মাশরাফি বিন মুর্তজা, বাংলাদেশ ক্রিকেটের মহানায়ক।

মাশরাফি বিন মুর্তজা, বাংলাদেশ ক্রিকেটের মহানায়ক। মাঠে যেমন নেতা, বড়ভাই বা অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তেমনি মাঠের বাইরেও এমন মাশরাফির উদাহরণ পাওয়া যায়। বন্ধুদের জন্য অকৃত্রিম ভালোবাসা, মানুষের বিপদে-আপদে এগিয়ে আসা, বন্ধুদের পাশে দাঁড়ানোর কারণেই মাশরাফি সবার অতি আপনজন। অপরের দুঃখ-যন্ত্রণায় মাশরাফির মন যে কতটা কাঁদে, তার সর্বশেষ উদাহরণ জানা গেল সতীর্থ ও বন্ধু সৈয়দ রাসেলের কাছ থেকে।

ইনজুরির কারণে ২০১০ সালের জুলাই থেকে জাতীয় দলের বাইরে আছেন বাঁ-হাতি পেসার সৈয়দ রাসেল।মাঝে কোমরের কঠিন ইনজুরিতে পড়েন। তবে সেই ইনজুরি থেকে রেহাই পাবার আগেই যুক্ত হয় বাম কাঁধের ইনজুরি। অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজন ছিল মোটা অর্থ। কিন্তু পাননি ক্রিকেট বোর্ড থেকে কোন ধরণের সহায়তা কিংবা সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা। এমন সময় সাহায্যের হাত বাড়ান বন্ধু মাশরাফি বিন মুর্তজা।

10948_65407_11457

জাতীয় দলের এক সময়ের সতীর্থ ও বন্ধুর চিকিৎসায় চার লক্ষ টাকা দেন বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের এই অধিনায়ক। তবে রাসেলের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনে মাশরাফির শর্ত ছিল,এই চার লক্ষ টাকা কখনওই রাসেলকে শোধ করতে হবে না। ধার নয়, বন্ধুকে ভালোবেসেই টাকাটা দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই মহানায়ক।

৬ টেস্ট, ৫২ ওয়ানডে আর ৮ টি-টোয়েন্টিতেই থেমে যেতে হয়েছিল সৈয়দ রাসেলকে। তবে, সব ফরম্যাট মিলিয়ে ৭৭ উইকেট আর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দলের জন্যঅন্যতম বোলিং নির্ভরতাও ছিলেন বাঁ-হাতি এই পেসার। ২০১০ সালে জাতীয় দল থেকে ছিটকে যাওয়ার পর ইনজুরি বাঁধায় ক্লাব ক্রিকেটে অংশগ্রহণও প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। কাঁধের ইনজুরির অস্ত্রোপচার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অপারেশন করালে অন্তত আট লক্ষ টাকা দরকার। ভারতের মুম্বাইতে করলেও চার লক্ষের কমে হবে না।

কিন্তু এত বড় পরিমাণের অর্থ রাসেলের কাছে ছিল না। নিরুপায় হয়েই একসময়ের বোলিং জুটি, বন্ধু মাশরাফির কাছে টাকা ধার চেয়েছিলেন রাসেল। বাঁ-হাতি এই পেসারের ভাষায়, “দোস্ত, আমি তো মাঠের বাইরে আছি বেশ কিছু দিন। হাতে টাকা পয়সাও নেই তেমন। আমাকে লাখ চারেক টাকা ধার দিবি? চিকিৎসা করাবো।”

বাংলাদেশ ক্রিকেটের মহানায়ক মাশরাফির উত্তর ছিল, ‘হ্যা দেব। তবে ধার নয়। বন্ধুকে ভালোবেসে। এ অর্থ শোধ করতে হবে না।’

পরবর্তীতে মাশরাফির কাছ থেকে নেওয়া সেই অর্থ নিয়েই ভারতের উদ্দেশে উড়াল দেন রাসেল। কিন্তু ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন নেই। ঔষুধেই সেরে যাবে। এরপর ওই ডাক্তারের পরামর্শে ঔষুধ নিয়ে দেশে ফিরে আসেন তিনি। কিছুটা সুস্থ হয়ে আবারও নতুন করে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ৩২ বছর বয়সী রাসেল।

বাঁ-হাতি এই পেসার ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের এবারের আসরে যুক্ত হয়েছেন মাশরাফি-মুশফিকদের লিজেন্ডস অফ রূপগঞ্জ ক্লাবে। সেখান থেকে পাওয়া পারিশ্রমিক দিয়ে মাশরাফির কাছ থেকে নেয়া অর্থ শোধ করার চেষ্টাও করেছিলেন রাসেল। কিন্তু মাশরাফি কিছুতেই সেই অর্থ ফেরত নেন নি। কারণ, একটাই। ধার নয়, ভালোবেসেই রাসেলকে টাকাটা দিয়েছিলেন মাশরাফি।

সোমবার শেখ জামালের বিপক্ষে লিজেন্ডস অব রুপগঞ্জের ম্যাচ শেষে বাঁ-হাতি এই পেসার সৈয়দ রাসেল যদি এই ঘটনা প্রকাশ না করতেন সেক্ষেত্রে বন্ধুত্বের এমন নিদর্শন হয়তো আড়ালেই থেকে যেত!

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s