রিয়াদ, মমিনুলকে বাদ দেয়া জরুরি ছিল

ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশের উত্থানের নতুন অধ্যায় রচিত হলো কলম্বোয়। ওয়ানডেতে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের পর নিজেদের শততম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে চার উইকেটে হারিয়েছেন টাইগাররা। জয়টা যে ঐতিহাসিক, বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে বাংলাদেশের জয়ে দলে পরিবর্তনের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন কোচ হাথুরুসিংহ।

শততম টেস্টের আগে রিয়াদকে স্কোয়াডের বাইরে রাখা নিয়ে হাথুরুসিংহকে কঠোর সমালোচনার হয়।

এ রকম জয় পেয়ে নিজের শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত এলাকাতে অবয়বে ছিল রাজ্যের হাসি। যে হাসিতে ঝরে পড়ছিল যেন মণি-মুক্তা। শেষ বিকেলের সূর্যের তেজ হালকা হয়ে আলো কমে আসতে থাকলেও হাথুরুর হাসিতে যেন আলোর বিচ্ছুরণ ঘটছিল পি সারা ওভালে। দেখে বুঝার উপায় নেই এটি তারই দেশ।

পেশাদারিত্বের কাছে আবেগের কোনো জায়গা নেই হাথুরু যেন সেটিই আরেকবার প্রমাণ করে দিলেন। অথচ শততম টেস্টের আগে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে স্কোয়াডের বাইরে রাখা নিয়ে এক এলাহি কাণ্ড ঘটে গেল বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তদের মধ্যে। এ জন্য কোচ চল্ডিকা হাথুরুসিংহকে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়তে হলো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তরুণ ক্রিকেটপ্রেমিদের এমন অবস্থা যে পারলে তারা হাথুরুসিংহে শূলে চড়ায়!

শুধু মাহমুদউল্লাহ রিয়াদই নন। আরো বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আসে শততম টেস্টে। লিটন দাস ইনজুরিতে পড়েন। মুমিনুল হক অফ ফর্মে থাকায় তিনিও সেরা একাদশে সুযোগ পান না। তাসকিন আহমেদকেও নেওয়া হয় না। শততম টেস্টের সেরা একাদশে জায়গা করে নেন ইমরুল কায়েস, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও তাইজুল ইসলাম।

ইমরুল কায়েস প্রথম ইনিংসে ৩৪ রান করেন, সাব্বির ব্যাট হাতে দুই ইনিংসেই চল্লিশোর্ধ রান করেন। মোসাদ্দেক অভিষেকে নিজের জাত চেনান। খেলেন ৭৫ রানের নজরকাড়া ইনিংস। আর তাইজুল ইসলাম অবশ্য সুবিধা করতে পারেননি। দুই ইনিংসে নেন ২ উইকেট।

ক্রিকেটপ্রেমিরা পরিবর্তনের কড়া সমালোচনা করলেও দিনশেষে বাংলাদেশ দলের কোচ চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে জানিয়েছেন পরিবর্তন দরকার ছিল। তিনি বলেন, ‘ছেলেরা এমন একটি জয়ের দাবিদার। তার কঠোর পরিশ্রম করেছে। খুবই কঠোর। তাদের জন্য আজ আমি খুশি। আমরা জানতাম আসলে আমাদের কিছু পরিবর্তন দরকার। আসলে পরিবর্তনটা দরকার ছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘ম্যাচের তৃতীয় দিনেই লিড নেওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। গেল বছর থেকে তামিম ইকবাল সব ফরম্যাটেই ভালো করছে। সে একজন সিনিয়র ক্রিকেটার। সে সেটার প্রমাণ দিচ্ছে।’

ছেলেদের এ রকম ঐতিহাসিক অর্জনে দারুণ খুশি কোচ। তিনি বলেন, ‘গল টেস্টের পর এই জয় পেতে ক্রিকেটাররা খুবই পরিশ্রম করেছে। তারা সবাই মিলে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে। পরে বের হয়ে এসে বলে তারা এই টেস্টে কিছুটা একটা করে দেখাতে চায়। এই জয় তারই ফসল।’

জয়ের জন্য তিনি মোস্তাফিজের একটি স্পেলকেই টার্নিং পয়েন্ট বলে জানান। তিনি বলেন চতুর্থ দিন লাঞ্চের পর মোস্তাফিজের একটি স্পেলই ছিল টার্নিং পয়েন্ট। খুবই গরম ছিল। পেস বোলারদের জন্য কঠিন ছিল কন্ডিশন। সে সময় মোস্তাফিজ ৭ ওভারের স্পেলে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়। আমার কাছে এটি ছিল ম্যাচের খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s