হংকংকে উড়িয়ে ইমার্জিং টিম এশিয়া কাপে দাপুটে শুরু করেছিলো বাংলাদেশ। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেও সেই ধারা ধরে রাখলো মুমিনুল হকের দল। কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার নেপালকে ৮৩ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরু করতে না পারলেও অধিনায়ক মুমিনুল হক ও ম্যাচসেরা নাসির হোসেনের সেঞ্চুরিতে নয় উইকেটে ২৫৭ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে রাহাতুল ফেরদৌস, সাইফুদ্দিন ও আবুল হাসান রাজুর বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি নেপাল। আইসিসির সহযোগী দেশটি মাত্র ১৭৪ রানেই অলআউট হয়ে যায়।

২৫৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে চরম অগোছালো শুরু করে নেপাল। দলীয় এক রানেই অধিনায়ক গায়ানেন্দ্রা মালাকে হারায় তারা। নেপালের অধিনায়ককে নিজের শিকারে পরিণত করে আরো বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন বাংলাদেশ পেসার সাইফুদ্দিন। দলীয় ১২ রানের মাথায় আরেক ওপেনার সুনীল ধামালাকেও ফিরিয়ে দেন তরুণ এই পেসার।

এমন শুরু পর নেপাল যখন উল্টো পথে হাঁটছে এমন সময় ছোবল হানেন আরেক পেসার আবুল হাসান রাজু। তুলে নেন আসিফ শেখকে। এরপর বেশ ভালো প্রতিরোধই গড়েন নেপালের দুই ব্যাটসম্যান দিলীপ নাথ ও দীপেন্দ্র সিং আইরি। চতুর্থ উইকেটে ৯৮ রানের জুটি গড়েন তারা। এসময় দিলীপ ৪১ রান করে ফিরলেও দীপেন্দ্র তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি।

ডানহাতি এই ব্যাটসম্যানের ব্যাট থেকে আসে সর্বোচ্চ ৫৬ রান। দিলীপ ও দীপেন্দ্র আউট হওয়ার পর সেভাবে আর লড়াই চালাতে পারেনি নেপাল। শেষের দিকে বিনোদ ভান্ডারি ৩৩ রান করেছেন ঠিকই, কিন্তু তাতে দলের হার ঠেকেনি। শেষপর্যন্ত ১৭৪ রানে অলআউট হয় নেপাল। বাংলাদেশের রাহাতুল ফেরদৌস চারটি, সাইফুদ্দিন তিনটি ও আবুল হাসান দুটি উইকেট নেন।

এরআগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটাও ভালো ছিলো না। দলীয় আট রানের মধ্যেই দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও আজমীর আহমেদকে হারাতে হয় স্বাগতিকদের। এরপর মোহাম্মদ মিঠুন ও নাজমুল হোসেন শান্তও ফিরে যান দ্রুত। ৩৩ রানে চার উইকেট হারানো দলকে পথ দেখাতে শুরু করেন অধিনায়ক মুমিনুল হক ও নাসির হোসেন।

পঞ্চম উইকেটে ৭৮ রানের জুটি গড়েন এই দুই ব্যাটসম্যান। এ সময় ৭৮ বলে সাত চারে ৬১ রান করে বিদায় নেন মুমিনুল। তবে নাসির খেলতে থাকেন হাত খুলে। দলকে ছন্দে ফিরিয়ে তুলে নেন দারুণ এক সেঞ্চুরিও। শেষপর্যন্তও তাকে ফেরাতে পারেনি নেপালের বোলাররা। ১১৫ বলে ১২ চার ও দুই ছয়ে ১০৯ রানে অপরাজিত থাকেন ডানহাতি এই অলরাউন্ডার। ম্যাচসেরা নাসিরের ব্যাটেই মূলত ২৫৭ রানে পৌঁছায় বাংলাদেশ। নেপালের অভিনাশ কর্ন সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন।

Advertisements