মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) ছিলো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য দল ঘোষণা করার শেষ দিন। বাকি সাত দল ইতিমধ্যেই তাদের দল ঘোষণা করে দিয়েছে। বাকি ছিল শুধু ভারত আর পাকিস্তান। পাকিস্তানও শেষ দিন তাদের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল জানিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সঙ্গে আর্থিক দ্বন্দ্বের কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মাঝেও দল ঘোষণা করেনি গত আসরের চ্যাম্পিয়ন ভারত।

আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে আইসিসির বিশেষ সভা। সেই সভা শেষেই নাকি দল ঘোষণা করবে বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই)। তবে সেই সভায় যদি বনি-বনা না হয়, সেক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি বয়কট করবে গত আসরের চ্যাম্পিয়নরা। দ্বিধাবিভক্ত বিসিসিআইর একাংশের গুরুত্বপূর্ণ কর্তাদের বরাত দিয়ে দেশটির স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোতে এমন খবরই প্রকাশিত হয়েছে।

মেম্বার্স পার্টিসিপেশন এ্যাগ্রিমেন্ট (এমপিএ) প্রয়োগের অধিকার নিয়ে আইসিসির ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে বিসিসিআই। মতৈক্য না হলে টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহারেরও শঙ্কা প্রবল। তবে বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদে পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে থাকা অনেকে খেলা বন্ধ করে প্রতিবাদে বিশ্বাসী নন।

আইসিসির সর্বশেষ সভায় বিদায়ী চেয়ারম্যান শশাঙ্ক মনোহরের নেতৃত্বে প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে বেশ কিছু বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়। ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডকে নিয়ে ‘বিগ-থ্রি’ নীতি বাতিল করে সব সদস্য দেশগুলোর মধ্যে একটি সুষম অর্থনৈতিক বন্টন পদ্ধতির নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতেই বেঁকে বসে ভারত।

বরাবরের মতোই আইসিসির নতুন আর্থিক মডেল মানে না ভারত। এতে নাকি তাদের ১ হাজার কোটি টাকার বেশি আয় কমে যাবে। আইসিসির সঙ্গে অর্থনৈতিক মডেল নিয়ে এমন দ্বন্দ্বের জের ধরেই দল ঘোষণা করতে বিলম্ব করছে ভারত। শেষ খবর অনুযায়ী ভারতের দাবি অনুযায়ী ২১ শতাংশ লভ্যাংশ দেবে না মনোহরের আইসিসি। বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিতে চায়।

যদিও আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী বিশেষ পরিস্থিতে সময়ের পরেও নাম দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। বিসিসিআই এখনও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে নাম তুলে নেওয়া কথা জানায়নি। কিন্তু দল ঘোষণা না করে আইসিসির উপর চাপ সৃষ্টি করার পথে হাঁটছে তারা। এমন কি আইসিসির কাছে সময়ও চাওয়া হয়নি বিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, ওয়ান ইন্ডিয়া।

Advertisements