের চেয়েও কম, ১৩ ম্যাচে ১১৫ রান।
ব্যাটে-বলের পাশাপাশি এবারের বিপিএলে মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্বও আলাদা করে নজর কেড়েছে। এটিও কম পাওয়া কিন্তু নয়!

কে এই আফিফ হোসেন ধ্রুব?

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলতি আসরের শুরুতে নামও ছিল না তার। কিন্তু যুব দলের হয়ে অনুশীলন আর অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রস্তুতি ম্যাচের মারকুটে ব্যাটিংই ধ্রুবকে সুযোগ পাইয়ে দেয় বিপিএলে। আর রাজশাহী কিংসের জার্সি গায়ে স্বপ্নের মতই এক অভিষেক ঘটলো ১৭ বছর বয়সী এই তরুণের।

বিপিএলের নিজের অভিষেক ম্যাচেই তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এই তরুণ তুর্কী। বল হাতে মাত্র ২১ রান খরচায় পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে তিনি একাই ধসিয়ে দিয়েছেন চিটাগং ভাইকিংসের ব্যাটিং লাইন আপ। সেই সঙ্গে টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে কম বয়সে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তিও গড়েন ডানহাতি এই অফস্পিনার। আগের রেকর্ডটি ছিল পাকিস্তানের লাহোর লায়ন্সের বাঁ-হাতি পেসার জিয়া উল হকের।

তবে, ধ্রুবর মূল পরিচয় কিন্তু বোলার নয়।

আফিফ হোসেন ধ্রুব এর চিত্র ফলাফল

তিনি মূলত ব্যাটসম্যান, ব্যাট করে থাকেন টপ অর্ডারে। চলতি মাসেই শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য যুব এশিয়া কাপে অংশ নেওয়ার জন্য বিকেএসপিতে দুই সপ্তাহের ক্যাম্পে তিনটি অনুশীলন ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ দল। সেখানে ধ্রুব প্রথম ম্যাচে দেড়শ রানের ইনিংস খেলেন। পরের ম্যাচেও দেখা পান সেঞ্চুরির। আর তৃতীয় ম্যাচে খেলেন সত্তরোর্ধ্ব ইনিংস।

বাঁ-হাতি এই ওপেনারের মারকুটে ব্যাটিং দেখেই তাকে দলে নেয় রাজশাহী কিংস। নিজেদের টপ অর্ডারে একজন ইনফর্ম ব্যাটসম্যানের অভাব বোধ করছিল রাজশাহী। তাই তো তাকে দলে নিতে বিলম্ব করেনি দলটি। তবে দলে ডাক পেলেও সুযোগ মিলছিল না একাদশে। রনি তালুকদার ইনজুরিতে পড়ার পর অভিজ্ঞ বাঁহাতি ওপেনার জুনায়েদ সিদ্দিককে খেলানোয় রাজশাহীর ডাগ আউটে কাটছিল ধ্রুবর সময়।

অবশেষে শনিবার তার অপেক্ষার প্রহর ফুরায়। চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে একাদশে জায়গা পান আফিফ। আর অভিষেকেই কি অভাবনীয় পারফর্মই না করলেন তিনি!

ইনিংসের পঞ্চম ওভারে আক্রমণে আসেন আফিফ। তার বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন জহুরুল হক। নিজের দ্বিতীয় ওভারে আফিফের শিকারে পরিণত হন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ফেরিওয়ালা ক্রিস গেইল।

ব্যক্তিগত তৃতীয় ওভারেও সাফল্য পান ধ্রুব। ফিরিয়ে দেন জাকির হাসানকে। ব্যক্তিগত শেষ ওভারে আরও বিধ্বংসী রুপে আবির্ভূত হন আফিফ। প্রথম বলে সাকলাইন সজীবকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন ডানহাতি এই অফ স্পিনার। ওভারের শেষ বলে ইমরান খানকে সাজঘরে। সেই সঙ্গে বিপিএলের অভিষেক ম্যাচেই পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন ধ্রুব।

শেষ ওভারটা ছিল ডাবল উইকেট-মেইডেন। মোট চার ওভারে রান দিলেন মাত্র ২১ টি। বোলিং ফিগারটা দিন শেষে দারুণ দেখাচ্ছে: ৪-১-২১-৫!

মজার ব্যাপার হল, তিন মাস আগেও ধ্রুবর বোলিং অ্যাকশন ছিল অবৈধ। এরপর বোলিং অ্যাকশন নিয়ে কাজ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরীক্ষায় উৎরে তবেই পান বোলিং করার অনুমতি। অ্যাকশন শুধরে নেওয়ার পর তার বোলিং হয়েছে আরও ক্ষুরধার। তার প্রমাণ বিপিএলের অভিষেক ম্যাচেই দিলেন তরুণ এই ক্রিকেটার।

১৯৯৯ সালের সেপ্টেম্বরে খুলনায় জন্ম নেওয়া ধ্রুব বিকেএসপির শিক্ষার্থী। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে গেল মৌসুমে সাত ম্যাচ খেলা ধ্রুবর ঝুলিতে জমা হয়েছিল সাত উইকেট। বিপিএল শেষে ধ্রুব আবারও ফিরে যাবেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অনুশীলনে। সামনেই তো যুব এশিয়া কাপ। এবার সেখানে নিজেকে প্রমানের পালা!

অনন্য মাইলফলক ছুঁলেন সাকিব

নবম বোলার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে ২৫০ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়লেন সাকিব আল হাসান। বৃহস্পতিবার রংপুর রাইডার্সের জিহান রুপাসিংহেকে সাজঘরে পাঠিয়ে সাঈদ আজমল এবং শহীদ আফ্রিদির পর তৃতীয় স্পিনার এবং প্রথম বাঁ-হাতি স্পিনার হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন সাকিব।

এর আগে টি-টোয়েন্টিতে আরও সাত বোলার ২৫০ কিংবা তার বেশি উইকেট পকেটে পুড়েছেন। ২৫১ উইকেট নিয়ে আফ্রিদির পরই রয়েছেন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী সাকিব। টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি উইকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার ডোয়াইন ব্রাভো’র। ৩৩৯ ম্যাচ এ ক্যারিবীয়ানের উইকেট ৩৫৭টি।

টি-টোয়েন্টিতে সাকিবের ওপরে থাকা আট উইকেট শিকারীর তালিকায় রয়েছেন- ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডোয়াইন ব্রাভো (৩৫৩ উইকেট), শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গা (২৯৯), পাকিস্তানের ইয়াসির আরাফাত (২৮১ উইকেট), দক্ষিণ আফ্রিকার আলফানসো থমাস (২৬৩ উইকেট), পাকিস্তানের সাঈদ আজমল (২৬০ উইকেট), পাকিস্তানের আজহার মাহমুদ (২৫৮), অস্ট্রেলিয়া-নেদারল্যান্ডসের ডার্ক ন্যানেস (২৫৭ উইকেট) ও সাকিব আল হাসান (২৫১)।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) গেল তিন আসরে সাকিব নেন মোট ৪৮ উইকেট। এবার ঢাকা ডায়নামাইটসের জার্সিতে সাকিব প্রথম ম্যাচেই নেন বরিশাল বুলসের ডেভিড মালানের উইকেট। চলতি আসরে এখন পর্যন্ত খেলা দশ ম্যাচে সাকিবের সংগ্রহ সাত উইকেট। বিপিএলের সব আসর মিলিয়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডারের সংগ্রহে রয়েছে ৫৫ উইকেট।

খেলার সর্বশেষ নিউজ পেতে সঙ্গে থাকেন……….

%d bloggers like this: