মাশরাফি ভাই বোকাঝোকা করলেও ভাল লাগে

বাংলাদেশের ক্রিকেটে শুরুর দিকের বড় তারকার নাম বলতে গেলে মোহাম্মাদ আশরাফুলের নাম সবার আগে নিতে হবে। মোহাম্মাদ রফিকদের পর সত্যিকারের বড় তারকার তকমা পেয়েছিলেন টেস্ট ক্রিকেটে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান।

একই সময়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে তরুন মাশরাফি বিন মুর্তজার উত্থান হয়। ব্যাটিংয়ে আশরাফুল আর বোলিংয়ে মাশরাফি, দুর্বল বাংলাদেশ দলের দুই তারকাকে দেখে দেশের ক্রিকেটে অনেকেই অনুপ্রানিত হয়েছিল।

সময়ের সাথে আশরাফুল ঝরে পড়লেও মাশরাফি নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। তার হাত ধরেই ওয়ানডে ক্রিকেটে অবিশ্বাস্য উন্নতি করেছে বাংলাদেশ দল।

নিজ হাতে দেশের ক্রিকেটের চেহারা বদলে আগ্রাসী ও আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের দেশে পরিনত করেছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। তারই সমান্তরালে উঠে আসছে আগ্রাসী মানসিকতার তরুন ক্রিকেটাররা।

যাদের মনে নেই প্রতিপক্ষর শক্তিমত্তার ভয়ে ভীত হওয়ার অভ্যাস, নেই পরাজয়ের ভয়। পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক না কেন, জয় ছাড়া কিছুই ভাবে না তরুন বাংলাদেশিরা।
ফেনির এক তরুন সেই ছোট থেকেই এই ভাবনা নিয়েই ক্রিকেট শুরু করেছিল। বয়স ভিত্তিক ক্রিকেটের গন্ডি পার করে স্নাতক করে বড়দের ক্রিকেটে এসেই নজরে এসেছেন।

ঠিক মাশরাফির মতই, তিনিও একজন বোলিং অলরাউন্ডার… দেশের ক্রিকেট যাদের খুঁজে পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয় ক্রিকেট কর্তাদের। তাই তো মোহাম্মাদ সাইফুদ্দিন খুব দ্রুতই দেশের জার্সি পেয়ে গেলেন।

খেললেন সেই ছোট বেলার প্রেরনা মাশরাফির সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। ছোট ফরম্যাটের ক্রিকেটে সেই মাশরাফির বিদায়ী ম্যাচেই খেললেন সাইফুদ্দিন। স্বপ্ন সত্যি হওয়া নিয়ে পরিবর্তন বিডিকে জানিয়েছেন তরুন সাইফুদ্দিন,
‘ছোট বেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতাম মাশরাফি ভাই, আশরাফুল ভাই তাদের সঙ্গে খেলবো। দুর্ভাগ্যবশত এখন জাতীয় দলে আশরাফুল ভাই নেই। তাই আমি মনে প্রাণে চাইবো মাশরাফি ভাই যেন আরও অনেক দিন জাতীয় দলে খেলে।

আর আমিও চেষ্টা করছি আরও ভালো কিছু করতে। যাতে তার সঙ্গে একসঙ্গে খেলতে পারি। বাংলাদেশ যেন দুইজন পেস অলরাউন্ডার খেলাতে পারে সেভাবে নিজেকে গড়ে তুলতে চেষ্টা করবো।’

জাতীয় দলের শুরুটাও যেমন মাশরাফির অধিনে, ঠিক তেমননি ঘরোয়া টি-টুয়েন্টির আসরেও মাশরাফি অধিনে অভিষেক হয়েছিল সাইফুদ্দিনের। ব্যক্তি মাশরাফির সাথে তরুন সাইফের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

মাঠে তরুনদের ‘বড় ভাই’ মাশরাফি কেমন… এমন কৌতূহল সবার কম বেশি থাকে। সাইফ এই ইস্যুতে বলেন,’ মাঠে মাশরাফি ভাই অসাধারণ। উনি এমন একজন মানুষ, উনি ঝাড়ি দিলে বা বকা দিলে ওইটা আরও ভালো লাগে, আরও স্পিড কাজ করে। যেমন শেষ ম্যাচে উপুল থারাঙ্গার বলে এক্সট্রা কাভারে ট্রাই করেছিলাম।

মিস করার পর উনি ঝাড়ি দিয়েছে। এতে আমার মধ্যে আর স্পিড কাজ করেছে। বকা দিয়ে বলেছে, ‘মাইন্ড করিস না, এটা ধরতে হবে। আর তৈরি থাক পরের ওভার বল করতে হবে।’ তার এসকল কথা আমাদের মতো জুনিয়রদের জন্য অনেক কাজে দেয়।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s