শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জয় পেয়েছিলো বাংলাদেশ। সেটাই লঙ্কানদের বিপক্ষে এই ফরম্যাটের প্রথম জয়। মঙ্গলবার আবারও মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই দল। এই সিরিজে দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা। যেখানে উভয় দলের পক্ষেই এমন কিছু ক্রিকেটার রয়েছে যাদের দিকে চোখ থাকবে প্রতিপক্ষের।

এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টিতে পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে মাশরাফি-মালিঙ্গারা। বাংলাদেশের একটি জয় ছাড়া বাকি সব ম্যাচেই শেষ হাসি উঠেছে লঙ্কানদের। সর্বশেষ ম্যাচে বাংলাদেশ জয় পেলেও ব্যাট হাতে ব্যর্থ ছিলো বেশিরভাগ ব্যাটসম্যান। দুই ওপেনার সৌম্য সরকার-মোহাম্মদ মিঠুনের ব্যাট থেকে কোনো রানই আসেনি। ব্যর্থ ছিলেন মুশফিকুর রহিম, মাশরাফি বিন মুর্তজারাও। অন্যদিকে দলকে একাই ৮০ রানের ইনিংস খেলে টেনে নিয়েছিলেন সাব্বির রহমান।

তবে বল হাতে চমক দেখিয়েছিলো বাংলাদেশ। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস, তিলকারত্নে দিলশানের মতো ক্রিকেটাররা আল-আমিন হোসেন-সাকিব আল হাসানদের সামনে অসহায় হয়ে পড়েছিলেন। সেবার আল-আমিন একাই তিনটি উইকেট নিয়েছিলেন। অলরাউন্ডার সাকিবের কাছ থেকে আসে আরও দুটি উইকেট।

এবারের সিরিজে দুই দলের পক্ষেই অনুপস্থিত বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার। নিয়মিত অধিনায়ক ম্যাথুস ইনজুরির কারণে দলের বাইরে। অবসর নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন দিলশান। তবে থিসারা পেরেরা, মিলিন্দা সিরিবর্ধনেরাও চমক দেখাতে প্রস্তত। বাংলাদেশ দলেও নেই আল-আমিন।

অভিজ্ঞতায় তরুণ হলেও, এই দলটি এগিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে। একে তো টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট, তার উপর সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ এ সিরিজ হারিয়েছে তারা। তারপরও সবকিছু মিলিয়ে প্রতিপক্ষের ক্রিকেটারের জন্য আলাদা পরিকল্পনা করতেই হবে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কাকে।

বাংলাদেশ

তামিম ইকবাল

বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তামিম ইকবাল লঙ্কান বোলারদের উপর চড়ে বসতে পারেন যে কোনো ফরম্যাটেই। সেক্ষেত্রে টি-টোয়েন্টিতেও তার জন্য আলাদা করে ভাবতে হচ্ছে স্বাগতিকদের। পরিসংখ্যান বলছে, এখন পর্যন্ত ৫৫ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তামিমের গড় ২৪.০৪। রয়েছে একটি সেঞ্চুরি ও চারটি হাফ সেঞ্চুরি। মোট রান ১০১২। তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে তামিমের ব্যাটিং পারফরম্যান্স মনে রাখার মতো নয়। তিন ম্যাচে তুলেছেন ৩৫ রান (২, ৩০, ৩)। তারপরও আসন্ন দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি  সিরিজে যে জ্বলে উঠবেন না, সে নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না।

সাকিব আল হাসান

বিশ্বসেরা  অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান লঙ্কানদের বিপক্ষে খেলেছেন চারটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। ব্যাট হাতে মোট রান ৮৪, সর্বোচ্চ ইনিংসটি ছিলো ৩২ রানের। বল হাতে নিয়েছেন ৬ উইকেট। দুটি করে উইকেট পেয়েছেন দুইবার। সাকিব সবমিলিয়ে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন ৫৭টি। ২৩.৬৫ গড়ে মোট রান ১১৫৯। সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটি ৮৪। বল হাতে নিয়েছেন মোট ৬৭ উইকেট।

