মুস্তাফিজের ইনজুরির কারণেই ধার কমে গেছে ?

আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শুরুর আগে মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে আশা ও আগ্রহের কমতি ছিল না। কিন্তু মূল আসরে নিজের নামের প্রতি একদমই সুবিচার করতে পারেননি মুস্তাফিজুর।

চার ম্যাচে মাত্র এক উইকেট নিয়েছেন ‘কাটার মাস্টার’। বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তার বোলিং ছিল একেবারেই ছন্নছাড়া। ছয় ওভার বল করে ৫৩ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন তিনি।

ক্রিকেটে একজন ব্যাটসম্যান বা একজন বোলারের বাজে দিন যেতেই পারে। কিন্তু মুস্তাফিজের যে বিষয়টি সবাইকে চিন্তিত করে তুলেছে তা হলো, অফ স্টাম্পের উপর বারবার ফুল-ইশ ডেলিভারি দিতে থাকা, যার ফলে ব্যাটসম্যানদের ওপর একদমই প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি তিনি।

মূলত ইনজুরি থেকে ফেরার পর থেকেই এমন বিবর্ণ রূপ মুস্তাফিজের। ক্যারিয়ারের প্রথম নয়টি ওয়ানডে ম্যাচে যেখানে পেয়েছিলেন ১২.৩৪ গড়ে ২৬ উইকেট, অস্ত্রোপচারের পর মাঠে ফিরে ১৩ ম্যাচে ৩০.৫৫ গড়ে উইকেট পেয়েছেণ মাত্র ১৮টি।

ইনজুরি কাটিয়ে ফেরার পর থেকে মুস্তাফিজের বল ছাড়ার ধরণে বড় ধরণের ত্রুটি খুঁজে পেয়েছেন বর্ষীয়ান কোচ নাজমুল আবেদিন ও সারওয়ার ইমরান। অন্যদিকে তুলনামূলক তরুণ কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন সমস্যা দেখছেন মুস্তাফিজের লাইন-লেংথেও।

‘মুস্তাফিজের ওপর আমাদের সবসময়ই আশা অনেক বেশি থাকে। আপনারা এমনটা বলতে পারবেন না যে ইনজুরি থেকে ফেরার পর সে অনেক খারাপ করেছে। কিন্তু এটা ঠিক যে আগে সে যেমন ছিল, বর্তমানে সেই ফর্ম থেকে অনেক দূরে রয়েছে সে। আমার মনে হয় সে তার কার্যকারিতা অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছে স্রেফ বল ছোঁড়ার ভঙ্গিতে পরিবর্তন আনার ফলে,’ বলেন নাজমুল আবেদিন।

‘আপনারা যদি তার ভিডিওগুলি খতিয়ে দেখেন, আগে সে বল ডেলিভারির সময় স্টাম্পের একদম কাছে থাকত। কিন্তু এখন সে স্টাম্পের থেকে অনেক দূর থেকে বল করছে। এবং এজন্যই সমস্যাটা হচ্ছে। আগে সে স্টাম্প টু স্টাম্প বল করত, আর সেটা তাঁর কাটার ও স্লোয়ারগুলোকে অনেক ভয়ংকর করে তুলেছিল। কিন্তু সে এখন ক্রিজের অনেক বাইরের দিন থেকে বল করে, যার দলে ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলা একেবারেই সম্ভব একটা ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবং সে যদি অফ স্টাম্পের উপর বল করে, ব্যাটসম্যানরা জানে বলটি অ্যাঙ্গেলের কারনে উইকেট মিস করবে।’

একই কথা প্রতিধ্বনিত হয় সারওয়ার ইমরানের কন্ঠেও, ‘আগে সে ষ্টাম্পের কাছ থেকে বল করত। কিন্তু এখন সে অনেক দূরে সরে গেছে, যার ফলে অনেক পরিবর্তন এসেছে। এর কারণে সে সঠিক জায়গায় বল ফেলতে পারছে না, আর ব্যাটসম্যানরাও তার বলে শট খেলতে বিন্দুমাত্র ভয় পাচ্ছে না। তার উচিৎ আগের স্টাইলে বোলিং করা। নতুবা সে এখন যেভাবে বল করছে তাতে মনে হয় না দেশের কন্ডিশনেও খুব একটা সুবিধা করতে পারবে।

অন্যদিকে মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের মতে মুস্তাফিজের বোঝা উচিৎ যে তার এখনও অনেক জায়গায় উন্নতি করা বাকি।

‘পাকিস্তানের হাসান আলি সফল হয়েছে কারণ সে তার লেংথ ঠিক রেখে সঠিক জায়গায় বল করে গেছে। কিন্তু মুস্তাফিজুর এই কাজটা করতে পারেনি। আমার মনে হয় মুস্তাফিজের মধ্যে এখনও অভিজ্ঞতার অনেক অভাব, সেজন্য সে ধৈর্য ধরে খেলতে পারছে না। এবং বিরূপ কন্ডিশনে সে তার বেসিক ঠিক রাখতেও ব্যর্থ হয়েছে। আমার মনে হয় না তার অনেক কিছু চেষ্টা করার দরকার আছে। তার শুধু উচিৎ নিজের শক্তিমত্তার জায়গাটায় অটল থাকা।’

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s