আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পথচলার শুরু বাংলাদেশে। টুর্নামেন্টের প্রথম আসরের আয়োজক বাংলাদেশ সবশেষ এই টুর্নামেন্টে খেলেছিল ২০০৬ সালে, ভারতে। সেবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় পেলেও শ্রীলঙ্কা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে কোয়ালিফাইং রাউন্ড থেকে বিদায় নিতে হয় বাংলাদেশকে। ১১ বছর পর আবারও আইসিসির মর্যাদাপূর্ণ এই টুর্নামেন্টে সুযোগ পেল বাংলাদেশ। র‍্যাংকিংয়ের সাত নম্বরে থেকে আগামী এক জুন থেকে ইংল্যান্ডে শুরু হওয়া চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অষ্টম আসরে খেলবে মাশরাফি-সাকিব-তামিম-মুশফিক-মুস্তাফিজরা।

বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড, হট ফেভারিট অস্ট্রেলিয়া আর গত ওয়ানডে বিশ্বকাপের রানার্সআপ নিউজিল্যান্ড। রীতিমতো মৃত্যুকূপ। তাই বলে বাংলাদেশের ভালো করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না ‘মিস্টার ক্রিকেট’ খ্যাত অস্ট্রেলিয়ার সাবেক তারকা ক্রিকেটার মাইক হাসি। তার মতে, এ জন্য জাদুকরী কিছু করে দেখাতে হবে বাংলাদেশকে। আর সেই ভেলকিটা তরুণ পেসার মুস্তাফিজুর রহমান দেখাতে পারেন বলে বিশ্বাস হাসির।

২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেকের পর থেকেই বিস্ময় উপহার দিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশের কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। বিশ্ব ক্রিকেট অবাক হয়ে দেখেছে বাঁ-হাতি এই ২১ বছর বয়সী পেসারকে। আলোচনা বা গবেষণা কোনো কিছুই মুস্তাফিজের বোলিং রহস্যভেদ করতে পারেনি। তবে ২০১৬-তে ইনজুরিতে পড়ে কিছুটা ছন্দ হারান বাঁ-হাতি এই পেসার। চোট কাটিয়ে ফিরে মুস্তাফিজ আগের সেই ধার না পেলেও মাইক হাসির কাছে বাংলাদেশের ‘এক্স ফ্যাক্টর’ সাতক্ষীরার তরুণ এই পেসারই।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে আট দলের শক্তি, দুর্বলতা ও সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার অফিশিয়াল ওয়েবসাইট। সেখানেই মুস্তাফিজকে ‘এক্স ফ্যাক্টর’ অভিহিত করে মাইক হাসি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের এক্স ফ্যাক্টর মুস্তাফিজুর রহমান। গত বছর চোটের সঙ্গে লড়াই করেছে ও। কিন্তু যদি পুরো ফিট হয়ে ওঠে তাহলে বাংলাদেশের জন্য বিশাল সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।’

বাংলাদেশের বর্তমান এই দলটা সেরা হলেও কন্ডিশন তাদের মূল চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করেন মাইক হাসি, ‘অনেক দিন ধরে সাকিব ওর জাত চিনিয়ে চলেছে। টপ অর্ডারে তামিম ইকবালও খুব ভালো খেলোয়াড়। যত অভিজ্ঞ আর বয়স হচ্ছে ততই পরিণত হচ্ছে তামিম। বাংলাদেশে বেশ ক’জন অসাধারণ খেলোয়াড় আছে, কোনো প্রশ্ন নেই এ নিয়ে। তবে ওদের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ইংলিশ কন্ডিশনে খেলাটা। উপমহাদেশে খুব ভালো খেলে বাংলাদেশ, কিন্তু ইংল্যান্ডে খেলাটা অন্য রকম হবে।’

আগামী ১-১৮ জুন ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অনুষ্ঠিত হবে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অষ্টম আসর। তিনটি ভেন্যুতে মোট ১৫টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী ও ফাইনাল ম্যাচসহ দ্য ওভালে অনুষ্ঠিত হবে ছয়টি ম্যাচ। বাকি দুইটি ভেন্যু হচ্ছে এজবাস্টন ও কার্ডিফ। টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী আটটি দল হচ্ছে বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকা। গ্রুপ ‘এ’তে খেলবে বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। গ্রুপ ‘বি’তে খেলবে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

আগামী এক জুন ইংল্যান্ড-বাংলাদেশ ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে আইসিসির অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই টুর্নামেন্টের।

সূত্র: ক্রিকেট.কম.এউ

Advertisements