জয় হলো বৃষ্টির। তাতে খুশি বাংলাদেশ শিবির। প্রথমে ব্যাটিং করে নিশ্চয়ই খুশি হওয়ার কিছু ছিলো না। অস্ট্রেলিয়ার নির্ভার ব্যাটিংয়ে হার ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছিলো। কিন্তু এমন সময় আশীর্বাদ হয়ে হাজির প্রকৃতির কান্না। তবে বাংলাদেশের জন্য এই আশীর্বাদ অস্ট্রেলিয়ার জন্য হয়ে উঠেছে সর্বনাশ। নিশ্চিত জয় থেকে বঞ্চিত হয়ে অস্ট্রেলিয়াকে মাঠ ছাড়তে হলো এক পয়েন্ট নিয়ে।

সোমবার কেনিংটন ওভালে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছে। বৃষ্টির বদৌলতে বাংলাদেশের ঝুলিতে উঠলো এক পয়েন্ট। যে এক পয়েন্ট বাঁচিয়ে রাখলো বাংলাদেশের সেমিফাইনাল স্বপ্ন। এরজন্য অবশ্য পুরোপুরি ইংল্যান্ডের সমর্থক হয়ে উঠতে হবে বাংলাদেশকে। আর কামনা করতে হবে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের হার।

এতেই হচ্ছে না। বাকি থাকা একমাত্র ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকেও হারাতে হবে বাংলাদেশকে। হিসাবটা হবে এমন- নিজেদের বাকি থাকা ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড যদি ইংল্যান্ডের কাছে হেরে যায় এবং বাংলাদেশ যদি নিউজিল্যান্ডকে হারায় তাহলে বাংলাদেশের পয়েন্ট হবে তিন। এমন হলে শেষ চারের টিকেট পেয়ে যাবে মাশরাফিবাহিনী।

কারণ দুই জুন নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়েছিলো। দুই দলের সংগ্রহেই এক পয়েন্ট করে। বাকি থাকা ম্যাচে হারলে অস্ট্রেলিয়ার দুই পয়েন্ট হলেও নিউজিল্যান্ডের পয়েন্ট থাকবে এক। আর নিউজিল্যান্ডকে হারালে বাংলাদেশের পয়েন্ট হবে তিন। তখন অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে পেছনে ফেলে সেমিফাইনালে উঠে যাবে বাংলাদেশ। তবে এর সবটাই সম্ভাবনার কথা। যেটা অনেকটা স্বপ্নের মতোই।

১৮৩ রানের লক্ষ্য এ আর এমন কি ছিলো বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সামনে। শাসন করেই ইনিংস শুরু করেন দুই ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যারন ফিঞ্চ। রান তোলার তেমন তাড়া না থাকলেও আট ওভার পূর্ণ হওয়ার আগেই স্কোরকার্ডে ৪৫ রান। যদিও এই জুটি দীর্ঘ হতে দিলেন না বাংলাদেশ পেসার রুবেল হোসেন। এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে ফিরিয়ে দিলেন ফিঞ্চকে।

এতে কোনো প্রভাবই পড়লো অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে। ওয়ার্নারের সাথে যোগ দিয়ে নতুন করে শাসন করতে শুরু করলেন অজি অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। ১৬ ওভারেই দলের স্কোরকার্ডে জমালেন ৮৩ রান। ৩৪ ওভারে দরকার তখন ১০০ রান। হাতে নয় উইকেট। এমন সময় বৃষ্টির হানা। বেশকিছুক্ষণ ঝরার পর বৃষ্টি থামে। আম্পায়াররা মাঠও পরিদর্শন করতে যান।

কিন্তু বৃষ্টির এই বিরতি বেশি সময়ের জন্য ছিলো না। আবারো ঝরতে শুরু করে। এভাবে প্রকৃতির সাথে লড়াই চললো আড়াই ঘন্টারও বেশি। শেষমেষ বৃষ্টিরই জয় হলো। লন্ডনের স্থানীয় সময় ৯টা ১৮ (বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ১৮ মিনিট) মিনিটে ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ যেন প্রকৃতির পছন্দই নয়। এবার নিয়ে টানা দুইবার বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ পরিত্যক্ত হলো। ২০১৫ বিশ্বকাপেও অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিলো বাংলাদেশের। কিন্তু বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়।

এরআগে বাংলাদেশ অবশ্য ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু আগে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ পুরো ইনিংসে ধুঁকেছে। ইনিংসের শুরু থেকে শেষপর্যন্ত ভাঙনের সুর বেজেছে। যে সুর শুধু কানে তোলেননি তামিম ইকবাল। আসা যাওয়ার মিছিলের মাঝে তামিমই কেবল আলোক বর্তিকা হাতে ছুটেছেন। তামিমকে সঙ্গ দিতে পারেননি সৌম্য সরকার ও ইমরুল কায়েস। দু’জন মিলে করলেন নয় রান।

টিকতে পারলেন না মুশফিকুর রহিমও। তামিম একপাশ আগলে রাখলেও অন্য পাশ ছিলো বড্ড বেসামাল। এমন সময় আশার আলো জ্বালেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। প্রতিরোধও গড়লেন দুই প্রিয় বন্ধু। কিন্তু জুটিটা ৬৯ রানে পৌঁছাতেই পথ হারান সাকিব। ২৯ রান করে সাজঘরে বাংলাদেশ অলরাউন্ডার।

১২২ রানের মাথায় চতুর্থ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। আর এখান থেকে যে নতুন ধসের শুরু সেটা আর থামেনি। দ্রুত ফিরে যান সাব্বির রহমান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এরপর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের বদলে সুযোগ পাওয়া মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে আরো খানিকটা লড়াই তামিমের। এটাই টিকলো না। এ সময় আত্মঘাতী শট খেলে তামিমই থেমে গেলেন। বাংলাদেশের স্কোর বড় না হওয়ার চেয়েও তামিমের বিদায়টা তখন বড় হতাশার।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসের অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি থেকে তামিম তখন মাত্র পাঁচ রান দূরে। এমন সময় মিশেল স্টার্কের শর্ট ডেলিভারি আকাশে ভাসিয়ে সাজঘরে ফিরলেন ১১৪ বলে ছয় চার ও তিন ছয়ে ৯৫ রান করা তামিম। তামিমের বিদায়ের পর আর মাত্র এক রান যোগ করতে পেরেছে বাংলাদেশ। মিরাজ করেন ১৪ রান। ২৯ রান খরচায় চার উইকেট নেয়া অজি পেসার মিশেল স্টার্ক দিনের সেরা বোলার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৪৩.৩ ওভারে ১৮২ (তামিম ৯৫, সৌম্য ৩, ইমরুল ৬, মুশফিক ৯, সাকিব ২৯, সাব্বির ৮, মাহমুদউল্লাহ ৮, মিরাজ ১৪, মাশরাফি ০, রুবেল ০, মুস্তাফিজ ১*; স্টার্ক ৪/২৯, হেইজেলউড ১/৪০, কামিন্স ১/২২, হেড ১/৩০, হেনরিকেস ১/৩০, জ্যাম্পা ২/১৩, ম্যাক্সওয়েল ০/৯)।

অস্ট্রেলিয়া: ১৬ ওভারে ৮৩/১ (ওয়ার্নার ৪০*, ফিঞ্চ ১৯, স্মিথ ২২*; মুস্তাফিজ ০/২৭, মাশরাফি ০/৩০, রুবেল ১/২১, মিরাজ ০/৪)।

ফল: ম্যাচ পরিত্যক্ত

Advertisements