এর আগে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসে বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান ছিলেন শাহরিয়ার নাফিস। ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সে ম্যাচে ১২৩ রানে অপরাজিত ছিলেন নাফিস। দীর্ঘ ১১ বছর পর আবারও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলছে বাংলাদেশ। নিজেদের প্রথম ম্যাচেই নাফিসের সেই কীর্তি মনে করিয়ে দিলেন তামিম ইকবাল। খেললেন চোখ ধাঁধানো এক ইনিংস।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসে দ্বিতীয় বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরির দেখা পেলেন তামিম। ১২৩ বলে ১১ চার ও এক ছক্কায় ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন বাঁ-হাতি এই ওপেনার। বিদেশের মাটিতে এটা তার চতুর্থ সেঞ্চুরি। তবে ইংল্যান্ডে মাটিতে এটাই প্রথম। এ নিয়ে রঙিন পোশাকে নয়টি সেঞ্চুরির দেখা পেলেন ২৮ বছর বয়সী এই ওপেনার। যা কোনো বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের জন্য সর্বোচ্চ। ছয়টি সেঞ্চুরি নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

শ্রীলঙ্কা সিরিজে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ১০০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন তামিম ইকবাল। মাইলফলক স্পর্শের সেই ম্যাচে দেখা পেয়েছিলেন সেঞ্চুরিরও। এরপর থেকে নিয়মিতভাবেই হাসছে বাঁ-হাতি এই ওপেনারের ব্যাট। সর্বশেষ ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রতিটি ম্যাচেই রানের দেখা পেয়েছেন। ছিলো দুটি হাফ সেঞ্চুরিও। আর মূল লড়াইয়ের আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে তো ঝড়ো সেঞ্চুরিই করেন তামিম।

এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মূল লড়াইয়েও ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন বাংলাদেশি এই ওপেনার। আইসিসির অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে কেনিংটন ওভালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন তামিম। দেশের হয়ে ব্যাটিংয়ের প্রায় সবকটি রেকর্ডই নিজের করে নিয়েছেন বাঁ-হাতি এই ওপেনার। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও তার সেই বীরত্ব বজায় থাকলো।

টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে সাবধানী শুরুই করেন দুই বাংলাদেশি ওপেনার তামিম ও সৌম্য। ১১ ওভারে দলীয় ৫০ রান পেরোয় এ দু’জনের ব্যাটে। এর পরের ওভারেই ঘটে ছন্দপতন। ব্যক্তিগত ২৮ রানে স্টোকসের শিকারে পরিণত হন সৌম্য। ৩৪ বলে সৌম্যর ২৮ রানের ইনিংসে ছিলো চারটি চার ও একটি ছক্কার মার। সৌম্য ফিরে গেলে তিন নম্বরে নামা ইমরুল কায়েসকে সঙ্গে নিয়ে রানের চাকা বাড়াতে থাকেন তামিম।

কিন্তু ব্যক্তিগত ১৯ রানে ইমরুল ফিরে গেলে ভাঙ্গে তাদের ৩৯ রানের জুটি। তৃতীয় উইকেট জুটিতে তামিমকে সঙ্গ দেন মুশফিকুর রহিম। এ সময় তামিম তুলে নেন ক্যারিয়ারের ৩৭ তম হাফ সেঞ্চুরি। এরপর ইনিংসটা আরও বড় করতে থাকেন বাঁহাতি এই ওপেনার। ইনিংসের ৩৯ তম ওভারের শেষ বলে মঈন আলীর বলে সিঙ্গেল নিয়ে ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তামিম।

তার সঙ্গী মুশফিকও তুলে নিয়েছেন হাফ সেঞ্চুরি প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত ৩৯ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দুই উইকেটে ২১৪ রান। তামিম ১০০ ও মুশফিক ৬২ রানে ব্যাট করছেন।

এই ম্যাচের আগে ১৬৯ ওয়ানডেতে তামিমের সংগ্রহ ৩২.৪৩ গড়ে ৫৪৫০ রান। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৫৪ রান। ওয়ানডে ক্রিকেটে তার সেঞ্চুরির সংখ্যা আজকেরটি সহ নয়টি এবং হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে ৩৬টি।

Advertisements