সাব্বির রহমান

বাংলাদেশ দলের একমাত্র টি-টোয়েন্টি স্পেশালিষ্ট সাব্বির রহমান। এই ব্যাটিং অলরাউন্ডার খেলেছেন ২৯ ম্যাচ। মারকুটে বলেই পরিচিত ক্রিকেট বিশ্বে। ২৯.৮২ গড়ে মোট রান ৬৮৬ রান, হাফ সেঞ্চুরি চারটি। বল হাতেও প্রয়োজনের সময় জ্বলে ওঠেন। এই ফরম্যাটে রয়েছে ছয়টি উইকেট। বলে রাখা ভালো, লঙ্কানদের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে তার ব্যাটেই জয় পেয়েছিলো বাংলাদেশ।

মুস্তাফিজুর রহমান

বল হাতে দিনেশ চান্দিমাল-উপুল থারাঙ্গাদের বিপক্ষে সাক্ষাৎ যম হয়ে উঠতে পারেন বাংলাদেশের এই বাঁ-হাতি পেসার। টি-টোয়েন্টি দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরু করেছিলেন ‘দ্য ফিজ’। এখন পর্যন্ত খেলেছেন ১৪ ম্যাচ। নিয়েছেন ২৩ উইকেট। সেরা বোলিং ফিগার ২২ রানে ৫ উইকেট।

শ্রীলঙ্কা

লাসিথ মালিঙ্গা

বাংলাদেশের জন্য বড় ভয় হতে পারেন লাসিথ মালিঙ্গা। ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা এই ফাস্ট বোলার যে মাশরাফি-তামিমদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলবেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। টি-টোয়েন্টিতে সবসময়ই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ গুড়িয়ে দেওয়া মালিঙ্গা খেলেছেন ৬৫ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। নিয়েছেন ৮৪ উইকেট। বাংলাদেশের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই খেলেছেন মালিঙ্গা। নিয়েছেন ৬ উইকেট, যার মধ্যে এক ম্যাচেই ছিলো ৩ উইকেট।

আসেলা গুনারত্নে

মাত্র ৭ ম্যাচ খেলা অলরাউন্ডার আসেলা গুনারত্নে একাই প্রতিপক্ষ দলকে চাপে ফেলার ক্ষমতা রাখেন। সাত ম্যাচে তার সংগ্রহ ৪২ গড়ে ১৬৮ রান। সর্বোচ্চ ইনিংস ৮৪ রানের। রয়েছে দুটি হাফ সেঞ্চুরি।  বল হাতে নিয়েছেন তিন উইকেট।

থিসারা পেরেরা

লঙ্কান দলের ‘টেল এন্ডার’ থিসারা পেরেরা মানেই প্রতিপক্ষ দলের জন্য ঝড়। সেটা ব্যাট হাতেই হোক কিংবা বল হাতে। অবশ্যই প্রত্যেকটা দল একজন থিসারা পেরেরা না থাকার অভাবটা টের পায়। লোয়ার অর্ডারে ব্যাট করতে নেমে তার ঝড় তোলা ইনিংস কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নেওয়া দেখে ঈর্ষা হবে যে কোনো দলের অধিনায়কের। এখন পর্যন্ত ৫৪ টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। সর্বোচ্চ ৪৯ রানের ইনিংস খেলা পেরেরার মোট রান ৬২৩। উইকেট রয়েছে ৩৫টি। সেরা বোলিং ফিগার ৩৩ রানে ৩ উইকেট।

নুয়ান কুলাসেকারা

দলের বাইরে ছিলেন কুলাসেকারা। গেলো বছর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) খেলতে এসেই ফর্ম ফিরে পান। সেখান থেকে আবারও জাতীয় দলে নিয়মিত হয়েছেন। বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের দুর্বলতা-শক্তির জায়গাটাও তার বেশ জানা। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ দলের জন্য ভয়ানক হতে পারেন এই ‘স্যুইং ম্যান’। খেলেছেন ৫৬ টি- টোয়েন্টি ম্যাচ। নিয়েছেন ৬৫ উইকেট। দলের প্রয়োজনে চালাতে পারেন ব্যাট।

Advertisements