আয়ারল্যান্ডকে নিয়ে খেললো বাংলাদেশ

প্রথমে বল হাতে, পরে ব্যাট হাতে; আয়ারল্যান্ডকে নিয়ে রীতিমতো খেললো বাংলাদেশ। মুস্তাফিজ, তামিম, সৌম্যদের রাজত্বের ম্যাচে পাত্তাই পেল না ঘরের মাঠের দলটি। ত্রিদেশীয় সিরিজে শুক্রবার নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে দাপুটে এক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লো মাশরাফিবাহিনী।

বাংলাদেশের আট উইকেটের বিশাল জয় তুলে নেয়ার ম্যাচে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড সামান্যতম প্রতিদ্বন্দ্বীতাও গড়ে তুলতে পারেনি। শাসন করছেন শুধু বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররাই। ডাবলিনের মালাহাইড স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ১৮১ রান তোলে আয়ারল্যান্ড। জবাবে দুই উইকেট হারিয়ে ২৭.১ ওভারেই জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।

ত্রিদেশীয় সিরিজে এটা বাংলাদেশের প্রথম জয়। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেও মিলতে পারতো জয়। কিন্তু বৃষ্টির দাপটে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়। দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২৫৭ রান করেও চার উইকেটে হার মানে বাংলাদেশ। যদিও ক্লনটার্ফ মাঠে এত রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড ছিল না। কিন্তু ব্ল্যাক ক্যাপরা নতুন রেকর্ড গড়ে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।

মালাহাইডে ছোট লক্ষ্য পেয়ে ধীর স্থীর শুরুই করেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। কিন্তু ওভার বাড়ার সাথে সাথে হাত খুলে খেলতে শুরু করেন তামিম-সৌম্য। বিশেষ করে সৌম্য। ইনিংসের নবম ওভারটি করতে এলেন ব্যারি ম্যাককার্থি। ডানহাতি এই পেসারকে পেয়েই যেন খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এলেন সৌম্য।

দুই চার ও এক ছয়সহ তুলে নিলেন ১৬ রান। এখান থেকেই বেড়ে যায় রান তোলার গতি। তামিমও হাত খুলে খেলতে থাকেন। ১৩.১ ওভারেই ৯০ পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ। এমন সময় থামতে হয় তামিমকে। দলীয় ৯৫ রানের মাথায় কেভিন ও’ব্রায়েনের বলে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তামিম। তবে ফেরার আগে ৫৪ বলে ছয় চারে ৪৭ রান করেন দেশসেরা এই ওপেনার।

তামিম ফিরলেও তার প্রভাব দলের ওপর পড়েনি। সাব্বির রহমানকে নিয়ে এগোতে থাকেন সৌম্য। এদের ব্যাটে ১৫.১ ওভারে ১০০ রানে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। এরপর সৌম্য সরকার ও সাব্বির রহমানের ব্যাটিং শো দেখেছে আইরিশ বোলাররা। কিন্তু জয় থেকে ১১ রান দূরে থাকতে আউট হন ৩৫ রান করা সাব্বির।

তাতে সমস্যা হয়নি। তিন রানে অপরাজিত থাকা মুশফিকুর রহিমকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন ম্যাচসেরা সৌম্য সরকার। এদিন তার ব্যাটে রানের ফোয়ারা বয়ে গেছে। যে শট খেলতে চেয়েছেন সেটাই হয়েছে। শেষপর্যন্ত ৬৮ বলে ১১ চার ও দুই ছয়ে ৮৭ রানের চোখ ধাঁধানো এক ইনিংস খেলেও অপরাজিত থাকেন বাঁ-হাতি ড্যাশিং ওপেনার। আগের ম্যাচেও ৬১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন সৌম্য।

এরআগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের বোলিং তোপের মুখে পড়ে আয়ারল্যান্ড। এদিন শুরু থেকেই আইরিশ ব্যাটসম্যানদের ওপর চড়ে বসেন মুস্তাফিজুর রহমান। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই আইরিশ ওপেনার পল স্টার্লিংকে ফিরিয়ে দেন কাটার মাস্টার। রানের খাতা খোলার আগেই প্রথম উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।

এখান থেকেই পতনের শুরু। মাঝে দুই একবার প্রতিরোধ গড়ে তুললেও নিজেদের ইনিংস বড় করতে পারেনি আইরিশ ব্যাটসম্যানরা। আইরিশ অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডের ক্যাচ ফেলে যেন তেতে ওঠেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ইনিংসের নবম ওভারে নিজেই বল হাতে ফিরিয়ে দেন ২২ রান করা পোর্টারফিল্ডকে।

এরপর অ্যান্ডি ব্যালবার্নিকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেন ওপেনার এড জয়েস। কিন্তু বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান বাধায় সেটা হলো না। ব্যালবার্নির স্টাম্প উপড়ে নিয়ে আয়ারল্যান্ডের তৃতীয় উইকেটর পতন ঘটান বাংলাদেশ প্রাণভোমড়া।

এরপর আয়ারল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে বড় এবং কার্যকরী জুটি গড়েন এড জয়েস ও নেইল ও’ব্রায়েন। চতুর্থ উইকেটে ৫৫ রান যোগ করেন এই দুই ব্যাটসম্যান। কিন্তু শিকারি হয়ে আবারো হাজির অনেকদিন পর স্বরুপে ফেরা মুস্তাফিজ। এবার ফিরিয়ে দিলেন ৩০ রান করা নেইল ও’ব্রায়েনকে। এসময় সাফল্য ছুঁয়ে দেখলেন অভিষিক্ত সানজামুল ইসলাম।

নিজের প্রথম ওভার করতে গিয়েই সর্বোচ্চ ৪৬ রান করা এড জয়েসকে সাজঘর দেখিয়ে দেন বাঁ-হাতি এই স্পিনার। এরপর আবারো মুস্তাফিজ জাদু। টপাটপ তুলে নেন আরো দুই উইকেট। আয়াল্যান্ডের বাকি তিন উইকেটের একটি সানজামুল ও অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা দুটি তুলে নেন।

১৮১ রানেই থামে আইরিশরা। মাত্র ২৩ রানে চার উইকেট পান মুস্তাফিজ। এছাড়া মাশরাফি ও সানজামুল দুটি এবং সাকিব ও মোসাদ্দেক একটি করে উইকেট নেন। মূলত মুস্তাফিজের বোলিং তোপের মুখেই মুখ থুবড়ে পরে আয়ারল্যান্ডের ইনিংস। যেখান থেকে আর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি তারা।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s