রাতেই ভেবে রেখেছিলেন। দুপুরে পরিবার, ঘনিষ্ঠ বন্ধু, বোর্ড সভাপতি সহ সতীর্থদের জানান। এরপর ম্যাচের টসের সময় মাশরাফি বিন মুর্তজা ঘোষণা দেন, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচের এই সিরিজটাই তার ক্যারিয়ারের সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজ। মাশরাফির আচমকা এই সিদ্ধান্তে হতবাক বাংলাদেশ ক্রিকেট অঙ্গন। সকলের মুখেই একই প্রশ্ন। কেন এই আচমকা অবসর?

সংবাদ সম্মেলনে অবসর নিয়ে মুহুর্মুহু প্রশ্নের জবাবে মাশরাফি জানান, মূলত তরুণদের সুযোগ করে দিতেই টি-টোয়েন্টি থেকে বিদায় নিয়েছেন তিনি। মাশরাফি মনে করেন, তার কারণেই টি-টোয়েন্টিতে সফল হওয়া স্বত্ত্বেও খেলতে পারছেন না রুবেল!

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে সাত উইকেট নিয়েছিলেন পেসার রুবেল হোসেন। তারপরও লঙ্কানদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে নেই রুবেলের। ডানহাতি এই পেসারের না থাকাটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না মাশরাফি।

এ প্রসঙ্গে মাশরাফি বলেন, ‘যখন দেখলাম ও দলে নেই, সেটা আমাকে খুব আহত করেছে। ও আমার জন্য খেলতে পারছে না। আমি বিশ্বাস করি, ওর প্রথম একাদশেই থাকা উচিত ছিল। যদি আমি অধিনায়ক না থাকতাম ও খেলতে পারতো। আমার চেয়ে ওর পারফরম্যান্স যেহেতু ভালো আমি মনে করি ওর খেলা উচিত।’

শুধু রুবেলই নয়, মাশরাফির মতে তার শূন্যস্থানে তরুণরা সহজেই সুযোগ করে নিতে পারবে। মাশরাফির ভাষ্য, ‘একটা জায়গা তো ফাঁকা হচ্ছে। মূলত তরুণদের জন্যই এই জায়গা ছেড়ে দেওয়া। এই যে দেখেন আজ সাইফের অভিষেক হলো। সে ভালো বোলার। আমি না থাকলে সে অনেকটা নির্ভার হয়ে খেলতে পারবে।’

২০০৬ সালে বাংলাদেশের অভিষেক টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। সেই থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের খেলা ৬৬ টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ৫৩টিতেই খেলেছেন তিনি। কিন্তু আর নয়। ক্যারিয়ারের ৫৪তম ম্যাচ দিয়েই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে বিদায় জানাচ্ছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা এই অধিনায়ক।

Advertisements