কেন সুযোগ পাচ্ছেন না সাকিব-মুস্তাফিজ?

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের আপাতত খেলা না থাকলেও আইপিএল দিকে নজর রাখেন নি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়। আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলতে সাকিব আছেন দলের সঙ্গে। অন্যদিকে কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ আছেন সারাইজার্স হায়দ্রাবাদ দলে। ১৫ই এপ্রিল নববর্ষের পরদিনই মুখোমুখি হয় বাংলাদেশের দুই বিস্ময় বালক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ও কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমানের দুই দল। তবে টস করার পরপরই জানা গেল দুইজনের কেউই নেই একাদশে!

আগের ম্যাচে সুযোগ পেলেও এক ম্যাচ খেলেই বাদ পড়েছেন আগের আসরের হায়দরাবাদের নায়ক মুস্তাফিজুর রহমান। শ্রীলংকা সফরের কারণে প্রথম থেকে দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেন নি কেউই। সাত তারিখ সাকিব আল হাসান কেকেআর এর সাথে যোগ দিলেও হায়দরাবাদ ডাগআউটে পৌঁছাতে মুস্তাফিজ সময় নেন ১২ তারিখ পর্যন্ত। তবে দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে পরদিনই খেলার সুযোগ পান মুস্তাফিজ। কাটার মাস্টার প্রথম ওভারেই দেন ১৯ রান, নিজের করে ২য় ওভারে দেন ১১, আর তৃতীয় ওভারে চার বল থেকে চার রান নিয়ে জয় তুলে নেয় মুম্বাই। ছিলেন উইকেটশূন্য। নিজের জাতটা ঠিকমত চেনাতে পারেন নি দি ফিজ। এক ম্যাচে বিবেচনা করেই হায়দ্রাবাদ টিম ম্যানেজমেন্ট বাদ দিলেন মুস্তাফিজকে।

আগের আসরে ১৬ ম্যাচে ১৭ উইকেট নিয়ে শিরোপা জিতাতে বড় ভূমিকা রাখেন মুস্তাফিজ। তবে এক ম্যাচও এখনো খেলার সুযোগ হয় নি সাকিব আল হাসানের। কলকাতার হয়ে ২য় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি সাকিব গরম করছেন কেকেআরের ডাগআউট। সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি নারাইন ৭০ ম্যাচে নিয়েছেন ৮৭ উইকেট। মাত্র ৪২ ম্যাচে ৪৩ উইকেট নিয়েছেন বাংলাদশের পোস্টার বয়।

২০১২ সালে প্রথমবারের মতো আইপিএল জিতেছিল কলকাতা। সেবার মাত্র ৬.৫০ ইকোনমি রেটে আট ম্যাচে নেন ১২ উইকেট। ব্যাট হাতে তেমন জ্বলে উঠতে পারেননি, সর্বসাকুল্যে করেছিলেন ৯১ রান। তবে দুই বছর পর কলকাতার শিরোপা জয়ে ব্যাটসম্যান-বোলার দুই ভূমিকাতেই দ্যুতি ছড়ান বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার। পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট সেটা। ১৩ ম্যাচে প্রায় ১৫০ স্ট্রাইক রেট ও ৩২.৪২ গড়ে ২২৭ রান করার পাশাপাশি ৬.৬৮ ইকোনমি রেটে তুলে নেন ১১ উইকেট। ২০১৫ সালে জাতীয় দলে ব্যস্ততার কারণে আইপিএলে ৪টির বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি সাকিব। গতবার অবশ্য ১০টি ম্যাচ খেলেছিলেন। তার বদলে দলে খেলা সম্ভাব্য দুই অলরাউন্ডার ক্রিস ওক্স তিন ম্যাচে করেছেন ১০ রান, নিয়েছেন তিন উইকেট। আর কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম নিয়েছেন একটি উইকেট। আর তাই কলকাতার একাদশে সাকিবের অনুপস্থিতি অনেকটা অবাক করাই।

এক ম্যাচ বাদ দিলে মুস্তাফিজের পুরো আইপিলের পারফরম্যান্স অসাধারণ, অন্যদিকে সাকিব বরাবরের মতোই ছিলেন কলকাতার সাফল্যের পিছনের কারিগর। এরপরেও এই দুই ক্রিকেটার আইপিএলে উপেক্ষিত! যার উত্তর হয়তো আইপিএলের দলগুলোর খোদ টিম ম্যানেজমেন্ট দিতে পারবে না!

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s