মুশফিক-তামিম ছাড়া কেউ ‘সিরিয়াস’ ছিলেন না

চতুর্থ দিন শেষে যখন বিনা উইকেটে ৬৭ রান তুলে ফেললো, মনে করেছিলাম এই টেস্ট ড্র করে ফেলবে বাংলাদেশ। এবং সেটাই হওয়া উচিৎ ছিল। চতুর্থ এবং পঞ্চম দিনে এমন ব্যাটিং উপযোগী পিচ খুব কমই হয়। শ্রীলঙ্কান বোলিংও আহামরি কিছু ছিল না। তিনটা সেশন কাটিয়ে দেওয়া খুব কঠিন কিছু ছিল বলে আমার মনে হয়নি। কিন্তু দুই সেশনে যেভাবে আমাদের ব্যাটসম্যান উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসলেন, দশ দশটি উইকেট হুড়মুড়িয়ে পড়ে গেল, তাতে আমি হতাশ এবং লজ্জিত। গলেতে এভাবে হেরে যাওয়াটা দু:খজনক। এভাবে হারলে আমাদের টেস্ট সামার্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, এটাই স্বাভাবিক।

আমার কাছে মুশফিক ও তামিমকে ছাড়া অন্য কাউকে সিরিয়াস মনে হয়নি। মুশফিক সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন। তামিমও যথাসম্ভব লড়াই করেছেন। কিন্তু বাকিরা হল্কা মেজাজে ব্যাট করেছেন। তাদের সিরিয়াসনেস,অ্যাপ্রোস ও অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে আমার প্রশ্ন আছে।

একাদশ নির্বাচন নিয়ে বাবারও কথা বলতে হচ্ছে আমার। এবারও ভুল একাদশ নিয়ে মাঠে নামলো বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কান একাদশে যখন তিন স্পিনার ও দুই পেসার বাংলাদেশ তখন তিন পেসার নিয়ে মাঠে নেমে পড়লো। তিন পেসারের ভাগ্যে জুঁটলো মাত্র ৬ উইকেট। এ তিনজন আবার একদমই ব্যাট ধরতে জানেন না।

ক্রিকেটে আসলে এখন আর সেই দিন নেই। এখন সবাইকে কিছু না কিছু রান করতে হয়। দুই পেসার নিয়ে স্পিনার তাইজুলকে একাদশে রাখা যেত। তাইজুল তো ব্যাটও করতে পারেন। মুশফিক তো প্রথম ইনিংসে আউট হলেন সঙ্গীর অভাবে।

গলেতে যা হয়েছে সেটা কলম্বোতেও হলে আমাদের জন্য সেটা হবে বিব্রতকর। ওটা আমাদের জন্য খুবই ভাইটাল টেস্ট। ওখাবে ভালো না করার সুযোগ নেই। যতদূর জানি, কলম্বোর উইকেট ব্যাটিং ও স্পিন সহায়ক। এই দিকটা চিন্তা করেই একাদশ ঠিক করতে হবে। একাদশ নির্বাচনে ভুল করলে আবারও পসতাতে হবে।

আপাতত জয়ের হিসেব কষে লাভ নেই। প্রাথমিক লক্ষ্য হবে ড্র। আর যেহেতু ওখানে ব্যাটিং ও স্পিন উইকেট, তাই তাইজুলকে অবশ্যই নিতে হবে। আর ব্যাটিং লাইন আরো দীর্ঘ করতে হবে। অনেক দিন ধরে ব্যাটে রান নেই মুমিনুল ও রিয়াদের। ওদের বিশ্রামে পাঠিয়ে ইমরুল ও সাব্বির কিংবা মোসাদ্দেককে একাদশে রাখতে হবে।

এরআগেও বাংলাদেশ এক পেসার নিয়ে টেস্ট খেলতে নেমেছে। কলম্বোর যা কন্ডিশন তাতে ওখানেও এক পেসার খেলানো যেতে পারে ।সেই এক পেসার কে? মোস্তাফিজের বোলিং নিয়ে আমি হতাশ। টেস্টে তেমন উপযোগী মনে হচ্ছে না তার বোলিং। আমার মনে হয় কলম্বোতে মোস্তাফিজকে বসিয়ে তাসকিনকে খেলানো ভালো হবে। তাসকিনের বলে অত্যন্ত তো গতি আছে।

এক পেসার মানে একাদশে একজন বাড়তি ব্যাটসম্যান। মানে সাব্বির ও মোসাদ্দেক। যদি দুই পেসার নেওয়া হয় তাহলে সাব্বিরের চেয়ে আমি মোসাদ্দেককে এগিয়ে রাখবো। মোসাদ্দেকের শট সিলেকশন সাব্বিরের চেয়ে ভালো। মোস্তাদ্দেক ভালো বোলিংও করতে পারে। আমার মনে হয় সৌম্য সরকারকে দিয়েও নিয়মিত বল করানো উচিৎ।

কলম্বোতে শততম টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। এই ম্যাচটা অনেক দিক দিয়েই গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয় নিচের একাদশটাই কলম্বোর কন্ডিশনে সবচেয়ে উপযুক্ত হবে।

তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন, সাব্বির রহমান, লিটন কুমার দাশ, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান/তাসকিন আহমেদ।

খন্দকার জামিল উদ্দিন : সাবেক বিসিবি পরিচালক ও ক্রিকেট বিশ্লেষক সূত্রঃ ঢাকা টাইমস

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s