মানসিকতার পরিবর্তনেই আজকের তামিম

প্রায় দুই বছর থেকেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে যাচ্ছেন দেশ সেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। শুরুতেই তার ব্যাট কথা বললে বাংলাদেশের শুরুটা সব সময় ভালো হয়, তা অনেকবারই প্রমাণ হয়েছে। কিন্তু এই তামিমও লম্বা সময় রানে ছিলেন না। শুনতে হয়েছে অনেক দুয়ো। কিন্তু থেমে থাকেননি তিনি। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তাদের থেকে অভিজ্ঞতা নিয়েছেন এবং নিজেকে তৈরি করেছেন। নিজেই জানালেন সেই দুঃসময় থেকে সুসময়ে ফেরার গল্প।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে বড় ইনিংস খেলার ক্ষেত্রে তামিমের অসাধারণ উন্নতি হয়েছে। বিশ্বকাপ পর্যন্ত ১৫১ ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি ছিল চারটি, হাফসেঞ্চুরি ২৮টি। বিশ্বকাপের পর থেকে ২৯ ম্যাচেই সেঞ্চুরি করে ফেলেছেন পাঁচটি আর হাফ সেঞ্চুরি করেছেন আটটি। এই সময়ের মধ্যেই টেস্টে পেয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি। কীভাবে এলো এতোটা পরিপূর্ণতা। তামিমের মতে, মানসিকতা পরিবর্তনের প্রতিফলন এটি।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আট উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে। তবে কথা বলেছে তামিমের ব্যাট। ১২৮ রান করে দলকে দিয়েছিলেন লড়াকু ইনিংস। কিন্তু বোলাররা ঠিকভাবে শেষ করতে পারেননি। ম্যাচ শেষে ইন্টান্যাশনাল ক্রিকেট কাইন্সিলের (আইসিসি) মুখোমুখি হয়েছিলেন বাংলাদেশের হয়ে সব ফরমেটে রানের শীর্ষে থাকা এই ব্যাটসম্যান।

সেখানেই বাঁ-হাতি ওপেনার তামিম বলেন, ‘নিজের ও দলের জন্য গত দুইবছর ধরেই বেশ ভালো সময় কাটছে। দলে শুরু করার সুযোগ পেলে সেটিকে বড় করার চেষ্টা করি যেন তা দলের কাজে লাগে। সেদিকে মনোযোগ দেই আমি এবং আমি কিছুটা ভাগ্যবান যে সেটি করতে পেরেছি।’ তামিম জানান, মানসিকতার পরিবর্তন অনেকটাই কাজ করেছে। তার ভাষায়, ‘টেকনিক আমার জন্য কখনোই সমস্যা ছিল না। ব্যাপারটি বেশি ছিল মানসিক। সুযোগ পেলেই আমি অনেক সিনিয়র ক্রিকেটার, কোচ, দেশের বাইরের ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলি। আমি কথা বলতে পছন্দ করি, কারণ শেখার কোনো শেষ নেই। সবারই শিখতে থাকা উচিৎ।’

তার এই ধারাবাহিকতার পিছনে শচিন টেন্ডুলকর, হাসিম আমলার মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পরামর্শ অনেকটাই সাহায্য করেছে। তামিম বলেন, ‘হাশিম আমলার মতো ক্রিকেটারের সঙ্গে কথা বলে অনেক কিছু শেখা যায়। আমি কয়েকজন ভারতীয় ক্রিকেটারের সঙ্গেও কথা বলেছি। আগে শচিনের সঙ্গেও কথা বলেছি, সে যেভাবে কথা বলে, তার একটি-দুটি টিপসই আরও ভালো ক্রিকেটার হতে সাহায্য করে। সুযোগ পেলে আমি বিরাট কোহলির সঙ্গেও কথা বলতে চাই। কারণ সে শুরুটাকে বড় স্কোরে রূপ দেওয়ায় ওস্তাদ।’

সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন অনেকবার কিন্তু হাল ছেড়ে দেননি। নিজের সেসব দিনের কথা ভুলবেনও না কখনও। তবে সেসব মনে রাখেননি তামিম। খেলা নিয়েই চিন্তা করতে চান জানিয়ে তামিম বলেন, ‘আমি অবশ্যই নিখুঁত নই। আমাকেও ভীষণ রকম বাজে সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তবে আমি সবসময় খেলা নিয়ে কাজ করে যেতে চেয়েছি। অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি যে বাজে সময়টা তারা কীভাবে কাটিয়েছে। চেষ্টা করেছি, সেসব জেনে উন্নতি করে যেতে।’

মানসিকতার পাশাপাশি নিজের ফিটনেসের দিকেও নজর দিয়েছেন তামিম। জানান, দুই বছরে ১০ কেজির মতো ওজন কমিয়েছেন। এখন আগের থেকেই বেশি সময় অনুশীলন করতে পারছেন যা তাকে বড় ইনিংসে সাহায্য করছে। বলেন, ‘ফিটনেসের ওপর এই সময়ে অনেক মনোযোগ দিয়েছি। গত দু বছরে প্রায় ১০ কেজির মতো ওজন কমিয়েছি। সেটা অবশ্যই সাহায্য করেছে। আগের চেয়ে তাই বড় ইনিংস বেশি খেলতে পারি। এখনও হয়ত অনেক সময় উইকেট বিলিয়ে আসব, এখনও ৫০-৬০ রানে আউট হই, তবে আগের চেয়ে সুযোগ এখন বেশি কাজে লাগাতে পারি।’

সূত্র: আইসিসি

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s