আছেন, ‘পর্দার আড়ালের নায়ক’ হয়ে…….

আউটফিল্ডের সঙ্গে উইকেটকে খালি চোখে আলাদা করা যায় না। একে তো সবুজ ঘাস, সাথে ভেজা আবহাওয়া। সবমিলিয়ে ডাবলিনের মালাহাইডে ব্যাটসম্যানদের জন্য সাক্ষাৎ মৃত্যুকূপ তৈরি করেছিলো আয়ারল্যান্ড। তারপরও অপরাজিত ৬৪ রানের ইনিংস খেললেন তামিম ইকবাল। প্রসংশায় ভাসছেন তিনি। কিন্তু এবারও এড়িয়ে গেল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ৪৩  রানের ইনিংসটি।

দেশের সর্বকালের সেরা ওপেনার তামিম ইকবাল নিজেকে আরও উপরে নিয়ে গেলেন। ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে তার ইনিংসটি সেঞ্চুরির চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। নিজের ‘ক্লাস’ প্রমাণ করলেন তামিম। আইরিশ বোলারদের বুক পর্যন্ত উঠে আসা বল, হার্পুনের মতো সুইং আর গতি মিলিয়ে বৈরি  কন্ডিশনেও যেভাবে খেললেন তামিম তাতে ভক্ত-সমর্থকদের পাশাপাশি ক্রিক্রেট বোদ্ধাদের কাছে আবারও ‘সেরা’ হলেন তামিম।

তামিমের সাথে ৮৭ রানের অপরাজিত জুটি বেঁধেছিলেন ব্যাটিং অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। যেখানে সাকিব-মুশফিকরা দাঁড়াতেই পারেননি; সেখানে ৪৩ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন। দলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ‘ত্রাতা’ হয়ে আসা যেন অভ্যেসে পরিণত হয়েছে রিয়াদের। কিন্তু তারপরও পর্দার আড়ালেই তিনি।

উইকেটকিপিং নিয়ে টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম একবার বলেছিলেন, ‘ইটস আ থ্যাংকলেস জব’। রিয়াদের ইনিংসগুলোও যেন ভক্ত-সমর্থকদের কাছে মাঝে মাঝে থ্যাংকলেস হয়ে দাঁড়ায়। কখনও বা তা টিম ম্যানেজমেন্টের কাছেও। এই তো কদিন আগেই, শ্রীলঙ্কা সিরিজে হুট করে সাদা পোশাকের টেস্টে ডাগ আউটে বসিয়ে দেওয়া হলো তাকে। এ নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। দেশেই পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছিলো। শেষমুহূর্তে তৎকালীন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজা আটকেছিলেন।

এশিয়ান ক্রিকেটের খুব নেতিবাচক একটা দিক আছে। মুষ্টিমেয় তারকার হাতে আটকে থাকে পুরো দলের পারফরম্যান্স। সেখানে রিয়াদের মতো ক্রিকেটাররা সঠিক মূল্যায়নটা পাচ্ছেন কিনা, তা নিয়ে খুব বেশি আলোচনা হয় না। সুখের খবর,  বিতর্কের মুখেও কম পড়েন রিয়াদের মতো ক্রিকেটাররা।

শুক্রবারের ম্যাচেই শুধু নয়, অতীতে অনেকবার তার ব্যাটে ভরসা খুঁজেছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। সর্বশেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের দেওয়া ৩১৯ রানের পাহাড় জয় করতে নেমে রিয়াদের করা ৬২ রানের ইনিংসটির মূল্য টের পেয়েছিলো সবাই। একই আসরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১২৮ রানের  ইনিংসটির কথা এখনও জ্বলজ্বলে সবার চোখে। যদিও সে ম্যাচে জিততে পারেনি বাংলাদেশ। গেল বছরের কথা, ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ৭৫ রানের ইনিংস ছিলো তার।

পরিসংখ্যান বলছে, চার নম্বরে নেমে বেশি সফল রিয়াদ। সেটা রানের পরিমাণ হিসেব করে। কিন্তু ছয় নম্বরে নেমে ব্যর্থ তা একেবারেই নয়। কেন? একটু ভাবলেই পানির মতো সহজ হয়ে যায়। লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যান বলে খুব বেশি বল খেলার সুযোগ পান না বাংলাদেশের হয়ে ১৩৮ ম্যাচে ২৯২১ রান করা রিয়াদ। কিন্তু তার করা ২০-৩০ রানের ইনিংসগুলো ওই সময়ে যেন সেঞ্চুরির সমান হয়ে দাঁড়ায়।

 

তারকা খ্যাতি নয়, বারবার দলের জন্য খেলে  গেছেন রিয়াদ। ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফির ডেপুটি হিসেবে কাজ করেছেন সফলতার সাথে। আড়ালে থেকেও দলের অপরিহার্য হয়ে উঠেছেন খানিকটা অদৃশ্যভাবেই। দিন শেষে, দলের সফলতার পিছনে তার সফলতা মিশে গেছে পানিতে রং হয়ে।

আছেন, ‘পর্দার আড়ালের নায়ক’ হয়ে।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s