তামিমের ম্যাচে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩২৪ রান

ডাম্বুলার ম্যাচটি ক্রিকেট ঈশ্বর হয়তো তামিম ইকবালের জন্যই লিখে রেখেছিলেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই ম্যাচে একের পর এক সাফল্য পায়ে লুটালো বাংলাদেশ ওপেনারের। এক রান করে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ১০ হাজার রানের মালিক হওয়া। পরে নিজের ইনিংস টেনে নিয়ে গেলেন সেঞ্চুরিতে। টেস্টের মতো ওয়ানডেতেও ঝুলিতে পুরলেন আট সেঞ্চুরি।

তামিম ইকবালের এমন রেকর্ড গড়ার ম্যাচে বাংলাদেশও পেয়েছে বিশাল সংগ্রহ। ডাম্বুলার রানগিরি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট কতে নেমে পাঁচ উইকেটে ৩২৪ রান তুলেছে বাংলাদেশ। ওয়ানডেতে এটা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের সেরা সংগহ। আর ডাম্বুলায় যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। এমন বড় সংগ্রহের পথে তামিম ছাড়াও বাংলাদেশের হয়ে ব্যাট চালিয়েছেন সাব্বির, সাকিবরা।

টস হেরে শুরুটা যদিও বলার মতো হয়নি বাংলাদেশের। যে কারণে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে তামিমের ১০ হাজার রান পূরণের উদযাপনটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দলীয় ২৯ রানের মাথায় দিনেশ চান্দিমালের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সৌম্য সরকার। তবে তিন নম্বরে ব্যাট করতে এসে তামিমের সাথে দ্বিতীয় উইকেটে ৯০ রানের জুটি গড়ে সৌম্যর বিদায়ের দুঃখ ভুলিয়ে দেন সাব্বির রহমান।

এই জুটিতেই বড় সংগ্রহের ভীত পেয়ে যায় মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। এসময় ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন সাব্বির। তবে হাফ সেঞ্চুরি করেই থামতে হয় ডানহাতি এই ব্যাটসম্যানকে। তার ব্যাট থেকে আসে ৫৪ রান। সাব্বির ফেরার পর দিক হারিয়েই বসে বাংলাদেশ। মাত্র এক রান করেই ফিরে যান মুশফিকুর রহিম।

যদিও মুশফিকের বিদায়ও বুঝতে পারেনি বাংলাদেশ। তামিমের সঙ্গে ব্যাট করতে নামেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। এরপরের সময়টা পুরোপুরি নিজেদের করে নেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের এই দুই উজ্জ্বল লক্ষত্র। লঙ্কান বোলারদের ওপর দিয়ে চলতে থাকে ঝড়।

তামিম পূর্ণ করেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অষ্টম শতক। সাকিবও পিছিয়ে থাকেননি। তুলে নেন ওয়ানডেতে নিজের ৩৩তম হাফ সেঞ্চুরি। এরপর লঙ্কান বোলারদের ওপর দিয়ে রীতিমতো ঝড় বইয়ে দিতে থাকেন তামিম ও সাকিব। বিশেষ করে সাকিব একেবারে অন্য ধাচের ব্যাটিং করতে থাকেন।

৫৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি করলেও পরের ১১ বলে করেছেন ২২ রান। লাহিরু কুমারার এক ওভারে টানা তিন চার হাঁকান সাকিব। তামিম-সাকিবের জুটি থেকে আসে ইনিংসের সর্বোচ্চ ১৪৪ রান। যা সাকিব-তামিমের সেরা জুটি। ক্রমেই বিধ্বংসী হয়ে ওঠা সাকিব শেষপর্যন্ত ৭২ রান করে থামেন। ৭১ বলের এই ইনিংসটি চারটি চার ও একটি ছয়ে সাজান বাংলাদেশ প্রাণভোমড়া।

তখনো উইকেটে অবিচল সেঞ্চুরি পূর্ণ করা তামিম। নতুন সঙ্গী হিসেবে পান তরুণ মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে। এসময় তামিমই রান চাকা ঘুরাতে থাকেন। তবে ইনিংস শেষ করে আসা হয়নি তামিমের। ১৪২ বলে ১৫ চার ও এক ছয়ে ১২৭ রানের ঝলমলে এক ইনিংস খেলে অবশেষে সাজঘরে ফেরেন বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে সফলতম এই ব্যাটসম্যান। তামিমের করা ১২৭ রানই ডাম্বুলার মাঠের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস।

ষষ্ট উইকেটে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও কম যাননি। বলে বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে থাকেন তারা। তাদের ৩৫ রানের জুটিতে শেষপর্যন্ত বাংলাদেশ ৩২৪ রানে পৌঁছায়। সৈকত ৯ বলে ২৪ ও মাহমুদউল্লাহ ৭ বলে ১৩ রানে অপরাজিত থাকেন। শ্রীলঙ্কার সুরঙ্গ লাকমাল সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s