মাসিক বেতন, ম্যাচ ফি ও ম্যাচ উইনিং বোনাস বাড়ছে ক্রিকেটারদের

 বেতন বাড়ানোর দাবিটি কদিন আগ থেকেই করে আসছিল বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা। বিষয়টি আমলে নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মাসিক বেতন, ম্যাচ ফি ও ম্যাচ উইনিং বোনাস বাড়ছে ক্রিকেটারদের। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান।

টাকার অঙ্কটা কত, সে ব্যাপারে বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক চূড়ান্ত তথ্য দেননি। তবে অঙ্কটা প্রায় দ্বিগুণ কিংবা আড়াই গুণ হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না! ক্রিকেটারদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ এই সংস্থাটি।

এ প্রসঙ্গে আকরাম খানের ভাষ্য, ‘জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। নির্বাচকদের কাছ থেকে লিস্ট নিয়ে এরই মধ্যে তা বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। বোর্ড সভায় সেটা চূড়ান্ত হবে। বেতন দ্বিগুণ হবে কিনা, তা বলা কঠিন। তবে গতবারের থেকে যে বাড়বে, সে ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই।’

বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বেতন পান এ প্লাস ক্যাটাগরির ক্রিকেটাররা অর্থাৎ, মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল এবং মুশফিকুর রহিম। এ ছাড়া টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ম্যাচ ফি দেড় লাখ টাকা। ওয়ানডেতে এক লাখ ও টি-টোয়েন্টিতে ৭৫ হাজার। ম্যাচ ও সিরিজ জয় অনুযায়ী নিয়মিত বোনাস পেয়ে আসছেন ক্রিকেটাররা।

এসবের পরিমাণ দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না, তা নিশ্চিত করেননি আকরাম। তবে ক্রিকেটাররা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, তা কোনোভাবেই চান না বোর্ডের এই শীর্ষ কর্মকর্তা। পারফরম্যান্স ভালো হওয়ায় ক্রিকেটারদের দাবিপূরণ করতেও তৎপর তিনি। তবে চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটার ও চুক্তির বাইরের ক্রিকেটারদের মধ্যে ভারসাম্য রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে আকরাম খান বলেন, ‘আমাদের খেলোয়াড়রা ভালো করলে তাদের সোর্স অব ইনকাম বৃদ্ধির সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। তারা এখন ডিপিএল খেলছে, বিপিএল খেলছে। এখন ৮০ থেকে ৯০ জন খেলোয়াড় বোর্ডের আন্ডারে আছে। খেলোয়াড়রা যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা কাজ করছি।’

তবে অন্যান্য বোর্ডের চেয়ে বিসিবি বরাবরই বেশি বোনাস দেয় বলে জানান আকরাম খান, ‘এ বছর আমরা টেস্ট ফি বাড়াচ্ছি, ম্যাচ ফি সব কিছুই বাড়বে। বাংলাদেশ তো খুবই ভালো খেলছে। সেই ধারাবাহিকতা আছে সেটা যেন থাকে। বোলিং, ব্যাটিং ও ফিল্ডিংয়ের পাশাপাশি যে শারীরিক ধারাবাহিকতা আছে সেটা যেন থাকে। সব কিছুই ভালো আছে। বোনাস তো ওরা বেশি পাচ্ছে। ২০১৫ বিশ্বকাপে পেয়েছে, এবার শ্রীলঙ্কা সিরিজ শেষে পেয়েছে। আমরা তো সব বোর্ড থেকে বেশি বোনাস দিয়ে থাকি।’

এদিকে ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ছিলেন ১৫ জন। এবার সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১৬ জনে। নতুন চুক্তির জন্য ১৬ জন খেলোয়াড়ের নাম বোর্ডে জমা দিয়েছে ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ। সেখানে নতুন মুখ রয়েছে চারজন।

নতুন চুক্তিতে বাদ পড়তে পারেন নাসির হোসেন, আল আমিন হোসেন ও আরাফাত সানি। অন্যদিকে তাসকিন আহমেদ, মোসাদ্দেক হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজের চুক্তিবদ্ধ হওয়া নিশ্চিত। তাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারেন উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান কিংবা পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বি।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s