ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সময়টা ভালো যাচ্ছে। কিন্তু ভুললে চলবে না, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি হার আছে মাশরাফি বিন মুর্তজাদের। একইভাবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২৮ ম্যাচের আট জয়ে আশাটাও বাড়িয়ে দেবে লাল-সবুজ জার্সিধারীদের।

রেটিং পয়েন্ট কিংবা র‍্যাংকিংয়ের ব্যাপারগুলোর জন্যই গুরুত্বপূর্ণ আয়ারল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড-বাংলাদেশের মধ্যকার ত্রিদেশীয় সিরিজ এমনটা শুধু নয়। একে অপরের সঙ্গে দুটি ম্যাচ খেলতে গিয়ে ‘কৌশলগত’ভাবে আরও অনেক কিছুতে চোখ রাখতে হবে বাংলাদেশকে।

চলতি মুহূর্তে সময়টা ভালো যাচ্ছে না আইরিশদের। আফগানিস্তানের পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ হেরে র‍্যাংকিংয়ের ১২তম দল তারা। অবশ্য পরবর্তী টেস্ট স্ট্যাটাস দাবির দৌড়ে এগিয়ে থাকা এই দলটি রঙিন পোশাকে যে কোন সময় ভয়ানক হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে অতীতে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি জয় তাদেরকে ঘরের মাঠে বাড়তি আত্মবিশ্বাস যোগাবে।  

২০১০ সালের ম্যাচে সাকিবের স্কুপ। সাত উইকেটের ব্যবধানে হেরেছিলো বাংলাদেশ। ছবি: সংগৃহীত

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২০০৭ বিশ্বকাপের সুপার এইটের খেলায় প্রথম মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। সেবার ৭৪ রানে হাবিবুল বাশারদের হারিয়েছিলো আইরিশরা। এরপর ২০১০ সালে সাত উইকেটের বিশাল ব্যবধানে দ্বিতীয় হারের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডের সেঞ্চুরিতেই আটকে যায় বেলফাস্টের তামিম-ইমরুলরা। তাই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। অবশ্য যে দলে পল স্টার্লিং, উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড, বয়েড র‍্যানকিন, এড জয়েস আর নেইল ও’ব্রেইনের মতো ক্রিকেটাররা আছে; তাদেরকে বাংলদেশ সহজভাবে নেবেও না।

২০০৭ সালের ম্যাচে মাশরাফি বিন মুর্তজা। ছবি:এএফপি

হারলে পয়েন্ট হারাবে বাংলাদেশ। ঝুঁকির মুখে পড়বে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সম্ভাবনা। সঙ্গে যোগ হবে ছোট দলের বিপক্ষে হারের গ্লানি। ‘কৌশলগত’ এই কারণেই যে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে আইরিশদের বিপক্ষে হারের ব্যথা মানসিকভাবে চাপে রাখতে পারে সাকিবদের। তাতে করে পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না, তার কোন নিশ্চয়তা নেই। তাই ওই টুর্নামেন্টের কথা মাথায় রেখে হলেও, অসাবধান হওয়ার সুযোগ নেই বাংলাদেশের সামনে।

নিউজিল্যান্ডের ব্যাপারটাও অনেকটাই এমন। সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের ঘরের মাঠে বাংলাদেশকে সিরিজ হারিয়েছে ব্ল্যাক ক্যাপরা। সেক্ষেত্রে ত্রিদেশীয় সিরিজ তো বটেই, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও নিজের গ্রুপে পাওয়া বাংলাদেশের বিপক্ষে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মুখোমুখি হবে কেন উইলিয়ামসের দল।

২০০৮ সালে প্রথম নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পায় বাংলাদেশ দল। ছবি:এএফপি

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে হারানোর অনেক কিছু আছে বাংলাদেশের। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়টা বাড়তি প্রাপ্তি। এখন পর্যন্ত ২৮ বার মুখোমুখি হয়ে আটবার জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এমন অবস্থায় ত্রিদেশীয় সিরিজে তাদের বিপক্ষে জয় পেলে রেটিং পয়েন্ট বেড়ে যাবে, যা প্রভাব ফেলবে র‍্যাংকিংয়ে। অন্যদিকে, এই সিরিজের পরপরই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে বাংলাদেশের প্রস্তুতিটাও হয়ে যাবে।

শুরু থেকে যতই বলা হোক, সিরিজটি শুধুই প্রস্তুতির তা কিন্তু একেবারেই নয়। বাংলাদেশের যেমন সুযোগ রয়েছে চাপে রাখার, সুযোগ রয়েছে চাপে থাকারও।

তারিখ                প্রতিপক্ষ                    ভেন্যু                    সময়

১২ মে        বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড         ডাবলিন            বিকেল ৩.৪৫

১৪ মে        নিউজিল্যান্ড-আয়ারল্যান্ড      ডাবলিন            বিকেল ৩.৪৫

১৭ মে        বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড         ডাবলিন            বিকেল ৩.৪৫

১৯ মে       বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড          ডাবলিন            বিকেল ৩.৪৫

২১ মে        আয়ারল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড      ডাবলিন            বিকেল ৩.৪৫

২৪ মে        বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড         ডাবলিন            বিকেল ৩.৪৫

Advertisements