একজনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আবির্ভাব ২০০৫ সালে। আরেকজন জাতীয় দলের হয়ে খেলা শুরু করেছেন তারও ৫ বছর পর। এ দুজন হলেন মুশফিকুর রহিম ও স্টিভেন স্মিথ। এক যুগ ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা মুশফিককে তবু চেনেন না স্মিথ। আজ ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তাঁর কণ্ঠের অনিশ্চয়তা তো সেটাই বলল!

২০১০ সালে লেগ স্পিনার হিসেবে অভিষেক হয়েছিল স্মিথের। তবে ব্যাটিংও যে একটু-আধটু পারেন, সেটা জানা গেল বাংলাদেশের বিপক্ষে। ২০১০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ বিপাকে ফেলে দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়াকে। আটে নেমে স্মিথের ২৭ রানে সেদিন পার পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। সেদিন বাংলাদেশের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান ছিল মুশফিকের। এর আগেই দুটি টি-টোয়েন্টি ও একটি বিশ্বকাপও খেলা হয়ে গেছে তাঁর।

বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সেখানেও স্মিথ দেখা পেয়েছেন মুশফিকের।
তবু আজ স্মিথের কথাবার্তাতেই বোঝা গেল, মুশফিককে যেন ঠিক চিনতে পারছেন না। বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তামিমের নামটা পরিষ্কার বলেছেন। কিন্তু মুশফিকের প্রসঙ্গ আসতেই নাম ঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারেননি। নিজের চেয়ে ২ বছরের পুরোনো বড় একজনের প্রশংসা করতে গিয়ে বিশেষণ ব্যবহার করেছেন ‘তরুণ খেলোয়াড়’!

বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বলেছেন, ‘ওদের ভয়ংকর কিছু ব্যাটসম্যান আছে। তামিম ইকবাল দারুণ একটা ইনিংস খেলেছে আগের ম্যাচেই। ওদের আরেকজন, নামটা ঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারছি না, মুশফিক, ওই যে উইকেটরক্ষক, নাকি মুশফিকুর? সে খুব ভালো, তরুণ খেলোয়াড়। ওদের দলে বেশ কিছু ভালো খেলোয়াড় আছে। মোস্তাফিজ খুবই ভালো মানের বোলার। ওদের আসলেই বেশ কিছু ভালো খেলোয়াড় আছে।’

ইচ্ছাকৃতভাবে করেননি, তা স্পষ্ট। তবে যেভাবে বলেছেন, তা শ্রুতিকটুও লেগেছে। মুশফিকের বদলে সৌম্য হলেও তবু ব্যাখ্যা মিলত। তা ছাড়া বাংলাদেশ দলও তো আর আফগানিস্তানের মতো অনিয়মিত সদস্য নয়!

নিজেকে পুরো বদলে নিয়ে বর্তমানের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন হয়েছেন স্মিথ। তবে প্রতিপক্ষ নিয়ে এত কম ধারণা থাকা সম্ভবত খুব একটা ভালো খেলোয়াড়ের লক্ষণ নয়! বিশেষ করে এই টেস্ট অধিনায়কের বিপক্ষেই কদিন পর যাঁর সিরিজ খেলার কথা!

সূত্র: আইসিসি।

Advertisements