কার্ডিফে বাংলাদেশের “আনন্দ বৃষ্টি”

একা একা ঘুরছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, টুকটাক শপিং। আর একটু পরপর ফোনের স্ক্রিনে চোখ। ওয়েন মর্গ্যান আর বেন স্টোকসের একেকটি শটে একটু একটু করে সরে যাচ্ছিলো অধিনায়কের বিষাদের ছায়া। দুজনের জুটিতে রানের জোয়ার যত বাড়ছিল, ততই চওড়া হচ্ছিলো মাশরাফির মুখের হাসি।

ইংল্যান্ডের জয় যখন প্রায় নিশ্চিত, এক পর্যায়ে কার্ডিফ সিটি সেন্টারে ছুটির দিনের ভীড়ের মাঝেও ছেলেমানুষের মতো শরীর নাচালেন অধিনায়ক, “কী যে ভালো লাগছে ভাই… সেমি-ফাইনাল, আইসিসি টুর্নামেন্টের সেমি-ফাইনাল!”

বাংলাদেশ দলের সবারই দিন কেটেছে আশা-নিরাশার দোলাচলে। সকাল থেকে প্রত্যেক ক্রিকেটারের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেছেন কোচ। ওই সময়টুকু ছাড়া ছুটি। সবাই হালকা মেজাজেই ছিলেন। এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরি, শপিং। তবে সবারই মন ছিল বার্মিংহামে, চোখ ছিল স্কোরে।

অ্যারন ফিঞ্চ ও স্টিভেন স্মিথ যখন দারুণ খেলছিলেন, স্কোর দেখা বাদ দিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। টিম হোটেলে তখন সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন এই ওপেনার। ফিঞ্চ আউট হওয়ার কথা জেনে খুশি হয়ে উঠলেন, পর মুহূর্তেই আবার হাসি উধাও, “স্মিথ টিকে থাকলে বিপদ।” এক পর্যায়ে স্মিথও আউট। পরের দিকে উইকেট পড়ল টপাটপ। তামিমের মুখের হাসি আকর্ণ বিস্তৃত!

দুপুরে খেতে বের হওয়ার সময় সৌম্য সরকার, মুস্তাফিজুর রহমান বলে গেলেন, ইংল্যান্ডকে জিততে হবে। বাংলাদেশ কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহে তো টুইটারে জানিয়ে দিয়েছেন, এদিন তিনি ইংল্যান্ডের কড়া সমর্থক!

খারাপটার জন্য নিজেদের মানসিক ভাবে প্রস্তুত রাখার জন্যই কিনা, সবাই বারবার বলেছেন, নিজেদের কাজটা করেছি, এখন সেমিতে উঠতে না পারলে হতাশা নেই। তবে তাসকিন আহমেদের মুখে মনের কথাই।

“সেমি-ফাইনালটা খেলতে পারলে দারুণ হয়। আশায় বসে আছি নিউ জিল্যান্ডকে হারানোর পর থেকেই। এই ম্যাচ না জিতলে এতটা খারাপ লাগত না। কিন্তু দারুণ এই জয়ের পর সেমি খেলতে না পারলে খারাপ লাগবে।”

স্ত্রী-সন্তানদের বিদায় দিয়ে মনটা ভার ছিল মাশরাফির। বারবারই বলছিলেন, মেয়ে আর ছেলের জন্য পরাণ পুড়ছে। তবে দল আর দেশের কথা ভাবলেই আবার মুখে হাসি, “দেশে সবাই নিশ্চয়ই এখন দারুণ খুশিতে আছে। পরপর দুই দিন উৎসব।”

পাশ থেকে একজন বললেন, “ঈদের আগেই দুইটা ঈদ।” শুনে অধিনায়ক আবার হাসেন। ঈদের খুশি!

বার্মিংহামে যখন বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ, কার্ডিফের আকাশও তখন কাঁদছে। ডাকওয়ার্থ-লুইসে এগিয়ে ইংল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়ার হার নিশ্চিত। বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ তন্ময় মাশরাফি, প্রকৃতির সঙ্গে মিশিয়ে দিলেন নিজের অনুভূতিটাও, “আহা বৃষ্টি…আনন্দ বৃষ্টি!”

হঠাৎ মাথার হুডি ফেলে দিয়ে একটু ভিজলেন বৃষ্টিতে। মাখামাখি হলেন আনন্দধারায়। শুধু কি অধিনায়কই? কার্ডিফের আনন্দধারায় অবগাহন করছে তো আসলে গোটা বাংলাদেশ্ই!

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s