আসল লড়াইয়ের আগে এটা কোন বাংলাদেশ

হিসাব মেলাতে কঠিন হবে। এটা কি বাংলাদেশই? এমন প্রশ্ন উঠতেই পারে। গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বলছিল ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচেও বুক চিতিয়ে লড়াই করা বাংলাদেশকে দেখা যাবে। কিন্তু এ ম্যাচে নিমেষেই বিধ্বস্ত বাংলাদেশ। প্রথমে বল হাতে এবং পরে ব্যাট হাতে উল্টো পথে হাঁটল মাশরাফিবাহিনী।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আসল লড়াইয়ের আগে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ২৪০ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে গেছে বাংলাদেশ। প্রস্তুতি ম্যাচে হার হয়তো কোনো গুরুত্ব বহন করে না, কিন্তু বাংলাদেশ যেমন ব্যাটিং করল সেটা যে অনেক শঙ্কা তৈরি করবে সেটা বলাই বাহূল্য। ৩২৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৮৪ রানেই ইনিংস শেষ বাংলাদেশের।

মেহেদী হাসান মিরাজের করা ২৪ রানই হয়ে থাকল সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর! সেখানে অন্যান্য ব্যাটসম্যানদের রান- ইমরুল ৭, সৌম্য ২, সাব্বির ০, মুশফিক ১৩, সাকিব ৭, মাহমুদউল্লাহ ০, মোসাদ্দেক ০।

অথচ সাসেক্সের ১০ দিনের ক্যাম্প থেকে হিসাব করলে দুর্বার বাংলাদেশেরই দেখা মিলবে। ১০ দিনের ক্যাম্পে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে ছিল চেনা বাংলাদেশ। এরপর ত্রিদেশীয় সিরিজে আয়ারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের ছয়ে ওঠা। সর্বশেষ প্রস্তুতি ম্যাচেও পাকিস্তানের বিপক্ষে বুক চিতিয়ে লড়েছেন মাশরাফিরা। সেই দলই কি না ভারতের বিপক্ষে মুখ থুবড়ে পড়ল!

প্রস্তুতি ম্যাচ বলে মঙ্গলবার লন্ডনের কেনিংটন ওভালে মাঠে নামেননি নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ও তামিম ইকবাল। ৩২৫ রানের লক্ষ্যে ইনিংস উদ্বোধন করতে নামলেন ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকার। ধীর স্থিরই মনে হয়েছে দুই ব্যাটসম্যানকে। কিন্তু ভারতীয় বোলারদের তোপের মুখে দিকহারা হতেও সময় লাগেনি।

দলীয় ১১ রানে পতনের শুরু। ভারত পেসার উমেশ যাদবের বলে দিনেশ কার্তিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন সৌম্য সরকার। এতেই শুরু হয়ে যায় আসা যাওয়ার মিছিল। যে মিছিলে যোগ দিলেন সাব্বির রহমান, ইমরুল কায়েস, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ ও মোসাদ্দেক। ২২ রানেই নেই ছয় উইকেট।

এমন দলকে পথ দেখানো তখন মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজের জন্য সাত সমুদ্দুর পাড়ি দেয়ার মতো। এ কাজে সফল হতে পারলেন না তারা। দলীয় ৪৭ রানে থামলেন মুশফিক। ফেরার আগে ১৩ রান করেন মুশফিক। এরপর স্পিনার সানজামুল ইসলামকে নিয়ে লড়াই করলেন দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২৪ রান করা মিরাজ।

সানজামুলকে সাথে নিয়ে ৩০ রানের জুটি গড়ে তোলেন মিরাজ। তবে এতে ১০০ রানের কাছেও যেতে পারেনি বাংলাদেশ। দলীয় ৭৭ রানে মাথায় বিদায় নেন মিরাজ। সানজামুল, তাসকিন আহমেদের ব্যাটিং তখন নিরর্থক দেখাচ্ছিল। তবে এই নিরর্থক ব্যাটিং বেশিক্ষণ চলেনি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ রান করে বিদায় নেন সানজামুল। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে রুবেল আউট হলে ৮৪ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s