বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজের ভাগ্য নির্ধারণে ১৫ মে সোমবার ঢাকায় এসেছিলেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) নিরাপত্তা পরামর্শক শিন ক্যারল। দু’দিনের সফর শেষে ১৭ মে বুধবার রাতেই অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন ক্যারল। তবে দেশে ফেরার আগে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আশার বানী শুনিয়ে গেলেন তিনি। বাংলাদেশের দেওয়া নিরাপত্তা পরিকল্পনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এই নিরাপত্তা পরামর্শক।

ঢাকা সফরের শেষ দিনে র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে বৈঠক সেরে দুপুরে মিরপুরের বিসিবি কার্যালয়ে ও শেরে বাংলা স্টেডিয়াম পরিদর্শনে যান তিনি। এ সময় বিদেশি দলের ড্রেসিংরুম ও ভিউইং এরিয়া ঘুরে দেখেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা। শেরে বাংলা স্টেডিয়াম পরিদর্শন ও বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমকে নিরাপত্তা নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানান ক্যারল। সাংবাদিকদের কাছে বাংলাদেশ সফরকে ‌‌‘ফলপ্রসূ’ বলেও মন্তব্য করেছেন ক্যারল।

এ প্রসঙ্গে ক্যারলের ভাষ্য, ‘আমাকে যে নিরাপত্তা পরিকল্পনা দেখানো হয়েছে, তাতে আমি খুবই সন্তুষ্ট। আপাতত এর চেয়ে বেশি কিছু বলা ঠিক হবে না। তাতে সবাই নিরাপত্তা পরিকল্পনা সম্পর্কে জেনে যাবে। তবে হ্যাঁ, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে আমি অবশ্যই বলব যে, নিরাপত্তা পরিকল্পনায় আমি সন্তুষ্ট। গত দুই দিনের কাজ খুব ফলপ্রসূ এবং সফল হয়েছে। এ জন্য বিসিবিকে ধন্যবাদ।  সিরিজ নিয়ে আমার যা সুপারিশ তা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকেই করবো।’

বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরীও শোনালেন আশার কথা, ‘তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে, ইংল্যান্ড দলকে দেওয়া নিরাপত্তাই দেওয়া হবে অস্ট্রেলিয়া দলকেও। এই প্রতিশ্রুতিতে তিনি সন্তুষ্ট। আমরা যথেষ্ট আশাবাদী।’

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সফরের সূচিও নির্ধারণ হয়ে যাবে দ্রুতই। বিসিবি জানিয়েছে, কোরবানি ঈদের আগে প্রথম টেস্ট ও দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচটি মাঠে গড়াবে ঈদের পরে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কাছে বিসিবির প্রস্তাবিত সূচিও এটাই। কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে ১-৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। তার আগে জুলাইয়ে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেখতে আসবে আরেকটি প্রতিনিধিদল। ক্যারল সঙ্গী হবেন সেই দলেরও।

২০১৫ সালের অক্টোবরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল অস্ট্রেলিয়া দলের। কিন্তু নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে অস্ট্রেলীয় সরকারের নির্দেশে সেই সফর স্থগিত হয়ে যায়। দেশটির সরকার নিরাপত্তাজনিত এক সতর্কবার্তায় সেসময় বলেছিল, সফরের ওই সময়টিতে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা রয়েছে। এর জের ধরে ২০১৬ সালের শুরুর দিকে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ থেকেও নাম প্রত্যাহার করে নেয় অস্ট্রেলিয়া। তবে গেল বছরের অক্টোবরে ইংল্যান্ড সিরিজ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর বাংলাদেশ সফরের ব্যাপারে ইতিবাচক হয় সিএ।

Advertisements