১৯৯৯ সাল থেকে ২০০৭। এ কয় বছর ক্রিকেট বিশ্বে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিল অস্ট্রেলিয়া। এর মধ্যে ছোট-বড় প্রায় সব শিরোপাই জিতে নেয় দলটি। যার মধ্যে তিন তিনটি বিশ্বকাপ। অবাক করা ব্যাপার, এরপর অসিরা হঠাৎ করেই যেন খোলসে ঢুকে যায়। ওয়ানডে কিংবা টেস্ট সব কিছুতেই শীর্ষস্থান হারায় দলটি। যদিও ধীরে ধীরে আবার শক্তিশালী হয়ে উঠেছে তারা।

এর একটাই কারণ ছিল, ২০০৭ সালের পর দুই-এক বছরের মধ্যে দলের শীর্ষ খেলোয়াড়দের অবসর। এ তালিকায় ছিলেন গ্লেন ম্যাকগ্রা, শেন ওয়ার্ন, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, ম্যাথু হেইডেনদের মতো খেলোয়াড়রা। একই অবস্থা শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রেও। বিশ্বকাপ জয়ী দলটি এখন অনেকটাই খর্ব শক্তির। কুমার সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়াবর্ধনে, তিলকারত্নে দিলশানদের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড় অল্প সময়ের ব্যবধানে সরে যাওয়ায় আজকের এ অবস্থা।

শুধু অস্ট্রেলিয়া কিংবা শ্রীলঙ্কাই নয়, এমন পরিস্থিতিতে পড়েছে শীর্ষ অনেক দলই। তবে মূল আলোচনা বাংলাদেশ দলও কি এমন পরিস্থিতিতে পড়বে? কারণ বর্তমান বাংলাদেশকে যিনি নিখুঁত নেতৃত্ব দিয়ে বদলে দিয়েছেন সেই মাশরাফিই ক্যারিয়ারের শেষের পথে। প্রতি সিরিজের পরই জোর গুঞ্জন ওঠে এবারই কি অবসর নেবেন মাশরাফি?

শুধু তাই নয়, দলের সেরা তিন স্তম্ভ সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহীম প্রায় সমবয়সী। অর্থাৎ এ তিনজনই অবসর নেবেন হয়তো কাছাকাছি সময়ে। একই অবস্থা মাহমুদউল্লাহর ক্ষেত্রেও। তাই তাদের অবসরের পর বাংলাদেশ কি এমন পরিস্থিতিতে পড়তে পারে?

এ নিয়ে আলোচনা করা হয় সদ্য সাবেক হওয়া বাংলাদেশ দলের গেম ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদিন ফাহিমের সঙ্গে। ক্যারিয়ারের দীর্ঘদিন ছিলেন বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কোচ। তার হাত ধরেই অনেক ক্রিকেটারই এসেছে বাংলাদেশ দলে। মুশফিক- সাকিবদের গুরু তিনিই।

‘এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটাকে আমরা সাকসেশন প্লান বলি। এটা একটা শিক্ষা সবার জন্য। শ্রীলঙ্কার দিকে তাকালে আমরা দেখতে পারি এরা এক সময় শক্তিশালী একটা দল ছিল, সে দল কতটা দুর্বল হয়েছে। একই জিনিস আমরা দেখতে পেয়েছি অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রে শেন ওয়ার্ন, ম্যাকগ্রা এরা যাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়াও দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এটা যেকোনো দলের ক্ষেত্রে হতে পারে। এটা বোর্ডের দায়িত্ব পরবর্তী যে সকল ক্রিকেটাররা আসবে তাদের ক্রমানুযায়ী তৈরি রাখা তাদের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। তারা যেন আপডেট থাকে। আমরা যেন সময় সুযোগ মতো বিকল্প হিসেবে তৈরি রাখি। ’- বাংলাদেশকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে এমনটাই বলেন ফাহিম।

তবে কি বাংলাদেশও এমন পরিস্থিতিতে পড়তে পারে? এমন প্রশ্নে ফাহিমের উত্তর, ‘আমরা বোধ হয় সে দিক থেকে ভাগ্যবান যে আমাদের ভালো বিকল্প আছে আর নতুন যাদের আমরা পেয়েছি এরা সবাই যোগ্য। পাইপলাইনে আরও দুই একজন আছে যারা অদূর ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারে। তবে এটা যথেষ্ট নয়। কারণ আমরা যদি আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে চাই তাহলে মানের দিকে লক্ষ্য রেখে নিয়মিত খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে। ’

গত কয়েক বছরে বেশ কিছু নবীনকে পেয়েছে বাংলাদেশ, যারা বর্তমান বাংলাদেশে দারুণ পারফরম্যান্স করছে। তবে তাদের কাছ থেকে নিয়মিত পারফরম্যান্স চান ফাহিম। কারণ দল থেকে এখনও তারা প্রত্যাশার চাপ পায়নি। এ চাপ পাওয়ার পর পারফরম্যান্স করতে পারলেই ফাহিম বুঝবেন ভালো খেলোয়াড় পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে তার বিশ্বাস এমন পরিস্থিতিতে ঠিকই উতরে যাবে টাইগাররা।

‘একটা দুইটা তিনটা চারটা ম্যাচে ভালো খেলা মানে শেষ কথা না, একটা লম্বা সময় ধরে ভালো খেলার পর বুঝা যাবে এরা আসলে আন্তর্জাতিক মানের কিনা। কারণ যারা নতুন ঢুকছে তাদের উপর কিন্তু চাপ কম তাদের উপর প্রত্যাশা শুরু হবে আরেকটু পরে। যখন ওরা দলে থিতু হবে তখন মানুষজন ওদের উপর প্রত্যাশা শুরু করবে তখন বুঝা যাবে ওরা আসলে কতটা শক্তিশালী। এটা সময় বলে দিবে আমাদের বিকল্প ভালো হচ্ছে না। তবে বর্তমানে আমরা ভালোই করছি। আশা করা যায় আমরা ওই ধরনের বিপদে কোনো সময় পড়ব না। ’

Advertisements