বড় মঞ্চের পারফরমেন্স মনে রাখে সকলেই

বাংলাদেশের ক্রিকেটের আকাশে এখন পর্যন্ত সবথেকে বড় নক্ষত্র ধরা হয় সাকিব আল হাসানকে। সম্প্রতি, কলকাতায় বসে খেলাধুলা বিষয়ক গণমাধ্যম ক্রিকেটসকারকে সময় দিয়েছিলেন তিনি। সাক্ষাৎকারে, বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার কথা বলেছেন আইপিএল, অধিনায়কত্ব ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশের সুযোগ নিয়ে।

সিএস ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের এবারের আসরে বেশিরভাগ সময় কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) ডাগআউটেই বসে থাকতে হয়েছে আপনাকে। কোন ধরনের হতাশা কাজ করেছে কি?

সাকিব: দেখুন আমরা পেশাদার ক্রিকেটার। প্রতিটি দলই প্রতিপক্ষ বিবেচনায় নিজেদের কম্বিনেশন নির্ধারণ করে। যারা সুযোগ পায়না, তারা সুযোগ পেলে সেটা কাজে লাগাতে চেষ্টা করে। এটা দলের জন্য মূল ব্যাপার। আমি দলের ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা করি।

কেকেআর হঠাৎ করেই ম্যাচ হারতে শুরু করেছে। টুর্নামেন্টের মাঝখানে এসে ঠিক কোন জায়গাতে ভুলগুলো হচ্ছে?

সাকিব: আমরা পরপর দুই ম্যাচ হেরেছি সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ এবং রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টের কাছে। এবং দুই ম্যাচেই কারো না কারো একক অসাধারন পারফরম্যান্সের কাছে হেরেছি। হায়দ্রাবাদের ম্যাচে ডেভিড ওয়ার্নার একাই ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে আমাদের আর পুনের সাথে রাহুল ত্রিপাঠি একাই আমাদের পার্টি নষ্ট করেছে।

ওয়ার্নার যখন কেকেআরের বোলিং নিয়ে ছিনিমিনি খেলছিল, ডাগআউটে বসে মনের ভেতর তখন কি চলছিল?

সাকিব: বিপক্ষ দলের ডাগআউটে বসে তার ব্যাটিং তাণ্ডব দেখাটা রীতিমত নির্যাতনের পর্যায়ে পড়ে। এটা ছিল আইপিএলের অন্যতম সেটা একটি ইনিংস। নিজের দিনে ওয়ার্নার একজন ম্যাচজয়ী পারফর্মার। কিন্তু আমাদের জন্য বিষয়টা মোটেও ভাল ছিল না। আমরা পয়েন্ট তালিকায় বেশ ভাল অবস্থানে ছিলাম, এখন আমাদের পরবর্তী ম্যাচগুলোর দিকে আলাদা নজর দিতে হবে।

গৌতম গম্ভীরকে একজন অধিনায়ক হিসাবে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?

গৌতম একেবারেই ব্যতিক্রমধর্মী অধিনায়ক। সাত বছর ধরে আমি ওর অধিনায়কত্বে খেলছি, ও যেভাবে দল পরিচালনা করে সেটা অসাধারন। ও যেভাবে দলকে সামলায়, সেটাও অসাধারন। একটা ফ্রাঞ্চাইজি দল পরিচালনা করা সহজ নয়, কিন্তু গত সাত বছরে আমরা সেরা চারে উঠেছি, খুব বেশি দলের এই কৃতিত্ব নেই! ২০১২ এবং ২০১৪ সালে আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছি, ওর জন্যই দল ভাল করছে।

জ্যাক ক্যালিসকে কোচ হিসাবে কিভাবে বর্ণনা করবেন?

খুবই ভাল। একজন গ্রেট খেলোয়াড়ের মতোই সে একজন গ্রেট কোচও। সে খুবই সাহায্যপরায়ণ। সে সবসময় আমাদের পারফরম্যান্সের উন্নতিতে সাহায্য করতে প্রস্তুত থাকে।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দ্বারপ্রান্তে এসে আপনি বাংলাদেশের কতটুকু সুযোগ দেখছেন?

সাকিব: আমি মনে করি আমাদের গ্রুপটা তুলনামুলকভাবে কঠিন। সব দলই খুব ভাল। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড অনেক শক্ত প্রতিপক্ষ। দক্ষিণ আফ্রিকা ববাবরই ভাল করে। কিন্তু আমরা ভাল করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী, যাতে করে বড় মঞ্চে আমাদের পারফরম্যান্স মানুষ মনে রাখে। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা তিন ফরম্যাটেই ভাল করছি বিশেষ করে ছোট ফরম্যাটে। আমি প্রার্থনা করে যাচ্ছি।

টুর্নামেন্টটা ইংল্যান্ডে হবে, এটা কি একটা দল হিসেবে আপনাদের কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলবে?

সাকিব: আমি সেটা মনে করি না। টুর্নামেন্ট শুরুর দশদিন আগে থেকেই সেখানে আমদের প্রস্তুতি ক্যাম্প বসবে। সেটা আমাদেরকে ইংল্যান্ডের আবহাওয়ার সাথে মানিয়ে নিতেও সাহায্য করবে। আমরা পেশাদার, এবং যেকোন পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেবার মত।

আপনার চোখে এবারের ট্রফি জেতার ব্যাপারে ফেবারিট কে?

সাকিব: আমার মনে হয় অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ড ফেভারিট। অস্ট্রেলিয়া বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবং ইংল্যান্ড নিজের মাটিতে খেলবে।

আপনি কি মনে করেন যে, যদি ভারত এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি না খেলে তাহলে টুর্নামেন্টের জনপ্রিয়তা কমে যাবে?

সাকিব: এই প্রশ্নের উত্তর দেবার জন্য আমি সঠিক ব্যক্তি নই।

আপনি বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন, কি বলবেন এই ব্যাপারে?

সাকিব: যেকোনো ধরনের দায়িত্বই একটা চ্যালেঞ্জ। নির্ভর করে আপনি কিভাবে এটাকে নেবেন। হ্যাঁ, আমরা সম্প্রতি ভাল করছি, কিন্তু আমাদের টি-টোয়েন্টি রেকর্ড ভাল নয়। এই জায়গায় আমাদেরকে ভাল করতে হবে।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s