২০০৯ সালের ৯ জুলাই সেন্ট ভিনসেন্ট টেস্টে অভিষিক্ত মাহমুদউল্লাহ প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছিলেন নিজের পঞ্চম টেস্টেই। আর সেটি হ্যামিল্টনে। ২০১০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে প্রথম ইনিংসে আটে নেমে করা ১১৫ রানটা এখনো পর্যন্ত টেস্টে তাঁর সর্বোচ্চ। সময়ের স্রোতে পেরিয়েছে ৭ বছর ২২ দিন (২৫৭৯ দিন), এখনো টেস্টে দ্বিতীয় সেঞ্চুরিটার দেখা পাননি বাংলাদেশ দলের এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান।

সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলে নিয়মত পারফর্ম করলেও টেস্টে খুবই বাজে খেলছে এই নির্ভরযোগ্য টাইগার মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। গতকাল শেষ ও শ্রীলংকার বিপক্ষে গল টেস্টে তিনি করেছেন ৮ ও শুন্য রান। এর আগে ভারতের বিপক্ষে ২৮ ও ৬৪ রান। এর আগে নিউজিল্যন্ডের বিপক্ষে তার রান ৩৮, ১৯ ও ২৬, ৫ রান।

সুতরাং বলায় যায় টেস্টে রিয়াদের কি খারাপ দিনই যাচ্ছে। এমন অবস্থায় শ্রীলংকার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে ছিটকে পড়তে পারেন তিনি। তার জায়গাতে দলে ঢুকতে পারে টেস্ট দলের নিয়মিত ওপেনার ইমরুল কায়েস। অথবা সাব্বির রহমান। তবে ইমরুলে দলে দেখার সম্ভাবনায় বেশি।

দলের একজন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান কেন দীর্ঘ দিন ধরে সেঞ্চুরি পাচ্ছেন না সেটি গবেষণার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন নয় যে ছন্দে না থাকায় মাহমুদউল্লাহ বারবার দল থেকে বাদ পড়েছেন বা চোটের কারণে ব্যাহত হয়েছে তাঁর অগ্রযাত্রা। তাঁর অভিষেকের পর বাংলাদেশ খেলেছে ৪০ টেস্ট, এর মধ্যে ৩৩টিতেই ছিলেন তিনি। ৩০.৬৬ গড়ে করেছেন ১৮০৯ রান। ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই তাঁর সাম্প্রতিক ফর্মটাও খারাপ নয়। টেকনিক, ফিটনেস, অভিজ্ঞতায় এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে বিবেচনা করা হয় তাঁকে। কিন্তু এত প্রশংসার মাঝেও একটা তির্যক প্রশ্ন, টেস্টে মাহমুদউল্লাহর ইনিংস কেন তিন অঙ্ক স্পর্শ করছে না?

প্রথম সেঞ্চুরির পর মাহমুদউল্লাহ ফিফটি করেছেন ১১টি। এর মধ্যে ষাটের ঘরে গিয়ে আউট হয়েছেন পাঁচবার, পঞ্চাশের ঘরে চারবার। সেঞ্চুরিবিহীন এই সময়ে মাহমুদউল্লাহর সর্বোচ্চ রান ৭৬।

Advertisements