কলকাতার মিডিয়ার কাছে বাংলাদেশ ‘পঁচা শামুক’!

স্পোর্টস ডেস্ক : ঘটনাচক্রে আবারও ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ। সাধারণ কোনো ম্যাচ হলে কথা ছিল। এ যে একেবারে সেমিফাইনাল! এক সময় আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির নাম ছিল নকআউট বা মিনি বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপের চেয়ে কোনো অংশেই ধারে ও ভারে কম নয় আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। ভারত-বাংলাদেশের দেখা হওয়া মানেই এখন অন্যরকম আবহ। টান টান উত্তেজনা। সেটা যখন সেমিফাইনালে, উত্তেজনার মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে আরও অনেক দুর।

অথচ এমন ম্যাচের আগে ভারতীয় মিডিয়া, বিশেষ করে কলকাতার মিডিয়াগুলো বাংলাদেশকে বিদ্রুপ করার প্রাণান্তকর চেষ্টায় মেতে উঠেছে। বাংলাদেশকে কতভাবে খাটো করা যায়, কত ছোট করা যায়- এ চিন্তাতেই সারাক্ষণ বিভোর কলকাতার মিডিয়াগুলো।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের যে উত্তেজনা, সেটা কমে এসে এখন তা ছড়িয়ে পড়েছে ভারত-বাংলাদেশ লড়াইয়ে। সেখানে ভারতীয় মিডিয়া উত্তেজনার রসদ জোগাবে- সেটা স্বাভাবিক। তাই বলে একটি দলকে ছোট করা, এমনকি ‘পঁচা শামুক’ বলে বিদ্রূপ করা- এ কেমন সৌজন্যতাবোধ, তা বোধগম্য নয়।

অথচ কলকাতার জনপ্রিয় দৈনিক আজকাল পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে ‘বিরাট সতর্ক’ শিরোনামে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে তারা বাংলাদেশকে পঁচা শামুকের সঙ্গে তুলনা করেছে।

রিপোর্টটির একপর্যায়ে আজকাল শুরুতে বাংলাদেশকে বাঘ হিসেবে লিখলেও কৌশলে মার দিয়েছে। লিখেছে, ভারতের সঙ্গে কোনো তুলনাতেই আসতে পারে না বাংলাদেশ। আজকালের রিপোর্টের ভাষাটা এমন, ‘আগামী পরশুতেই (১৫ জুন) শেষ চারের লড়াইয়ে কোহলিবাহিনীর বিপরীতে বাংলার বাঘরা। এমনিতে সেমিফাইনাল হলেও ক্রিকেটীয় শক্তির নিরিখে ভারতের সঙ্গে কোনওরকম তুলনাতেই আসতে পারে না বাংলাদেশ। তবুও কিন্তু বিরাটদের সতর্ক থাকার কথা পইপই করে বলে যাচ্ছেন প্রাক্তন তারকারা।’

এরপরই আজকাল পত্রিকা বাংলাদেশকে পঁচা শামুকের সঙ্গে তুলনা করেছে, “ওই যে একটা প্রবাদ রয়েছে না, ‘পচা শামুকেও পা কাটে…’ এবং আর যাই হোন মাশরাফি মোর্তাজার দল কিন্তু মোটেই পচা শামুক নয়। বরং কাগজে কলমে ‘ডেভিড’ হলেও এমন এই প্রতিপক্ষ যারা ‘গোলিয়াথ’-দের জমিতে নামিয়ে আনতে পারে। নিউজিল্যান্ড ম্যাচই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। সুতরাং, মেপে মেপে পা ফেলাটাই উচিত হবে বিরাটদের! বিরাটরাও তেমন করেই পা ফেলছেন।”

কলকাতার আরেকটি পত্রিকা আনন্দবাজার তো ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের মধ্যে বারুদ ছড়াতে শুরু করে দিয়েছে। তারা লিখেছে, ‘সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে তাদের (কোহলিদের) শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা দিয়েছে বেশ কয়েক বার। তবু বার্মিংহামে ফেভারিট হিসেবেই শুরু করবেন তারা (ভারতীয় দল)। ভারতীয় জনতাও ফের সংখ্যাধিক্য হওয়ার কথা। জনসমর্থনও তাই প্রচুর থাকবে।’

আনন্দবাজার তাদের এক রিপোর্টের শেষ অংশে লিখেছে, ‘এজবাস্টনে যদি বাংলাদেশ সামনে পড়ে, আরও আগ্রাসী ভারতকে দেখা যাবে, লিখে দেওয়া যায়। ডি ভিলিয়ার্স খুব ভাল বন্ধু কোহালির। বাংলাদেশে তেমন কোনও বন্ধু আছে বলে শোনা যায়নি!’

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s