চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারত খেলবে কি না ,এ নিয়ে চলছে ঘোর অনিশ্চয়তা। লভ্যাংশ ও তিন-মোড়ল প্রশ্নে আইসিসির বোর্ড সভায় শোচনীয় হারের পর ভারত এখন চ্যাম্পিয়নস ট্রফিকে দর-কষাকষির মাধ্যম বানিয়েছে। সব দল চূড়ান্ত দল ঘোষণা করে দিলেও ভারত এখনো দল দেয়নি। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) চাচ্ছে বিজ্ঞাপনের বাজারে নিজেদের অবস্থানটা ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে।

তবে কি আইসিসির এই প্রতিযোগিতা বয়কট করতে যাচ্ছে ভারত? এ ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। ৭ মে এ ব্যাপারে বিসিসিআই একটি বিশেষ সাধারণ বৈঠক ডেকেছে। সে বৈঠকেই পরবর্তী করণীয় সম্বন্ধে আলোচনা হবে। তবে বোর্ডের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান বিনোদ রাই বলেছেন, ব্যাপারটি নিয়ে মন্তব্য করার সময় নাকি এখনো আসেনি। তবে বোর্ডেরই একটি সূত্র জানিয়েছে, খুব সম্ভবত চ্যাম্পিয়নস ট্রফি বয়কটের মতো কঠোর কোনো সিদ্ধান্ত এই বিশেষ সাধারণ সভায় নেওয়া হবে না।
ভারতীয় ক্রিকেট এখন আদালতের নির্দেশে চার সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন পর্ষদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এই চারজনই আইসিসিতে নিজেদের লভ্যাংশ আগের হিসাবেই আদায় করার যুদ্ধটা চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০১৪ সালে নতুন যে আর্থিক কাঠামো ঘোষিত হয়েছিল, তাতে ভারতের কোষাগারে জমা হওয়ার কথা ছিল ৫৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে তিন মোড়ল-তত্ত্ব বিলোপ হওয়ায় এই টাকার অঙ্কটা কমে দাঁড়িয়েছে ২৯৩ মিলিয়ন ডলার। ভারতের আপত্তির মুখে আইসিসি তাদের অতিরিক্ত ১০০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও ভারত তা মানতে রাজি নয়।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফি বয়কটের ভাবনাটা হয়তো এই অঙ্কটাই একটু বাড়িয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে। তেমনটাই বলা হচ্ছে সংবাদমাধ্যমে। বিশ্বকাপের পর চ্যাম্পিয়নস ট্রফি সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট। আটটি শীর্ষ দল খেলবে এতে। আগামী ২০১৯ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ ইংল্যান্ডে হবে টুর্নামেন্টটি। ফলে এর গুরুত্ব এবার আরও বাড়ছে।
ভারত এমনিতেই ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় দল। ধোনি-কোহলিরা না থাকলে এই টুর্নামেন্ট রং হারাবেই। তা ছাড়া এত বড় ইভেন্টে ভারতের না থাকা একটি বাজে নজির হয়েও থাকবে। তবে বোর্ডের ভেতরের সূত্র থেকে যে আভাস মিলছে, তাতে মনে হচ্ছে, অন্তর্বর্তী পর্ষদ টুর্নামেন্ট বয়কট করার মতো এত বড় সিদ্ধান্ত নেবে না। ফলে ১ জুন শুরু টুর্নামেন্টে ভারতকে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সূত্র : রয়টার্স।

Advertisements