কলম্বো টেস্টের চতুর্থ দিনের রাত এবং ২০০০ সালের ৯ নভেম্বরের রাত- বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের কাছে অনেকটা একই রকম রোমাঞ্চের। কলম্বোতে চতুর্থ দিন শেষে নিজেদের শততম টেস্ট ম্যাচে জয়োৎসব করার অপেক্ষায় ছিলো বাংলাদেশ। আর ২০০০ সালের ৯ নভেম্বর বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা নির্ঘুম রাত কাটিয়েছিলেন নিজেদের অভিষেক টেস্ট ম্যাচ খেলার জন্য।

ভারতের বিপক্ষে সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে নাঈমুর রহমান দূর্জয়, আকরাম খান, হাবিবুল বাশার, মেহরাব হোসেন অপি, খালেদ মাসুদ পাইলট, আমিনুল ইসলাম বুলবুলদের সঙ্গে বাংলাদেশের হয়ে মাঠে নামে নেমেছিলেন বাঁ-হাতি স্পিনার মোহাম্মদ রফিকও। তবে ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখতে পারেননি রফিকরা। শততম টেস্ট ম্যাচ খেলতে নেমে যেটা করে দেখিয়েছে মুশফিকবাহিনী।

এই ঐতিহাসিক জয় থেকে শিখতে বলছেন বাংলাদেশের হয়ে ৩৩ টেস্ট খেলা মোহাম্মদ রফিক। বিশেষ ম্যাচ হলেও এই একটি জয় নিয়ে পড়ে থাকছেন না তিনি। প্রিয়কমকে তিনি বলেন, ‘টেস্ট খেলা কিন্তু সোজা কিছু নয়। শ্রীলঙ্কা নতুন দল। আমাদের দলেও অনেক নতুন খেলোয়াড় আছে। প্রথম টেস্টে আমরা হাবুডুবু খেয়ে হেরেছি। তবে এই ম্যাচটা জিতে বাংলাদেশ খুব ভালোভাবে ফিরে এসেছে। এখান থেকে অনেক কিছু শিক্ষা নিতে হবে। কারণ এটাই শেষ ম্যাচ না। সামনে আরো খেলা আছে।’

এই ম্যাচ দেখার পর বাংলাদেশকে আগের চেয়ে পরিণত মনে হয়েছে কি না? রফিক বলছেন, ‘একটা ম্যাচ দেখে খেলোয়াড় যাচাই করা যাবে না। একটা ম্যাচ জিতেছে বলে সবকিছু পেয়ে গেছেন ব্যাপারটা তেমন নয়। বাংলাদেশ এখন ভালো ক্রিকেট খেলে তবে এটার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। ভালো খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে এবং আরো ভালো করতে হবে। এখানে অনেক ভুল হয়েছে। এর পরিমাণ কমাতে হবে। তাহলে আরো ভালো ক্রিকেট খেলা যাবে।’

শততম টেস্ট ম্যাচের জয়টাকেও তাই সেরা বলতে নারাজ ৩৩ টেস্টে ১০০ উইকেট নেয়া বাঁ-হাতি এই সাবেক স্পিনার, ‘জিতেছি বলে এটা সেরা ম্যাচ, সেভাবে বলতে চাই না আমি। আগেও ম্যাচ জিতেছি। এছাড়া হারার পরও সেরা ম্যাচ আছে। এখানে পয়েন্ট বের করতে হবে আমরা কোন সেশনটা ভালো খেলেছি, কোন সেশনটা খারাপ খেলেছি। ভুলের সংখ্যা কেমন ছিলো এবং ভালোর সংখ্যা কেমন ছিলো। যে কোনো দলের যখন তিনটা বিভাগ ভালো করে একটা ফল আসে।’

নিজেদের শততম টেস্ট ম্যাচে ঐতিহাসিক জয় ছুঁয়ে গেছে রফিককেও। তবে এর মাঝেও কম টেস্ট খেলার হতাশার কথা জানালেন তিনি। বললেন, ‘শততম টেস্ট ম্যাচ জিতেছি এটা অবশ্যই ভালো লাগার মতো একটা ব্যাপার। এমন মাইলফলকের ম্যাচ জেতা অনেক বড় বিষয়। তবে ১০০ ম্যাচ খেলতে আমরা অনেক সময় নিয়েছি। শততম ম্যাচ আরো আগে খেলা উচিত ছিলো। ওখানে আমরা পিছিয়ে ছিলাম। বাংলাদেশ তাদের শততম টেস্ট ম্যাচ জিতেছে এটা একটা ভালো লক্ষণ।’

আরো ভালো করার কথা বললেও বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন জানাতে ভুলে যাননি রফিক, ‘অবশ্যই বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন। তবে এটা আমি একা না, এটা বাংলাদেশের মানুষের দল। সবার অভিনন্দন পাওয়ার দাবীদার তারা। বাংলাদেশের মানুষ ক্রিকেটের জন্য পাগল। তারা ক্রিকেট বোঝে। কিছ কিছু ক্ষেত্রে ক্রিকেটারদের চেয়ে বেশি বোঝে। তাদেরকে যে কোনো কিছ দিয়ে বোঝাতে পারবেন না।’

Advertisements