১৯৯০ সালের এশিয়া কাপে কলকাতায় বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলেছিলেন অশাঙ্ক গুরুসিনহা। খেলেছিলেন ১৯৯৫ সালে শারজা এশিয়া কাপেও। খেলোয়াড়ি জীবনে দেখেছেন অনভিজ্ঞ ও দুর্বল এক বাংলাদেশকে। সেই সময়ে যারা পাঠ নিচ্ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের। আজ এত বছর পর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট দলের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে বসে দেখছেন বদলে যাওয়া এক বাংলাদেশ দলকেই। উন্নতি করা এক বাংলাদেশকে, নিজেদের অন্য উচ্চতায় তুলে দেওয়া এক বাংলাদেশকে। ডাম্বুলায় দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে সংবাদ সম্মেলনে সেটিই তুলে ধরলেন বিশ্বকাপজয়ী সাবেক এই লঙ্কান তারকা। বললেন,‘এই বাংলাদেশ অনেক অভিজ্ঞ দল। ক্রিকেটে উন্নতিটাও তারা করেছে দারুণ।’
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ৯০ রানে হারটাকে গুরুসিনহা কীভাবে দেখছেন? এটি কি শ্রীলঙ্কার ব্যর্থতা, নাকি বাংলাদেশের দুর্দান্ত খেলার ফল। সংবাদ সম্মেলনে তাঁর দিকে ছুটে গিয়েছিল এমন এক প্রশ্ন। শ্রীলঙ্কার সাবেক এই ক্রিকেটার অবশ্য বাংলাদেশের আধিপত্যকে স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন, ‘বাংলাদেশ অবশ্যই কৃতিত্ব পাবে। তারা খুবই অভিজ্ঞ দল। তারা প্রচুর ওয়ানডে খেলে। এক সঙ্গে খেলছে তারা অনেকদিন ধরেই। নির্দিষ্ট করে বললে গত ৭-৮ বছরে তারা অনেক ওয়ানডে খেলেছে। এটা তাদের ভালো একটা দল হয়ে উঠতে দারুণ সাহায্য করেছে। দল হিসেবেও তারা ভালো করছে, উন্নতি করেছে।’
শ্রীলঙ্কা দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে গুরুসিনহা এই পুনর্গঠন শব্দটি আর ব্যবহার করতে চান না, ‘আমার মনে হয়, এই শব্দটি গত তিন বছর ধরে ব্যবহার করতে করতে পুরোনো হয়ে গেছে। আমরা এই শব্দটি আর ব্যবহার করতে চাই না। সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেললে ভালো করতে হবে। পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অজুহাত দেওয়ার সুযোগ এখানে সীমিত।’
লঙ্কান দলের ফিল্ডিং নিয়ে চিন্তিত গুরুসিনহা। প্রথম ওয়ানডেতে ফিল্ডিং দুর্বলতাটা খুব চোখে লেগেছে তাঁর। আপাতত ফিল্ডিংয়ে ছোট ছোট জায়গায় উন্নতির তাগিদ তাঁর, ‘আমাদের ফিল্ডিং ভালো—এটা বললে মিথ্যে বলা হবে। ফিল্ডিং আমাদের সমস্যা অনেক দিন ধরেই। আমরা কিছু জায়গায় উন্নতি করতে চাচ্ছি। রাতারাতি উন্নতি হয়তো সম্ভব নয়। তবে আমাদের এমন কিছু করা উচিত, যা স্বল্প মেয়াদে আমাদের ফিল্ডিংয়ের উন্নতিতে সাহায্য করবে। শেষ ম্যাচে আমরা অনেক ভুল করেছি। ওয়ানডে ক্রিকেটে এই ভুলগুলো করা যাবে না। এই পর্যায়ে ফিল্ডিং হতে হবে দুর্দান্ত।’

Advertisements